📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা.) কি সর্বপ্রথম সৃষ্টি?

📄 রাসূলুল্লাহ (সা.) কি সর্বপ্রথম সৃষ্টি?


রাসুলুল্লাহ (ﷺ) নবুওত প্রাপ্তির দিক থেকে সর্বপ্রথম নবি, আর প্রেরণের দিক থেকে সর্বশেষ নবি। অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সকল নবির পূর্বে নবুওত দান করেছেন, কিন্তু পাঠিয়েছেন সবার শেষে। এটি বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল, আপনাকে কখন নবি বানানো হয়েছে? তিনি বললেন, ‘যখন আদম রুহ ও শরীরের মাঝামাঝি ছিলেন’ (অর্থাৎ আদম সৃষ্টির আগে)।১০২১ আরেকটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘সৃষ্টির দিক থেকে আমি সর্বপ্রথম নবি, আর প্রেরণের দিক থেকে সর্বশেষ।’১০২২

এটা মোটেই অসম্ভব নয়। কারণ, আল্লাহ সবকিছু জানেন। তাঁর কাছে অতীত ও ভবিষ্যৎ এক সমান। ফলে তিনি যে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় হিসেবে গ্রহণ করবেন এবং শেষ নবি বানাবেন এটা তিনি আগ থেকেই জানেন। তাই আমাদের যেমন রুহের জগতে তিনি প্রশ্ন করেছেন, একইভাবে রাসুলুল্লাহকেও সৃষ্টির শুরুতে নবি হিসেবে মনোনীত করেছেন। পাঠিয়েছেন সবার শেষে।

কিন্তু কিছু কিছু লোক এসব হাদিস ভুলভাবে গ্রহণ করেছে। তারা ধারণা করেছে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে আল্লাহ বাস্তবিকভাবে সৃষ্টির শুরুতে সৃষ্টি করেছেন। তাই তিনি সৃষ্টির শুরু থেকেই বিদ্যমান। এক্ষেত্রে তারা এক বিচ্যুতি থেকে আরেক বিচ্যুতিতে নিমজ্জিত হয়। রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে মাটির তৈরি মহামানবের পরিবর্তে নূরের তৈরি অতিমানব ভাবতে শুরু করে। তারা এক্ষেত্রে বিভিন্ন জাল হাদিস দিয়ে দলিল দেয়। যেমন—জাবের রাযি. রাসুলুল্লাহকে (ﷺ) সর্বপ্রথম সৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘জাবের, আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম তোমার নবির নূরকে সৃষ্টি করেছেন...।’১০২৩ এই বর্ণনা ‘নূরে নবি’ আকিদার ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। আজলুনি এটাকে আবদুর রাযযাক থেকে বর্ণনার কথা বলেছেন। অথচ মুসান্নাফে আবদির রাযযাকে এ ধরনের কোনো বক্তব্য অনুপস্থিত। সুয়তিসহ উম্মাহর সকল মুহাক্কিক আলেমের মতে এটা ভিত্তিহীন বর্ণনা।১০২৪ লাখনৌভি রহ. রাসুলুল্লাহর সর্বপ্রথম নূর হওয়া কিংবা আল্লাহর নূর থেকে তাঁর তৈরি হওয়াকে বিভিন্ন দলিল-প্রমাণের মাধ্যমে নাকচ করে দিয়েছেন।১০২৫ এক্ষেত্রে তারা তৃতীয় আরেকটি ভ্রান্তিতে নিপতিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামে বিভিন্ন বানোয়াট হাদিস তৈরি করেছে। যেমন—‘আল্লাহ যদি রাসুলুল্লাহকে সৃষ্টি না করতেন, তবে আসমান-যমিন কিছুই সৃষ্টি করতেন না।’ এটাও ভিত্তিহীন ও জাল বর্ণনা।১০২৬ আসমান ও যমিনের অস্তিত্ব মানুষের অস্তিত্বের প্রয়োজনে। আর মানুষের অস্তিত্ব আল্লাহর দাসত্বের জন্য।

এগুলো তাঁর ব্যাপারে সেসব বাড়াবাড়ির সূচনাবিন্দু, যেগুলো থেকে তিনি নিজে বারবার নিষেধ করেছেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা আমার প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করো না যেমনটা খ্রিষ্টানরা ঈসা ইবনে মারইয়ামের প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করেছে।’১০২৭ কিন্তু তারা রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর এ নির্দেশনা লঙ্ঘন করে রাসুলুল্লাহকে সৃষ্টির সর্বপ্রথম সৃষ্টি এবং নূরের সৃষ্টি বানিয়ে দিয়েছে। তাঁকে আলিমুল গায়েব কল্পনা করেছে। অথচ আল্লাহ ছাড়া আর কেউ আলিমুল গায়েব নন। তারা তাঁকে সৃষ্টির সর্বত্র হাজির-নাজির বিশ্বাস করেছে। অথচ তিনি তাঁর কবরে, কোথাও হাজির নন। কবরের বাইরের কিছু প্রত্যক্ষকারী (নাজির) নন। বরং তাঁকে যতটুকু আল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয় ততটুকু তিনি জানেন। কিন্তু তারা বিভিন্ন গালগল্প, কেচ্ছা-কাহিনি, ভিত্তিহীন বর্ণনা আর আবেগকে কুরআন-সুন্নাহর উপর প্রাধান্য দিয়েছে। ফলে রাসুলুল্লাহর শানে যার যা ইচ্ছা আজগুবি অলৌকিক বিশ্বাস তৈরি করেছে। এভাবেই তাদের অনেকে শিরকে আকবরের দুয়ার খুলে দিয়েছে। আল্লাহকে বাদ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে প্রার্থনা শুরু করেছে। আল্লাহর পরিবর্তে আল্লাহর বান্দা মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে আশ্রয়স্থল হিসেবে গ্রহণ করেছে।

বাস্তব কথা হলো, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে আল্লাহ অন্য সবার মতোই রুহের জগতে সৃষ্টি করেছেন। বরং আমাদের সবার শরীরের আগে আমাদের রুহ সৃষ্টি করেছেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর রুহ ও হাকিকতকেও তিনি আগে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর জন্য নবুওত নির্ধারণ করেছেন। এটা রুহের জগতের বিষয় যার উপর আমরা ঈমান রাখি। কিন্তু এর হাকিকত সম্পর্কে আমরা জ্ঞান রাখি না। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (ﷺ) হস্তিবাহিনীর বছর আরবে জন্মগ্রহণ করেন।

যদি উপরের হাদিস ‘সৃষ্টির দিক থেকে আমি সর্বপ্রথম নবি, আর প্রেরণের দিক থেকে সর্বশেষ’-কে আল্লাহর রাসুলের সর্বপ্রথম সৃষ্টির উপর দলিল বানানো হয়, তবে নবির সকল উম্মতকেই অন্য সব মানুষের আগে সৃষ্ট ও বিদ্যমান মানতে হবে। কারণ, উক্ত হাদিসেই এসেছে, ‘আমি আপনার উম্মতকে সর্বপ্রথম উম্মত বানিয়েছি।’ এর মানে আপনার-আমার সৃষ্টিও সকল মানুষের আগে হয়েছিল! এটা হাদিসের অপব্যাখ্যা। এখানে বরং মর্যাদা বোঝানোর জন্য এটা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা আগে থেকেই জানেন তিনি নবি হবেন, ফলে তিনি তাঁকে সৃষ্টির শুরুতেই নবি হিসেবে মনোনীত করেছেন। একইভাবে তিনি জানেন আমরা শেষ নবির উম্মত হব। ফলে আমাদেরও তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মনোনীত করেছেন। ইমাম তহাবি ‘আমি নবি ছিলাম যখন আদম রুহ ও শরীরের মাঝামাঝি ছিলেন’-এর ব্যাখ্যায় লিখেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবি হওয়ার কথা লাওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন।’১০২৮

টিকাঃ
১০২১. মুসনাদে আহমদ (আওয়ালু মুসনাদিল মাদানিয়্যিন: ১৬৮৯১)। তিরমিযি (আবওয়াবুল মানাকিব : ৩৬০৯)। মুসতাদরাকে হাকেম (কিতাবু তাওয়ারিখিল মুতাকাদ্দিমিন: ৪২৩২)।
১০২২. মুসনাদে বাযযার (তাতিম্মাতু মারউয়্যাতি আবি হুরাইরা : ৯৫১৮)। দালায়িলুন নুবুয়্যাহ, বাইহাকি (২/৩৯৭)। তাফসিরে তাবারি (১৭/৩৩৭)।
১০২৩. কাশফুল খাফা, আজলুনি (১/৩০২)।
১০২৪. আল-মুগির, আহমদ গুমারি (৫২)।
১০২৫. বিস্তারিত দেখুন: আল-আসারুল মারফু আহ ফিল আখবারিল মাওযুআহ (৪২-৪৩)।
১০২৬. দেখুন: তাযকিরাতুল মাওযুআত, মুহাম্মাদ তাহের পাট্টানি (৮৬)।
১০২৭. বুখারি (কিতাবু আহাদিসিল আম্বিয়া: ৩৪৪৫)। মুসনাদে আহমদ (মুসনাদুল আশারাহ আল-মুবাশশারিন বিল জান্নাহ: ১৫৬)।
১০২৮. শরহু মুশকিলিল আসার (১৫/২৩১)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা.) কি নুরের তৈরি?

📄 রাসূলুল্লাহ (সা.) কি নুরের তৈরি?


রাসুলুল্লাহ (ﷺ) মাটির তৈরি মানুষ ছিলেন; নূরের তৈরি নয়। মানুষ হওয়ার দিক থেকে তিনি অন্যান্য মানুষের মতো। সকল মানুষ যেমন পিতার ঔরসে মাতার গর্ভ থেকে জন্মগ্রহণ করে, রাসুলুল্লাহও তেমন সাইয়েদ আবদুল্লাহর ঔরসে সাইয়েদা আমিনার গর্ভ থেকে জন্মগ্রহণ করেন। কুরআন বলেছে ۞ قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ ۞ অর্থ : ‘আপনি বলুন, আমি তোমাদের মতোই মানুষ।’ [কাহাফ : ১১০] অন্য আয়াতে কাফেররা যখন নবিজির প্রতি ঈমান আনার জন্য আকাশে আরোহণের শর্ত দেয়, আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেন ۞ قُلْ سُبْحَانَ رَبِّى هَلْ كُنْتُ إِلَّا بَشَرًا رَّسُوْلًا ۞ অর্থ : ‘আপনি বলে দিন, আমার প্রতিপালক পবিত্র। আমি তো একজন মানব রাসুল।’ [ইসরা: ৯৩] অর্থাৎ, আমার কাজ আকাশে চড়া নয়। আমি তোমাদের মতো মানুষ। ফলে আমার কাছে এমন কিছু চেয়ো না, যা মানুষের কাজ নয়। মোটকথা, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) মানুষ ছিলেন এটা সুস্পষ্ট ও সন্দেহাতীত বাস্তবতা। তাঁর শরীর রক্ত-মাংস ও হাড়ের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। তিনি কষ্ট পেতেন, খুশি হতেন, কাঁদতেন, ক্ষুধা অনুভব করতেন, ব্যথা পেতেন, আহত হতেন, পানাহার করতেন, শারীরিক ও প্রাকৃতিক চাহিদা পূর্ণ করতেন, অসুস্থ হতেন। বরং অসুস্থতার মুখেই তিনি দুনিয়া থেকে বিদায় গ্রহণ করেন।

মানবিক দুর্বলতার কারণে তিনি (ওহি ব্যতীত) বিভিন্ন বিষয় ভুলে যেতেন, যেভাবে মানুষ ভুলে যায়। একটি হাদিসে স্বয়ং তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের মতোই মানুষ। তোমরা যেমন ভুলে যাও, আমিও ভুলে যাই। সুতরাং আমি যখন ভুলে যাব, আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে।’১০২৯ আয়েশা রাযি. বলেন, ‘রাসুল মানুষের মাঝে একজন মানুষ ছিলেন। তিনি তার জামাকাপড় ধৌত করতেন, দুধ দোহন করতেন, নিজের কাজ নিজে করতেন।’১০৩০ এটা রাসুলুল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, তাঁর সবচেয়ে কাছের মানুষ তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রীর সাক্ষ্য। কিন্তু একদল মানুষ এগুলো পছন্দ করে না। খ্রিষ্টানরা যেমন ঈসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহর মানবিক রূপ ধারণ করে পৃথিবীতে আসা অবতার কল্পনা করেছে, একদল মুসলিমও সরাসরি অবতার বলার সাহস না পেয়ে রাসুলুল্লাহকে আল্লাহর নূর থেকে তৈরি অতিমানবিক এক সৃষ্টি কল্পনা করেছে।

টিকাঃ
১০২৯. বুখারি (কিতাবুস সালাত: ৪০১)। মুসলিম (কিতাবুল মাসাজিদ: ৫৭২)।
১০৩০. মুসনাদে আহমদ (মুসনাদু আয়িশাহ: ২৬৮৩৫)। সহিহ ইবনে হিব্বান (কিতাবুল হাযার ওয়াল ইবাহাহ : ৫৬৭৫)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষ ছিলেন; কিন্তু আমাদের মতো মানুষ নন

📄 রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষ ছিলেন; কিন্তু আমাদের মতো মানুষ নন


হ্যাঁ, এর মানে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) মানবিক দিক থেকে আমাদের মতো হলেও সকল দিক থেকে আমাদের মতো নন; বরং তিনি একাধিক এমন বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিলেন, যেসব আমাদের নেই। তিনি গুনাহ থেকে পবিত্র ছিলেন। তাঁর বুক চিরে হৃদয় ধুয়ে পবিত্র করে দেওয়া হয়েছিল।১০৩১ পাথর তাঁকে সালাম দিত এবং তিনি সেটা শুনতেন। তিনি ফেরেশতাদের দেখতেন। বরং তিনি পিছনে না ফিরেও পিছন দিকে দেখতে পেতেন।১০৩২ শুকনো কাঠ তাঁর জন্য কাঁদত।১০৩৩ তিনি হাত দিয়ে কিছু স্পর্শ করলেই সেটা বরকতপূর্ণ হয়ে উঠত। দুধবিহীন বকরির শরীর স্পর্শ করতেই সেটা দুধেল হয়ে উঠত।১০৩৪

তিনি আকাশ ও মাটির এমন অনেককিছু দেখতে ও শুনতে পেতেন, যেসব অন্যরা দেখে না বা শোনে না। যেমন—তিনি এক হাদিসে বলেন, ‘আমি যা দেখি, তোমরা তা দেখো না। আমি যা শুনি, তোমরা তা শোনো না। আকাশ কড়কড় করছে আর কড়কড় করাই তার সাজে। (আকাশে) একবিন্দু জায়গা খালি নেই, যেখানে কোনো-না-কোনো ফেরেশতা আল্লাহর জন্য সিজদায় লুটিয়ে পড়ে না আছে। আল্লাহর শপথ! আমি যা জানি, তোমরা তা জানলে কম হাসতে বেশি কাঁদতে। বিছানায় স্ত্রী সম্ভোগ করতে না। বরং কাঁদতে কাঁদতে আল্লাহর জন্য পথে-প্রান্তরে বেরিয়ে পড়তে।’১০৩৫ আল্লাহর রাসুলের চোখ ঘুমাত; কিন্তু তাঁর হৃদয় ঘুমাত না।১০৩৬

তাঁর ঘাম পবিত্র ও সুরভিত ছিল। একইভাবে তাঁর শরীরের গন্ধও সুবাসিত ও সুনির্মল ছিল। এ কারণে সাহাবাগণ তাঁর শরীরের ঘাম সংগ্রহ করতেন। তারা সাক্ষ্য দিয়েছেন রাসুলুল্লাহর শরীরের গন্ধ আতর ও মেশকের চেয়েও সুরভিত ছিল। তিনি কোনো রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে মানুষ ঘ্রাণে বুঝে ফেলত রাসুলুল্লাহ এ পথ দিয়ে গিয়েছেন! তাঁর শরীর রেশমের চেয়েও কোমল ও পেলব ছিল।১০৩৭ তাঁর ওজুর পানি, থুথু, চুল ইত্যাদি বরকতময় ছিল। সাহাবায়ে কেরাম সেগুলো সংগ্রহের জন্য প্রতিযোগিতা করতেন।১০৩৮

ফলে তিনি মানুষ হয়েও সাধারণ মানুষের মতো ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন মহামানব। এক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে থাকতে হলে কুরআন ও বিশুদ্ধ সুন্নাহ সালাফে সালেহিনের মানহাজের আলোকে মানার বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে যারা সবচেয়ে বেশি বাড়াবাড়িতে লিপ্ত, কুরআন-হাদিস দিয়ে তারাই সবচেয়ে বেশি দলিল পেশ করার দাবিদার। অথচ তারা কুরআন-সুন্নাহর নামে যা পেশ করছে, সেগুলোর অধিকাংশই কুরআন-সুন্নাহর নিরেট অপব্যাখ্যা। ফলে কেউ সুন্নাহর রেফারেন্স দিলেই তার কথা শোনা যাবে না। বরং এ ব্যাপারে সালাফে সালেহিন এবং মুসলিম উম্মাহর প্রথম যুগের সম্মানিত ইমামগণের কী আকিদা, সেটা জেনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আবশ্যক। কারণ, রাসুলুল্লাহর (ﷺ) ভালোবাসা ও অনুসরণের ক্ষেত্রে তারাই এ উম্মাহর সর্বাপেক্ষা ভারসাম্যপূর্ণ, মধ্যমপন্থি ও আদর্শ প্রজন্ম।

টিকাঃ
১০৩১. মুসলিম (কিতাবুল ঈমান: ১৬২)। মুসনাদে আহমদ (মুসনাদু আনস ইবনে মালেক: ১৪২৮৫)।
১০৩২. বুখারি (কিতাবুল আযান: ৭১৮)। মুসলিম (কিতাবুস সালাত : ৪২৩)।
১০৩৩. বুখারি (কিতাবুত তারিখ: ৯১৮)। ইবনে মাজা (আবওয়াবুল ইকামাতিস সালাত : ১৪১৭)।
১০৩৪. মুসতাদরাকে হাকেম (কিতাবুল হিজরাহ: ৪২৯৭)। আল-মুজামুল কাবির (হুবাইশ ইবনে খালেদ : ৩৬০৫)।
১০৩৫. তিরমিযি (আবওয়াবুয যুহদ: ২৩১২)। ইবনে মাজা (আবওয়াবুয যুহদ: ৪১৯০)।
১০৩৬. বুখারি (কিতাবুল মানাকিব: ৩৫৬৯)। সুনানে কুবরা, বাইহাকি (কিতাবুন নিকাহ: ১৩৫১৮)।
১০৩৭. বুখারি (কিতাবুস সাওম: ১৯৭৩)। মুসলিম (কিতাবুল ফাযায়েল: ২৩৩০, ২৩৩১)। মুসনাদে আহমদ (মুসনাদে আনাস ইবনে মালেক: ১৩৫১৪)।
১০৩৮. বুখারি (কিতাবুশ শুরুত: ২৭৩১) (কিতাবুল ওযু: ১৯৪)। মুসনাদে আহমদ (আউয়ালু মুসনাদিল কুফিয়্যিন: ১৯২৩১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00