📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 কবরের শাস্তি থেকে রক্ষাকারী আমল

📄 কবরের শাস্তি থেকে রক্ষাকারী আমল


রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কবরের শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বেশ কিছু আমল শিখিয়ে গিয়েছেন। ফলে দ্বীন ও ঈমানের উপর অবিচল থাকার পাশাপাশি নিম্নের আমলগুলোর প্রতিও যত্নবান হতে পারলে আশা করা যায় আল্লাহ কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবেন। কবরের আযাব থেকে রক্ষাকারী কিছু বিষয় হলো :

* আল্লাহর পথে শাহাদাত বরণ করা: মিকদাম ইবনে মাদিকারিব রাযি. বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে শহিদের ছয়টি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। (এক.) তাকে প্রথমেই ক্ষমা করে দেওয়া হয়। (দুই.) সে কবরে থেকে জান্নাতে তার বাসস্থান দেখতে পায়। (তিন.) কবরের ফেতনা (প্রশ্ন) থেকে নিষ্কৃতি পায়। (চার.) কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে নিরাপদে থাকবে। (পাঁচ) তার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেওয়া হবে, যার একটি ইয়াকুত গোটা পৃথিবী ও তার ভিতরে যা-কিছু আছে সবকিছুর চেয়ে উত্তম। (ছয়.) তাকে জান্নাতের বাহাত্তর জন হুরের সঙ্গে বিবাহ দেওয়া হবে। সত্তর জন নিকটাত্মীয়ের ব্যাপারে তার শাফায়াত কবুল করা হবে।’১১৯১
* পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণ করা: রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণ করবে, কবরে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে না।’১১৯২
* সদকা প্রদান করা: উকবা ইবনে আমের রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সদকা কবরের আগুনকে নিভিয়ে দেয়।’১১৯৩
* নিয়মিত সুরা মুলক পড়া এবং তদনুযায়ী আমল করা: ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুলের এক সাহাবি অসতর্ক অবস্থায় একটি কবরের উপর তাঁবু গাড়লেন। হঠাৎ শুনতে পেলেন, সেখানে এক ব্যক্তি সুরা মুলক তেলাওয়াত করছে। সাহাবি রাসুলের কাছে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল, আমি না জেনে একটি কবরের উপর তাঁবু স্থাপন করি। তখন কবরে থাকা ব্যক্তিকে সুরা মুলক তেলাওয়াত করতে শুনি। আল্লাহর রাসুল বললেন, ‘এটা আপদ প্রতিহতকারী, বিপদ থেকে হেফাজতকারী, কবরের আযাব থেকে সুরক্ষা দানকারী।’ ১১৯৪
* জুমার দিন অথবা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করা: ইমাম আজম রহ. নিজস্ব সূত্রে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন মারা যাবে, তাকে কবরের আযাব থেকে মুক্তি দেওয়া হবে।’১১৯৫
* জীবিত কর্তৃক মৃতের জন্য দোয়া ও ক্ষমাপ্রার্থনা করা: আউফ ইবনে মালেক আশজায়ি বলেন, আমি একটি জানাযার পরে আল্লাহর রাসুলকে মৃতের জন্য এই দোয়া করতে শুনলাম : ‘হে আল্লাহ, আপনি তাকে ক্ষমা করুন। তাকে দয়া করুন। তার গুনাহ মাফ করে দিন। তাকে নিরাপদে রাখুন। তার আগমনকে মহানুভবতার সঙ্গে গ্রহণ করুন। কবরকে তার জন্য প্রশস্ত করে দিন। তাকে আপনি পানি, বরফ ও শিলা দ্বারা ধৌত করুন। তাকে আপনি সেভাবে পবিত্র করে দিন যেভাবে সাদা কাপড় ময়লা থেকে পবিত্র করা হয়। আপনি তাকে তার দুনিয়ার গৃহের চেয়ে উত্তম গৃহ দান করুন, দুনিয়ার পরিবারের চেয়ে উত্তম পরিবার দান করুন। তার স্ত্রীর চেয়ে উত্তম স্ত্রী দান করুন। আর তাকে কবরের ফেতনা এবং জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।’ আউফ বলেন, রাসুলের দোয়া শুনে আমার মন বলে উঠল, হায়! আমি যদি সেই মৃতের জায়গায় থাকতাম। ১১৯৬

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) প্রত্যেক নামাযে কবরের আযাব থেকে মুক্তি চাইতেন। আল্লাহর রাসুলের স্ত্রী আয়েশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) (নামাযের শেষ তাশাহহুদে বলতেন):
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِতْنَةِ الْمَحْيَا وَفِتْنَةِ الْمَمَاتِ ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ
অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আপনার কাছে মিথ্যুক কানা দাজ্জালের ফেতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আপনার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফেতনা থেকে শরণ চাইছি। আমি আপনার কাছে গুনাহ ও ঋণের বোঝা থেকে আশ্রয় কামনা করছি।’১১৯৭

টিকাঃ
১১৯১. তিরমিযি (আবওয়াবু ফাযায়িলিল জিহাদ: ১৬৬৩)। ইবনে মাজা (আবওয়াবুল জিহাদ: ২৭৯৯)।
১১৯২. সুনানে কুবরা, নাসায়ি (কিতাবুল জানায়েয: ২১৯০)। মুসনাদে আহমদ (আওয়ালু মুসনাদিল কুফিযিান: ১৮৬০০)।
১১৯৩. আল-মুজামুল কাবির, তাবরানি (আকিল: ১৭/২৮৬; হাদিস নং ৭৮৭)। বর্ণনাটি যয়িফ।
১১৯৪. তিরমিযি (আবওয়াবু ফাযায়িলিল কুরআন: ২৮৯০)। আল-মুজামুল কাবির, তাবারানি (আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস: ১২/১৭৫; হাদিস নং ১২৮০১)। তবে হাদিসটির একজন রাবি ইয়াহইয়া ইবনে আমর ইবনে মালেক দুর্বল। এ কারণে আলেমগণ হাদিসটিকে যয়িফ বলেছেন।
১১৯৫. আল-উসুলুল মুনিফাহ (৫৫)। শরহু মুসনাদি আবি হানিফা (৪২৪)।
১১৯৬. মুসলিম (কিতাবুল জানায়েয : ৯৬৩)। তিরমিযি (আবওয়াবুল জানায়েয : ১০২৫)। ইবনে মাজা (আবওয়াবুল জানায়েয: ১৫০০)।
১১৯৭. বুখারি (কিতাবুল আযান : ৮৩২)। মুসলিম (কিতাবুল মাসাজিদ ওয়া মাওয়াজিউস সালাত : ৫৮৬)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 কাফেরদের কবরের শাস্তি বন্ধ থাকে কি?

📄 কাফেরদের কবরের শাস্তি বন্ধ থাকে কি?


আল-ওয়াসিয়্যাহ গ্রন্থের ব্যাখ্যাতা মোল্লা হাসান ইবনে ইস্কান্দার হানাফি ‘বাহরুল কালাম’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেন, ‘যদি কেউ কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে কিয়ামত পর্যন্ত তার শাস্তি হতে থাকে। কেবল জুমার দিন ও রমজানে আল্লাহর রাসুলের সম্মানের কারণে শাস্তি দেওয়া হয় না।’১১৯৮ নাসাফি ‘বাহরুল কালাম’-এ কোনো সূত্র ছাড়া এটি বর্ণনা করেছেন। ১১৯৯ আকিদাহ তহাবিয়্যাহর ব্যাখ্যাতা মাহমুদ কওনভিও তাঁর ‘আল-কালাইদ’ গ্রন্থে এটাকে উল্লেখ করেছেন। ১২০০ উক্ত বক্তব্যটি সম্ভবত কাযি জগন হানাফি গুজরাটির ‘খিযানাতুর রিওয়ায়াত’-শীর্ষক ফিকহি সংকলন থেকে অবচয়িত। ১২০১ ‘খিযানাতুর রিওয়ায়াত’-এর দুটি পাণ্ডুলিপি অধমের হস্তগত হয়েছে। তাতে দেখা গেছে—কেবল উপরের বক্তব্য নয়, পুরো বইয়ের বিভিন্ন জায়গাতে এমন অসংখ্য অদ্ভুত বক্তব্য রয়েছে। খুব সম্ভবত লেখক এসব বিষয় উল্লেখের ক্ষেত্রে তাহকিক ও তামহিসের উপর যথাযথ গুরুত্ব দেননি। যা-ই হোক, লেখক গুজরাটি জুমার দিন ও রমযান মাসে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সম্মানের কারণে কাফেরদের শাস্তি স্থগিত রাখার বিষয়টি ‘আল-আকিদাতুল মুঈনিয়্যাহ আন নাসাফিয়্যাহ’র উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন। অন্য কোনো হাদিস বা যৌক্তিক দলিল বর্ণনা করেননি। কিন্তু আমরা কুরআন-সুন্নাহ কিংবা নাসাফি রহ.-এর আকিদাগ্রন্থ কোথাও এ ধরনের বক্তব্য খুঁজে পাইনি। হতে পারে লেখক সহিহাইনের প্রসিদ্ধ হাদিসটিকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন, যেখানে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (ﷺ) বলেছেন, ‘যখন রমযানের আগমন ঘটে, তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়’।১২০২

কিন্তু উক্ত হাদিস বিশুদ্ধ হলেও লেখকের বক্তব্যের দলিল নয়। কারণ, হাদিসটি দ্বারা রমজানে কাফের বা মুমিনদের কবরের শাস্তি বন্ধ রাখা হয় এটা প্রমাণিত হয় না। স্রেফ জাহান্নামের দরজা বন্ধ করার কথা প্রমাণিত হয়। আর কবরের শাস্তি জাহান্নামের বাইরের অতিরিক্ত বিষয়। এ কারণে নববি, ইবনে হাজার আসকালানি, আইনিসহ বড় বড় মুহাদ্দিসের প্রায় প্রত্যেকে উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যা করেছেন রূপক অর্থে। অর্থাৎ, রমজানে নেক কাজে আগ্রহ জন্মে, মন্দ কাজ থেকে দিল সরে যায়। তাদের আযাব বন্ধ থাকে এমন নয়। তথাপি যদি বাহ্যিক অর্থে ধরা হয়, তবুও কাফেররা এর বাইরে থাকবে। ১২০৩

তা ছাড়া, যৌক্তিকভাবেও জুমা ও রমযান মাসে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সম্মানে কাফেরের কবরের শাস্তি স্থগিত থাকার বিষয়টি অদ্ভুত। কাফের ব্যক্তি যে দুনিয়ার জীবনে জুমা ও রমযান বলে কিছু জানত না, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে নবি বলে স্বীকার করত না, সেই জুমা ও রমযানের শ্রেষ্ঠত্ব এবং নবিজির সম্মানের কারণে তার কবরের আযাব কীভাবে বন্ধ থাকবে? এমন হলে তো পরকালে নবির সম্মানে কাফেরদের জাহান্নামের শাস্তি স্থগিত রাখতে হবে। বরং নবির সুপারিশে কাফেরদেরও জান্নাত দিতে হবে। এ জন্য এ ধরনের বক্তব্য সঠিক নয়। ইমাম রহ. বলেন, কবরের চাপ ও শাস্তি সত্য। এটা সকল কাফেরের জন্য। ১২০৪

টিকাঃ
১১৯৮. আল-জাওহারাতুল মুনিফাহ, মোল্লা হুসাইন হানাফি (৭৯)।
১১৯৯. দেখুন: বাহরুল কালাম (২৫০)।
১২০০. দেখুন: আল-কালাইদ (১২৭)।
১২০১. দেখুন : খিযানাতুর রিওয়ায়াত (পাণ্ডুলিপি), কাযি জগন গুজরাটি (৩৪২-৩৪৩) (দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি ১২৩)।
১২০২. বুখারি (কিতাবু বাদয়িল খালক: ৩২৭৭)। মুসলিম (কিতাবুস সিয়াম: ১০৭৯)।
১২০৩. দেখুন: শরহে মুসলিম, নববি (৭/১৮৮)। উমদাতুল কারি (১০/২৭০)।
১২০৪. আল-ফিকহুল আকবার (৭)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 মুনকার-নাকিরের প্রশ্ন

📄 মুনকার-নাকিরের প্রশ্ন


কবরের শাস্তির মতো মুনকার নাকিরের প্রশ্নও সত্য। আহলে সুন্নাতের সকল ইমামের এটা সর্বসম্মত আকিদা। কেবল মুতাযিলা ও রাফেযিদের একটি অংশ এটাকে অস্বীকার করে। ১২০৫ ইমাম আজম বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, কবরে মুনকার-নাকিরের প্রশ্নও সত্য। কারণ, এ সম্পর্কে একাধিক হাদিস এসেছে।১২০৬ ইমাম আরও বলেন, ‘কবরে মুনকার-নাকিরের প্রশ্ন সত্য।’১২০৭

সাহল ইবনে মুযাহিম (২১১ হি.) বলেন, এক ব্যক্তি ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর কাছে এসে বলল, আমি ঈমান নিয়ে সন্দেহে আছি। ইমাম তাকে বললেন, ‘যখন কবরে যাবে, মুনকার ও নাকির তোমাকে এসে প্রশ্ন করবে—তোমার দ্বীন কী? তখনও সন্দেহ করবে?’ লোকটি তখন অত্যন্ত কাঁদল।১২০৮

ইমাম তহাবি রহ. বলেন, “আমরা আল্লাহর রাসুল এবং সাহাবায়ে কেরাম থেকে একাধিক হাদিসে বর্ণিত কবরে মুনকার-নাকিরের ‘তোমার রব কে’, ‘তোমার দ্বীন কী’ এবং ‘তোমার নবি কে’ উক্ত তিনটি প্রশ্নে ঈমান রাখি।”১২০৯

ইমাম আজম রহ. নিজস্ব সনদে বারা ইবনে আযেব রাযি. সূত্রে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদিস বর্ণনা করেন: ‘মুমিনকে যখন কবরে রাখা হয়, ফেরেশতা এসে তাকে উঠিয়ে বসান এবং জিজ্ঞাসা করেন, তোমার রব কে? সে বলে, আল্লাহ। তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমার নবি কে? সে জবাবে বলে, মুহাম্মাদ। তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমার দ্বীন কী? সে বলে, ইসলাম। তখন তার কবরকে প্রশস্ত করে দেওয়া হয় এবং সে জান্নাতে তার অবস্থানস্থল দেখতে পায়। আর যখন কোনো কাফেরকে রাখা হয়, ফেরেশতা এসে তাকে উঠিয়ে বসান এবং প্রশ্ন করেন, তোমার রব কে? সে বলে, হায়! জানি না। যেন কিছু হারিয়ে ফেলেছে এমন। তাকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমার নবি কে? সে বলে, জানি না। তাকে জিজ্ঞাসা করেন তোমার দ্বীন কী? সে এবারও আফসোস করে বলে, হায়! আমি জানি না। তখন তার কবরকে সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় এবং সে জাহান্নামে তার আবাস দেখতে পায়। অতঃপর তাকে প্রচণ্ড এক আঘাত করা হয় যার চিৎকার জিন ও মানুষ ছাড়া সবাই শুনতে পায়। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তেলাওয়াত করেন, ۞ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ ۖ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ ۚ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ ۞ অর্থ : ‘আল্লাহ তায়ালা মুমিনদের মজবুত বাক্য দ্বারা শক্তিশালী করে, পার্থিব জীবনে এবং পরকালে। আল্লাহ জালেমদের পথভ্রষ্ট করেন। আল্লাহ যা ইচ্ছা তা-ই করেন।’ [ইবরাহিম: ২৭]১২১০

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আরও বলেন, ‘আমার কাছে ওহি পাঠানো হয়েছে যে, তোমাদের কবরে পরীক্ষা করা হবে।’১২১১ এখানে পরীক্ষা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে কবরে মুনকার ও নাকির নামক দুই ফেরেশতা কর্তৃক তিনটি প্রশ্ন: ‘তোমার রব কে?’ ‘তোমার দ্বীন কী?’ ‘তোমার রাসুল কে’ অথবা ‘ইনি কে?’

বারা ইবনে আযেব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে এক আনসারের জানাযার জন্য বের হলাম। ...রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তোমরা কবরের শাস্তি থেকে পানাহ চাও।’ কথাটি তিনি দুইবার অথবা তিনবার বললেন। অতঃপর বললেন, ‘যখন মানুষ দাফন কাজ শেষ করে ফিরে যায়, মৃত ব্যক্তি তাদের জুতোর ঠকঠক আওয়াজ শুনতে পায়। তখন দুজন ফেরেশতা তার কবরে আসেন। তাকে উঠিয়ে বসান। অতঃপর প্রশ্ন করেন, তোমার রব কে? সে বলে, আমার রব আল্লাহ! তারা বলেন, তোমার দ্বীন কী? সে বলে, আমার দ্বীন ইসলাম। তারা জিজ্ঞাসা করেন, যাকে তোমাদের কাছে রাসুল হিসেবে পাঠানো হয়েছিল তিনি কে? সে বলে, তিনি আল্লাহর রাসুল (ﷺ)। তখন তারা বলে, তুমি কীভাবে জানলে? সে বলে, আমি আল্লাহর কুরআন পড়েছি, তাতে ঈমান এনেছি। সত্যায়ন করেছি। ...কাফেরের কবরেও দুজন ফেরেশতা আসেন। তাকে উঠিয়ে বসান। অতঃপর প্রশ্ন করেন, তোমার রব কে? সে বলে, হায়! আমি জানি না। তারা বলেন, তোমার দ্বীন কী? সে বলে, হায়! আমি জানি না। তারা বলেন, যাকে তোমাদের মাঝে রাসুল হিসেবে পাঠানো হয়েছিল তিনি কে? সে বলে, হায়! আমি জানি না।’১২১২

আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘যখন মানুষকে কবর দেওয়া হয়, তখন নীল চক্ষুবিশিষ্ট দুজন কৃষ্ণবর্ণের ফেরেশতা কবরে আগমন করেন। তাদের একজনকে বলা হয় মুনকার অন্যজনকে বলা হয় নাকির। তারা তাকে জিজ্ঞাসা করেন, মুহাম্মাদ কে যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল? তখন সে দুনিয়ায় যা বলত সেটাই বলে। যদি মুমিন হয় তবে বলে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আর মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তখন ফেরেশতাদ্বয় তাকে বলেন, আমরা জানতাম তুমি এটাই বলবে। অতঃপর তার কবর সত্তর হাত দীর্ঘ এবং সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হয়। কবরে আলো দান করা হয়। তাকে বলা হয়, নতুন বরের মতো ঘুমাও যাকে তার সবচেয়ে প্রিয়জনই সজাগ করে। ঘুমাও সেদিন পর্যন্ত যেদিন আল্লাহ তোমাকে পুনরুত্থিত করবেন। আর যদি মুনাফিক হয় তবে বলে, হায়! আমি জানি না। মানুষকে বলতে শুনতাম, আমিও বলতাম। তখন ফেরেশতাদ্বয় বলেন, আমরা জানতাম তুমি এটাই বলবে। তখন মাটিকে বলা হয়, তাকে চাপ দাও। মাটি তাকে এমনভাবে চাপ দেয় যে, তার পাঁজরের হাড়গুলো একটি অপরটির সাথে মিশে যায়। এভাবে তাকে কিয়ামত পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া হবে।১২১৩

তবে কিছু কিছু হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, একদল মানুষকে আল্লাহ তায়ালা তাদের কর্ম এবং নিজ অনুগ্রহের ফলে কবরের প্রশ্নের মতো জটিল পরীক্ষা থেকে রক্ষা করবেন। তারা হলেন :

* নবি-রাসুলগণ। তাদের কবরে কোনো প্রশ্ন করা হবে না। কারণ, তাঁরাই মানুষকে আল্লাহর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তাঁরাই পৃথিবীতে ইসলাম নিয়ে এসেছেন, প্রচার করেছেন, ইসলামের জন্য সবকিছু কুরবানি করেছেন। কবরে উম্মতকে তাদের ব্যাপারেই প্রশ্ন করা হবে। তাহলে তাদের প্রশ্ন করার কোনো তাৎপর্য থাকে না।১২১৪
* আল্লাহর পথে শহিদগণ। আল্লাহ তায়ালা কবরে তাদের প্রশ্ন করবেন না। কারণ, কবরে প্রশ্ন মূলত মুমিন ও কাফের/মুনাফিকের মাঝে পার্থক্য করার জন্য করা হয়। শহিদ যেখানে ঈমানের পক্ষে কুফরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জীবন দিয়ে কবরে এসেছে, তার ঈমানের পরীক্ষা নেওয়া নিষ্প্রয়োজন। এটা বিভিন্ন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো—হে আল্লাহর রাসুল, সকল মানুষকে কবরে প্রশ্ন করা হবে, কিন্তু শহিদকে প্রশ্ন করা হবে না। কারণ কী? রাসুল (ﷺ) বলেন, ‘তার মাথায় তরবারির আঘাত তাকে কবরের ফেতনা (প্রশ্ন) থেকে রক্ষা করবে’।১২১৫
* আল্লাহর পথে পাহারাদারগণ কবরের প্রশ্ন থেকে রক্ষা পাবেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘প্রত্যেক ব্যক্তির মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তার আমল শেষ হয়ে যায়। আল্লাহর পথে পাহারারত অবস্থায় মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তি ব্যতিক্রম। কেননা, কিয়ামত পর্যন্ত তার আমল বৃদ্ধি পেতে থাকে। সে কবরের ফেতনা (প্রশ্ন) থেকে নিরাপদ থাকে।’১২১৬ আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “আল্লাহর রাস্তায় এক রাত পাহারা দেওয়া এক মাস দিনে রোযা এবং রাত জেগে ইবাদতের চেয়ে উত্তম। যদি সে অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে মৃত্যুর পরও তার এই আমল অব্যাহত থাকবে। তাকে রিযিক প্রদান করা হবে। কবরের ‘ফাত্তান’ (তথা প্রশ্নকারী ফেরেশতা) থেকে নিরাপদে থাকবে।”১২১৭
* জুমার দিন অথবা রাতে মৃত্যুবরণ করা। আবদুল্লাহ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (ﷺ) বলেছেন, ‘যদি কোনো মুসলিম ব্যক্তি জুমার দিন অথবা রাতে মারা যায়, আল্লাহ তাকে কবরের ফেতনা (প্রশ্ন) থেকে রক্ষা করেন।১২১৮

টিকাঃ
১২০৫. উসুলুদ্দিন, বাযদাবি (১৬৯)।
১২০৬. আল-ওয়াসিয়্যাহ (৫৩-৫৪)।
১২০৭. আল-ফিকহুল আকবার (৭)।
১২০৮. আল-ইতিকাদ, নিশাপুরি (১০৯)।
১২০৯. আকিদাহ তহাবিয়্যাহ (২৫)।
১২১০. আল-উসুলুল মুনিফাহ (৫৪-৫৫)। এ ধরনের হাদিস আরও দেখুন: মুসনাদে আবি হানিফা, হারেসির বর্ণনা (হাদিস নং ৫৮২, ৫৮৩, ৫৮৪)। ইমাম আবু ইউসুফও এটা বর্ণনা করেছেন। দেখুন: আল-আসার (হাদিস নং ৯১২)।
১২১১. বুখারি (কিতাবুল ইলম : ৮৬)।
১২১২. দেখুন: আবু দাউদ (কিতাবুস সুন্নাহ: ৪৭৫৩)। মুসতাদরাকে হাকেম (কিতাবুল ঈমান: ১০৮)। মুসনাদে আহমদ (আওয়ালু মুসনাদিল কুফিয়্যিন: ১৮৮৩২)। মুসান্নাফে আবদির রাযযাক (কিতাবুল জানায়েয: ৬৭৩৭)। মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা (কিতাবুল জানায়েয: ১২১৮৫)।
১২১৩. তিরমিযি (আবওয়াবুল জানায়েয : ১০৭১)। ইবনে হিব্বান (কিতাবুল জানায়েয : ৩১১৭)
১২১৪. দেখুন: তালখিসুল আদিল্লাহ (৫৬৯)।
১২১৫. সুনানে নাসায়ি (কিতাবুল জানায়েয: ১/২০NT২)।
১২১৬. তিরমিযি (আবওয়াবু ফাযায়িলিল জিহাদ: ১৬২১)। ইবনে মাজা (আবওয়াবুল জিহাদ: ২৭৬৭)।
১২১৭. সহিহ মুসলিম (কিতাবুল ইমারাহ: ১৯১৩)। তিরমিযি (আবওয়াবু ফাযায়িলিল জিহাদ: ১৬৬৫)।
১২১৮. তিরমিযি (আবওয়াবুল জানায়েয: ১০৭৪)। মুসনাদে আহমদ (মুসনাদে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস: ৬৬৯৩)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 পুনরুত্থান ও হাশর

📄 পুনরুত্থান ও হাশর


কবরের প্রশ্ন, চাপ, শাস্তি—এ সবকিছুই কেবল সূচনা, গন্তব্য নয়। এটা পথের শুরু, শেষ নয়। মানুষ কিছুদিন এখানে অবস্থান করবে। প্রস্তুতি নেবে চূড়ান্ত গন্তব্যের জন্য, হিসাবের জন্য, জান্নাত ও জাহান্নামের জন্য। ফলে তার কর্মের ভিত্তিতে কবরে শান্তি বা শাস্তি যা দেওয়া হবে সেগুলো নিতান্তই সামান্য ও সাময়িক। চূড়ান্ত ও স্থায়ী শান্তি বা শান্তির তুলনায় সেগুলো কিছুই নয়।

জগতের সকল মুসলিম এ ব্যাপারে একমত যে, কবরের জগৎ শেষ নয়। এটা পরকালীন জীবনের প্রথম মঞ্জিল মাত্র। কবরের জীবনে গোটা সৃষ্টির শরীরগুলো পচেগলে যাওয়ার পরে আল্লাহ তায়ালা সেগুলো আবার পুনরুত্থিত করবেন। সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত ও নিঃশেষিত হয়ে যাওয়া অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো নতুন করে সংযুক্ত করবেন এবং তাতে রুহ ফুঁকে দেবেন। এটাকে বলা হয় ‘নাশর।’ অতঃপর সকল সৃষ্টিকে একটা স্থানে সমবেত করবেন। এটাকে বলা হয় ‘হাশর।’ সেখানে আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকের ভালোমন্দ কর্মের হিসাব নেবেন এবং বিনিময় দেবেন।

মানুষ ও জিন এবং তাদের সঙ্গে সকল পশুপাখি ও প্রাণীকুলও সেখানে একত্র হবে। আল্লাহ বলেন, ۞ قُلْ إِنَّ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ ۞ ۞ لَمَجْمُوعُونَ إِلَىٰ مِيقَاتِ يَوْمٍ مَعْلُومٍ ۞ অর্থ : ‘আপনি বলুন, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মানুষজন। সকলকে একত্র করা হবে এক নির্ধারিত দিনের নির্দিষ্ট সময়ে।’ [ওয়াকিয়াহ : ৪৯-৫০] হাশরের ময়দান থেকে কেউ বাদ যাবে না। কারও লুকিয়ে থাকার সুযোগ নেই কোথাও। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ۞ إِنْ كُلُّ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ إِلَّا آتِي الرَّحْمَنِ عَبْدًا ۞ ۞ لَقَدْ أَحْصَاهُمْ وَعَدَّهُمْ عَدًّا ۞ ۞ وَكُلُّهُمْ آتِيهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَرْدًا ۞ অর্থ : ‘আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে এমন কেউ নেই, যে দয়াময়ের নিকট বান্দারূপে উপস্থিত না হয়ে পারবে। নিশ্চয়ই তিনি সকলকে বেষ্টন করে রেখেছেন এবং তাদের ভালোভাবে গুনে রেখেছেন। কিয়ামত দিবসে এদের সকলেই তাঁর নিকট আসবে একাকী অবস্থায়।’ [মারইয়াম: ৯৩-৯৪]

পশুপাখিকে একত্র করার বিষয়ে আল্লাহ বলেন, ۞ وَمَا مِنْ دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُمْ ۚ مَا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِنْ شَيْءٍ ۚ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ ۞ অর্থ : ‘ভূগর্ভে বিচরণশীল জীব এবং নিজ ডানার সাহায্যে উড়ন্ত পাখি—তারা সকলে তোমাদের মতোই একেকটি জাতি। কিতাবে কোনোকিছুই আমি বাদ দিইনি; এরপর স্বীয় প্রতিপালকের দিকে তাদের একত্র করা হবে।’ [আনআম : ৩৮] হিংস্র শ্বাপদও বাদ যাবে না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ۞ وَإِذَا الْوُحُوشُ حُشِرَتْ ۞ অর্থ : ‘যখন বন্য পশুসমূহ একত্র করা হবে।’ [তাকভির : ৫]

তাদের মাঝের দেনা-পাওনা সমান সমান করার পর তাদের মাটিতে পরিণত করা হবে। বিপরীতে মানুষ ও জিনকে জান্নাত অথবা জাহান্নামের অনন্ত জীবনের দিকে পাঠানো হবে। আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন সবার অধিকার বুঝিয়ে দেওয়া হবে। শিংবিহীন ছাগলকে শিংবিশিষ্ট ছাগল থেকে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’১২১৯ আরেকটি বর্ণনায় আবু হুরায়রা রাযি. বলেন, ‘কিয়ামতের দিন গোটা সৃষ্টিকে একত্র করা হবে। সকল প্রাণী, চতুষ্পদ জন্তু, পশুপাখি—সবকিছু। আল্লাহ তায়ালা সবার প্রতি ইনসাফ করবেন। শিংবিহীন ছাগল শিংবিশিষ্ট ছাগল থেকে নিজ পাওনা বুঝে নেবে। অতঃপর আল্লাহ সবাইকে মাটি হয়ে যাওয়ার আদেশ দেবেন। কাফেররা আফসোস করে বলতে থাকবে, ‘হায়! আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম।’১২২০

ইমাম আজম বলেন, ‘আমরা মৃত্যুর পরে পুনরুত্থানে বিশ্বাস করি। আল্লাহ তায়ালা সকল মৃত প্রাণীকে একদিন একত্র করবেন। সে দিনটি হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। ... আল্লাহ বলেন, ۞ وَأَنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ لَا رَيْبَ فِيهَا وَأَنَّ اللَّهَ يَبْعَثُ مَنْ فِي الْقُبُورِ ۞ অর্থ : ‘কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী; এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর নিশ্চয়ই কবরে যারা আছে আল্লাহ তাদের পুনরুত্থিত করবেন।’ [হজ: ৭] ১২২১ ইমাম তহাবি রহ. বলেন, ‘আমরা কিয়ামতের দিন পুনরুত্থান এবং আমলের প্রতিদান পাওয়ার বিশ্বাস রাখি। বিশ্বাস রাখি আমলনামা উপস্থাপন, হিসাব-নিকাশ, আমলনামা পাঠ, সওয়াব, শাস্তি, পুলসিরাত ও মিযানের ব্যাপারে। ’১২২২

টিকাঃ
১২১৯. মুসলিম (কিতাবুল বিররি ওয়াস সিলাহ: ২৫৮২)। তিরমিযি (আবওয়াবু সিফাতিল কিয়ামাহ : ২৪২০)।
১২২০. মুসতাদরাকে হাকেম (কিতাবুত তাফসির : ৩২৫০)। মুসনাদে আহমদ (মুসনাদু উসমান ইবনে আফফান : ৫২৭)।
১২২১. আল-ওয়াসিয়্যাহ (৫৮)।
১২২২. আকিদাহ তহাবিয়্যাহ (২৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00