📄 দুই. স্রেফ ওয়ালা বা বন্ধুত্ব
এটা আহলে সুন্নাতের অনুসারী সকল মুসলিমের প্রতি প্রকাশ করতে হবে। শাখাগত বিষয় নিয়ে মারামারি করা যাবে না। দ্বীনি ও দুনিয়াবি সকল কাজে একে অন্যের সহায়ক ও পরিপূরক হতে হবে। ভাই-ভাই হয়ে অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। বিশুদ্ধ দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ۞ وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَরَسُولَهُ ۞ অর্থ : 'মুমিন নর ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু। তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজের নিষেধ করে। নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে। এদেরকেই আল্লাহ কৃপা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।' [তাওবা : ৭১] আরও বলেন, ۞ إِنَّمَا وَلِيْكُمُ اللَّهُ وَরَسُولُهُ، وَالَّذِينَ ءَامَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَوَةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَوَةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ ۞ অর্থ : ‘তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মুমিনগণ, যারা বিনত হয়ে নামায কায়েম করে এবং যাকাত দেয়।' [মায়িদা : ৫৫]
এ ব্যাপারে ইমাম আজম রহ. বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বিচ্ছিন্নতা দূর করে ঐক্যের জন্য এবং মানুষের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা ও বন্ধন বৃদ্ধির জন্য এসেছেন। বিচ্ছিন্নতা কিংবা মুসলমানদের পরস্পরের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার জন্য আসেননি।
টিকাঃ
১৪১৪. প্রাগুক্ত (১১)।
📄 তিন. ওয়ালা ও বারার সমন্বয়
এটা হলো আহলে বিদআত তথা মুসলমানদের মাঝে বিদআতে লিপ্ত বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে। তাদের ভালো কাজে সহায়তা করতে হবে, মন্দ কাজে সহায়তা পরিত্যাগ করা হবে; দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব সুরক্ষিত রাখা হবে।
কেবল মুখে নয়, বাস্তব জীবনে এসব নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। ইমাম আজম রহ. এগুলো বাস্তবায়ন করতেন। ইয়াহইয়া ইবনে নসর মারওয়াযি বলেন, 'আবু হানিফা ছিলেন একজন ইনসাফগার মানুষ। তিনি অধিক সময় নীরব থাকতেন। প্রশ্ন না করলে কথা বলতেন না। মুনাযারার সময় তিনি রাগ করতেন না। আমানতদারির ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ মানুষদের একজন। তার শত্রু-মিত্র ও পক্ষ-বিপক্ষের যে-কেউ তার কাছে পরামর্শ চাইলে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পরামর্শ দিতেন। তিনি ছিলেন তার যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান। ...তিনি আহলে কিবলার ব্যাপারে সর্বোত্তম কথা বলতেন।'
সুতরাং ভালোর সমর্থন এবং মন্দের উৎপাটন করে যেতেই হবে। হককে হক এবং বাতিলকে বাতিল হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। তহাবি রহ. বলেন, 'আমরা সুন্নাত এবং জামাতের অনুসরণ করি। বিচ্ছিন্নতা, মতানৈক্য ও বিভেদ এড়িয়ে চলি। ন্যায়পরায়ণ ও বিশ্বস্তদের আমরা পছন্দ করি। উৎপীড়ক ও খেয়ানতকারীদের ঘৃণা করি।'
টিকাঃ
১৪১৫. আল-ইতিকাদ, নিশাপুরি (১৫৭)।
১৪১৬. আকিদাহ তহাবিয়্যাহ (২৪)।