📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 শাসকের সঙ্গে ইমাম আজমের সম্পর্ক

📄 শাসকের সঙ্গে ইমাম আজমের সম্পর্ক


জালেম শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিষিদ্ধের অর্থ এই নয় যে, শাসকের দরবারি আলেম হয়ে যেতে হবে, তার সঙ্গে দহরম-মহরম সম্পর্ক গড়তে হবে; বরং আহলে সুন্নাতের আকিদা হলো, জালেমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ নিষেধ হলেও সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ অব্যাহত রাখা আবশ্যক। শাসককে নসিহত করা আবশ্যক। অন্যায়ের ক্ষেত্রে তার অনুসরণ বর্জন করে তাকে সতর্ক করা আবশ্যক।

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, 'কল্যাণকামনা (নসিহতই) দ্বীন।' তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কার জন্য? তিনি বললেন, 'আল্লাহর জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, রাসুলের জন্য (অর্থাৎ, তাদের নির্দেশ মানা), মুসলিম শাসকের জন্য (তাদের আনুগত্য করা, সৎপরামর্শ দেওয়া) এবং সকল মানুষের জন্য (তাদের কল্যাণকামনা করা)।' অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, 'অতি শীঘ্রই এমন একদল শাসক আসবে, যাদের তোমরা ভালো কাজ করতে দেখবে, মন্দ কাজ করতে দেখবে। সুতরাং যে ব্যক্তি তাদের মন্দ কাজ ঘৃণা করবে, সে দায়মুক্ত হয়ে যাবে। আর যে প্রতিবাদ করবে, সে (আল্লাহর পাকড়াও থেকে) নিরাপদ থাকবে। কিন্তু যে তাদের মন্দে সন্তুষ্ট থাকবে এবং তাদের অনুসরণ করবে (সে তাদের পাপের ভাগীদার হবে)।' সাহাবারা বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমরা কি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব না? তিনি বললেন, 'না। ততক্ষণ পর্যন্ত নামায কায়েম করে।'

ইমাম নিজস্ব সনদে ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণনা করেন, 'সর্বোত্তম শহিদ হলেন হামযা ইবনে আবদুল মুত্তালিব। অতঃপর সে ব্যক্তি যে জালেম শাসককে সৎকাজের আদেশ দেয়, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করে এবং নিহত হয়।'

ইমাম আজম কেবল কথার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং কাজেও পরিণত করেছেন। জীবনভর অন্যায়ের বিরোধিতা করেছেন এবং শাসকগোষ্ঠীর ভুলের কড়া সমালোচনা করেছেন। ফলে যারা শাসকের অন্যায়ের সমালোচনার ক্ষেত্রেও মুখ বন্ধ করে রাখা সালাফের মানহাজ হিসেবে প্রচার করে, তাদের কথা ভিত্তিহীন।

একবার খলিফা মনসুর ফকিহদের একত্র করে বললেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মুসলমানরা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বাধ্য। মাওসিলের লোকজন আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে; অথচ তারা এখন আমার গভর্নরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। তাহলে কি এখন আমার জন্য তাদের রক্ত বৈধ নয়? কেউ কেউ বলল, তারা আপনার নিয়ন্ত্রণাধীন। আপনি তাদের ব্যাপারে যা ইচ্ছা করতে পারেন। যদি ক্ষমা করেন, তবে আপনি ক্ষমাশীল। আর যদি শাস্তি দেন, তবে তারা সেটার যোগ্য। মনসুর ইমাম আজমের দিকে লক্ষ্য করে বললেন, শায়খ, আপনার কী মতামত? ইমাম বললেন, 'আমরা খেলাফতের অধীনে আছি। নিরাপত্তার মাঝে আছি। আপনি মুসলমানদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এ দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, তিনটি কারণ ব্যতীত কোনো মুসলিমের রক্ত ঝরানো বৈধ নয়। সুতরাং আপনি তাদের রক্ত ঝরালে হারাম রক্ত ঝরাবেন। প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করবেন!' তখন মনসুর সবাইকে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। ইমাম আজম যাওয়ার সময় মনসুর তাকে লক্ষ্য করে বললেন, 'শায়খ, আপনার কথা ঠিক আছে। এবার আপনার শহরে চলে যান। মানুষের কাছে আপনার ইমাম তথা শাসকের বদনাম হয় এমন কিছু বলবেন না। কারণ, তাতে আপনার শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের হস্ত প্রসারিত হবে।'

সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধের পরিধি ইমাম আজমের কাছে অত্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ইমাম আজম রহ. মনে করতেন, যদি কেউ বৈধ শাসককে গালিগালাজ করে কিংবা তাকে হত্যার কথা বলে, তবুও শাসকের জন্য তাকে শাস্তি দেওয়া বৈধ নয়। এক্ষেত্রে তিনি আলি রাযি.-এর ঘটনা দলিল হিসেবে পেশ করতেন। তাকে কিছু ব্যক্তি গালি দিত। তাদের একজন আলিকে হত্যা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়। তাকে আলি রাযি.-এর কাছে নিয়ে আসা হলে তিনি বলেন, তাকে ছেড়ে দাও। একলোক বলল, তাকে কীভাবে ছেড়ে দেবো? সে আপনাকে হত্যা করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আলি বললেন, সে তো আমাকে হত্যা করেনি। তাহলে তাকে কেন হত্যা করব? লোকটি বলল, সে আপনাকে গালি দিয়েছে। আলি বললেন, তুমিও তাকে গালি দিয়ে দাও অথবা তার পথ ছেড়ে দাও। এ ঘটনার উপর ভিত্তি করে ইমাম আজম বলতেন, শাসকের বিরুদ্ধে সরাসরি বিদ্রোহ করার আগ পর্যন্ত শাসকের জন্য কাউকে হত্যা করা বৈধ নয়। শাস্তি দেওয়াও বৈধ নয়। হ্যাঁ, যদি বিদ্রোহের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, তখন তাদের ধরে বন্দি করতে পারে, যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, ফেতনা সৃষ্টি না হয়।

উক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ ও প্রতিহত করতে হবে, সেটা যে কারও অন্যায় হোক। অন্যায়কারী শাসক, তাই মুখ বুজে সহ্য করতে হবে, গোপন নসিহতের পরামর্শ দিয়ে প্রকাশ্যে তার আনুগত্যের কোরাস গাইতে হবে—এটা ইমাম আজম কিংবা সালাফের কারও মানহাজ নয়। ইমাম বলেন, 'আমি গত পঞ্চাশ বছর ধরে প্রত্যেক নামাযের পর আল্লাহর কাছে সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধের ক্ষেত্রে আমার ত্রুটির কারণে ইস্তিগফার করি!'

পিছনেও আমরা উল্লেখ করেছি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইমামের সরব কণ্ঠের কারণে জীবনের শেষ দিনগুলোতে শাসকরা তাকে জেলে বন্দি করে রাখে। পরবর্তীকালে জেল থেকে ছাড়লেও গৃহবন্দি করে রাখে। মানুষের সঙ্গে মিশতে, কথা বলতে এবং ছাত্রদের পাঠদান করতে নিষেধ করে। বরং ঘর থেকে বের হওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা আসে। এভাবেই একসময় তিনি দুনিয়া থেকে মজলুম ও শহিদ হিসেবে বিদায় নেন।

ফলে শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করার অর্থ এই নয় যে, শাসকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়তে হবে; বরং আমরা ইমাম আজম রহ.-কে সারা জীবন শাসকের দরবার থেকে দূরে পালিয়ে থাকতে দেখব। তাঁর মাঝে এবং শাসকদের মাঝে একটা অলঙ্ঘনীয় প্রাচীর দেখব। বিদ্রোহ না করলেও তাদের প্রতি সবসময় তাকে বিরূপ ও বিরাগভাজনই দেখব। এ কারণে খুব সম্ভবত তার থেকে নিরাপদ থাকার জন্যই শাসকগোষ্ঠী কৌশল হিসেবে তাকে সবসময় রাষ্ট্রের যেকোনো দায়িত্ব দিতে চেয়েছে, আর তিনিও সেটা প্রত্যাখ্যান করে গেছেন। বরং দেখব, তিনি বলছেন, 'যদি তারা একটি মসজিদ বানাতে চায় আর আমাকে সে মসজিদের ইট গোনার দায়িত্ব দেয়, আমি সেটাও করব না।'

আবু জাফর মনসুর তাঁকে কাযির দায়িত্ব নিতে বললে তিনি বললেন, 'আমি কাযির দায়িত্বের যোগ্য নই।' খলিফা বললেন, আপনি এর যোগ্য। ইমাম বললেন, 'আমিরুল মুমিনিন, আমি বললাম যোগ্য নই, আপনি বলছেন যোগ্য। এর মানে আমি মিথ্যা বলেছি। আর মিথ্যুক কাযির দায়িত্বের যোগ্য নয়!' খলিফা ক্রুদ্ধ হন। ইমামকে শাস্তির নির্দেশ দেন। তাঁকে বেত্রাঘাত করা হয়।

বাযযাযির বর্ণনায় এসেছে, (সর্বশেষ উমাইয়া শাসক মারওয়ান ইবনে মুহাম্মাদের ইরাকের গভর্নর) ইবনে হুবাইরা যখন তাঁকে সরকারি দায়িত্ব দিতে চায়, তিনি বলেন, যদি তারা আমাকে ওয়াসেতের মসজিদের দরজা গোনার দায়িত্ব দেয়, সেটাও করব না। তাহলে মানুষ হত্যার দায়িত্ব নেব কী করে? এভাবে শাসকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কারণে তিনি বেত্রাঘাতের শিকার হন। তবুও সেটা গ্রহণ করেননি।

ইমাম আজম রহ.-এর এ শক্ত নীতির কারণে হানাফি ফিকহের গ্রন্থগুলোতে শাসকদের থেকে হাদিয়া গ্রহণ করতেও নিষেধ করা হয়েছে।

ইমাম কেন শাসকের কাছে যেতেন না? বিভিন্ন কারণ ছিল। তন্মধ্যে সম্ভবত সর্বাপেক্ষা বড় কারণ ছিল আখেরাতের ভয়; শাসকদের জুলুমে যেকোনো প্রকারের সহায়তা হয়ে গেলে পরকাল বরবাদির আশঙ্কা। এ আশঙ্কা থেকেই তিনি শাসকের দরবার থেকে জীবনভর দূরে থেকেছেন এবং বিভিন্ন মুসিবত সহ্য করেছেন, তবুও তাদের দেওয়া কোনো পদ গ্রহণ করেননি। ইমাম আজম হাসান বসরি সূত্রে আবু যর রাযি.-এর হাদিস বর্ণনা করেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, 'আবু যর, নেতৃত্ব কিয়ামতের দিন লাঞ্ছনা ও লজ্জার কারণ হবে।'

কেবল নিজে নয়, ইমাম আজম তাঁর শাগরেদদেরও শাসক থেকে দূরে থাকতে বলতেন। তাদের সঙ্গে সতর্কতামূলক সম্পর্ক রাখতে বলতেন, যে সম্পর্কের মূলনীতি হলো মধ্যমপন্থা। ইমাম আজম তাঁর শাগরেদ আবু ইউসুফকে প্রদত্ত ওসিয়তে বলেন, 'ইয়াকুব, শাসককে সম্মান করো। তার সামনে মিথ্যা বলো না। তার দরবারে বেশি যেয়ো না। প্রয়োজন ছাড়া তার কাছে হাজির হয়ো না। কারণ, যখন শাসকের কাছে বেশি যাবে, তার চোখে তোমার সম্মান পড়ে যাবে, মর্যাদা হ্রাস পাবে। ফলে শাসকের সঙ্গে আগুনের সম্পর্ক রাখবে—তার থেকে উপকৃত হবে, কিন্তু দূরে থাকবে। কাছে গেলে পুড়ে যাবে।'

টিকাঃ
১৩৯২. মুসলিম (কিতাবুল ঈমান: ৫৫)। আবু দাউদ (কিতাবুল আদব: ৪৯৪৪)।
১৩৯৩. মুসলিম (কিতাবুল ইমারাহ: ১৮৫৪)। মুসনাদে আহমদ (মুসনাদুন নিসা: ২৭২২০)।
১৩৯৪. আহকামুল কুরআন (১/৮৬)।
১৩৯৫. দেখুন: আখবারু আবি হানিফা (৬৮-৬৯)। মানাকিব, বাযযাযি (২৯৬-২৯৭)।
১৩৯৬. দেখুন: আল-আসল, মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান (৭/৫১২)। আল-মাবসুত, সারাখসি (১০/১২৫)।
১৩৯৭. মানাকিব, মক্কি (৩৪২)।
১৩৯৮. মানাকিব, বাযযাযি (২৯৯)।
১৩৯৯. আল-কাশশাফ (১/১৮৪)।
১৪০০. মানাকিব, মক্কি (৪৩৮)।
১৪০১. দেখুন: ফাযায়িলু আবি হানিফা (৬৬)। বাযযাযি (২৭৫-২৭৬)।
১৪০২. ফাতাওয়া তাতারখানিয়্যাহ (১৮/১৭১)।
১৪০৩. আল-আসার, মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান (হাদিস নং: ৯১২)।
১৪০৪. মানাকিব, মক্কি (৩৭১)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 ইমামের শাগরেদদের শাসকের সঙ্গে সম্পর্ক

📄 ইমামের শাগরেদদের শাসকের সঙ্গে সম্পর্ক


তবে ইমামের শাগরেদদের সবার মাঝে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। ইমাম রহ. যেখানে শাসকের কাছ থেকে দূরে থাকতে গিয়ে নিজের জান কুরবান করে দিয়েছেন, তাঁর শাগরেদগণ সময়ের পরিবর্তনে শাসকদের দরবারে গিয়েছেন, তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেছেন এবং বিভিন্ন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। যেমন—আবু ইউসুফ রহ. কাযির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একপর্যায়ে রাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতিতে পরিণত হন। একইভাবে ইমাম মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান শাইবানিও হারুনুর রশিদের কাযি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুফার সম্পর্কেও ইবনে আবদিল বার বসরার কাযির দায়িত্ব গ্রহণের কথা বলেছেন। একইভাবে হাফস ইবনে গিয়াস, হাসান ইবনে যিয়াদ প্রমুখও কাযির দায়িত্ব পালন করেন, শাসকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখেন। রমযানসহ বিভিন্ন রাতে তারা শাসকদের সঙ্গে মিলিত হতেন; ইলম ও দ্বীনি-দুনিয়াবি আলাপ করতেন; যুবরাজদের তালিম দিতেন।

এর কারণ হলো—ইমাম নিজে এ দায়িত্ব গ্রহণ না করলেও তিনি এটাকে অবৈধ মনে করতেন এমন নয়। বরং নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের কথা চিন্তা করে নিজে দূরে থেকেছেন। তথাপি ঈমানি ফারাসাতের মাধ্যমে হয়তো বুঝেছিলেন তাঁর ছাত্ররা ভবিষ্যতে এ দায়িত্বে যাবে। ফলে তিনি বিভিন্ন জায়গায় বারবার তাদের সতর্ক করেছেন, উপদেশ দিয়েছেন।

ইমামের ছাত্র নুহ ইবনে আবু মারইয়াম মারভের কাযির দায়িত্ব পেলে ইমাম তাকে চিঠিতে বলেন, 'এমন এক দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছ, বড়রাও যা বহন করতে পারে না। তুমি সাগরে নিমজ্জিত ব্যক্তির মতো। ফলে সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করো। আল্লাহ ভয় করো। কারণ, সেটাই সবকিছুর মূল, দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তি।' অতঃপর ইমাম তাকে বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে এত গুরুত্বপূর্ণ নসিহত করেন, যা রাজনীতির ময়দানে ইমামের গভীর পাণ্ডিত্য ও দূরদর্শিতার প্রমাণ, যে মূলনীতি ও কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে অধিকাংশ কাযিই গাফেল।

আবু ইউসুফ রহ. বর্ণনা করেন, বৃষ্টিভেজা এক দিনে আমরা ইমাম আজমের সঙ্গে ছিলাম। সেখানে দাউদ আত-তায়ি, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ, আফিয়াহ আওদি, কাসেম ইবনে মা'ন, হাফস ইবনে গিয়াস, মালেক ইবনে মাগুল, যুফার ইবনুল হুযাইল প্রমুখ বিশিষ্ট শাগরেদগণ ছিলেন। ইমাম আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, 'তোমরা আমার হৃদয়ের শান্তি, আমার দুঃখ-বেদনা দূরীভূতকারী। তোমাদের জন্য আমি ফিকহের হাওদা সাজিয়ে দিয়েছি। চাইলে তোমরা তাতে আরোহণ করতে পারো। মানুষ তোমাদের দরবারে ছুটে আসবে, তোমাদের চৌকাঠ মাড়াবে, তোমাদের মুখের কথা শুনতে চাইবে। তোমাদের প্রত্যেকেই কাষির পদের উপযুক্ত। তাই আল্লাহর ওয়াস্তে তোমাদের কাছে দাবি রইল—তোমরা ইলমকে লাঞ্ছনার হাত থেকে রক্ষা করো। তোমাদের কেউ যদি কাযির দায়িত্ব গ্রহণের মতো মুসিবতে আক্রান্ত হয়, আর যদি এমন কিছুতে লিপ্ত দেখে নিজেকে, যা আল্লাহ হয়তো গোপন করে রেখেছেন, তবে তার জন্য এ দায়িত্ব গ্রহণ করা বৈধ নয়। এখান থেকে প্রাপ্ত রিযিক পবিত্র নয়। আর যদি ভিতরের অবস্থা বাইরের অবস্থার মতো (অমলিন) থাকে, তবে এমন ব্যক্তির কাষির দায়িত্ব বৈধ হবে। তার উপার্জন পবিত্র হবে। যদি কেউ নিরুপায় হয়ে কাযির দায়িত্ব নেয়, তবে সে যেন তার মাঝে আর মানুষের মাঝে পর্দা দাঁড় না করায়। জামে মসজিদে যেন পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে। প্রত্যেক নামাযের সময় যেন মানুষের প্রয়োজনের কথা জানতে চায়। ইশার নামাযের পরে যেন তিনবার ডেকে বলে, কারও কোনো প্রয়োজন আছে? এর পর যেন ঘরে যায়।'

ইমামের শাগরেদগণ এসব নসিহত জীবনভর মনে রেখেছেন এবং মেনে চলেছেন। ফলে তারা শাসকের বিভিন্ন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং তাতে মুসলিম উম্মাহ উপকৃত বই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তারাও ঈমান ও ইখলাসের পথ থেকে, ন্যায় ও ইনসাফের পথ থেকে হটে যাননি।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—পথটা ভয়ংকর, চড়াই-উতরাইয়ে ভরা। তারা হয়তো তাদের পাহাড়সম ইখলাস, সাগরসম ইলম এবং ইমামের হাতে তরবিয়তের কারণে দুনিয়ায় ঢোকার পরও স্বচ্ছতা ও নির্মলতাসহ বেরিয়ে আসতে পেরেছেন; কিন্তু সেটা সবার দ্বারা সম্ভব হবে না। পরবর্তী লোকদের দ্বারা বরং বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ জন্য আমাদের ইমামদের সর্বসম্মত বক্তব্য হলো শাসকের দরবার থেকে দূরে থাকা। বরং খোদ ইমাম আবু ইউসুফ রহ. যার ব্যাপারে বর্ণিত আছে—প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণের পরও প্রতিদিন দুইশত রাকাত নফল নামায আদায় করতেন, তিনি আখেরাতের ভয়ে মৃত্যুর আগে আফসোস করে বলেন, ‘হায়! আমি যদি কাযির দায়িত্ব গ্রহণ না করতাম।'

টিকাঃ
১৪০৫. মানাকিব, মক্কি (৩৭৫)
১৪০৬. আল-ইনতিকা (৩৩৫)।
১৪০৭. আখবারু আবি হানিফাহ ওয়া আসহাবিহি (১৩৭)।
১৪০৮. বিস্তারিত দেখুন: মানাকিব, মক্কি (৩৬৮-৩৬৯)।
১৪০৯. দেখুন: ফাযায়িল আবি হানিফা (৭১-৭২)। মানাকিব, মক্কি (৩৫৯-৩৬০)। বাযযাযি (৩৫৫)।
১৪১০. বিস্তারিত দেখুন ইমাম আবু বকর মাররুযিকৃত এবং অধম অনূদিত ‘সালাফের দরবারবিমুখতা’ গ্রন্থে।
১৪১১. মানাকিব, মক্কি (৪৮৯, ৫০৩)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 বিদআতিদের পিছনে নামায বর্জন

📄 বিদআতিদের পিছনে নামায বর্জন


ওয়ালা-বারার আরেকটি বাস্তবায়ন হলো বিদআতি সম্প্রদায়ের পিছনে নামায বর্জন করা এবং আহলে সুন্নাতের পিছনে নামায পড়া। এটা ওয়ালা-বারার তৃতীয় প্রকারের একটি বিশেষ বাস্তবায়ন। বিদআতি সম্প্রদায়গুলোর প্রতি সতর্কবার্তা। তাদের থেকে সম্পর্ক ছিন্নের ঘোষণা। এতে তাদের বিদআত প্রচারে অসহায়তা হবে। এ ধরনের উদ্যোগ তাদের বিদআত থেকে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আবু ইউসুফ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আবু হানিফা রহ. বিদআতিদের পিছনে নামায পড়া মাকরুহ বলতেন।'

তবে এটা স্বাভাবিক অবস্থায় নয়। অর্থাৎ, স্বাভাবিক অবস্থায় ফাসেক বা গুনাহগার মুসলমানের পিছনে নামায পড়া হবে। এতে নামাযের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু আকিদাগত বিচ্যুতির শিকার ভয়ংকর বিদআতে লিপ্ত ব্যক্তি, যার ঈমান থেকে বের হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং যে তার বিভ্রান্ত আকিদার দিকে মানুষকে ডাকে, এমন ব্যক্তির পিছনে নামায পরিত্যাগ করতে হবে। তাকে কোনো জায়গায় সামনে দেওয়া হবে না এবং মুসলমানদের ইমাম বানানো হবে না। আবু ইউসুফ বর্ণনা করেন, ইমাম আজম বলেছেন, 'জাহমিয়্যাহ, কাদারিয়্যাহ ও রাফেযি সম্প্রদায়ের পিছনে নামায পড়া যাবে না।'

আবু ইউসুফও এটা করতেন। লালাকায়ি আবু ইউসুফ রহ. থেকে বর্ণনা করেন, আবু ইউসুফ বলেন, 'আমি জাহমি, রাফেযি ও কাদারিয়‍্যাহ সম্প্রদায়ের লোকদের পিছনে নামায পড়ি না।'

মুহাম্মাদ রহ. বলেছেন, 'যে ব্যক্তি কুরআনকে মাখলুক বলে, তার পিছনে নামায পড়া যাবে না। যদি কেউ পড়ে, তবে নামায আবার পড়তে হবে।'

আবু হাফস বলেন, 'আমরা প্রত্যেক সৎ ও অসৎ ব্যক্তির পিছনে নামায আদায় বৈধ মনে করি। ফলে মদ্যপ, ব্যভিচারী ইত্যাদির মতো ফাসেকের পিছনে নামায আদায় বৈধ। কিন্তু বিদআতি ও কাফেরের পিছনে বৈধ নয়।' কারণ, এটা তাদের বিদআত প্রচারে সহায়ক হয়, তাদের সম্মান করা হয়, গোনায় ধরা হয়। অথচ বিদআতি লোেকদের সম্মান করা সুন্নাত এবং আহলে সুন্নাতের প্রতি অবিচার।

এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়। সেটা হলো—আল্লাহ এবং আল্লাহর সিফাত নিয়ে অর্থহীন ও বাড়াবাড়িমূলক বিতর্ক করাও এক ধরনের বিদআত। সুতরাং এ ধরনের চরমপন্থি লোকদের পিছনেও নামায পড়া বর্জন করতে হবে। আবু ইউসুফ রহ. বর্ণনা করেন, আমরা আবু হানিফা রহ.-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় একদল লোক দুই ব্যক্তিকে নিয়ে এলো। এসে বলল, এই ব্যক্তি কুরআনকে মাখলুক বলে। দ্বিতীয় জন তাকে নিষেধ করে বলে, কুরআন মাখলুক নয় (আমরা তাদের ব্যাপারে কী করব?)। ইমাম বললেন, 'তাদের কারও পিছনে নামায পড়ো না।' আমি বললাম, প্রথম জনের ব্যাপার তো স্পষ্ট। কারণ, সে কুরআনকে মাখলুক বলে। কিন্তু দ্বিতীয়জনের পিছনে নামায বাদ দেওয়ার কারণ কী? তার কথা তো ঠিকই আছে? ইমাম বললেন, 'কারণ, তারা দ্বীন নিয়ে বিবাদ করেছে। অথচ দ্বীন নিয়ে বিবাদ বিদআত।'

উক্ত বক্তব্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন নামধারী ব্যক্তি, যারা মুসলিম সমাজে দীনের নানা বিষয় নিয়ে ফেতনা তৈরি করে, তাদের বিদআতি গণ্য করে তাদের পিছনে শাস্তিস্বরূপ নামায বর্জন করা হবে। উম্মাহর সম্মানিত আলেমসমাজের সামনে এসব লোককে ইমাম বানানো হবে না, যেমনটা ইমাম আবু ইউসুফ বলেছেন, 'বিদআতি লোক মুসলমানদের ইমাম হওয়ার যোগ্য নয়।'

টিকাঃ
১৪১৭. আল-ইতিকাদ, নিশাপুরি (১৬৫)।
১৪১৮. প্রাগুক্ত (১৬৫)।
১৪১৯. শরহু উসুলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ, লালাকায়ি (৪/৮০৯)।
১৪২০. উসুলুদ্দিন, বাগদাদি (৩৪২)।
১৪২১. আস-সাওয়াদুল আজম (৮)।
১৪২২. তালখিসুল আদিল্লাহ, সাফফার (৫৬)।
১৪২৩. আল-ইতিকাদ, নিশাপুরি (১৬৭)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 উলামায়ে কেরামের প্রতি ইমাম সুবকির আকুল আবেদন

📄 উলামায়ে কেরামের প্রতি ইমাম সুবকির আকুল আবেদন


বিপরীতে আহলে সুন্নাতের বিভিন্ন ধারার মাঝে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শাখাগত মতপার্থক্যের কারণে একদল আরেক দলকে বিদআতি আখ্যা দিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্নকরণ এবং একে অন্যের পিছনে নামায পরিত্যাগ অবৈধ। এটা ইসলামের 'ওয়ালা' নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বরং এ ধরনের গোঁড়ামিপূর্ণ মানসিকতা ওয়ালা-বারার গোটা রূপরেখাই উলটে দেয়। অভিন্ন শত্রু ছেড়ে মুসলমানদের নিজেদের পিছনে লাগিয়ে দেয়। মুসলিমদের ঐক্য ছিন্নভিন্ন করে ফেলে। ইসলামের সর্বসম্মত মৌলিক বিষয়ের ঐক্যগুলোকে পাশে রেখে নিতান্তই তুচ্ছ ও গৌণ বিষয়কে কেন্দ্র করে মুসলিম উম্মাহকে এক অন্তহীন আত্মঘাতী ও ভ্রাতৃঘাতী যুদ্ধে লিপ্ত করে। দুঃখজনকভাবে সেটাই আজ চলছে আমাদের চারপাশে। আরও দুঃখজনক হলো, মুসলমানদের এই দুরবস্থা নতুন নয়, বরং হাজার বছর ধরে তারা এমন বিভক্ত। অমুসলিমদের হাতে এত লাঞ্ছনা-গঞ্জনার শিকার হওয়ার পরও তারা তাদের মধ্যকার সম্পর্ক এতটুকু ঠিক করেনি এবং সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেনি।

ইমাম তাজুদ্দিন সুবকি (৭৭১ হি.) সেই অষ্টম শতাব্দের মুসলিমসমাজের প্রতি লক্ষ করে বুকভরা আফসোস নিয়ে বলেন:

'শাখাগত বিষয় নিয়ে একে অন্যের পিছনে লাগা এবং মতাদর্শিক গোঁড়ামির ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করে একে অন্যের পিছনে নামায পরিত্যাগ করা অত্যন্ত কদর্য কাজ। তারা আল্লাহর কাছে জবাব দেবে কীভাবে? যদি শাফেয়ি ও আবু হানিফা জীবিত থাকতেন, তারাও তাদের কঠোরভাবে ধমকাতেন। কারণ, এগুলো করার কোনো দরকার নেই। শাখাগত বিষয়ে মতপার্থক্য পাশে রেখে দিলেই চলে। এক্ষেত্রে যিনি সঠিক করেছেন, তিনি দুটো পুণ্য পাবেন। আর যিনি ভুল করেছেন, তিনি একটি পাবেন। ফলে শাখাগত মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোকে এভাবেই রেখে দিয়ে আহলে বিদআত ও প্রবৃত্তিপূজারীদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। হানাফি, শাফেয়ি, মালেকি, হাম্বলি—সবাই আকিদার ক্ষেত্রে এক, আলহামদুলিল্লাহ। সামান্য কিছু বিচ্যুত লোক ব্যতীত তাদের সকলেই আহলে সুন্নাতের অনুসারী...।'

'সুতরাং হে মুসলমান, সকলে মিলে প্রবৃত্তিপূজারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করো। ইসলামের সুরক্ষা নিশ্চিত করো। যারা আবু বকর ও উমরকে গালি দেয়, আয়েশাকে অপবাদ দেয়, কুরআন এবং আল্লাহর সিফাতের সমালোচনা করে, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করা আবশ্যক। সুতরাং এদিকে মনোযোগী হও। ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা গোটা দুনিয়া দখল করে ফেলছে। তাদের সঙ্গে মুনাযারা এবং তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে কে প্রস্তুত আছ? বরং ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমদের তোমরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছ, তাদের থেকে চিকিৎসা নিচ্ছ, সেবা নিচ্ছ। আজ পর্যন্ত কাউকে দেখিনি তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসে কেউ দ্বীনের কথা বলছে এবং হেদায়াতের পথে ডাকছে। আমাদের এই দেশ আলেম-উলামা দিয়ে পরিপূর্ণ, অথচ কখনো কোনো আলেমকে দেখিনি কোনো অমুসলিমকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছে। তাদের যারা ইসলাম গ্রহণ করছে, স্রেফ আল্লাহর অনুগ্রহের কারণে অথবা দুনিয়াবি উদ্দেশ্যে করছে। সেখানে অন্য কারও ভূমিকা নেই। বরং ইসলাম গ্রহণ করার পরও আলেমরা তাদের পাত্তা দিচ্ছে না, দ্বীন শেখাচ্ছে না। ফলে তাদের চলাচল দেখে বোঝার উপায় নেই যে, তারা কি আসলেই ইসলামে প্রবেশ করেছে, নাকি আগের ধর্মেই রয়ে গেছে...।'

'সুতরাং হে আলেমসমাজ, এখানে মেহনত করুন। এখানে সকল চেষ্টা-প্রচেষ্টা ব্যয় করুন। এখানে জিহাদ করুন। ক্রোধ দেখাতে হলে এখানে দেখান। কিন্তু সেটা না করে ইসলামের শাখাগত বিষয়ে গোঁড়ামি, মাযহাব-মাসলাক নিয়ে মারামারি ও রেষারেষি আল্লাহর কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। যদি আবু হানিফা, মালেক, শাফেয়ি ও আহমদ জীবিত থাকতেন আর এমন দৃশ্য দেখতেন, তবে অত্যন্ত কঠোরভাবে বারণ করতেন। ...এগুলো বাদ দিন! আপনারা নামাযের শাখাগত মাসআলা নিয়ে একে অন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন, অথচ যারা নামায ছেড়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো সাড়াশব্দ নেই। ইন্নালিল্লাহ! হে মুসলমান, এটা কোন ধরনের ফিকহচর্চা? এটা কোন ধরনের দ্বীনদারি? শাখাগত এসব বিষয়ে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের শেষ নেই আপনাদের। অথচ সর্বসম্মত নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে কারও কোনো টু শব্দ নেই! এখানে দ্বীনের জন্য কারও গাইরত জাগে না। গাইরত জাগে স্রেফ নিজ নিজ মতাদর্শ এবং মতাদর্শের আলেমদের জন্য। এভাবেই মুসলিম উম্মাহ বিভক্ত হচ্ছে।'

আহ! প্রায় সাত শত বছর পার হয়ে গেল! মুসলিম সমাজের চিত্র একচুল পরিমাণ বদলাল না। সুবকির আহ্বান কারও কর্ণকুহরে আঘাত হানতে পারল না! আল্লাহর পানাহ চাই।

টিকাঃ
১৪২৪. মুঈদুন নিআম ওয়া মুবিদুন নিকাম, সুবকি (৬২-৬৪)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00