📄 ফাতিমা
জান্নাতের নারীদের সর্দার, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সবচেয়ে আদরের মেয়ে ফাতিমা আয-যাহরা। বয়সে অন্য বোনদের ছোট হওয়া সত্ত্বেও ইমাম আজম রহ. তাকে সবার আগে এনেছেন তাঁর মর্যাদার প্রতি লক্ষ করে। পরিণত বয়সে পৌঁছার পর রাসুলুল্লাহর চাচাতো ভাই আলি রাযি.-এর সঙ্গে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয় (অর্থাৎ চাচাতো চাচার সাথে)। এই বিবাহ ছিল আল্লাহর নির্দেশে এবং ওহির ভিত্তিতে। তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। রাসুল (ﷺ) যখন দূরে যেতেন, সবশেষে তাঁর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হতেন। আবার যখন দূর থেকে আসতেন, সর্বপ্রথম তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। তাঁর ব্যাপারে রাসুল (ﷺ) বলেন, 'ফাতিমা আমার অংশ। সে কষ্ট পেলে আমিও কষ্ট পাই।১০৮৮ রাসুলের জীবদ্দশায় তিনি বেঁচে ছিলেন। তাঁর ইন্তিকালের মাত্র ছয় মাস পরে ফাতিমাও ইন্তিকাল করেন। ফাতিমার পাঁচজন সন্তান ছিলেন। হাসান, হুসাইন, মুহসিন, উম্মে কুলসুম ও যয়নব। মুহসিন শিশু অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। হাসান ও হুসাইন রাযি. জান্নাতের যুবকদের সর্দারে পরিণত হন। রাসুল (ﷺ)-এর অন্যান্য মেয়ের সন্তান ছোটবেলাতেই ইন্তিকাল করেন। কেবল ফাতিমার দুই সন্তান হাসান ও হুসাইন বেঁচে থাকেন। তাদের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর বংশধারা সংরক্ষিত এবং পৃথিবীতে বিস্তৃত হয়।
টিকাঃ
১০৮৮. বুখারি (কিতাবুন নিকাহ : ৫২৩০)। মুসলিম (কিতাবু ফাযায়িলিস সাহাবা : ২৪৪৯)।
📄 যয়নব
তিনি, বিশুদ্ধ মতে, রাসুলুল্লাহ(ﷺ)-এর সবচেয়ে বড় মেয়ে। নবুওতের প্রায় দশ বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন। পরিণত বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। মদিনায় হিজরত করেন। তাঁর স্বামী ছিলেন আবুল আস। যয়নব অষ্টম হিজরিতে ওফাত লাভ করেন। তাঁর এক ছেলে ছিলেন আবদুল্লাহ। মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ প্রিয় নাতিকে নিজের উষ্ট্রীর পিছনে বসিয়ে নিয়েছিলেন। আবদুল্লাহও অল্প বয়সে ইন্তিকাল করেন। যয়নবের উমামা নামে একজন মেয়ে ছিলেন। ফাতিমা রাযি.-এর ইন্তিকালের পরে আলি রাযি. তাকে বিয়ে করেছিলেন। অর্থাৎ, সম্পর্কে আলি রাযি. উমামার খালু ছিলেন। খালার মৃত্যুর পরে খালুকে বিবাহ করেন। সাহাবাদের মাঝে বৈবাহিক সম্পর্ক অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল। সামাজিক কৃত্রিম জটিলতা ও লৌকিকতা ছিল না।
📄 রুকাইয়্যাহ
নবুওতের প্রায় সাত বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমে উতবা ইবনে আবি লাহাবের সঙ্গে তাঁর বিবাহ ঠিক হয়। কিন্তু আবু লাহাবের কুফরের কারণে ঘর-সংসার করার আগেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। তখন উসমান ইবনে আফফান রাযি. তাকে বিবাহ করেন। হাবশায় মুসলমানদের সঙ্গে হিজরত করেন। অতঃপর মদিনায় হিজরত করেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বদরযুদ্ধে বের হওয়ার পরে রুকাইয়াহ ওফাত লাভ করেন।
📄 উম্মে কুলসুম
রুকাইয়াহর ওফাতের পরে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) উম্মে কুলসুমকে উসমান রাযি.-এর সঙ্গে বিবাহ দেন। এতে উসমান রাযি.-এর মাহাত্ম্য ও আভিজাত্য প্রকাশ পায়। ইমাম আজম এ ব্যাপারে তাঁর নিজস্ব সনদে বর্ণনা করেন, রুকাইয়াহ রাযি.-এর ইন্তিকাল হয়ে গেলে উমর রাযি. উসমানের কাছে তাঁর মেয়ে হাফসাকে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। উসমান রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে পরামর্শের কথা জানান। উমর রাযি. রাসুলুল্লাহর কাছে পরামর্শের জন্য গেলে তিনি বলেন, আমি কি তোমাকে উসমানের চেয়ে উত্তম জামাতা দেখিয়ে দেবো? আর উসমানকে তোমার চেয়ে উত্তম শ্বশুর দেখিয়ে দেবো? উমর বললেন, জি হ্যাঁ, ইয়া রাসুলাল্লাহ। নবিজি (ﷺ) বললেন, তোমার মেয়ে হাফসাকে আমার সঙ্গে বিবাহ দাও। আমি উসমানের সঙ্গে আমার মেয়ে (উম্মে কুলসুম)-কে বিবাহ দিই। ১০৮৯ সুবহানাল্লাহ! এভাবে উমর রাযি. পৃথিবীর সর্বোত্তম মানুষকে মেয়ের জামাতা হিসেবে পেলেন। আবার উসমান পৃথিবীর সর্বোত্তম মানুষকে শ্বশুর হিসেবে পেলেন! আর তিনি হলেন সাইয়েদুনা রাসুলুল্লাহ (ﷺ)। পাশাপাশি উক্ত ঘটনা তাদের সারল্য, হৃদয়ের বিশুদ্ধতা, লৌকিকতা থেকে তাদের দূরাবস্থানের সাক্ষী। উম্মে কুলসুম হিজরতের নবম বর্ষে ওফাত লাভ করেন।
টিকাঃ
১০৮৯. শরহু মুসনাদে আবি হানিফা (৪১২-৪১৩)।