📘 ইমাম আজমের আকিদা 📄 অধমের পর্যবেক্ষণ

📄 অধমের পর্যবেক্ষণ


উক্ত প্রশ্নের উত্তর বেশ দুরূহ বটে। এ কারণে অনেকেই বিষয়গুলো গুলিয়ে ফেলেছেন, এলোমেলো করে দিয়েছেন; নানাজন নানাপ্রকার প্রান্তিক ব্যাখ্যা হাজির করেছেন। তবে অধমের ধারণা—এই বৈপরীত্যপূর্ণ অবস্থান ও বক্তব্যগুলো সময়ের বিবর্তনের ফলে ঘটে থাকবে। অর্থাৎ, ইমাম আজম প্রথম যুগে জালেমের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ সঠিক মনে করতেন। ফাসেককে শাসকের অযোগ্য মনে করতেন। ফলে বিদ্রোহের মত দিয়েছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে খলিফা থেকে শুরু করে আমির-উমারা, হাকেম-কাযি সর্বত্র জুলুম ও ফিসক ছড়িয়ে পড়ে, প্রাথমিক সময়ে সংঘটিত বিদ্রোহগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে, তখন তিনিও মত পরিবর্তন করেন, বিদ্রোহ বারণ করেন, সবরের পরামর্শ দেন।

এই যে বিবর্তনটা, এটা মোটেও অস্বাভাবিক ছিল না। বরং প্রথম সময়ে অনেক ইমাম ও আলেমই বিদ্রোহের পক্ষে ছিলেন। মাত্র খিলাফতে রাশেদার যুগ শেষ হয়েছিল। ইসলামের স্বর্ণযুগ, ন্যায়-ইনসাফের উদাহরণ তখনও চোখেমুখে জীবন্ত ছিল। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ও সাহাবাদের শোভামণ্ডিত এ পবিত্র দায়িত্বের আসন ফাসেকরা কলংকিত করবে—এটা সালাফের কেউ মেনে নিতে পারছিলেন না। একদিকে সর্বত্র দায়িত্বশীলদের পাপাচার ও জুলুম দেখে তারা অতিষ্ঠ ছিলেন, অপরদিকে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সবরসংক্রান্ত অনেক সতর্কবাণীও তাদের সামনে ছিল। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকজন নীরব থাকলেন। কিন্তু সবাই সেটা মেনে নিতে পারলেন না। দ্বীনি গাইরত তাদের তুলনামূলক ঝুঁকি তথাপি আযিমতের পথ অবলম্বনে বাধ্য করল। এতে তাদের কেউ নিন্দিত হবেন না। 'বাগি' (বিদ্রোহী) বিবেচিত হবেন না। কারণ ঈমান, ইখলাস ও দ্বীনি গাইরত তাদের এ পথে নিয়ে এসেছিল। তারা কীভাবে নিন্দিত হবেন যখন খোদ নবি-দৌহিত্র এবং জান্নাতের যুবকদের সর্দার সাইয়েদুনা হুসাইন রাযি. এ পথের পথিকদের নেতৃত্বে ছিলেন? পরবর্তীকালে একাধিক সাহাবি এ পথ অবলম্বন করেছেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px