📄 তাঁর মনোনীত ও নির্বাচিত
জগতের অনেককিছু চেষ্টা-প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জন করা যায়, করতে হয়। কিন্তু সবকিছু চেষ্টা করেও অর্জন করা যায় না। সব সৌভাগ্য পৃথিবীর সবকিছু বিসর্জন দিয়েও লাভ করা যায় না। এমন এক সৌভাগ্য হচ্ছে আল্লাহর ‘মনোনয়ন।’ আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে দুনিয়া ও আখেরাতের সর্দার বানিয়েছেন, শেষ নবি ও রাসুল বানিয়েছেন, জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বানিয়েছেন, তাঁর পরম প্রিয় বন্ধু বানিয়েছেন। এটা হয়েছে স্রেফ তাঁর অনুগ্রহ ও মনোনয়নের ফলে। তাঁকে সৃষ্টির আগেই তিনি তাঁর জন্য এ সৌভাগ্য লিখে রেখেছেন। এটা আমলের মাধ্যমে অর্জন করার বিষয় নয়; এ সৌভাগ্য আল্লাহ যার জন্য লিখে রেখেছেন তিনিই এটা লাভে ধন্য হন। রাসুলুল্লাহর মতো অন্য সকল নবি-রাসুলও বিভিন্ন পরিমাণ ও পর্যায়ে এ সৌভাগ্য লাভ করেছেন। আল্লাহ তাদের নবি ও রাসুল হিসেবে মনোনীত করেছেন নিজ অনুগ্রহ ও নির্বাচনের মাধ্যমে। তাঁরা তাঁদের নিজেদের আমলের মাধ্যমে এ পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি। কেউই আমলের মাধ্যমে নবি হতে পারবে না। এটার একমাত্র উপায় হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনয়ন ও নির্বাচন।
আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন নবিকে মনোনয়নের ব্যাপারে কুরআনে বলেছেন, ۞ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَىٰ آدَمَ وَنُوحًا وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ ۞ অর্থ : ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ আদম, নুহ, ইবরাহিমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে সমস্ত জগতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।’ [আলে ইমরান: ৩৩] ওয়াসিলা ইবনে আসকা‘ থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা ইসমাইলের বংশধর থেকে কিনানা সম্প্রদায়কে মনোনীত করেছেন। কিনানা থেকে কুরাইশ বংশকে মনোনীত করেছেন। কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে বাছাই করেছেন। আর বনু হাশিম থেকে আমাকে নির্বাচিত করেছেন।’১০১১
টিকাঃ
১০১১. বুখারি (কিতাবুল ফাযায়েল: ২২৭৬)। তিরমিযি (আবওয়াবুল মানাকিব: ৩৬০৬)।
📄 সর্বশেষ নবি ও রাসূল
মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর সর্বশেষ নবি এবং শ্রেষ্ঠ রাসুল। তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কোনো নবি-রাসুল নেই। তাঁর পরে আর কোনো নবি-রাসুল আসবেন না। তিনি সকল মানুষের নেতা। সকল নবি-রাসুলের সর্দার। তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে মানবজাতির নেতৃত্বের শিরোমণি।
রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর ‘খাতামুল আম্বিয়া’ বা সর্বশেষ নবি হওয়া কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর মাঝে কোনো মতবিরোধ নেই। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, ۞ مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَٰكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا ۞ অর্থাৎ ‘মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো ব্যক্তির পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং শেষ নবি। আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞানী।’ [আহযাব : ৪০] রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘ত্রিশজন মিথ্যুকের আবির্ভাব ঘটার আগ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যাদের প্রত্যেকে দাবি করবে সে আল্লাহর নবি। অথচ আমি শেষ নবি। আমার পরে কোনো নবি নেই।’১০১২
যারা রাসুলুল্লাহর শেষ নবি হওয়াকে অস্বীকার করবে কিংবা তাঁর পরে অন্য কারও নবুওতের স্বীকৃতি দেবে—যেমন আহমদিয়া নামে পরিচিত কাদিয়ানি সম্প্রদায়—মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মতিক্রমে তারা কাফের এবং ইসলাম থেকে খারিজ অমুসলিম সম্প্রদায় গণ্য হবে। ইমাম তহাবি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সর্বশেষ নবি। তাঁর পরে নবুওতের দাবি ভ্রষ্টতা এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ।’১০১৩ জামালুদ্দিন গযনবি লিখেন, ‘যে ব্যক্তি নবুওতের দাবি করবে, তাকে তাওবা করতে বলা হবে। যদি তাওবা করে, ভালো। না করলে তাকে হত্যা করা আবশ্যক হবে। কারণ, নবুওতের দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’১০১৪
টিকাঃ
১০১২. বুখারি (কিতাবুল ফিতান: ৭১২১)। ইবনে হিব্বান (মানাকিবুস সাহাবাহ: ৭২৩৮)।
১০১৩. আকিদাহ তহ্যবিয়্যাহ (১২)।
১০১৪. উসুলুদ্দিন, গযনবি (২০৮)।
📄 রাসূলুল্লাহ (সা.) নিষ্পাপ (মাসুম)
পিছনে আমরা সাধারণভাবে সকল নবির সব ধরনের গুনাহ থেকে পবিত্র থাকার কথা উল্লেখ করেছি। এখানে ইমাম আজম রহ.-এর বক্তব্যের আলোকে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইসমত (নিষ্পাপতা)-সংক্রান্ত আরও কিছু কথা সংযুক্ত করছি। ইমাম আজম রহ. বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কখনো মূর্তিপূজা করেননি। কখনো এক মুহূর্তের জন্য আল্লাহর সঙ্গে শরিক করেননি। কখনো কোনো সগিরা বা কবিরা গুনাহ করেননি।’১০১৫
অর্থাৎ, সাধারণভাবে উলামায়ে কেরাম নবি-রাসুলদের ইসমতের কথা নবুওতের পরবর্তী সময়ের সঙ্গে সংযুক্ত করেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর ক্ষেত্রে নবুওতের পূর্বাপর কোনো পার্থক্য নেই। তাঁর পুরো জীবন ইসমতময়, সুরক্ষিত ও পবিত্র। নবুওতের পরেও যেমন আগেও তেমন। তিনি আল্লাহর নবি ও রাসুল। তিনি পৃথিবীতে তাওহিদের ঝান্ডাধারী, কুফর ও শিরক বিলুপ্তকারী, মূর্তিপূজা উচ্ছেদকারী। ফলে তিনি জীবনে কখনো শিরক করে থাকবেন এটা অসম্ভব। নবুওতের আগে কিংবা পরে তিনি কখনো এক মুহূর্তের জন্যও মূর্তিপূজা করেননি। মূর্তিপূজা দূরের কথা, কখনো তিনি কোনো গুনাহও করেননি। এর কারণ হলো, তিনি মানবজাতির সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ আদর্শ। সবচেয়ে বেশি ‘কামেল’ মানুষ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ۞ لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُوا اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا ۞ অর্থ: ‘তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসুলুল্লাহর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ [আহযাব : ২১]
কেবল নিজ জীবনে নয়, বরং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে, দাওয়াত ও তাবলিগের ময়দানেও রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সব ধরনের ত্রুটিবিচ্যুতি-মুক্ত। ইমাম আজম বলেন, “আমরা সাক্ষ্য দিই যে, নবিজি (ﷺ) আল্লাহর নিষিদ্ধ কোনো বিষয়ের আদেশ দেননি। আল্লাহ সংযুক্ত করতে বলেছেন এমন কোনো বিষয় কর্তন করেননি। আল্লাহর বর্ণনার বাইরে কোনো বিষয় বর্ণনা করেননি। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, সবকিছুতে নবিজি (ﷺ) আল্লাহর আনুগত্য করেছেন। তিনি কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসেননি। আল্লাহ যা বলেননি তেমন কিছু আল্লাহর নামে চালিয়ে দেননি। এ জন্যই আল্লাহ বলেছেন, ۞ مَّن يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ ۞ অর্থ : ‘যে রাসুলের আনুগত্য করল সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।” [নিসা : ৮০]১০১৬
হ্যাঁ, মানুষ হিসেবে তিনি কিছু মানবিক ‘ভুলত্রুটি’র শিকার হয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা এ ব্যাপারে তাকে অবহিত করেছেন। বদরযুদ্ধে মুসলমানদের হাতে কাফেররা বন্দি হলে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবাদের সঙ্গে পরামর্শ করে মুক্তিপণের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন আল্লাহ তায়ালা আয়াত অবতীর্ণ করেন : ۞ مَا كَانَ لِنَبِيٍّ أَن يَكُونَ لَهُ أَسْرَىٰ حَتَّىٰ يُثْخِنَ فِي الْأَرْضِ ۚ تُرِيدُونَ عَرَضَ الدُّنْيَا وَاللَّهُ يُرِيدُ الْآخِرَةَ ۚ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ ۞ অর্থ : ‘ভূ-পৃষ্ঠে শত্রুকে চূর্ণাভাবে পরাভূত না করা পর্যন্ত বন্দি রাখা কোনো নবির জন্য সংগত নয়। তোমরা কামনা করো পার্থিব সম্পদ, আর আল্লাহ চান পরলোকের কল্যাণ; আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ [আনফাল : ৬৭] এভাবে আল্লাহ তায়ালা নবিজিকে মৃদু ভর্ৎসনা করে জানিয়ে দেন যে, বদরযুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল দুশমনের প্রভাব সম্পূর্ণ খতম করে দেওয়া। এ জন্য কোনো মুক্তিপণ না নিয়ে সকল বন্দিকে হত্যা করা উচিত ছিল। অবশ্য পরবর্তীকালে এ ব্যাপারে প্রশস্ততা আসে এবং যুদ্ধবন্দিদের অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয়। মোটকথা, এটা কোনো পাপ ছিল না, বরং উত্তমের পরিবর্তে অনুত্তম ছিল। একইভাবে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) মুনাফিকদের মিথ্যাচার বুঝতে না পেরে তাদের মুসলমানদের সঙ্গে যুদ্ধে না গিয়ে বাড়িতে থাকার অনুমতি দেন। তখন আল্লাহ তায়ালা আয়াত অবতীর্ণ করেন : ۞ عَفَا اللَّهُ عَنكَ لِمَ أَذِنتَ لَهُمْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَتَعْلَمَ الْكَاذِبِينَ ۞ অর্থ : ‘আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনি কেন তাদের অব্যাহতি দিলেন যে পর্যন্ত না আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যেত সত্যবাদীরা এবং জেনে নিতেন মিথ্যাবাদীদের?’ [তাওবা : ৪৩] সুবহানাল্লাহ! লক্ষ করুন, আল্লাহর শাসন ও শাসানোর পদ্ধতিও কত সুন্দর, মহান আর তাৎপর্যপূর্ণ! এখানকার উল্লিখিত ক্ষমা পাপের ক্ষমা নয়, বরং এভাবে মূলত অত্যন্ত কাছের ও মহব্বতের মানুষকে শাসন করা হয়।
‘ইসমতে আম্বিয়া’-সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা পিছনে অতিবাহিত হয়েছে। সেখানে আমরা দেখিয়েছি, ইমাম আজম আবু হানিফাসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ ইমামদের মতে, নবিগণ সকল কবিরা ও সগিরা গুনাহ থেকে পবিত্র। ফলে কুরআনের যেসব আয়াতে নবিজির ক্ষমাসংক্রান্ত বক্তব্য এসেছে, সেগুলো ‘মানবিক বিচ্যুতি’ কিংবা ‘উত্তমের পরিবর্তে অনুত্তম’ কাজ বোঝানো হয়েছে, গুনাহ নয়। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যেহেতু সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ এবং আল্লাহর পরম প্রিয় বন্ধু, এ জন্য আল্লাহ তায়ালা তাঁর সামান্য ভুল কিংবা উত্তমের পরিবর্তে অনুত্তম কাজের ব্যাপারেও সতর্ক করেছেন। আবার ক্ষমার ঘোষণাও করেছেন।
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘মাঝে মাঝে আমার অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে আড়ালে চলে যায়, আর তাতেই আল্লাহর কাছে আমি প্রতিদিন একশতবার ইস্তিগফার করি।’১০১৭ অর্থাৎ, তিনি গুনাহ করবেন দূরের কথা, ঘুমন্ত ও জাগ্রত সর্বাবস্থায় তাঁর হৃদয় আল্লাহর দিদার ও মুরাকাবায় থাকে। মাঝে মাঝে মানবিক কারণে একটু আড়াল হয়ে গেলে সে জন্য তিনি শতবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। বরং এই যে সামান্য আড়াল ও অন্যমনস্কতা—উলামায়ে কেরাম লিখেছেন—সেটাও উম্মাহর চিন্তায়, আল্লাহর বান্দাদের কল্যাণে! এটা ফানাফিল্লাহর এমন মাকাম, যেখানে অন্য কারও পৌঁছার সাধ্য নেই।
টিকাঃ
১০১৫. আল-ফিকহুল আকবার (৪)।
১০১৬. আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম (১৯)।
১০১৭. মুসলিম (কিতাবুয যিকরি ওয়াদ দোয়া: ২৭০২)। আবু দাউদ (কিতাবুস সালাত : ১৫১৫)।
📄 ইসরা ও মিরাজ
ইসরা ও মিরাজ হলো রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর আল্লাহ তায়ালার শ্রেষ্ঠ নেয়ামতগুলোর একটি। বরং ধুলির ধরার একমাত্র রাসুলুল্লাহই এই নেয়ামত লাভের সৌভাগ্যপ্রাপ্ত হয়েছেন। ইসরা হলো মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত রাতের ভ্রমণ। আর মিরাজ হলো বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে ঊর্ধ্বজগতে ভ্রমণ। এই দুটো একই রাতে সংঘটিত হয়েছিল, জাগ্রত অবস্থায় এবং সশরীরে। বোরাক নামক এক অলৌকিক প্রাণীর পিঠে চড়ে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) মক্কা থেকে মুহূর্তে বাইতুল মুকাদ্দাস চলে যান। সেখানে নবিদের ইমাম হয়ে নামায পড়েন। অতঃপর বিশেষ এক যানে করে জিবরাইল আলাইহিস সালাম তাকে ঊর্ধ্বজগতে নিয়ে যান। সাত আকাশ পার হয়ে তিনি সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছে যান। আল্লাহর সৃষ্টির বিভিন্ন বিস্ময়কর নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেন। আল্লাহর সঙ্গে নিবিড় সান্নিধ্যে কথা বলেন। জান্নাত ও জাহান্নাম পরিদর্শন করেন। অতঃপর আল্লাহর পক্ষ থেকে মানবজাতির প্রতি মহা উপহার ‘নামায’ নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।
ইমাম আজম রহ. বলেন, ‘মিরাজের সংবাদ সত্য। যে ব্যক্তি এটা প্রত্যাখ্যান করবে সে গোমরাহ ও বিদআতি। ১০১৮ ইমাম তহাবি রহ. বলেন, “মিরাজ সত্য। নবিজি (ﷺ)-কে নৈশভ্রমণ (ইসরা) করানো হয়েছে। অতঃপর তাকে জাগ্রত অবস্থায় সশরীরে আকাশে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে আল্লাহ যেখানে চেয়েছেন তাঁকে ঊর্ধ্বজগতে নিয়ে গিয়েছেন। তিনি তাঁকে যেভাবে চেয়েছেন সম্মানিত করেছেন। তিনি তাঁর প্রতি ওহি নাযিল করেছেন, ‘তাঁর হৃদয় মিথ্যা বলেনি যা তিনি দেখেছেন।’ আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর প্রতি শান্তি বর্ষণ করুন।”১০১৯
ইসরা ও মিরাজের ঘটনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। ফলে এতে বিশ্বাস রাখা আবশ্যক। এটা অস্বীকার কুফর ও ফিসক। অর্থাৎ, কেউ যদি মক্কা থেকে বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত (ইসরা) যাত্রাকে অস্বীকার করে, তবে সে কাফের হয়ে যাবে। কারণ, এটা কুরআনের সুস্পষ্ট (কাতয়ি) নস দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ বলেন, ۞ سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ۞ অর্থ : ‘পবিত্র ও মহিমাময় সত্তা যিনি তাঁর বান্দাকে রজনিতে ভ্রমণ করিয়েছিলেন মসজিদুল হারাম হতে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার চতুর্পাশ আমি করেছিলাম বরকতময়, তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখানোর জন্য। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ [ইসরা : ১] আর কেউ যদি বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে ঊর্ধ্বজগতে যাত্রা (মিরাজ) অস্বীকার করে, তবে কাফের হবে না, কিন্তু বিদআতি ও গোমরাহ সাব্যস্ত হবে। কারণ, এটা কুরআন দ্বারা প্রমাণিত নয়; বরং সহিহ সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।১০২০
টিকাঃ
১০১৮. আল-ফিকহুল আকবার (৮)।
১০১৯. আকিদাহ তহাবিয়্যাহ (১৫)।
১০২০. দেখুন: আস-সাওয়াদুল আজম (২১)। আকিদাহ রুকনিয়্যাহ (৩৭)। ফাতহুল কাদির (১/৩৫০)। ফাতাওয়া আলমগিরি (১/৮৪)।