📄 দুই. শুরার মাধ্যমে নিযুক্ত হওয়া
অর্থাৎ খলিফা যদি তার পরে কাউকে নিযুক্ত করে না যান, তবে একদল গণমান্য ও নেতৃস্থানীয় জামাত যোগ্য কাউকে খলিফা হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যেমনটা আবু বকর, উসমান রাযি.-এর বেলায় হয়েছে। এটা সর্বোত্তম এবং সুন্নাহ ও শুরাভিত্তিক পদ্ধতি।
📄 তিন. জোরজবরদস্তিমূলক ক্ষমতা দখল
সাধারণ অবস্থায় মুসলমানদের একসঙ্গে দুজন খলিফা থাকতে পারবে না। অর্থাৎ, একজন খলিফা হিসেবে নিযুক্ত হয়ে গেলে অন্য কাউকে নিয়োগ করা যাবে না। খলিফা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় যদি অন্য কাউকে খলিফা বানানো হয়, তবে প্রথম জনই খলিফা থাকবেন; দ্বিতীয় জনের দাবি বাতিল গণ্য হবে। খলিফা বিদ্যমান থাকা অবস্থায় কেউ যদি নিজেকে খলিফা দাবি করে তবে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে। প্রতিষ্ঠিত ও ন্যায়নিষ্ঠ কোনো শাসকের বিরুদ্ধে যদি কেউ বিদ্রোহ করে, তবে তাকে শক্তভাবে দমন করা হবে। তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে। কিন্তু সে যদি বিজয়ী হয়ে প্রথম জনকে পদচ্যুত করে, নিজেকে শাসক হিসেবে ঘোষণা করে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করে নেয়, তার রাষ্ট্র পরিচালনার পূর্ণ সামর্থ্য থাকে এবং মানুষের প্রতি ইনসাফ করে, তবে সে আহলে সুন্নাতের মতে 'ইমাম' (শাসক) হিসেবে স্বীকৃতি পাবে; প্রথম জনের ক্ষমতা রহিত হয়ে যাবে।
মুতাযিলা, খারেজি ও কাদারিয়্যাদের কাছে জবরদখলকারী ব্যক্তি শাসক হতে পারে না। অন্যকথায়, জবরদখল করে শাসক হওয়া বৈধ নয়। কিন্তু আহলে সুন্নাতের মতে, এভাবে ক্ষমতা দখলের পরে যদি সে প্রতিষ্ঠিত হয়েই যায় এবং তাকে সরানোর সুযোগ না থাকে, তবে তার ক্ষমতা বৈধ এবং সে শাসক বিবেচিত হবে। তার নির্দেশের আনুগত্য করতে হবে। সালাফের আমল এটার প্রমাণ। বনু মারওয়ানের অধিকাংশ শাসককে মুসলমানদের নেতৃস্থানীয় বিজ্ঞজন এবং অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিবর্গ নিয়োগ দেননি, বরং তারা নিজেরা জোর করে ক্ষমতা দখল করেছে এবং নিজেদের শাসক বানিয়ে নিয়েছে। সালাফের ইমামগণ তাদের শাসক হিসেবে গ্রহণ করেও নিয়েছেন। ফলে এভাবে শাসক নিযুক্ত হওয়া বৈধ। যুক্তিরও দাবি এটাই। কারণ, এসব লোককে শাসক মানা না হলে ভূপৃষ্ঠে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়বে, ব্যাপক রক্তপাত ও হানাহানি ঘটবে।
টিকাঃ
১৩৪৭. দেখুন : আল-ইতিকাদ, বলখি (১১২)। উসুলুদ্দিন, বাযদাবি (১৯৮)।