📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 তিনি আল্লাহর বন্ধু (হাবিব)

📄 তিনি আল্লাহর বন্ধু (হাবিব)


রাসুলুল্লাহ (ﷺ) হলেন, আল্লাহর পরম প্রিয় বন্ধু। তাঁর ‘হাবিব’ (প্রিয়পাত্র) ও ‘খলিল’ (পরম বন্ধু)। পৃথিবীর সকল মানুষের মাঝে আল্লাহ তায়ালা তাঁকেই সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেছেন। তাঁর উপর সবচেয়ে বেশি অনুগ্রহ করেছেন। তাঁকে সবচেয়ে বেশি আপন করেছেন। ইবনে আব্বাস সূত্রে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘... আমি আল্লাহর হাবিব তথা প্রিয় বন্ধু। এতে গর্ব নেই।’১০০৮

টিকাঃ
১০০৮. তিরমিযি (আবওয়াবুল মানাকিব: ৩৬১৬)। মুসনাদে দারেমি (মুকাদ্দিমাতুল মুআল্লিফ : ৪৮)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 তিনি আল্লাহর বান্দা

📄 তিনি আল্লাহর বান্দা


রাসুলুল্লাহ (ﷺ) যত মর্যাদাবান হন, তবুও তিনি মানুষ, আল্লাহর সৃষ্টি। তাঁর দাস ও গোলাম। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করেছেন, অস্তিত্বে এনেছেন, নবুওত ও রিসালাত দিয়েছেন। তাঁকে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ বানিয়েছেন। বরং আল্লাহ নিজের পরে তাঁকে সবচেয়ে দামি বানিয়েছেন। এ সবকিছু তাঁর উপর আল্লাহর অনুগ্রহ। এ জন্য তিনি ছিলেন আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় বান্দা, সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ বান্দা। তিনি দিনে আল্লাহর পথে দাওয়াত ও সংগ্রাম করতেন, আর রাতের পর রাত আল্লাহর সামনে দাঁড়িয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতেন। দাঁড়াতে দাঁড়াতে তাঁর পা ফুলে যেত। তাকে বলা হলো, আপনাকে তো আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাহলে এত কাঁদেন কেন? তিনি বললেন, ‘আমি কি আমার প্রভুর কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?’১০০৯

আল্লাহর সঙ্গে এই উবুদিয়্যাত তথা দাসত্বের সম্পর্ক গোটা চরাচরের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও দামি সম্পর্ক। পৃথিবীর দাসত্ব লাঞ্ছনা ও অবজ্ঞার কারণ। অপরদিকে আল্লাহর দাসত্ব সম্মান ও গৌরবের। যে আল্লাহর যত বড় দাস হতে পারবে, তাঁর সামনে নিজেকে যত ক্ষুদ্র করতে পারবে, সে তত বড় সম্মানিত, তাঁর তত প্রিয় হতে পারবে। এ জন্য নবিজি (ﷺ) রাতের আঁধারে কেঁদে বুক ভাসাতেন, জান্নাতের জন্য নয়। কারণ, আল্লাহ তো তাকে সৃষ্টির আগেই জান্নাতের মালিক বানিয়ে রেখেছেন। তিনি কাঁদতেন আল্লাহর কৃতজ্ঞ দাস হওয়ার জন্য। দাস ও মনিবের এই সম্পর্ক পৃথিবীর সবচেয়ে দৃঢ়, সুন্দর, নিঃস্বার্থ ও বরকতময় সম্পর্ক।

রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সবসময় নবুওত ও রিসালাতের পাশাপাশি নিজেকে আল্লাহর বান্দা ও দাস হিসেবে পরিচয় দিতেন। উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা আমার প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করো না যেভাবে খ্রিষ্টানরা ঈসা ইবনে মারইয়ামের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করেছে। আমি তো কেবল আল্লাহর বান্দা। তাই তোমরা বলো, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।’১০১০

টিকাঃ
১০০৯. বুখারি (আবওয়াবুত তাহাজ্জুদ: ৪৮৩৬)। মুসলিম (সিফাত ইয়াওমিল কিয়ামাহ : ২৮১৯)।
১০১০. বুখারি (কিতাবু আহাদিসিল আম্বিয়া: ৩৪৪৫)। মুসনাদে আহমদ (মুসনাদুল আশারাহ আল-মুবাশশারিন বিল জান্নাহ: ১৫৬)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 তাঁর মনোনীত ও নির্বাচিত

📄 তাঁর মনোনীত ও নির্বাচিত


জগতের অনেককিছু চেষ্টা-প্রচেষ্টার মাধ্যমে অর্জন করা যায়, করতে হয়। কিন্তু সবকিছু চেষ্টা করেও অর্জন করা যায় না। সব সৌভাগ্য পৃথিবীর সবকিছু বিসর্জন দিয়েও লাভ করা যায় না। এমন এক সৌভাগ্য হচ্ছে আল্লাহর ‘মনোনয়ন।’ আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে দুনিয়া ও আখেরাতের সর্দার বানিয়েছেন, শেষ নবি ও রাসুল বানিয়েছেন, জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বানিয়েছেন, তাঁর পরম প্রিয় বন্ধু বানিয়েছেন। এটা হয়েছে স্রেফ তাঁর অনুগ্রহ ও মনোনয়নের ফলে। তাঁকে সৃষ্টির আগেই তিনি তাঁর জন্য এ সৌভাগ্য লিখে রেখেছেন। এটা আমলের মাধ্যমে অর্জন করার বিষয় নয়; এ সৌভাগ্য আল্লাহ যার জন্য লিখে রেখেছেন তিনিই এটা লাভে ধন্য হন। রাসুলুল্লাহর মতো অন্য সকল নবি-রাসুলও বিভিন্ন পরিমাণ ও পর্যায়ে এ সৌভাগ্য লাভ করেছেন। আল্লাহ তাদের নবি ও রাসুল হিসেবে মনোনীত করেছেন নিজ অনুগ্রহ ও নির্বাচনের মাধ্যমে। তাঁরা তাঁদের নিজেদের আমলের মাধ্যমে এ পর্যন্ত পৌঁছতে পারেননি। কেউই আমলের মাধ্যমে নবি হতে পারবে না। এটার একমাত্র উপায় হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনয়ন ও নির্বাচন।

আল্লাহ তায়ালা বিভিন্ন নবিকে মনোনয়নের ব্যাপারে কুরআনে বলেছেন, ۞ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَىٰ آدَمَ وَنُوحًا وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ ۞ অর্থ : ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ আদম, নুহ, ইবরাহিমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে সমস্ত জগতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।’ [আলে ইমরান: ৩৩] ওয়াসিলা ইবনে আসকা‘ থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (ﷺ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা ইসমাইলের বংশধর থেকে কিনানা সম্প্রদায়কে মনোনীত করেছেন। কিনানা থেকে কুরাইশ বংশকে মনোনীত করেছেন। কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে বাছাই করেছেন। আর বনু হাশিম থেকে আমাকে নির্বাচিত করেছেন।’১০১১

টিকাঃ
১০১১. বুখারি (কিতাবুল ফাযায়েল: ২২৭৬)। তিরমিযি (আবওয়াবুল মানাকিব: ৩৬০৬)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 সর্বশেষ নবি ও রাসূল

📄 সর্বশেষ নবি ও রাসূল


মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর সর্বশেষ নবি এবং শ্রেষ্ঠ রাসুল। তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কোনো নবি-রাসুল নেই। তাঁর পরে আর কোনো নবি-রাসুল আসবেন না। তিনি সকল মানুষের নেতা। সকল নবি-রাসুলের সর্দার। তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে মানবজাতির নেতৃত্বের শিরোমণি।

রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর ‘খাতামুল আম্বিয়া’ বা সর্বশেষ নবি হওয়া কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। এ ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর মাঝে কোনো মতবিরোধ নেই। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, ۞ مَا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَٰكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ ۗ وَكَانَ اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمًا ۞ অর্থাৎ ‘মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো ব্যক্তির পিতা নন, বরং তিনি আল্লাহর রাসুল এবং শেষ নবি। আল্লাহ তায়ালা সর্বজ্ঞানী।’ [আহযাব : ৪০] রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘ত্রিশজন মিথ্যুকের আবির্ভাব ঘটার আগ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যাদের প্রত্যেকে দাবি করবে সে আল্লাহর নবি। অথচ আমি শেষ নবি। আমার পরে কোনো নবি নেই।’১০১২

যারা রাসুলুল্লাহর শেষ নবি হওয়াকে অস্বীকার করবে কিংবা তাঁর পরে অন্য কারও নবুওতের স্বীকৃতি দেবে—যেমন আহমদিয়া নামে পরিচিত কাদিয়ানি সম্প্রদায়—মুসলিম উম্মাহর সর্বসম্মতিক্রমে তারা কাফের এবং ইসলাম থেকে খারিজ অমুসলিম সম্প্রদায় গণ্য হবে। ইমাম তহাবি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সর্বশেষ নবি। তাঁর পরে নবুওতের দাবি ভ্রষ্টতা এবং প্রবৃত্তির অনুসরণ।’১০১৩ জামালুদ্দিন গযনবি লিখেন, ‘যে ব্যক্তি নবুওতের দাবি করবে, তাকে তাওবা করতে বলা হবে। যদি তাওবা করে, ভালো। না করলে তাকে হত্যা করা আবশ্যক হবে। কারণ, নবুওতের দরজা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।’১০১৪

টিকাঃ
১০১২. বুখারি (কিতাবুল ফিতান: ৭১২১)। ইবনে হিব্বান (মানাকিবুস সাহাবাহ: ৭২৩৮)।
১০১৩. আকিদাহ তহ্যবিয়্যাহ (১২)।
১০১৪. উসুলুদ্দিন, গযনবি (২০৮)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00