📄 আলি রাযি.-কেন্দ্রিক বিচ্যুতি
আলি রাযি.-কে নিয়ে আহলে সুন্নাতের সামগ্রিক অবস্থান অনুযায়ী চার খলিফার মাঝে আলি রাযি.-এর অবস্থান চতুর্থ স্থানে। তথাপি কেউ যদি তাঁর প্রতি অধিক ভক্তির ফলে উক্ত ধারাবাহিকতার বিরোধিতা করে, সেক্ষেত্রে স্রেফ এটুকুর কারণে তাকে সরাসরি পথভ্রষ্ট আখ্যা দেওয়া যাবে না।
বিপরীতে সেই শুরু থেকেই সাহাবাদের পরের একাধিক প্রজন্ম আলি রাযি.-এর ব্যাপারে বিপথগামী হয়েছে। বরং খোদ আলি রাযি. এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে জেনে বলে গিয়েছেন, 'আমার ব্যাপারে দুটো শ্রেণি ধ্বংস হবে—এক. আমার ভালোবাসা ও সম্মানের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জনকারী। দুই. আমার বিদ্বেষের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘনকারী।'
রাসুলুল্লাহর ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা হওয়ার ছিল না। ফলে বাস্তবেও তা-ই হয়েছে। একদল আলি রাযি.-কে কাফের আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। তারা ইতিহাসে খারেজি (বিদ্রোহী), নাসেবি (আহলে বাইতের শত্রু) হিসেবে পরিচিত হয়েছে। আর কতগুলো দল বিপরীত প্রান্তিকতার শিকার হয়েছে। তারা আলি রাযি.-এর ভালোবাসা ও ভক্তির ক্ষেত্রে সব ধরনের শরয়ি সীমারেখা লঙ্ঘন করেছে। এদের একদল আলি রাযি.-কে 'খোদা' (ইলাহ) বানিয়ে দিয়েছে! এরা আবদুল্লাহ ইবনে সাবার গোষ্ঠী। আরেক দল আলি রাযি.-কে নবি বানিয়ে দিয়েছে। এরা বিভিন্ন বাতেনি সম্প্রদায়। আরেক দল আলি ও নবি-পরিবারের ভালোবাসার দোহাই দিয়ে সকল সাহাবিদের দুশমন বানিয়ে দিয়েছে। আবু বকর, উমর, উসমান, আয়েশা, হাফসা, মুআবিয়া রাযি.সহ রাসুলুল্লাহর অধিকাংশ সাহাবাকে কাফের ও ফাসেক আখ্যা দিয়েছে। এরা শিয়া ও রাফেজা নামে পরিচিত। উপরের প্রত্যেকটি দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিশুদ্ধ আকিদা থেকে বিচ্যুত, আহলে বিদআত হিসেবে পরিগণিত। তাদের কিছু কিছু গোষ্ঠী কাফের। বাকিরা পথভ্রষ্ট।
টিকাঃ
১৪৭৬. মুসনাদে আবি ইয়ালা (মুসনাদু আলি: ৫৩৪)। মুসন্নাফে আবদির রাযযাক (কিতাবুল জামে: ২০৬৪৭)। মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা (কিতাবুল ফাযায়েল: ৩২৭৯৭)।
১৪৭৭. বাতেনি ও রাফেযি ফিরকাসমূহের আকিদাগত বিচ্যুতির বর্ণনা...