📄 রুকাইয়্যাহ
নবুওতের প্রায় সাত বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমে উতবা ইবনে আবি লাহাবের সঙ্গে তাঁর বিবাহ ঠিক হয়। কিন্তু আবু লাহাবের কুফরের কারণে ঘর-সংসার করার আগেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। তখন উসমান ইবনে আফফান রাযি. তাকে বিবাহ করেন। হাবশায় মুসলমানদের সঙ্গে হিজরত করেন। অতঃপর মদিনায় হিজরত করেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বদরযুদ্ধে বের হওয়ার পরে রুকাইয়াহ ওফাত লাভ করেন।
📄 উম্মে কুলসুম
রুকাইয়াহর ওফাতের পরে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) উম্মে কুলসুমকে উসমান রাযি.-এর সঙ্গে বিবাহ দেন। এতে উসমান রাযি.-এর মাহাত্ম্য ও আভিজাত্য প্রকাশ পায়। ইমাম আজম এ ব্যাপারে তাঁর নিজস্ব সনদে বর্ণনা করেন, রুকাইয়াহ রাযি.-এর ইন্তিকাল হয়ে গেলে উমর রাযি. উসমানের কাছে তাঁর মেয়ে হাফসাকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। উসমান রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে পরামর্শের কথা জানান। উমর রাযি. রাসুলুল্লাহর কাছে পরামর্শের জন্য গেলে তিনি বলেন, আমি কি তোমাকে উসমানের চেয়ে উত্তম জামাতা দেখিয়ে দেবো? আর উসমানকে তোমার চেয়ে উত্তম শ্বশুর দেখিয়ে দেবো? উমর বললেন, জি হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ। নবিজি (ﷺ) বললেন, তোমার মেয়ে হাফসাকে আমার সঙ্গে বিবাহ দাও। আমি উসমানের সঙ্গে আমার মেয়ে (উম্মে কুলসুম)-কে বিবাহ দিই। ১০৮৯ সুবহানাল্লাহ! এভাবে উমর রাযি. পৃথিবীর সর্বোত্তম মানুষকে মেয়ের জামাতা হিসেবে পেলেন। আবার উসমান পৃথিবীর সর্বোত্তম মানুষকে শ্বশুর হিসেবে পেলেন! আর তিনি হলেন সাইয়েদুনা রাসুলুল্লাহ (ﷺ)। পাশাপাশি উক্ত ঘটনা তাদের সারল্য, হৃদয়ের বিশুদ্ধতা, লৌকিকতা থেকে তাদের দূরাবস্থানের সাক্ষী। উম্মে কুলসুম হিজরতের নবম বর্ষে ওফাত লাভ করেন।
টিকাঃ
১০৮৯. শরহু মুসনাদে আবি হানিফা (৪১২-৪১৩)।
📄 রাসূলুল্লাহর সন্তানদের আলোচনা কেন?
প্রশ্ন হতে পারে, ইমাম আজম এখানে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সন্তানদের ব্যাপারে কেন আলোচনা করলেন? সাধারণত আকিদার কিতাবগুলোতে রাসুলুল্লাহর (ﷺ) সন্তানসন্ততি নিয়ে আলোচনা চোখে পড়ে না। কারণ, এগুলো একদিক থেকে ঈমানের মৌলিক কোনো বিষয় নয়, অন্যদিকে এগুলো নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই। ফলে এ ব্যাপারে কথা বলার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা নেই। কিন্তু ইমাম আজম রহ. রাসুলুল্লাহর সকল সন্তানের ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। তাদের নাম ধরে ধরে উল্লেখ করেছেন। এটাকে মোটা দাগে দুটো কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় :
এক. এক্ষেত্রে প্রয়োজনের চেয়ে মহব্বতের বিষয়টা সম্ভবত বেশি ছিল। এর মাধ্যমে নবিপরিবারের সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক, নবিজির সন্তানসন্ততি ও আহলে বাইতের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ও অনুরাগ ফুটে ওঠে। কারণ, ইমাম আজম রহ. আহলে বাইতকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। বরং অত্যধিক ভালোবাসার কারণে কেউ কেউ তাকে শিয়া বলেও সন্দেহ করত। যদিও তিনি কখনোই শিয়া ছিলেন না, যেমনটা আমরা সামনে দেখব। তা ছাড়া, ইমামের যুগে একাধিক উমাইয়া শাসকের দৌরাত্ম্যে আহলে বাইতের প্রতি সমাজে ঘৃণা ছড়ানো হতো। ফলে আকিদার বইয়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সন্তানসন্ততির ব্যাপারে আলোচনা করে ইমাম সেটার প্রতি কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
দুই. খোদ শিয়া ও রাফেযিদের খণ্ডনে ইমাম আজম রহ. রাসুলুল্লাহ (ﷺ)- এর সন্তানসন্ততির ব্যাপারে আলোচনা করেছেন। কারণ, শিয়াদের একটি গ্রুপ রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সন্তানসন্ততির ব্যাপারে মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়। ফাতিমা রাযি.-এর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করতে গিয়ে তারা রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর অন্যান্য সন্তানকে অস্বীকার করে। তাদের মতে, কেবল ফাতিমাই রাসুলুল্লাহর ঔরসজাত সন্তান, বাকিরা খাদিজা রাযি.-এর আগের ঘরের সন্তান। আবার কেউ যয়নব ও রুকাইয়াহকে খাদিজার পালিত সন্তানও ঘোষণা করে। অন্যদিকে উসমান রাযি.- এর প্রতি বিদ্বেষ রাখতে গিয়ে তাঁর দুই স্ত্রী রুকাইয়াহ ও উম্মে কুলসুমকে নবিজির মেয়ের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেয়। ১০৯০ নাউযুবিল্লাহ!
সম্ভবত এ কারণেই ইমাম আজম রহ. রাসুলুল্লাহর সন্তানসন্ততির কথা উল্লেখ করেছেন। তাদের বিচ্যুতি খণ্ডন করে রাসুলুল্লাহর সকল সন্তানের ব্যাপারে আহলে সুন্নাতের সর্বসম্মত আকিদা ঘোষণা করেছেন। আহলে সুন্নাতের ইমামদের শক্ত প্রতিবাদের ফলে সম্ভবত শিয়ারা একসময় পিছু হটে, রাসুলুল্লাহর সন্তানদের ব্যাপারে উক্ত বিচ্যুতি বর্জন করে। ফলে আজকের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়াদের এ-সংক্রান্ত আকিদা আহলে সুন্নাতের আকিদার মতোই। যয়নব ও রুকাইয়াহর ব্যাপারে গোমরাহি আকিদা শিয়াদের ক্ষুদ্র শ্রেণির মাঝে সীমাবদ্ধ। শিয়াদের প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ আল-কাফিতে এসেছে, 'রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর বয়স যখন বিশের অধিক হয়, তখন তিনি খাদিজা রাযি.-কে বিবাহ করেন। খাদিজার গর্ভে নবুওতের আগে কাসেম, রুকাইয়াহ, যয়নব ও উম্মে কুলসুমের জন্ম হয়। নবুওতের পরে জন্ম হয় তাইয়িব, তাহের ও ফাতিমা আলাইহাস সালামের। ১০৯১
টিকাঃ
১০৯০. দেখুন: আল-ইস্তিগাসাহ ফি বিদায়িস সালাসাহ, আবুল কাসেম আলাভি (১০৮)।
১০৯১. আল-কাফি, কুলাইনি (১/৪৩৯-৪৪০)।