📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 কাউকে অনুগ্রহ আর কাউকে ইনসাফের রহস্য

📄 কাউকে অনুগ্রহ আর কাউকে ইনসাফের রহস্য


প্রশ্ন হতে পারে, প্রথম জনকে অনুগ্রহ ও সহায়তা করা আর দ্বিতীয় জনকে অনুগ্রহ ও সহায়তা পরিহার করে ইনসাফ করার মাঝে বিশেষ কোনো কারণ আছে কি?

যেমনটা পিছনে বলেছি, হ্যাঁ আছে। কুরআন ও সুন্নাহতে আমরা এর উত্তর পাই। আল্লাহ বলেন, ۞ فَأَمَّا مَنْ أَعْطَىٰ وَاتَّقَىٰ ۞ ۞ وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَىٰ ۞ ۞ فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَىٰ ۞ ۞ وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَىٰ ۞ ۞ وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَىٰ ۞ ۞ فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَىٰ ۞ অর্থ : ‘অতএব, যে দান করে, আল্লাহভীরু হয় এবং উত্তম বিষয়কে সত্যায়ন করে, আমি তার জন্য সুখের বিষয়কে সহজ করে দেবো। আর যে কৃপণতা করে, মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং উত্তম বিষয়কে অস্বীকার করে, আমি তার জন্য দুঃখের পথ সহজ করে দেবো।’১১২৭ [লাইল : ৫-১০] উক্ত আয়াতে স্পষ্ট যে, প্রথম জনকে আল্লাহ সুখের পথ সহজ করে দেন। কারণ, সে আল্লাহকে ভয় করে, সদকা করে, দ্বীন ও ঈমানকে সত্যায়ন করে। আর দ্বিতীয় জনের জন্য দুঃখের পথ সহজ করে দেন (অনুগ্রহ করে সুখের পথ দেখান না)। কারণ, সে মুখ ফিরিয়ে নেয়, দ্বীন ও ঈমান অস্বীকার করে। ফলে অনুগ্রহ ও ইনসাফের পাত্র হওয়ার ক্ষেত্রেও মানুষের কর্মফলের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে。

অন্য আরেকটি আয়াতে বিষয়টি স্পষ্ট। আল্লাহ বলেন, ۞ وَاللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَن يَشَاءُ ۞ ۞ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَن يُنِيبُ ۞ অর্থ : ‘আল্লাহ যাকে ইচ্ছা দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং যে তাঁর অভিমুখী তাকে দ্বীনের দিকে পরিচালিত করেন।’ [ইউনুস : ৪৪] অর্থাৎ, দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া আল্লাহর অনুগ্রহ নিঃসন্দেহে। কিন্তু নিজেকে এই অনুগ্রহপ্রাপ্তির উপযুক্ত বান্দার নিজেকেই হতে হয়। যে আল্লাহর অভিমুখী হয়, আল্লাহর দিকে ছুটে যায়, আল্লাহ তাকে হেদায়াত দেন। যার হেদায়াতের সদিচ্ছা থাকে না, চেষ্টা থাকে না, আল্লাহ তাকে হেদায়াত দেন না। ফলে আল্লাহ যাকে সাহায্য পরিত্যাগ করেন সেটা তার অহংকার, সত্য প্রত্যাখ্যানের দম্ভ এবং একগুঁয়েমির কারণে করেন। আল্লাহ বলেন, ۞ إِنَّ اللَّهَ لَا يَظْلِمُ النَّاسَ شَيْئًا وَلَٰكِنَّ النَّاسَ أَنْفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ ۞ অর্থ : ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষকে একবিন্দু জুলুম করেন না, বরং মানুষ নিজেদের উপর জুলুম করে।’ [ইউনুস: ৪৪]

আরেকটি উত্তর হচ্ছে, ‘রুহের জগতে আল্লাহ তায়ালা আদম সন্তানকে তাঁর (আদমের) পৃষ্ঠদেশ থেকে বের করেছেন। তাদের জ্ঞান দান করেছেন। তাদের সম্বোধন করে ঈমানের নির্দেশ দিয়েছেন। কুফরি থেকে বারণ করেছেন। তখন তারা আল্লাহর রবুবিয়্যাহকে স্বীকার করে নিয়েছিল। আর এভাবেই তারা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছিল। পরবর্তীকালে আদম সন্তান সেই ফিতরত (ঈমানের প্রস্তুতির) উপরই জন্মলাভ করে। সুতরাং পরে যে কুফরি করল, সে মূলত (তার প্রতিশ্রুতি) বদলে ফেলল। আর যে ঈমান আনল এবং সত্যায়ন করল, সে (প্রতিশ্রুতির উপর) অটল ও অবিচল রইল। আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কাউকে কুফর বা ঈমানের উপর বাধ্য করেননি, কিংবা কাউকে মুমিন বা কাফের হিসেবে সৃষ্টি করেননি; বরং সবাইকে সৃষ্টি করেছেন ব্যক্তি (মানুষ) হিসেবে।’১১২৮ ফলে একজনকে সাহায্য করা অন্যজনকে না করা জুলুম নয়, বরং এটাও তাদের কর্মের প্রতিদান。

টিকাঃ
১১২৭. বুখারি (৪৯৪৯)। মুসলিম (২৬৪৭).
১১২৮. আল-ফিকহুল আকবার (৩-৪)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 রুহের জগতে প্রতিশ্রুতি নেওয়ার রহস্য

📄 রুহের জগতে প্রতিশ্রুতি নেওয়ার রহস্য


প্রশ্ন হতে পারে, আল্লাহ তায়ালা কেন আমাদের থেকে রুহের জগতে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন? সেটা করে তো উলটো আমাদের ক্ষতি করলেন। কারণ, সে প্রতিশ্রুতি আমাদের মনে নেই; অথচ সে কারণে এখন আমাদের শাস্তি ভোগ করতে হচ্ছে। এর উত্তর হলো, আল্লাহ তায়ালা নিজেই আমাদের সেটা পরীক্ষার জন্য ভুলিয়ে দিয়েছেন। সেটা মনে থাকলে তো আর পরীক্ষা হতো না। কারণ, দুনিয়ার বাইরের সব বিষয় হলো গায়েবি তথা অদৃশ্যের। এক্ষেত্রে ঈমানই একমাত্র পথ। সুতরাং সেই প্রতিশ্রুতি মনে না থাকলেও ঈমানের মাধ্যমে সেটার অস্তিত্ব ও সত্যতার ব্যাপারে সুনিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা সম্ভব। তবে আল্লাহ এখানেই আমাদের ছেড়ে দেননি। কেবল সেই প্রতিশ্রুতি উপর ভিত্তি করে আমাদের সৌভাগ্য-দুর্ভাগ্যের ফয়সালা করেননি; বরং পৃথিবীতে পাঠানোর পর তিনি আমাদের কাছ থেকে আবার সেই প্রতিশ্রুতি নবায়ন করেছেন। বিস্মৃত প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিতে তিনি অসংখ্য নবি-রাসুল প্রেরণ করেছেন, অসংখ্য আসমানি গ্রন্থ অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং এর পর আর কোনো অজুহাত পেশ করার সুযোগ নেই। ১১২৯

তাই আমাদের মনে রাখতে হবে—যেমনটা ইমাম বলেন, ‘আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কাউকে কুফর বা ঈমানের উপর বাধ্য করেননি; কিংবা কাউকে মুমিন বা কাফের হিসেবে সৃষ্টি করেননি; বরং সবাইকে সৃষ্টি করেছেন ব্যক্তি (মানুষ) হিসেবে। ১১৩০ কারণ, কাউকে মুমিন হিসেবে সৃষ্টি করলে পৃথিবীতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো অর্থহীন হতো। তা ছাড়া, এটা কাফেরদের প্রতিও জুলুম হতো। একইভাবে কাউকে কাফের হিসেবে সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো অর্থহীন হতো। তা ছাড়া, এটা তাদের প্রতিও জুলুম হতো। ফলে আল্লাহ সবাইকে স্বাধীনভাবে ফিতরতের উপর সৃষ্টি করেছেন। ভালোর প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ এবং মন্দের প্রতি স্বাভাবিক বিকর্ষণ তৈরি করে দিয়েছেন [হুজুরাত : ৭]। এর পর ভালোমন্দ কর্ম প্রত্যেকে নিজে বেছে নেয়। ফলে প্রত্যেককে তার কর্মের দায়ভার বহন করতে হবে।

টিকাঃ
১১২৯. শরহুল ফিকহিল আকবার, মাগনিসাভি (১২৮).
১১৩০. আল-ফিকহুল আকবার (৩-৪)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 তাকদিরের লিখন বর্ণনা হিসেবে, নির্দেশ হিসেবে নয়

📄 তাকদিরের লিখন বর্ণনা হিসেবে, নির্দেশ হিসেবে নয়


এটা তাকদির বোঝার সর্বশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অথচ সহজ চাবিকাঠি। এটা একজন সাধারণ মানুষেরও বোঝার কথা। ফলে এই আলোচনার পর তাকদিরের উপর আর কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়।

ইমাম আজম বলেন, ‘দুনিয়া ও আখেরাতের কোনোকিছুই আল্লাহর ইচ্ছা, জ্ঞান, ফয়সালা ও কুদরত ব্যতীত সংঘটিত হয় না। তিনি এসব লাওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন। কিন্তু তাঁর এ লিখন বর্ণনা হিসেবে, হুকুম হিসেবে নয়’ (كتبه بالوصف لا بالحكم)।১১৩৫ অর্থাৎ মানুষ পৃথিবীতে কী করবে সেটা তিনি জেনে লিখেছেন। তিনি আগেই তাদের ভাগ্যের উপর কিছু চাপিয়ে লিখেছেন, আর মানুষ পৃথিবীতে এসে কেবল সেটাই পালন করছে—এমন নয়। কারণ, এমন হলে কিতাব অবতীর্ণ করা, রাসুল পাঠানো এবং আদেশ-নিষেধ দেওয়ার কোনো মানে হয় না। এ জন্য ইমাম প্রশ্ন করেন, ‘পৃথিবীতে বর্তমানে যা-কিছু হচ্ছে আল্লাহ জানতেন কি না? যদি কেউ বলে, না, তবে সে কাফের হয়ে যাবে। কারণ, সে আল্লাহর ইলমকে অস্বীকার করল। আর যদি বলে, হ্যাঁ, তবে তাকে বলা হবে, আল্লাহ কি তখন যেভাবে জেনেছেন সেভাবে হওয়ার ইচ্ছা করেছেন, নাকি বিপরীত হওয়ার ইচ্ছা করেছেন? যদি বলে, যেভাবে হবে জেনেছেন সেভাবে ইচ্ছা করেছেন, তখন সে স্বীকার করে নিল যে, আল্লাহ মুমিনের জন্য ঈমান এবং কাফেরের জন্য কুফর চেয়েছেন, ফলে তা-ই হচ্ছে। আর যদি বলে, যেভাবে হবে জেনেছেন সেটা তার ইচ্ছা অনুযায়ী ছিল না, তবে আল্লাহকে অক্ষম সাব্যস্ত করা হলো। এতে সে কাফের হয়ে যাবে।’১১৩৬

উপরের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, আল্লাহর ইচ্ছা ও ফয়সালা ইলমের অনুগামী। আল্লাহ যেভাবে হবে জেনেছেন, সেভাবে মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছেন এবং সেভাবে তার ভাগ্য লিখেছেন। আগে লিখে কারও উপর চাপিয়ে দেননি। খাত্তাবি বলেন, ‘অনেক লোক মনে করে, আল্লাহ তায়ালা তাকদিরের লেখার মাধ্যমে মানুষকে ভাগ্যের লিখনের মাঝে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছেন, বাধ্য করেছেন। এটা ভুল ধারণা। তাকদির অর্থ মানুষকে বাধ্য করা নয়; বরং এর অর্থ মানুষকে সৃষ্টির আগেই আল্লাহ যেহেতু জানেন সে কী করবে, ফলে তিনি বান্দার কর্মফল সে ভিত্তিতেই লিখেছেন। তার জন্য ভালোমন্দ সৃষ্টি করেছেন। নিজের পক্ষ থেকে চাপিয়ে দেননি। ’১১৩৭

ইমাম আরও বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিকে কুফর ও ঈমান থেকে বিমুক্ত সৃষ্টি করেছেন। এরপর তাদের ঈমানের আদেশ দিয়েছেন, কুফর থেকে নিষেধ করেছেন। তারা কেউ ঈমান গ্রহণ করেছে, আবার কেউ কুফর গ্রহণ করেছে। যারা ঈমান গ্রহণ করেছে, তারা নিজের ইচ্ছাতেই করেছে...। বিপরীতে যারা কুফর গ্রহণ করেছে, সেটাও তাদের ইচ্ছায় করেছে।’ ইমাম অন্যত্র বলেন, ‘...আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির কাউকে কুফর বা ঈমানের উপর বাধ্য করেননি। কিংবা কাউকে মুমিন বা কাফের হিসেবে সৃষ্টি করেননি; বরং সবাইকে সৃষ্টি করেছেন ব্যক্তি (মানুষ) হিসেবে।’ ১১৩৮

কাসানিও এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি বর্ণনা করেন, যা এ সম্পর্কিত সংশয় কাটাতে সাহায্য করবে। তিনি লিখেন, ‘আল্লাহ তায়ালা যা হবে বলে জেনেছেন, সেটা হওয়ার ইচ্ছা করেছেন, সেটা তাঁর আনুগত্য হোক কিংবা অবাধ্যতা হোক। আবার যেটা তিনি হবে না বলে জেনেছেন, সেটা তিনি না হওয়ার ইচ্ছা করেছেন, হোক সেটা আনুগত্য কিংবা অবাধ্যতা। মোটকথা, তাঁর ইচ্ছাটা ‘জানার’ সঙ্গে সম্পৃক্ত, আদেশ-নিষেধের সঙ্গে নয়।’১১৩৯ অর্থাৎ, আল্লাহ যখন কারও ব্যাপারে জেনেছেন সে ভালো কাজ করবে, তার জন্য সেটাই ইচ্ছা করেছেন। তাকে ভালো কাজের আদেশও দিয়েছেন। ফলে ভালো কাজটা সংঘটিত হচ্ছে। আবার আল্লাহ যখন কেউ খারাপ কাজ করবে জেনেছেন, খারাপের ইচ্ছা করেছেন। যদিও তিনি খারাপটা করতে নিষেধ করেছেন, তবু শেষ পর্যন্ত খারাপটাই হবে। কারণ, তিনি জেনেছেন সেটা, পরে ইচ্ছাও করেছেন। সুতরাং ভালোমন্দ বেছে নেওয়ার বিষয়টি শেষ পর্যন্ত মানুষের ঘাড়েই পড়ে। সে নিজে বাছাই করে। ফলে এর দায়ভারও তাঁর কাঁধে।

মাগনিসাভি লিখেন, “আল্লাহ লাওহে মাহফুজে সবকিছুর বর্ণনা লিখেছেন। অর্থাৎ, তাতে আল্লাহ প্রত্যেক বস্তুর ভালোমন্দ, লম্বা-চওড়া, ছোট-বড়, কম-বেশি, হালকা-ভারি, গরম-ঠান্ডা, আর্দ্রতা-শুষ্কতা, আনুগত্য-অবাধ্যতা, ইচ্ছা, সামর্থ্য, উপার্জন ইত্যাদি সাধারণ বর্ণনা ও অবস্থা, গুণাগুণ ও চরিত্র লিখেছেন। ব্যাখ্যা ও কারণ ছাড়া কেবল ‘নির্দেশমূলক’ কথা লিখেননি। অন্যকথায়, লাওহে মাহফুজে আল্লাহ এমন লিখেননি—‘যায়েদ মুমিন হোক’, ‘আমর কাফের হোক।’ এমন লিখলে যায়েদ ঈমান আনতে বাধ্য হতো, আমর কুফরি করতে বাধ্য হতো। কারণ, আল্লাহর নির্দেশ অনিবার্যভাবে বাস্তবায়িত হবে। তাঁর নির্দেশ রহিত করার ক্ষমতা কারও নেই (আর এমন হলে তাতে মানুষের কোনো দায় থাকে না)। তাই আল্লাহ লিখেছেন, যায়েদ স্বেচ্ছায় ও নিজের স্বাধীনতায় ঈমান আনবে। সে ঈমান চাইবে, কুফর চাইবে না। আমর স্বেচ্ছায় ও নিজের স্বাধীনতায় কুফরি গ্রহণ করবে। কুফর চাইবে, ঈমান চাইবে না (এ কারণে মানুষকেই তার ঈমান ও কুফরের দায়ভার বহন করতে হবে)। উদ্দেশ্য হলো, বান্দার কাজের ক্ষেত্রে ‘জাবর’ তথা বাধ্যবাধকতাকে নাকচ করে দেওয়া, জাবরিয়্যাহদের মতাদর্শ বাতিল সাব্যস্ত করা।”১১৪০

টিকাঃ
১১৩৫. আল-ফিকহুল আকবার (৩).
১১৩৬. আল-উসুলুল মুনিফাহ (২৮).
১১৩৭. শরহে মুসলিম, নববি (১/১৫৫).
১১৩৮. আল-ফিকহুল আকবার (৩-৪).
১১৩৯. আল-মুতামাদ ফিল মুতাকাদ, কাসানি (৫).
১১৪০. শরহুল ফিকহিল আকবার, মাগনিসাভি (১২৩-১২৪)。

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 তাকদিরের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ও খণ্ডন

📄 তাকদিরের ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ও খণ্ডন


তাকদিরের ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিশুদ্ধ ও ভারসাম্যপূর্ণ আকিদা বর্ণনার পর এবার আমরা তাকদিরের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিচ্যুতি ও বিচ্যুত সম্প্রদায় নিয়ে আলোচনা করব; তাদের বিচ্যুতির জায়গাগুলো সংশোধন করব। এতে করে তাকদিরকেন্দ্রিক সকল জটিলতা ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে, ইনশাআল্লাহ。

আহলে সুন্নাতের আকিদা হলো—মানুষের সকল কাজ আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহ সেগুলোর সৃষ্টিকারী, উদ্ভাবক এবং অস্তিত্বে আনয়নকারী। কিন্তু মানুষ সেগুলোর কর্তা। মানুষের ইচ্ছা-স্বাধীনতা ও সামর্থ্যের মাধ্যমে সেটা সম্পন্ন হয়। ফলে আল্লাহ সৃষ্টি করেন। মানুষ কাজে পরিণত করে; সৃষ্টি করে না। কিন্তু এক্ষেত্রে বিভিন্ন সম্প্রদায় ভারসাম্য নষ্ট করেছে। তাকদিরের ক্ষেত্রে তারা নানারকম প্রান্তিকতায় লিপ্ত হয়েছে। তাকদিরের নানান বিষয় অস্বীকার করে প্রান্তিকতার শিকার হয়েছে সকল কাদারিয়্যাহ, একদল শিয়া, মুতাযিলা এবং অধিকাংশ খারেজি ফিরকা। অপরদিকে তাকদির স্বীকার করার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির কারণে প্রান্তিকতার শিকার হয়েছে জাবরিয়্যাহ ও জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায়। নিচে ধারাবাহিকভাবে তাদের বিচ্যুতি এবং ইমাম আজমের ভাষ্যে সেগুলোর খণ্ডন উল্লেখ করা হচ্ছে :

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00