📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 নারীরা কি নবি হতে পারে?

📄 নারীরা কি নবি হতে পারে?


কোনো নারী নবি হতে পারেন কি না? এ ব্যাপারে কুরআন-হাদিসে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই। সাহাবায়ে কেরাম এ ব্যাপারে কথা বলেননি। তাবেয়িন, তাবে-তাবেয়িনও এটা নিয়ে কথা বলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। ফলে এ ব্যাপারে ইমাম আজম রহ.-এর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না। আকিদার গ্রন্থগুলো অনুসন্ধান করলে দেখা যায়, খুব সম্ভবত আবুল হাসান আশআরি সর্বপ্রথম এ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তিনি নারীদের নবি হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। পরবর্তীকালে একদল আলেম তাঁর অনুসরণ করেছেন। ৯৩১

এক্ষেত্রে তাদের দলিল হলো কুরআনের সেসব আয়াত, যেগুলোতে নারীদের কাছে ওহির আগমন এবং তাদের সঙ্গে ফেরেশতার কথোপকথন-সম্পর্কিত বয়ান পাওয়া যায়। যেমন—আল্লাহ তায়ালা মারইয়াম আলাইহিস সালামের কাছে জিবরিল আলাইহিস সালামকে মানুষের আকৃতিতে পাঠান। তিনি তাঁর সঙ্গে কথা বলেন [মারইয়াম : ১৬-২১]। আল্লাহ তায়ালা মুসা আলাইহিস সালামের মায়ের কাছে ওহি পাঠিয়েছেন [তহা : ৩৮]। ইসহাক আলাইহিস সালামের মাতা সারার কাছে ফেরেশতারা এসেছেন এবং কথা বলেছেন [হুদ : ৭১-৭৩]। এ ধরনের ঘটনা নবি ছাড়া অন্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘটে না। এ কারণৈ প্রথমোক্ত আলেমগণ পৃথিবীর প্রথম মানবী হাওয়া, মুসার মাতা, ঈসার মাতা মারইয়াম ও ফিরাউনের স্ত্রীকে নবি সাব্যস্ত করেছেন।

কিন্তু উম্মাহর সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেম উক্ত মতের বিরোধী। কারণ, কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা কোনো নারী নবি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় না। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে পঁচিশজন নবি-রাসুলের নাম উল্লেখ করলেও তাতে কোনো নারীর নাম নেই। ফেরেশতাদের সঙ্গে কথোপকথন কিংবা ওহি আগমনের কারণেও তাদের নিশ্চিতভাবে নবি বলা যায় না। এটা নারী জাতির ত্রুটি কিংবা তাদের প্রতি অবজ্ঞা নয়; বরং দাওয়াত ও তাবলিগের সঙ্গে নারীর প্রকৃতির একটা বড় রকমের অসামঞ্জস্যতা আছে, জিহাদ ও লড়াই-সংগ্রামের ক্ষেত্রে মাঠে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী প্রকৃতির একটা বৈপরীত্য আছে, ফলে আল্লাহ তায়ালা অনুগ্রহপূর্বক কোনো নারীর উপর এ ধরনের গুরুদায়িত্ব দেননি।

টিকাঃ
৯৩১. দেখুন: তালখিসুল আদিল্লাহ (১৬৬)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 অধমের পর্যবেক্ষণ

📄 অধমের পর্যবেক্ষণ


এটা আলেমদের ইজতিহাদ। এ বিষয়ে প্রকৃত ও চূড়ান্ত জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তায়ালার কাছে। যদিও কুরআনে কোনো নারীকে সরাসরি নবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি, তথাপি ইসহাক আলাইহিস সালামের মাতা সারা, মুসা আলাইহিস সালামের মাতা [তাঁর নাম সুনিশ্চিতভাবে জানা যায় না], ঈসা আলাইহিস সালামের মাতা মারইয়াম প্রমুখ নারীকে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে যেভাবে উল্লেখ করেছেন, তাতে তারা পুরুষ হলে আলেমগণ নিশ্চিতভাবে তাদের নবি বলতেন। অর্থাৎ, যেসব আয়াতের মাধ্যমে একাধিক নবির নবুওত প্রমাণ করা হয়েছে, এসব আয়াতের ভাষ্য, বাকরীতি, সম্বোধনের তরিকা আর সেসব আয়াতের ভাষ্যের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। স্রেফ নারী হওয়ার কারণে এসব আয়াতকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা নিরপেক্ষ গবেষণার সামনে নড়বড়ে প্রমাণিত হয়। ফলে এসব নারী নবি হলেও হতে পারেন। জরুরি নয় যে, তাদের উপর পুরুষ নবিদের সমান দায়িত্ব থাকবে; বরং তাদের প্রকৃতির ভিন্নতার মতো তাদের দায়িত্বও পুরুষ নবিদের চেয়ে ভিন্ন হওয়া সম্ভব। তবে যেহেতু বিষয়টি মতভেদপূর্ণ এবং কুরআন-সুন্নাহতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য নেই, তাই এ বিষয়ের চূড়ান্ত জ্ঞান আল্লাহর কাছে সঁপে দেওয়াই উত্তম।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 হিন্দুধর্মের সঙ্গে ইবরাহিম আ.-এর কোনো সম্পর্ক নেই

📄 হিন্দুধর্মের সঙ্গে ইবরাহিম আ.-এর কোনো সম্পর্ক নেই


হিন্দুরা কি ইসলামের কোনো নবিকে বিশ্বাস করে? আবুল ইউসর বাযদাবি লিখেন : “হিন্দুরা নুহ, ইবরাহিম ও ইদরিস আলাইহিমুস সালামের নবুওতে বিশ্বাস করে, অন্যান্য নবিকে অস্বীকার করে। ইবরাহিম আলাইহিস সালামের প্রতি বিশ্বাসের কারণে তাদের ‘ব্রাহ্মণ্যবাদ’-এর অনুসারী বলা হয়।”৯৩২

বাযদাবির এই বক্তব্য দলিল-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং অনুমানভিত্তিক। শতাব্দের পর শতাব্দ কিছু মানুষ এমন ধারণা করে এসেছে। বর্তমানেও কিছু গবেষক এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু এটার কোনো ধর্মীয় বা ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই। ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সঙ্গে হিন্দুধর্মের কোনো প্রমাণিত ও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। ব্রাহ্মণ্যবাদ আরবি (ابراها) থেকে উদ্‌গত। আর ইবরাহিম আলাইহিস সালামের আরবি নিসবতি রূপ হচ্ছে (الإبراهيمي) ইবরাহিমি; ব্রাহ্মণ্য নয়। তা ছাড়া, ইবরাহিম আলাইহিস সালামের জন্মস্থান ও বসবাসের স্থানের সঙ্গে ভারতের দূরতম সম্পর্ক নেই। তাঁর আনীত দ্বীনের সম্পর্ক তো মোটেই নেই। ইবরাহিম আলাইহিস সালাম তাওহিদবাদীদের ইমাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ومَا كَانَ إِبْرَاهِيمُ يَهُودِيًّا وَلَا نَصْرَانِيًّا وَلَكِن كَانَ حَنِيفًا مُسْلِمًا وَمَا ﴿67 : 1321 ﴾art )كَানَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ অর্থ : ‘ইবরাহিম ইহুদি ছিলেন না, খ্রিষ্টানও ছিলেন না। বরং তিনি ছিলেন একজন একনিষ্ঠ মুসলিম। তিনি কখনও মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।’ [আলে ইমরান : ৬৭] তাঁর আনীত শরিয়ত বিকৃত হয়ে যাওয়ার পরও মক্কার কাফেরদের মাঝে অনেককিছু অবশিষ্ট ছিল। নবুওতের আগে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইবরাহিমি শরিয়ত মোতাবেক ইবাদত করতেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। বরং ইবরাহিমি শরিয়তের অনেক বিষয় পরবর্তীকালে ইসলামি শরিয়তেও অনুমোদিত হয়। এগুলো সব রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগের তথা ঈসায়ি ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দের চিত্র। অপরদিকে হিন্দুধর্ম শুরু থেকেই পৌত্তলিকতার ভাগাড়। খ্রিষ্টপূর্ব কয়েক হাজার বছর আগ থেকে ভারতের যে ভাঙাচোরা ইতিহাস পাওয়া যায়, সে সবকিছু পৌত্তলিকতা ও মূর্তিপূজায় ভরপুর। তাওহিদ ও মিল্লাতে ইবরাহিমির ছিটেফোঁটা নিদর্শন নেই সেখানে। ইবরাহিমি ধর্মের ন্যূনতম সাদৃশ্যও নেই তাতে।

হ্যাঁ, বেদসহ হিন্দুধর্মের বিভিন্ন প্রধান গ্রন্থে একত্ববাদের কিছু আভাস পাওয়া যায়, ইসলামের তাওহিদ ও নবি-রাসুলের বিশ্বাসের সঙ্গে কিছু সাদৃশ্য পাওয়া যায়। এগুলো ভারতে আসা নবি-রাসুলের দাওয়াতের অবশিষ্ট ছটা। আল্লাহ তায়ালা যেহেতু পৃথিবীর প্রত্যেক সম্প্রদায়ের মাঝে নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন [নাহল : ৩৬; রাদ : ৭; ফাতির : ২৪] সুতরাং ভারতেও অবশ্যই নবি-রাসুল এসে থাকবেন। তারা ভারতবাসীকে আল্লাহর পথে, তাওহিদের দিকে ডেকে থাকবেন। পরবর্তীকালে তাওহিদের দাওয়াতে বিকৃতি এসেছে। ভারতবাসী তাওহিদ ভুলে পৌত্তলিকতার সাগরে তলিয়ে গিয়েছে। রয়ে গেছে পুরোনো তাওহিদের বিন্দু বিন্দু নিদর্শন, যেগুলো সেসব প্রাচীন নবি-রাসুলের দাওয়াত ও দীক্ষার ফল হয়ে থাকবে। কিন্তু ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সঙ্গে এগুলোর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ফলে ব্রাহ্মণ্যবাদের মূল দ্বীনে ইবরাহিম—এ ধারণার শরয়ি ও ঐতিহাসিক কোনো ভিত্তি নেই। একই কথা প্রযোজ্য ভারতের অন্যান্য প্রসিদ্ধ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ব্যাপারেও। ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে কিছু সাদৃশ্যের উপর ভর করে রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ প্রমুখকে নবি বলার সুযোগ নেই। তারা নবি হলেও হতে পারেন। কিন্তু আমাদের হাতে এর কোনো মজবুত দলিল নেই। ফলে আমরা তাদের নবি বলতে পারি না। ইসলামে কুরআন-সুন্নাহর বাইরে অন্য কারও জন্য নবুওত সাব্যস্ত করা বৈধ নয়।

শাহরাস্তানি সঠিক লিখেছেন, “একদল লোক মনে করেছে ‘ইবরাহিম’ আলাইহিস সালামের নামে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের নাম হয়েছে। এটা ভুল ধারণা। এই সম্প্রদায় নবুওত ও রিসালাতে মোটেই বিশ্বাস করে না। ফলে ইবরাহিমকেও তারা নবি মনে না।”৯৩৩

টিকাঃ
৯৩২. উসুলুদ্দিন, বাযদাবি (৯৫)।
৯৩৩. আল-মিলাল ওয়ান নিহাল, শাহরাস্তানি (৩/৯৫)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 আদম আ. নবি ছিলেন, রাসূল নন

📄 আদম আ. নবি ছিলেন, রাসূল নন


মুতাযিলাদের খণ্ডন করতে গিয়ে বাযদাবি লিখেন, ‘মুসলমানদের বিশ্বাস হলো—আদম আলাইহিস সালাম রাসুল ছিলেন। তিনি তার মতের পক্ষে কুরআনের এই আয়াত দিয়ে দলিল দেন : ۞ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَىٰ آدَمَ وَنُوحًا وَآلَ إِبْرَاهِيمَ وَآلَ عِمْرَانَ عَلَى الْعَالَمِينَ ۞ অর্থ: ‘নিঃসন্দেহে আল্লাহ আদম, নুহ, ইবরাহিমের বংশধর এবং ইমরানের বংশধরকে সমস্ত জগতের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।’ [আলে ইমরান: ৩৩] বাযদাবি বলেন, ‘রাসুল হচ্ছেন মনোনীত ব্যক্তি। এই মনোনয়ন সকল রাসুলের বৈশিষ্ট্য। আর এখানে তাকে নুহের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। নুহ রাসুল ছিলেন। সুতরাং আদমও রাসুল।’ তা ছাড়া, তিনি যুক্তি দেন, আদমের সঙ্গে হাওয়া ছিলেন, পরবর্তীকালে তাদের সন্তানগণ ছিলেন। তাদের প্রত্যেকের রিসালাত দরকার ছিল। বরং আদমের নিজেরও বিধিবিধান জানা জরুরি ছিল। ফলে তিনি রাসুল ছিলেন।’৯৩৪ প্রশ্ন হলো, এটা কতটুকু সঠিক বক্তব্য?

কুরআনে আল্লাহ তায়ালা আদম আলাইহিস সালামের ব্যাপারে বিভিন্ন জায়গায় লম্বা আলোচনা করলেও তিনি তাঁর ব্যাপারে ‘নবি’ বা ‘রাসুল’ কোনো শব্দ ব্যবহার করেননি। তবে তাঁর শানে ‘ইস্তিফা’ (নির্বাচন, মনোনয়ন) সহ এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করেছেন যা তাঁর নবি হওয়ার প্রমাণ। বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে বড় বড় নবি-রাসুলের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন [আলে ইমরান: ৩৩]। তাঁকে সরাসরি সম্বোধন করেছেন, নাম ধরে ডেকেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ۞ يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنْتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ ۞ অর্থ : ‘আর আমি বললাম, হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করো এবং যেথা ইচ্ছা স্বাচ্ছন্দ্যে আহার করো। কিন্তু এ বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না। হলে তোমরা অন্যায়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ [বাকারা: ৩৫] ফলে আদম আলাইহিস সালাম যে নবি ছিলেন এটা অনেকটা শক্তিশালী হয়। একটি দুর্বল হাদিসেও সরাসরি তাঁকে নবি বলা হয়েছে।৯৩৫ কুরআনের সমর্থনে থাকার কারণে সেটা গ্রহণ করা যায়।

মোটকথা, আদম আলাইহিস সালাম নবি ছিলেন এটা একরকম সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত। এ ব্যাপারে উম্মাহর সকল মুহাক্কিক একমত। তবে তাঁর রিসালাত প্রমাণিত নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেম তাঁকে ‘রাসুল’ বলেননি। বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারাও তাঁর রাসুল না হওয়ার বিষয়টাই বোঝা যায়। যেমন-কিয়ামতের দিন শাফায়াতসংক্রান্ত লম্বা হাদিসে নুহ আলাইহিস সালামকে পৃথিবীর সর্বপ্রথম রাসুল সাব্যস্ত করা হয়েছে।৯৩৬ এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, আদম আলাইহিস সালাম নুহ আলাইহিস সালামের আগে ছিলেন। ফলে তিনি রাসুল হলে নুহকে সর্বপ্রথম রাসুল বলা ভুল। এতে প্রমাণিত হয়, আদম আলাইহিস সালাম কেবল নবি ছিলেন, আর নুহ আলাইহিস সালাম ছিলেন পৃথিবীর সর্বপ্রথম রাসুল।

তা ছাড়া, আদম আলাইহিস সালামের দাওয়াত ও তাবলিগের প্রকৃতিও তাঁর নবুওতের প্রমাণ; রিসালাতের প্রমাণ বহন করে না। কারণ, তিনি পৃথিবীর সর্বপ্রথম মানব। তাঁর বংশধরদের মাঝেই তিনি দাওয়াত, তালিম ও তরবিয়তের কাজ করেছেন। বিরুদ্ধবাদী ও কাফের-মুশরিক সম্প্রদায়ের মোকাবিলা করতে হয়নি তাঁকে। উপরন্তু তাঁর সময়ে শিরকের প্রকাশই ঘটেনি। বরং সকল মানুষ বিশুদ্ধ তাওহিদের উপর ছিল। হাজার হাজার বছর পরে শিরকের সর্বপ্রথম প্রাদুর্ভাব ঘটে নুহ আলাইহিস সালামের সময়ে। ফলে দাওয়াতের জন্য রাসুলদের যে জিহাদ ও সংগ্রাম করতে হয়, কাফের ও মুশরিকদের বিরুদ্ধে তাদের যে নানা ফ্রন্টে লড়াই করতে হয়, সেটা আদম আলাইহিস সালামকে করতে হয়নি। এর মাধ্যমেও প্রমাণিত হয় তিনি একজন নবি ছিলেন, রাসুল ছিলেন না。

টিকাঃ
৯৩৪. দেখুন: উসুলুদ্দিন, বাযদাবি (৯৯-১০০)।
৯৩৫. মুসনাদে আহমদ (মুসনাদুল আনসার: ২১৯৪৭)। বাযযার (মুসনাদু আবি যর গিফারি : ৪০৩৪)।
৯৩৬. বুখারি (কিতাবু তাফসিরিল কুরআন: ৪৪৭৬)। মুসলিম (কিতাবুল ঈমান: ১৯৩)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00