📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 অধমের পর্যবেক্ষণ

📄 অধমের পর্যবেক্ষণ


নবিগণ কবিরা গুনাহ থেকে পবিত্র—এ ব্যাপারে আহলে সুন্নাতের সকল আলেম একমত। সগিরা গুনাহ নিয়ে মতবিরোধের কারণ মূলত সংজ্ঞায়নের জটিলতা। পিছনে আমরা বলেছি যে, সগিরা ও কবিরা গুনাহের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার্থ নিয়ে আলেমদের মতপার্থক্য রয়েছে। আর সেই মতপার্থক্যের ফলে এখানেও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। লঘু পর্যায়ের মানবিক বিচ্যুতিকে কেউ সগিরা গুনাহ ধরেছেন। ফলে তারা বলেছেন, নবিগণ সগিরা গুনাহ করেন। কেউ গুনাহ ধরেননি, বরং ভুলবিচ্যুতি ধরেছেন। ফলে তারা বলেছেন, নবিগণ সগিরা-কবিরা সব ধরনের গুনাহ থেকে মুক্ত, স্রেফ মানবিক ভুল করেন, যেমনটা ইমাম আজমেরও বক্তব্য। আবার কেউ দুটোকেই নাকচ করে স্রেফ উত্তমের পরিবর্তে অনুত্তম বলেছেন। এগুলো শাব্দিক মতপার্থক্য। মৌলিক কোনো মতবিরোধ নেই।

জামালুদ্দিন গযনবি বলেন, ‘এগুলোর ব্যাখ্যা করতে যাওয়া ভুলের আশঙ্কা থেকে মুক্ত নয়। আমাদের এমন দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। ফলে এ ব্যাপারে নীরব থাকা আবশ্যক।৯৮৬

রইল সগিরা গুনাহের কথা। উপরের বিষয়গুলোকে যদি সগিরা গুনাহও ধরা হয়, তবুও ইমামের বক্তব্যের উপর আপত্তি আসে। অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্যই তাঁর মাযহাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে যায়। কারণ, ইমাম আজম রহ.-এর মাযহাব হলো, নবিগণ ইচ্ছাকৃত সগিরা গুনাহ থেকেও পবিত্র। তাহলে ইমাম উপরে এগুলো ‘গুনাহ’ শব্দে ব্যক্ত করলেন কেন? আল্লামা খায়ালি বলেন, দুইভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। এক. নবুওতের আগে সংঘটিত হয়েছে ধরা হবে। দুই. ভুলে করেছেন ধরা হবে।৯৮৭

ইসমাইল হক্কি ইস্তাম্বুলি (১১২৭ হি.) একটু অন্যভাবে ব্যাখ্যা দেন। সেটাও সুন্দর। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য কথা হলো, নবিগণ নবুওত অবস্থায় সগিরা-কবিরা সব ধরনের গুনাহ থেকে পবিত্র। হ্যাঁ, উত্তমের পরিবর্তে অনুত্তম করে ফেলতে পারেন। (আমাদের কাছে এটা গুনাহ না হলেও) তাদের জন্য এটাই সগিরা। কারণ, সাধারণ লোকদের পুণ্যের কাজটাও নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের পাপ গণ্য হয়।৯৮৮

টিকাঃ
৯৮৬. উসুলুদ্দিন, গযনবি (১৩৯)।
৯৮৭. শরহুল খায়ালি আলা নুনিয়্যাতি খিজির বেগ (৩০৭)।
৯৮৮. রুহুল বায়ান (৬/৩২৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00