📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 ইমাম আজম কি আলিকে উসমানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলতেন?

📄 ইমাম আজম কি আলিকে উসমানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলতেন?


ইমাম আজম আবু হানিফা রহ. থেকেও এমন কিছু বক্তব্য পাওয়া যায়, যাতে মনে হয় তিনি আলি রাযি.-কে উসমান রাযি.-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করতেন। এক্ষেত্রে ইমাম মুহাম্মাদ রহ.-এর ‘আস-সিয়ারুল কাবির’ সূত্রে দলিল দেওয়া হয় যে, ইমাম আবু হানিফাকে আহলে সুন্নাতের মাযহাব জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আবু বকর ও উমর রাযি.-কে শ্রেষ্ঠ মনে করা এবং আলি ও উসমান রাযি.-কে ভালোবাসা’। তাদের বক্তব্য হলো, যেহেতু ইমাম আজম আলি রাযি.-এর নাম আগে এনেছেন, বোঝা গেল, তিনি আলি রাযি.-কে উসমান রাযি.-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করেন।

কেবল আস-সিয়ারে নয়, বিভিন্ন গ্রন্থে ইমাম আজমের উদ্ধৃতি দিয়ে আলি রাযি.-এর নাম উসমান রাযি.-এর আগে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন—ইবনে আবদিল বার নুহ ইবনে আবু মারইয়াম থেকে বর্ণনা করেন, আমি আবু হানিফা রহ.-এর কাছে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পরিচয় জানতে চাইলে তিনি বলেন: ‘আল্লাহর ব্যাপারে কথা না বলা। গুনাহের কারণে কাউকে কাফের না বলা। আবু বকর ও উমরকে আগে রাখা। আলি ও উসমানকে ভালোবাসা...’। ইয়াহইয়া ইবনে নসর বলেন, ‘আবু হানিফা রহ. আবু বকর ও উমর রাযি.-কে শ্রেষ্ঠ বলতেন। আলি ও উসমানকে ভালোবাসতেন’। আবদুর রহমান ইবনুল মুসান্না বলেন, ‘আবু হানিফা আবু বকর ও উমরকে শ্রেষ্ঠ বলতেন। অতঃপর বলতেন, আলি ও উসমান...’। ইমাম পুত্র হাম্মাদ থেকে বর্ণিত, আবু হানিফা রহ. আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের পরিচয়ে বলতেন, ‘আবু বকর, উমর, আলি ও উসমানকে শ্রেষ্ঠ বলা। কোনো সাহাবির সমালোচনা না করা’।

আলি রাযি.-এর নাম আগে আনা উসমানের উপর তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে না। স্বয়ং ইমাম সারাখসি 'আস-সিয়ার'-এর ব্যাখ্যায় আবু হানিফা রহ.-এর উক্ত বক্তব্য উল্লেখ করে বলেন, আমাদের মাযহাব হলো খেলাফতের আগে ও পরে সবসময়ই উসমান রাযি. আলি রাযি.-এর চেয়ে উত্তম। ইমাম আবু হানিফা রহ. তার বক্তব্যের মাধ্যমে আলি রাযি.-কে উত্তম বলেননি। কারণ, এখানে তার নাম আগে আনাই উত্তম বোঝা যায় না। বরং সামগ্রিকভাবে তাদের দুজনকে ভালোবাসার কথা বলেছেন। আলি রাযি.-কে আগে আনার কারণ হলো, সে সময় অনেক মানুষ আলি রাযি.-এর সমালোচনা করত। ফলে তাদের সতর্ক করা উদ্দেশ্য ছিল।

একইভাবে আল-ফিকহুল আবসাতেও ইমাম আজম রহ.-এর একটি বক্তব্য আছে যেটা সংশয় তৈরি করে। যেমন—ইমাম আজম রহ. বলেন, 'আমরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর কোনো সাহাবি থেকে নিজেদের মুক্ত ও সম্পর্কহীন ঘোষণা করি না। আমরা তাদের কাউকে ভালোবেসে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ রাখি না। উসমান ও আলি রাযি.-এর ব্যাপারটা আমরা আল্লাহর কাছে সমর্পণ করি' (وأن نرد أمر عثمان وعلي إلى الله)। এর মাধ্যমে ইমাম তাদের (মর্যাদা) নিয়ে সন্দেহ উদ্দেশ্য নেননি, বরং তিনি উদ্দেশ্য নিয়েছেন—যেহেতু আল্লাহ তাআলা আমাদের হাতকে সেই ফেতনা থেকে রক্ষা করেছেন, সুতরাং আমাদের জিহ্বাকেও সেই ফেতনা থেকে দূরে রাখতে হবে। এটাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

ইমাম আজম রহ.-এর চূড়ান্ত মাযহাব আর সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের মাযহাবের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। আবু বকর, উমর, উসমান ও আলি—এই ধারাবাহিকতা ইমামের বিভিন্ন গ্রন্থে লিখিত। ফলে তিনি মর্যাদার ক্ষেত্রে উসমানকে তৃতীয় এবং আলিকে চতুর্থ স্থানে রাখতেন এটাই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। এক্ষেত্রে তাঁর মাযহাব সংখ্যাগরিষ্ঠ আহলে সুন্নাতের মাযহাবই। আল-ফিকহুল আকবারে এসেছে, ইমাম বলেন, 'নবিদের পরে সর্বোত্তম মানুষ হলেন আবু বকর সিদ্দিক রাযি., এরপর উমর ফারুক ইবনুল খাত্তাব রাযি., এরপর উসমান যুন নুরাইন ইবনে আফফান রাযি., এরপর আলি মুরতাযা ইবনে আবি তালিব রাযি.। তারা সকলেই ছিলেন ইবাদতকারী, হকের উপর অবিচল, ইবাদতের ক্ষেত্রে সত্যপন্থি।'

ইমাম 'আল-ওয়াসিয়্যাহ'-তে বলেন, "আমরা স্বীকার করি, আমাদের নবিজির পরে এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হলেন আবু বকর আস-সিদ্দিক, অতঃপর উমর, অতঃপর উসমান, অতঃপর আলি। রাযিয়াল্লাহু আনহুম। কুরআনে তাদের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ۞ وَالسَّبِقُونَ السَّبِقُونَ * أُوْلَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ * فِي جَنَّاتِ النَّعِيمِ ۞ অর্থ: 'অগ্রবর্তীগণ অগ্রবর্তীই। তারাই নিকটবর্তীশীল; নিয়ামতের উদ্যানসমূহে' [ওয়াকিয়া: ১০-১২] সুতরাং যারা কল্যাণের ক্ষেত্রে অগ্রগামী, আল্লাহর কাছে মর্যাদার ক্ষেত্রেও তারা অগ্রগামী। প্রত্যেক মুত্তাকি মুমিন তাদের ভালোবাসে। হতভাগা মুনাফিক তাদের প্রতি বিদ্বেষ রাখে।"

একই ধারাবাহকিতায় ইমাম তহাবি রহ. লিখেছেন, 'আমরা নবিজি (ﷺ)-এর পরে সর্বপ্রথম আবু বকর রাযি.-এর জন্য খেলাফত সাব্যস্ত করি। কারণ, তিনি গোটা উম্মাহর শ্রেষ্ঠ এবং অগ্রগামী। অতঃপর খেলাফত সাব্যস্ত করি উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি., অতঃপর উসমান রাযি., অতঃপর আলি ইবনে আবি তালিব রাযি.-এর জন্য। তারা সুপথপ্রাপ্ত খলিফা, হেদায়াতপ্রাপ্ত শাসক, যারা সত্যসহ ফয়সালা করতেন, ইনসাফ করতেন।'

সায়েদ নিশাপুরি লিখেন—আবু ইউসুফ রহ. থেকে বর্ণিত, ইমাম আজম বলেন, 'নবিজির পরে উম্মাহর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হচ্ছেন আবু বকর, অতঃপর উমর, অতঃপর উসমান, অতঃপর আলি।'

আকিদাহ তহাবিয়্যাহর ব্যাখ্যাতা কওনভি লিখেন, 'ইমাম আজম রহ.-এর ব্যাপারে বলা হয়—তিনি আলি রাযি.-কে উসমান রাযি.-এর চেয়ে উত্তম মনে করতেন। এটা সঠিক নয়। বরং সঠিক কথা হলো, তিনিও আহলে সুন্নাতের প্রসিদ্ধ মতের মতো উসমান রাযি.-কে আলি রাযি.-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করতেন।'

সাবুনি লিখেন, 'যদিও আবু হানিফার একটি বর্ণনা দ্বারা বোঝা যায় তিনি আলি রাযি.-কে উসমানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করতেন, তবে তার প্রতিষ্ঠিত মাযহাব হলো উসমানের পরে আলি। '

টিকাঃ
১৪৫৫. শরহুস সিয়ারিল কাবির (১৫৮)।
১৪৫৬. আল-ইনতিকা (৩১৫-৩১৬)।
১৪৫৭. শরহুস সিয়ারিল কাবির (১৫৮)।
১৪৫৮. মানাকিব, মক্কি (১৪৬)।
১৪৫৯. আল-ফিকহুল আবসাত (৪০)।
১৪৬০. শরহুল ফিকহিল আকবার, সমরকন্দি (১০)।
১৪৬১. আখবারু আবি হানিফা, সাইমারি (১৩২)।
১৪৬২. আল-ইতিমাদ ফিল ইতিকাদ (৫১৫)।
১৪৬৩. আখবারু আবি হানিফাহ (৮২)।
১৪৬৪. আল-ফিকহুল আকবার (৪-৫)।
১৪৬৫. আল-ওয়াসিয়্যাহ (৪৩-৪৪)।
১৪৬. আকিদাহ তহাবিয়্যাহ (২৯)।
১৪৬৭. আল-ইতিকাদ, নিশাপুরি (১৫৩)।
১৪৬৮. আল-কালাইদ, কওনভি (১৬৭)।
১৪৬৯. আল-কিফায়াহ ফিল হিদায়াহ (২৭৬)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 আলিকে শ্রেষ্ঠ বলার বিধান

📄 আলিকে শ্রেষ্ঠ বলার বিধান


প্রশ্ন হতে পারে, কেউ যদি শাইখাইন তথা আবু বকর রাযি. এবং উমর রাযি.-এর শ্রেষ্ঠত্ব, উসমান রাযি.-এর মর্যাদা স্বীকার করা সত্ত্বেও আলি রাযি.-কে বেশি ভালোবাসে, তাঁর প্রতি বেশি ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে, তবে সে কি আহলে সুন্নাত থেকে বেরিয়ে যাবে? বিচ্যুত ও পথভ্রষ্ট গণ্য হবে?

জবাবে আমরা বলব, না। এটা আহলে সুন্নাতের দৃষ্টিতে পছন্দনীয় নয়। বিচ্ছিন্ন মতামত এবং বিচ্ছিন্ন কাজ বলে গণ্য হবে। কিন্তু আহলে সুন্নাত কাউকে জুলুম করে না। ফলে এটুকুর কারণে কাউকে গোমরাহ আখ্যা দেয় না, যেমন পিছনে বলা হয়েছে—ইবনে খুযাইমাসহ কিছু আলেম আলি রাযি.-কে উসমানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলতেন। তাই বলে তাদের গোমরাহ বলার সুযোগ নেই।

তা ছাড়া, এই শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি যেহেতু সরাসরি কুরআন-সুন্নাহতে বর্ণিত হয়নি, সে কারণে এটা 'কাতয়ি' (নিশ্চিত) নাকি 'যন্নি' (অনুমানমূলক) এটা নিয়েও আলেমগণ মতবিরোধ করেছেন। আবুল হাসান আশআরি রহ. মনে করতেন এই শ্রেষ্ঠত্ব নিশ্চিত বিষয়। এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। বিপরীতে আবু বকর বাকেল্লানি, ইমামুল হারামাইন জুয়াইনিসহ একদল আলেম মনে করতেন এটা ইজতিহাদি বিষয়, কুরআন-সুন্নাহ থেকে নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত নয়। আবু সুলাইমান খাত্তাবি বলেন, আমাদের মাশায়েখের কারও কারও মত হলো, আবু বকর (সোহবতের কারণে) সবচেয়ে উত্তম। আলি (আত্মীয়তার কারণে) সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ।

আল্লামা কামাল ইবনুল হুমাম লিখেছেন, রাফেযিদের মাঝে যারা আলি রাযি.-কে বাকি তিনজনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে, তারা বিদআতি। আর যদি কেউ আবু বকর ও উমর রাযি.-এর খেলাফত অস্বীকার করে, তবে সে কাফের। কিন্তু এটা উন্মুক্তভাবে গৃহীত হবে না। ফলে কেউ আলি রাযি.-কে বাকি তিনজনের চেয়ে উত্তম মনে করলেই বিদআতি হয়ে যাবে এমন নয়, বরং বাকি তিনজনের সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে আলিকে শ্রেষ্ঠ মনে করলে বিদআতি। একইভাবে শাইখাইনের খেলাফত অস্বীকার করলেই কেউ কাফের হবে না, বরং যদি বিদ্বেষবশত অস্বীকার করে এবং কুরআন ও সুন্নাহতে তাদের দুজনের যেসব ফযিলত ও শ্রেষ্ঠত্বের কথা এসেছে সেগুলোর প্রতি বিশ্বাস না রাখে, তবে এমন ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে।

মোটকথা, এ ব্যাপারে সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের সঙ্গে থাকা যেমন কর্তব্য, কেউ যদি ভিন্নমত পোষণ করে, সেক্ষেত্রে ইনসাফের সঙ্গে খণ্ডন করাও কর্তব্য। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আহলে সুন্নাত থেকে খারিজ করে শিয়া-রাফেযি বানানোর সুযোগ নেই। তাসাওউফের ইমাম শায়খ শিহাবুদ্দিন সোহরাওয়ার্দি রহ. বলেন, 'আমাদের কর্তব্য হলো, সাহাবিদের নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি বন্ধ করা, তাদের প্রত্যেককে ভালোবাসা এবং তাদের কাউকে কারও চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলা থেকে বিরত থাকা। যদি এমন কিছু করতেই হয়, তবে সেটা মনের ভিতর রাখো। প্রকাশ করার দরকার নেই। তাদের একজনকে আরেকজনের চেয়ে বেশি ভালোবাসার দরকার নেই। একজনের চেয়ে আরেকজনকে শ্রেষ্ঠ বলার দরকার নেই। বরং সবাইকে ভালোবাসো। সবার শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি দাও। বাড়াবাড়ি-ছাড়াছাড়ি করতে গেলেই জটিলতা তৈরি হয়। এটুকু বিশ্বাস রাখো যে, আবু বকর, উমর, উসমান ও আলি—চারজনের খেলাফতই বিশুদ্ধ ও হক ছিল।'

বাযযাযির (৮২৭ হি.) মানাকিবে এসেছে, 'যদি কেউ আবু বকর, উমর ও উসমান রাযি.-এর খেলাফত ও ফযিলতের স্বীকৃতি দেয়, কিন্তু বলে, আমি আলি রাযি.-কে অধিক ভালোবাসি, তবে আল্লাহ তাকে শাস্তি দেবেন না, ইনশাআল্লাহ। কেননা, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, হে আল্লাহ, এটুকু আমার সাধ্যে আছে। আমার সাধ্যের বাইরের কিছুর জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না।' অর্থাৎ, সে প্রথম তিন সাহাবার খেলাফত ও মর্যাদা স্বীকার করছে, কিন্তু আলি রাযি.-এর প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা অনুভব করছে। এটুকু করলেই কাউকে আহলে সুন্নাত থেকে খারিজ করা হবে না। কিন্তু কাজটাকে উত্তম মনে করলে জটিলতা। কারণ, এটা পরবর্তীকালে অন্যান্য সীমালঙ্ঘনের দিকে নিয়ে যাবে। এ জন্য ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, 'কেউ যদি বলে, আমি রাসুলুল্লাহর কোনো সাহাবিকে গালি দিই না, কিন্তু আলি রাযি. বাকি সবার চেয়ে আমার কাছে অধিক প্রিয়, তবে এই লোকের মাঝে সমস্যা আছে এবং তাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখা হবে।'

টিকাঃ
১৪৭০. দেখুন: শরহে মুসলিম, নববি (১৫/১৪৮)। তাদরিবুর রাবি (২/৬৮৪)।
১৪৭১. দেখুন: আস-সাওয়ায়িকুল মুহরিকাহ, ইবনে হাজার হাইতামি (১/১৭১)।
১৪৭২. ফাতহুল কাদির (১/৩৫০)।
১৪৭৩. আলামুল হুদা ওয়া আকিদাতু আরবাবিত তুকা, সোহরাওয়ার্দি (৪৪-৪৬)।
১৪৭৪. মানাকিব, বাযযাযি (৩৬)।
১৪৭৫. দেখুন: আল-আজনাস, নাতেফি (১/৪৫০-৪৫১)।
১৪৯১. শরহুল আকায়েদ, তাফতাযানি (১০৩)। ইয়াযিদ ইবনে মুআবিয়ার ব্যাপারে ইমামদের মতভেদপূর্ণ দীর্ঘ আলোচনা...

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 আলি রাযি.-কেন্দ্রিক বিচ্যুতি

📄 আলি রাযি.-কেন্দ্রিক বিচ্যুতি


আলি রাযি.-কে নিয়ে আহলে সুন্নাতের সামগ্রিক অবস্থান অনুযায়ী চার খলিফার মাঝে আলি রাযি.-এর অবস্থান চতুর্থ স্থানে। তথাপি কেউ যদি তাঁর প্রতি অধিক ভক্তির ফলে উক্ত ধারাবাহিকতার বিরোধিতা করে, সেক্ষেত্রে স্রেফ এটুকুর কারণে তাকে সরাসরি পথভ্রষ্ট আখ্যা দেওয়া যাবে না।

বিপরীতে সেই শুরু থেকেই সাহাবাদের পরের একাধিক প্রজন্ম আলি রাযি.-এর ব্যাপারে বিপথগামী হয়েছে। বরং খোদ আলি রাযি. এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে জেনে বলে গিয়েছেন, 'আমার ব্যাপারে দুটো শ্রেণি ধ্বংস হবে—এক. আমার ভালোবাসা ও সম্মানের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জনকারী। দুই. আমার বিদ্বেষের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘনকারী।'

রাসুলুল্লাহর ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা হওয়ার ছিল না। ফলে বাস্তবেও তা-ই হয়েছে। একদল আলি রাযি.-কে কাফের আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। তারা ইতিহাসে খারেজি (বিদ্রোহী), নাসেবি (আহলে বাইতের শত্রু) হিসেবে পরিচিত হয়েছে। আর কতগুলো দল বিপরীত প্রান্তিকতার শিকার হয়েছে। তারা আলি রাযি.-এর ভালোবাসা ও ভক্তির ক্ষেত্রে সব ধরনের শরয়ি সীমারেখা লঙ্ঘন করেছে। এদের একদল আলি রাযি.-কে 'খোদা' (ইলাহ) বানিয়ে দিয়েছে! এরা আবদুল্লাহ ইবনে সাবার গোষ্ঠী। আরেক দল আলি রাযি.-কে নবি বানিয়ে দিয়েছে। এরা বিভিন্ন বাতেনি সম্প্রদায়। আরেক দল আলি ও নবি-পরিবারের ভালোবাসার দোহাই দিয়ে সকল সাহাবিদের দুশমন বানিয়ে দিয়েছে। আবু বকর, উমর, উসমান, আয়েশা, হাফসা, মুআবিয়া রাযি.সহ রাসুলুল্লাহর অধিকাংশ সাহাবাকে কাফের ও ফাসেক আখ্যা দিয়েছে। এরা শিয়া ও রাফেজা নামে পরিচিত। উপরের প্রত্যেকটি দল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিশুদ্ধ আকিদা থেকে বিচ্যুত, আহলে বিদআত হিসেবে পরিগণিত। তাদের কিছু কিছু গোষ্ঠী কাফের। বাকিরা পথভ্রষ্ট।

টিকাঃ
১৪৭৬. মুসনাদে আবি ইয়ালা (মুসনাদু আলি: ৫৩৪)। মুসন্নাফে আবদির রাযযাক (কিতাবুল জামে: ২০৬৪৭)। মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা (কিতাবুল ফাযায়েল: ৩২৭৯৭)।
১৪৭৭. বাতেনি ও রাফেযি ফিরকাসমূহের আকিদাগত বিচ্যুতির বর্ণনা...

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00