📄 ইসমতের পরিচয়
ইসমতের পরিচয়: আহলে সুন্নাতের আকিদামতে, নবিগণ গুনাহ থেকে পবিত্র। তারা মাসুম ও নিষ্পাপ। আহলে সুন্নাতের মতো একদল মুতাযিলাও নবিদের গুনাহ থেকে মাসুম মনে করে। বিপরীতে আরেক দল মুতাযিলা এবং মুরজিয়া ও খারেজিরা নবিদের মাসুম মনে করে না।৯৭৩
টিকাঃ
৯৭৩. উসুলুদ্দিন, বাযদাবি (১৭২)।
📄 ইসমতের হাকিকত
ইসমতের হাকিকত: তবে এই ‘ইসমত’ তথা নিষ্পাপতার প্রকৃতি কী—এ ব্যাপারে মতবিরোধ রয়েছে। একদল আলেমের মতে, ইসমতের ক্ষেত্রে বান্দার কোনো এখতিয়ার থাকে না। দুইভাবে এটা হতে পারে: এক. নবিগণের স্বভাব সাধারণ মানুষের স্বভাবের চেয়ে ভিন্ন হয়। ফলে তাদের মাঝে ভালোর প্রতি প্রাকৃতিক আকর্ষণ এবং মন্দের প্রতি বিকর্ষণ থাকে। যেমন—ফেরেশতাদের ইসমত। দুই. নবিগণের স্বভাব সাধারণ মানুষের স্বভাবের মতোই হয়। তবে আল্লাহ তাদের গুনাহ থেকে দূরে থাকতে এবং ভালোর প্রতি আকৃষ্ট হতে বাধ্য করেন (ফলে এখানেও কোনো এখতিয়ার থাকে না)।
বিপরীত আরেক দল আলেম মনে করেন, এই ইসমত আল্লাহর অনুগ্রহ ও করুণা, বাধ্যবাধকতা কিংবা চাপিয়ে দেওয়া নয়। অর্থাৎ, নবিগণ মাসুম হওয়া সত্ত্বেও তাদের স্বাধীনতা সীমিত নয়। তারা চাইলে স্বেচ্ছায় পাপ ও পুণ্য বেছে নিতে পারেন। ইবাদত করতে পারেন, আবার গুনাহও করতে পারেন। কিন্তু আল্লাহর অনুগ্রহে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকেন।৯৭৪ মোটকথা, ইসমত পরীক্ষা দূর করে না। অর্থাৎ, আনুগত্যের উপর বাধ্য করে না এবং পাপ থেকে অক্ষম করে দেয় না। বরং এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যা ভালো কাজে উদ্দীপ্ত করে এবং মন্দ কাজ থেকে সতর্ক করে। এই ইসমত থাকা সত্ত্বেও নবিদের ভালোমন্দ বেছে নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার থাকে। কারণ, এমন এখতিয়ার ছাড়া পরীক্ষা অসম্ভব। তা ছাড়া, এ ধরনের এখতিয়ার যদি না-ই দেওয়া হয়, তবে পুণ্যে পুরস্কার প্রাপ্তির কোনো যথার্থতা থাকে না। এটাই সঠিক বক্তব্য ইনশাআল্লাহ।
টিকাঃ
৯৭৪. দেখুন: আল-কিফায়াহ, (২০৩-২০৪)। শরহুল ফিকহিল আকবার, আলি কারি (৫৭)।
📄 ইসমতে আম্বিয়ার ব্যাপারে আলেমদের মতবিরোধ
ইসমতে আম্বিয়ার ব্যাপারে আলেমদের মতবিরোধ: উপরে আমরা উল্লেখ করেছি—সকল আহলে সুন্নাতের মতে, নবিগণ গুনাহ থেকে পবিত্র। তারা মাসুম ও নিষ্পাপ। এটা ইজমালি আকিদা। তফসিলের মাঝে মতভেদ রয়েছে। অর্থাৎ, যেহেতু গুনাহের সগিরা ও কবিরাসহ বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে, ফলে যদি প্রশ্ন করা হয়, নবিগণ কোন ধরনের গুনাহ থেকে মাসুম? তখনই আসলে জটিলতা ও মতবিরোধ তৈরি হয়।
গোটা উম্মাহর সর্বসম্মতিক্রমে নবিগণ নবুওতের আগে ও পরে সবসময়ের জন্য কুফর থেকে পবিত্র। একইভাবে নবুওতের পরে তারা সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে পবিত্র। এটাও উম্মাহর সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের বক্তব্য। স্রেফ একদল—সাবুনির ভাষায়—হাশাভিরা এটাকে অস্বীকার করে। তারা মনে করে, নবিগণ কবিরা গুনাহ করতে পারেন! এটা অজ্ঞতাপূর্ণ কথা।৯৭৫
রইল সগিরা গুনাহের ব্যাপার। এটা মতভেদপূর্ণ। (এক.) একদল আলেমের মতে, তারা সগিরা গুনাহ থেকে পবিত্র নন। (দুই.) বিপরীতে সংখ্যাগরিষ্ঠ আহলে সুন্নাতের মতে, নবিগণ সব ধরনের কবিরা গুনাহ এবং ইচ্ছাকৃত সগিরা গুনাহ থেকে পবিত্র। সব ধরনের মানহানিকর কাজ থেকে মুক্ত। তবে সামান্য ভুলচুক, মানবিক দুর্বলতা ও মানবিক বিচ্যুতি থেকে মুক্ত নন। ইমাম আজম রহ.-এর মতে, ‘আম্বিয়ায়ে কেরাম সব ধরনের সগিরা ও কবিরা গুনাহ, কুফর ও অশালীন বিষয় থেকে পবিত্র। হ্যাঁ, তাদের সামান্য ত্রুটিবিচ্যুতি (যাল্লাত) ও ভুলচুক (খাতা) হতে পারে।৯৭৬ যেমন—কুরআনে আদম আলাইহিস সালামের ব্যাপারে বলা হয়েছে, ۞ وَلَقَدْ عَهِدْنَا إِلَىٰ آدَمَ مِنْ قَبْلُ فَنَسِيَ وَلَمْ نَجِدْ لَهُ عَزْمًا ۞ অর্থ : ‘আমি ইতঃপূর্বে আদমকে নির্দেশ দান করেছিলাম। কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল। আমি তাকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পাইনি।’ [তহা : ১১৫] ফলে নবিদের সামান্য ভুলবিচ্যুতি হওয়া কুরআন দ্বারা প্রমাণিত হলো। এটা হানাফি ধারার বুখারার আলেমদেরও মত। (তিন.) আবুল হাসান আশআরি এবং হানাফিদের সমরকন্দি ধারার মতে, নবিগণ কবিরা-সগিরা গুনাহের পাশাপাশি মানবিক বিচ্যুতি থেকেও মুক্ত। অর্থাৎ, তাদের কোনো গুনাহ নেই, ভুলবিচ্যুতি নেই। স্রেফ উত্তমের পরিবর্তে অনুত্তম করে ফেলতে পারেন। তাই নবিগণের উপর ‘ভুলবিচ্যুতি’ শব্দ প্রয়োগ করাও সমীচীন নয়। কেননা, এটাও এক ধরনের গুনাহ। একইভাবে তাদের উপর ‘অবাধ্যতা’ (মাসিয়াত) শব্দ প্রয়োগ করা উচিত নয়। বরং স্রেফ ‘উত্তমের পরিবর্তে অনুত্তম’ করেছেন এভাবে বলতে হবে।৯৭৭
কামাল ইবনুল হুমাম (৮৬১ হি.) লিখেন, ‘কুফরি নয় এমন গুনাহ থেকেও নবিদের মাসুম হওয়া আবশ্যক। তবে বিষয়টি মতভেদপূর্ণ। কারও কারও মতে, কবিরা গুনাহ থেকে তারা সম্পূর্ণ মাসুম, সগিরা গুনাহ থেকে মাসুম নন। কিন্তু এ ব্যাপারে আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য কথা হলো, নবিগণ কবিরা ও সগিরা সব ধরনের গুনাহ থেকে পবিত্র। হ্যাঁ, ভুলে সামান্য লঘু পর্যায়ের সগিরা (অন্যকথায় মানবিক বিচ্যুতি) হয়ে যেতে পারে।৯৭৮
সাফফার লিখেন, ‘নবিগণ স্বেচ্ছায় আল্লাহর কোনো নির্দেশের বিরোধিতা করেন না। কোনো নিষিদ্ধ বিষয়ে লিপ্ত হন না। হ্যাঁ, অনেক সময় কোনো কাজের দুটি প্রান্ত বরাবর হলে তারা ইজতিহাদ করে যেকোনো একটা বেছে নেন। এক্ষেত্রে হতে পারে আল্লাহর কাছে সঠিক ছিল বিপরীতটা। তখন আল্লাহ তাদের মৃদু ভর্ৎসনা করেন। এটা দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো গুনাহ নয়, ওহির ক্ষেত্রে কোনো বিচ্যুতি নয়, তাবলিগের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি নয়। নবুওতের আগে ও পরে, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তারা সব ধরনের সগিরা ও কবিরা গুনাহ থেকে পবিত্র।’৯৭৯
খায়ালি লিখেন, ‘নবিগণ চরিত্রের জন্য অশোভন ও নিচু কর্ম থেকে পবিত্র—এ ব্যাপারে সবাই একমত। সগিরা গুনাহ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। অনেকের মতে, নবিগণ ভুলবশত সগিরা গুনাহ করে ফেলতে পারেন। আমাদের মতে, তারা সগিরা গুনাহ থেকেও পবিত্র।৯৮০
জটিলতা হলো, আল-ফিকহুল আবসাতে ইমামের এমন কিছু বক্তব্য আনা হয়েছে যেগুলো ইমামের এই প্রসিদ্ধ মানহাজের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যেমনটা আমরা উপরে দেখেছি, নবিগণ কবিরা ও সগিরা সকল গুনাহ থেকে পবিত্র—এটাই ইমাম আবু হানিফার সর্বসিদ্ধ মাযহাব। কিন্তু আল-ফিকহুল আবসাতে কবিরা গুনাহের মাধ্যমে মানুষ কাফের হয় না—এমন বক্তব্য প্রমাণ করতে গিয়ে ইমাম নবিগণকে গুনাহগার সাব্যস্ত করেছেন। যেমন—তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা ইউনুস আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলেছেন, ۞ وَذَا النُّونِ إِذْ ذَهَبَ مُغَاضِبًا فَظَنَّ أَنْ لَنْ نَقْدِرَ عَلَيْهِ فَنَادَىٰ فِي الظُّلُمَاتِ أَنْ لَا إِلَٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ ۞ অর্থ : ‘আর স্মরণ করুন মৎসওয়ালার কথা। তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে চলে গিয়েছিলেন আর মনে করেছিলেন যে, আমি তাঁকে ধরতে পারব না। পরে তিনি অন্ধকারের মধ্যে ডাকলেন, আপনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই; আপনি পবিত্র, আমি জালেম।’ [আম্বিয়া : ৮৭] এখানে ইউনুস আলাইহিস সালামকে জালেম মুমিন বলা হয়েছে; কাফের বা মুনাফিক বলা হয়নি। একইভাবে আল্লাহ তায়ালা কুরআনে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে ইস্তিগফারের নির্দেশ দিয়ে বলেন, ۞ لِيَغْفِرَ لَكَ اللَّهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأَخَّরَ وَيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكَ وَيَهْدِيَكَ صِرَاطًا مُسْتَقِيمًا ۞ অর্থ : ‘যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যৎ ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দেন এবং আপনার প্রতি তাঁর নেয়ামত পূর্ণ করেন আর আপনাকে সরল পথে পরিচালিত করেন।’ [ফাতাহ : ২] এখানেও আল্লাহ গুনাহের কথা বলেছেন, কুফরের কথা নয়। একইভাবে মুসা আলাইহিস সালাম যখন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলেন, এর মাধ্যমে তিনি গুনাহগার হয়েছিলেন, কাফের নন।৯৮১
এসব বক্তব্য যদিও ইমাম খারেজি ও মুতাযিলাদের খণ্ডন করতে দিয়েছেন, কিন্তু এর মধ্য দিয়ে তিনি নবিগণকে গুনাহগার সাব্যস্ত করলেন। ফলে এটাকে এভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যে, যদি ধরে নেওয়া হয়, তারা গুনাহ করেছেন—সেটাও স্রেফ গুনাহ-ই; কুফর নয়। ফলে গুনাহকারীকে কাফের বলার সুযোগ নেই। এটা নবিদের ক্ষেত্রে যেভাবে প্রযোজ্য, সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আবু হাফসও গুনাহের কারণে কেউ কাফের হয় না সেটা বোঝাতে আদম আলাইহিস সালাম ও হারুত-মারুতের ঘটনা তুলে ধরেছেন।৯৮২
উপরের ব্যাখ্যার কারণ হলো, ইসমতে আম্বিয়া বিষয়টি ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর প্রসিদ্ধ ও প্রতিষ্ঠিত মতবাদ। গোটা উম্মতের মুহাক্কিক আলেমদের সর্বসম্মতিক্রমে নবিগণ কবিরা গুনাহ থেকে পবিত্র। ফলে উপরের বিষয়গুলো যে কবিরা গুনাহ নয়, তা তো সুস্পষ্ট। যেমন—আদম আলাইহিস সালামের ঘটনা। আল্লাহ তায়ালা তাকে নিষিদ্ধ বৃক্ষের কাছে যেতে নিষেধ করেন। কিন্তু ইবলিস তাদের ওয়াসওয়াসা দিয়ে ভুলিয়ে দেয়। আদম উত্তমের পথ থেকে সরে পড়েন। এটাকেই কুরআনে ‘অবাধ্যতা ও পথচ্যুতি’ বলা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ۞ فَأَكَلَا مِنْهَا فَبَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهিমَا مِنْ وَرَقِ الْجَنَّةِ ۖ وَعَصَىٰ آدَمُ رَبَّهُ فَغَوَىٰ ۞ অর্থ : ‘অতঃপর তারা উভয়েই এর ফল ভক্ষণ করল। তখন তাদের সামনে তাদের লজ্জাস্থান খুলে গেল এবং তারা জান্নাতের বৃক্ষপত্র দ্বারা নিজেদের আবৃত করতে শুরু করল। আদম তার পালনকর্তার অবাধ্যতা করল, ফলে সে পথচ্যুত হয়ে গেল।’ [তহা : ১২১] কিন্তু এটা ধমক ও সতর্কীকরণ হিসেবে বলা হয়েছে। আদম আলাইহিস সালাম কবিরা গুনাহ করেছেন এমন নয়। এ জন্য অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর ব্যাপারে বলেন, ۞ وَلَقَدْ عَهِدْنَا إِلَىٰ آدَمَ مِنْ قَبْلُ فَنَسِيَ وَلَمْ نَجِدْ لَهُ عَزْمًا ۞ অর্থ : ‘আমি ইতঃপূর্বে আদমকে নির্দেশ দান করেছিলাম। কিন্তু সে ভুলে গিয়েছিল। আমি তাকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ পাইনি।’ [তহা : ১১৫] ফলে আদম আলাইহিস সালাম যা করেছেন, সেটা ভুলে যাওয়ার ফল ছিল। ইচ্ছাকৃত পাপ ও অবাধ্যতা ছিল না। একইভাবে মুসা আলাইহিস সালামের ঘটনাতে—যা ইমাম নিজে উল্লেখ করেছেন—তাঁর লোকটিকে হত্যার ইচ্ছা ছিল না। বরং তিনি স্রেফ হাত দিয়ে আঘাত করে বিবাদ বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাতেই লোকটি মারা যায়। ফলে এটা ছিল ভুলক্রমে হত্যা। আর ভুলে এমন করলে সেটা কবিরা গুনাহ নয়; বরং ভুল হিসেবেই গণ্য হবে।৯৮৩ অন্য নবিদের ঘটনাও এভাবে ভুল, মানবিক বিচ্যুতি ছিল; গুনাহ নয়।৯৮৪
সাবুনি লিখেন, ‘নবিদের এসব ঘটনা দেখলে গুনাহ মনে হয়। বাস্তবে এগুলো তেমন নয়, বরং ব্যাখ্যাসাপেক্ষ। আল্লাহ নবিদের অনুসরণীয় করে পাঠান। এখন যদি তারাই গুনাহে লিপ্ত থাকেন, তবে তাদের অনুসরণ করার সুযোগ থাকে?’৯৮৫
টিকাঃ
৯৭৫. দেখুন: আল-কিফায়াহ ফিল হিদায়াহ (২০৫)।
৯৭৬. দেখুন: আল-ফিকহুল আকবার (৪)। উসুলুদ্দিন, বাযদাবি (১৭২)।
৯৭৭. দেখুন: আল-কিফায়াহ ফিল হিদায়াহ (২০৬)। তাফসিরে নাসাফি (১/৮১)। লুবাবুল কালাম (৬২)।
৯৭৮. আল-মুসায়ারাহ (১২৭-১২৮)।
৯৭৯. তালখিসুল আদিল্লাহ (১৬৪-১৬৫)।
৯৮০. শরহুল খায়ালি আলা নুনিয়্যাতি খিজির বেগ (৩০৫-৩০৬)।
৯৮১. আল-ফিকহুল আবসাত (৫৫-৫৬)।
৯৮২. আস-সাওয়াদুল আজম (৯-১০)।
৯৮৩. শরহুল ফিকহিল আকবার, মাগনিসাভি (১৩২-১৩৩)।
৯৮৪. দেখুন : উসুলুদ্দিন, বাযদাবি (১৭৩-১৭৪)।
৯৮৫. আল-মিনাল কিফায়াহ (৯৬)।
📄 অধমের পর্যবেক্ষণ
নবিগণ কবিরা গুনাহ থেকে পবিত্র—এ ব্যাপারে আহলে সুন্নাতের সকল আলেম একমত। সগিরা গুনাহ নিয়ে মতবিরোধের কারণ মূলত সংজ্ঞায়নের জটিলতা। পিছনে আমরা বলেছি যে, সগিরা ও কবিরা গুনাহের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞার্থ নিয়ে আলেমদের মতপার্থক্য রয়েছে। আর সেই মতপার্থক্যের ফলে এখানেও মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। লঘু পর্যায়ের মানবিক বিচ্যুতিকে কেউ সগিরা গুনাহ ধরেছেন। ফলে তারা বলেছেন, নবিগণ সগিরা গুনাহ করেন। কেউ গুনাহ ধরেননি, বরং ভুলবিচ্যুতি ধরেছেন। ফলে তারা বলেছেন, নবিগণ সগিরা-কবিরা সব ধরনের গুনাহ থেকে মুক্ত, স্রেফ মানবিক ভুল করেন, যেমনটা ইমাম আজমেরও বক্তব্য। আবার কেউ দুটোকেই নাকচ করে স্রেফ উত্তমের পরিবর্তে অনুত্তম বলেছেন। এগুলো শাব্দিক মতপার্থক্য। মৌলিক কোনো মতবিরোধ নেই।
জামালুদ্দিন গযনবি বলেন, ‘এগুলোর ব্যাখ্যা করতে যাওয়া ভুলের আশঙ্কা থেকে মুক্ত নয়। আমাদের এমন দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। ফলে এ ব্যাপারে নীরব থাকা আবশ্যক।৯৮৬
রইল সগিরা গুনাহের কথা। উপরের বিষয়গুলোকে যদি সগিরা গুনাহও ধরা হয়, তবুও ইমামের বক্তব্যের উপর আপত্তি আসে। অর্থাৎ, তাঁর বক্তব্যই তাঁর মাযহাবের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে যায়। কারণ, ইমাম আজম রহ.-এর মাযহাব হলো, নবিগণ ইচ্ছাকৃত সগিরা গুনাহ থেকেও পবিত্র। তাহলে ইমাম উপরে এগুলো ‘গুনাহ’ শব্দে ব্যক্ত করলেন কেন? আল্লামা খায়ালি বলেন, দুইভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। এক. নবুওতের আগে সংঘটিত হয়েছে ধরা হবে। দুই. ভুলে করেছেন ধরা হবে।৯৮৭
ইসমাইল হক্কি ইস্তাম্বুলি (১১২৭ হি.) একটু অন্যভাবে ব্যাখ্যা দেন। সেটাও সুন্দর। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য কথা হলো, নবিগণ নবুওত অবস্থায় সগিরা-কবিরা সব ধরনের গুনাহ থেকে পবিত্র। হ্যাঁ, উত্তমের পরিবর্তে অনুত্তম করে ফেলতে পারেন। (আমাদের কাছে এটা গুনাহ না হলেও) তাদের জন্য এটাই সগিরা। কারণ, সাধারণ লোকদের পুণ্যের কাজটাও নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের পাপ গণ্য হয়।৯৮৮
টিকাঃ
৯৮৬. উসুলুদ্দিন, গযনবি (১৩৯)।
৯৮৭. শরহুল খায়ালি আলা নুনিয়্যাতি খিজির বেগ (৩০৭)।
৯৮৮. রুহুল বায়ান (৬/৩২৩)।