📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 আলির শ্রেষ্ঠত্ব

📄 আলির শ্রেষ্ঠত্ব


উপরের তিনজনের পরে গোটা উম্মাহর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হলেন আলি রাযি.। তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর চাচাতো ভাই। তাঁর কলিজার টুকরো মেয়ে ফাতিমার জামাতা। কিশোর হিসেবে সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণকারী। উসমান রাযি.-এর ওফাতের পরে উম্মাহর সর্বসম্মতিক্রমে তিনি মুসলিম উম্মাহর খলিফা নিযুক্ত হন। তিনিই হলেন খুলাফায়ে রাশেদিনের সর্বশেষ খলিফা, নবুওতের খেলাফতের সর্বশেষ প্রতিনিধি। চরম ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে এসেও তিনি ইসলামি রাষ্ট্রকে নিপুণভাবে পরিচালিত করেন, সমৃদ্ধি আনেন। পরিশেষে মজলুম অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেন।

তাঁর শাসনামলে সাহাবায়ে কেরাম রাযি. একাধিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। তন্মধ্যে প্রথমটি ছিল ‘উষ্ট্র যুদ্ধ' (জামাল), যা সংঘটিত হয়েছিল আলি আর আয়েশা, তালহা ও যুবাইর রাযি.-এর মাঝে। দ্বিতীয়টি ছিল 'সিফফিনের যুদ্ধ', যা সংঘটিত হয়েছিল আলি আর মুআবিয়া রাযি.-এর মাঝে। তবে এসব যুদ্ধ দুনিয়ার জন্য নয়, বরং ইজতিহাদ ও দৃষ্টিভঙ্গিগত মতপার্থক্য, ভুল বোঝাবুঝি, শত্রুর ইন্ধন ও ষড়যন্ত্রের ফলে সংঘটিত হয়েছিল। এ ব্যাপারে আহলে সুন্নাতের আকিদা হলো—এসব যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া সকল সাহাবির মাঝে আলি রাযি. মর্যাদা ও পুণ্যে শ্রেষ্ঠ ছিলেন, পাশাপাশি তিনি ছিলেন হকের উপর। আর তালহা, যুবাইর, মুআবিয়া প্রমুখ সাহাবি ভুল করেছেন। আয়েশা রাযি. যুদ্ধই চাননি, বরং তিনি দুই পক্ষের মাঝে সমঝোতার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। কিন্তু ভুল বোঝাবুঝি হয় এবং সেটা যুদ্ধে গড়ায়। তবে তারা যেহেতু ইজতিহাদ করেছেন, ফলে ভুল করা সত্ত্বেও তারা নিন্দিত নন। আল্লাহ তাআলা ও রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাদের প্রত্যেকের ব্যাপারে সন্তুষ্টি ও ক্ষমার সুসংবাদ দিয়েছেন। এ জন্য সাধারণ মুসলিমদের কর্তব্য হলো তাদের কেবল উত্তম পন্থায় স্মরণ করা, তাদের মাঝে সৃষ্ট সংকটের মাঝে প্রবেশ না করা, সেগুলোর ঘাঁটাঘাঁটি পরিত্যাগ করা। কোনো সাহাবির ব্যাপারে মন্দ আলোচনা না করা। কারণ, তাদের মাঝে যারা ভুল করেছেন, তারাও পরবর্তী সকল মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। রাসুলুল্লাহর (ﷺ) সঙ্গে তাদের জিহাদের ময়দানের এক মুহূর্ত পরবর্তী লোকদের নুহের মতো জীবন পেয়ে সিজদায় পড়ে থাকার চেয়েও উত্তম। এ কারণে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মৌলিক আকিদা হলো সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা থেকে বিরত থাকা। তাদের মাঝে সৃষ্ট হওয়া সংকট ও জটিলতাগুলো এমনভাবে ব্যাখ্যা করা যেন তাদের সম্মানে আঘাত না হানে। কারণ, তারাই জানমাল বিসর্জন দিয়ে, সুখশান্তি কুরবান করে, দ্বীনের পথে শত মুসিবত সহ্য করে এই দ্বীন আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

টিকাঃ
১৪৫২. দেখুন: তালখিসুল আদিল্লাহ (৮৩৭-৮৩৮)। তাবসিরাতুল আদিল্লাহ (২/১১৬৬-১১৭৫)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00