📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 এক. স্রেফ বারা বা শত্রুতা

📄 এক. স্রেফ বারা বা শত্রুতা


এটা হবে ইহুদি-খ্রিষ্টানসহ সকল কাফের-মুশরিক এবং যারা তাদের বিধানভুক্ত তাদের সঙ্গে। যেমন—বাতেনি, কাদিয়ানি এবং চরমপন্থি রাফেযি সম্প্রদায় ইত্যাদি। তাদের প্রতি কোনো ভ্রাতৃত্ববোধ ও আন্তরিক সম্পর্ক থাকবে না। প্রয়োজন অনুপাতে চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক থাকবে এবং মানবিক সদাচরণ ও সৌজন্য প্রদর্শন করা হবে। আল্লাহ তাআলা এ ব্যাপারে ۞ وَلَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَن يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْসَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ ۞ অর্থ : 'মুমিনগণ যেন মুমিনকে ছেড়ে কোনো কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে, আল্লাহর সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকবে না।' [আলে ইমরান : ২৮] কাফেরের সঙ্গে 'ওয়ালা' গড়ার কঠোর নিন্দা করে আল্লাহ ۞ تَرَى كَثِيرًا مِنْهُمْ يَتَوَلَّوْنَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَبِئْسَ مَا قَدَّমَتْ لَهُمْ أَنفُসُهُمْ أَن سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِم่ وَفِي الْعَذَابِ هُمْ خَالِدُونَ * وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ فَاسِقُونَ ۞ অর্থ : ‘আপনি তাদের অনেককে কাফেরদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়তে দেখবেন। কত নিকৃষ্ট তাদের কৃতকর্ম, যে কারণে তাদের প্রতি আল্লাহ ক্রুদ্ধ হয়েছেন এবং তারা চিরকাল আযাবে থাকবে! যদি তারা আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি অবতীর্ণ বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করত, তবে কাফেরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই পাপাচারী।' [মায়িদা : ৮০-৮১] এখানে দেখা যাচ্ছে, আল্লাহ তাআলা 'ওয়ালা-বারা'কে ঈমানের নিদর্শন বানিয়েছেন এবং কাফেরদের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা মুমিনের কাজ নয় বলেছেন।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 দুই. স্রেফ ওয়ালা বা বন্ধুত্ব

📄 দুই. স্রেফ ওয়ালা বা বন্ধুত্ব


এটা আহলে সুন্নাতের অনুসারী সকল মুসলিমের প্রতি প্রকাশ করতে হবে। শাখাগত বিষয় নিয়ে মারামারি করা যাবে না। দ্বীনি ও দুনিয়াবি সকল কাজে একে অন্যের সহায়ক ও পরিপূরক হতে হবে। ভাই-ভাই হয়ে অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। বিশুদ্ধ দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ۞ وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَরَسُولَهُ ۞ অর্থ : 'মুমিন নর ও মুমিন নারী একে অপরের বন্ধু। তারা সৎকাজের নির্দেশ দেয় এবং অসৎকাজের নিষেধ করে। নামায কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে। এদেরকেই আল্লাহ কৃপা করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।' [তাওবা : ৭১] আরও বলেন, ۞ إِنَّمَا وَلِيْكُمُ اللَّهُ وَরَسُولُهُ، وَالَّذِينَ ءَامَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَوَةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَوَةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ ۞ অর্থ : ‘তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও মুমিনগণ, যারা বিনত হয়ে নামায কায়েম করে এবং যাকাত দেয়।' [মায়িদা : ৫৫]

এ ব্যাপারে ইমাম আজম রহ. বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বিচ্ছিন্নতা দূর করে ঐক্যের জন্য এবং মানুষের মাঝে পারস্পরিক ভালোবাসা ও বন্ধন বৃদ্ধির জন্য এসেছেন। বিচ্ছিন্নতা কিংবা মুসলমানদের পরস্পরের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়ার জন্য আসেননি।

টিকাঃ
১৪১৪. প্রাগুক্ত (১১)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 তিন. ওয়ালা ও বারার সমন্বয়

📄 তিন. ওয়ালা ও বারার সমন্বয়


এটা হলো আহলে বিদআত তথা মুসলমানদের মাঝে বিদআতে লিপ্ত বিভিন্ন গ্রুপের সঙ্গে। তাদের ভালো কাজে সহায়তা করতে হবে, মন্দ কাজে সহায়তা পরিত্যাগ করা হবে; দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব সুরক্ষিত রাখা হবে।

কেবল মুখে নয়, বাস্তব জীবনে এসব নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। ইমাম আজম রহ. এগুলো বাস্তবায়ন করতেন। ইয়াহইয়া ইবনে নসর মারওয়াযি বলেন, 'আবু হানিফা ছিলেন একজন ইনসাফগার মানুষ। তিনি অধিক সময় নীরব থাকতেন। প্রশ্ন না করলে কথা বলতেন না। মুনাযারার সময় তিনি রাগ করতেন না। আমানতদারির ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন শ্রেষ্ঠ মানুষদের একজন। তার শত্রু-মিত্র ও পক্ষ-বিপক্ষের যে-কেউ তার কাছে পরামর্শ চাইলে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পরামর্শ দিতেন। তিনি ছিলেন তার যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মানুষ এবং সর্বাপেক্ষা বুদ্ধিমান। ...তিনি আহলে কিবলার ব্যাপারে সর্বোত্তম কথা বলতেন।'

সুতরাং ভালোর সমর্থন এবং মন্দের উৎপাটন করে যেতেই হবে। হককে হক এবং বাতিলকে বাতিল হিসেবে প্রমাণ করতে হবে। তহাবি রহ. বলেন, 'আমরা সুন্নাত এবং জামাতের অনুসরণ করি। বিচ্ছিন্নতা, মতানৈক্য ও বিভেদ এড়িয়ে চলি। ন্যায়পরায়ণ ও বিশ্বস্তদের আমরা পছন্দ করি। উৎপীড়ক ও খেয়ানতকারীদের ঘৃণা করি।'

টিকাঃ
১৪১৫. আল-ইতিকাদ, নিশাপুরি (১৫৭)।
১৪১৬. আকিদাহ তহাবিয়্যাহ (২৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00