📄 নবি-রাসূলের পার্থক্য
প্রথমেই বলে নেওয়া উচিত, কুরআন ও সুন্নাহতে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনো কথা বলা হয়নি। ফলে এটা নিয়ে যে উম্মতের মাঝে মতভেদ হবে, সেটা তো একদম লিখিত ছিল। বাস্তবেও তা-ই হয়েছে। নবি ও রাসুলের পরিচয় ও পার্থক্য নিয়ে মুসলিম উম্মাহর ইমামগণ এতটাই মতভেদ করেছেন যে, সেখান থেকে চূড়ান্ত কোনো ফয়সালা দেওয়া দুরূহ। আরও জটিলতা হলো, এ ব্যাপারে ইমাম আজম রহ.-এর কোনো বক্তব্য নেই, ইমাম তহাবিরও বক্তব্য নেই। ফলে এক্ষেত্রে আমাদের পরবর্তী যুগের আলেমদের কাছে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই।
একদল আলেম মনে করেন, নবি ও রাসুলদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, দুজনই সমান। নবি ও রাসুল প্রত্যেকের কাছেই ওহি আসত, প্রত্যেকেই আল্লাহর পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এই মত পোষণ করেন প্রসিদ্ধ একদল হানাফি, আশআরি ও মুতাযিলি আলেম। তাদের মাঝে কামাল ইবনুল হুমাম, যমখশারি, আজুদ্দিন ইজি, তাফতাযানি, শরিফ জুরজানি প্রমুখ উল্লেখযোগ্য। এভাবে নবি ও রাসুলের মাঝে পার্থক্য না থাকার ক্ষেত্রে হানাফি, আশআরি ও মুতাযিলি মাসলাকের মাঝে বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শিক দৃষ্টিভঙ্গি নেই। প্রত্যেক আলেম নিজস্ব ইজতিহাদ অনুযায়ী ফয়সালা দিয়েছেন। কারও ইজতিহাদ সঠিক হয়েছে, কারওটা ভুল। যেমন-নবি ও রাসুলকে এক ও সমার্থক বলা ভুল।৯২২
আরেক দল আলেম মনে করেন, রাসুল হচ্ছেন যার কাছে ওহি আসে এবং যাকে দাওয়াত ও তাবলিগের নির্দেশ দেওয়া হয়; আর নবি হচ্ছেন যার কাছে ওহি আসে, কিন্তু দাওয়াত ও তাবলিগের নির্দেশ দেওয়া হয় না। এটাও সঠিক কথা নয়। কারণ, আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে নবি ও রাসুল দুজনকেই ‘প্রেরণ করা’র কথা বলেছেন। [হজ : ৫২] আর এভাবে প্রেরণের মূল উদ্দেশ্যেই হলো দাওয়াত ও তাবলিগ—আল্লাহর পয়গাম মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। স্রেফ নিজের আমল শোধরানোর জন্য ওহিপ্রাপ্তির বিশেষ কোনো অর্থ নেই।
এভাবে আমরা নবি-রাসুলের পার্থক্য নির্ণয়ের ক্ষেত্রে আলেমদের নানামুখী বক্তব্যের সম্মুখীন হব, যেখান থেকে চূড়ান্ত কোনো ফলাফল পাওয়া কঠিন। তথাপি আলোচনার পূর্ণতার প্রতি লক্ষ রেখে এ ব্যাপারে আমরা আলেমদের আরও কিছু মতামত তুলে ধরব এবং শেষে আমাদের পর্যবেক্ষণ পেশ করব।
কাযি সদর বাযদাবি (৪৯৩ হি.) বলেন, ‘প্রত্যেক রাসুল নবি, কিন্তু প্রত্যেক নবি রাসুল নন। কেননা, নবি হলেন যার কাছে খবর বা প্রত্যাদেশ আসে; আর রাসুল হলেন যাকে কোনো সম্প্রদায়ের কাছে মিশন দিয়ে পাঠানো হয়। অন্যকথায়, রাসুল হলেন, আল্লাহ তায়ালা যার কাছে জিবরাইলকে পাঠান, যাকে তার সম্প্রদায়কে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়, তাদের শরিয়ত শেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়, আল্লাহ যাকে শরিয়ত দান করেন। আর নবি হলেন, আল্লাহ যার কাছে জিবরাইলকে পাঠান না; তাঁকে শরিয়ত দেন না, বরং ইলহাম কিংবা স্বপ্নের মাধ্যমে তাকে ইসলামের দিকে মানুষকে ডাকার নির্দেশ দেন। অথবা অন্য কোনো রাসুলের মাধ্যমে তাকে জানান যে, তিনি নবি; তিনি যেন মানুষকে আল্লাহর প্রতি ডাকেন।’৯২৩
বায়যাবি (৬৮৫ হি.) লিখেন, ‘রাসুল হচ্ছেন যাকে আল্লাহ তায়ালা নতুন শরিয়ত দিয়ে পাঠান। আর নবি হচ্ছেন যিনি আগের শরিয়তের অনুসারী হন। যেমন—মুসা ও ঈসার মধ্যবর্তী বনি ইসরাইলের নবিগণ। সুতরাং নবি রাসুলের চেয়ে ‘আম।’ অর্থাৎ প্রত্যেক রাসুল নবি, কিন্তু প্রত্যেক নবি রাসুল নন। নবি ও রাসুলের পার্থক্য হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। যেমন—রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে নবিদের সংখ্যা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এক লাখ অথবা দুই লাখ চব্বিশ হাজার। রাসুলদের সংখ্যা জিজ্ঞাসা করা হলে বলেন, তিনশত তেরো জন। তবে নবি ও রাসুলের মাঝে আরও বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে পার্থক্যের কথা বলা হয়। যেমন—কারও মতে, রাসুল হচ্ছেন যার কিতাব ও মুজিযা রয়েছে; আর নবি হচ্ছেন যার কিতাব নেই। কেউ মনে করেন, রাসুল হচ্ছেন যার কাছে সরাসরি ফেরেশতা ওহি নিয়ে আসেন; আর নবি হচ্ছেন যার কাছে স্বপ্নের মাধ্যমে ওহি পাঠানো হয় ইত্যাদি।৯২৪
মাগনিসাভি লিখেন, ‘কোনো কোনো আলেমের মতে, নবি ও রাসুলের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। তবে (আমার) কথা হলো, রাসুল হচ্ছেন যাকে আলাদা কিতাব ও শরিয়ত দেওয়া হয়; আর নবি হচ্ছেন যাকে এগুলো দেওয়া হয় না। ফলে রাসুল নবির তুলনায় অতিরিক্ত স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য রাখেন। তবে পার্থক্য থাক বা না থাক, কিতাব অবতীর্ণ হোক বা না হোক, সকল নবির উপর ঈমান আনা আবশ্যক।৯২৫
মাহমুদ কওনভি তাঁর আকিদাহ তহাবিয়্যাহর ব্যাখ্যায় লিখেন, ‘রাসুল হচ্ছেন আল্লাহ যাকে কোনো সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেন এবং আগের রাসুলের দ্বীনের চেয়ে ভিন্ন নতুন নির্দেশনা দান করেন। তাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ হোক বা না হোক এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আর নবি হলেন যার কাছে কিতাব অবতীর্ণ হয়নি এবং যাকে নতুন কোনো নির্দেশনাও দেওয়া হয়নি; বরং যিনি আগের রাসুলের দ্বীন অনুসরণ করেন।’ কওনভির ব্যাখ্যা অনুযায়ী রাসুল হওয়ার জন্য নতুন শরিয়তের অধিকারী হওয়া মুখ্য, কিতাব মুখ্য নয়। বিপরীতে নবি হওয়ার জন্য আগের শরিয়তের অনুসারী হওয়া মুখ্য।৯২৬
সাফফার বুখারি লিখেন, ‘প্রত্যেক নবি (এক হিসেবে) রাসুল। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, ءَامَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلُّ ءَامَنَ بِالله وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّসُلِهِ، وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ অর্থ : “রাসুল তার প্রতি তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং (ঈমান এনেছে) মুমিনগণও। তাদের সকলে আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসুলগণে ঈমান এনেছে। তারা বলে, ‘আমরা তাঁর রাসুলগণের মধ্যে কোনো তারতম্য করি না।’ আর তারা বলে, ‘আমরা শুনেছি এবং পালন করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা তোমার ক্ষমা চাই আর প্রত্যাবর্তন তোমারই নিকট।” [বাকারা : ২৮৫] এটা সবার জানা যে, নবি-রাসুল সবার প্রতি ঈমান রাখতে হবে। নবিদের অস্বীকার করে কেবল রাসুলদের উপর ঈমান রাখলে হবে না। সুতরাং এই আয়াতে রাসুলদের মাঝে নবিগণও অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে আল্লাহ তায়ালার বাণী, الَّذِينَ آمَنُوا ءَامِنُوا بِاللهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَبِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَى রَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنزَلَ مِن قَبْلُ وَمَن : يَكْفُرْ بِاللهِ وَمَلَت بِكَتِهِ وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا )) অর্থ : ‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করো এবং বিশ্বাস স্থাপন করো তাঁর রাসুল ও তাঁর কিতাবের উপর যা তিনি নাযিল করেছেন স্বীয় রাসুলের উপর। ঈমান আনো সে সমস্ত কিতাবের উপর যেগুলো নাযিল করা হয়েছিল ইতঃপূর্বে। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাদের উপর, তাঁর কিতাব সমূহের উপর এবং রাসুলগণের উপর ও কিয়ামত দিনের উপর বিশ্বাস করবে না, সে পথভ্রষ্ট হয়ে বহু দূরে গিয়ে পড়বে।’ [নিসা : ১৩৬] তবে আল্লাহ যেহেতু নবি ও রাসুল নামে দুটো অভিধা দিয়েছেন, বোঝা গেল, তাদের মাঝে পার্থক্য আছে। ফলে রাসুল হলেন শরিয়ত ও কিতাবের অধিকারী, যিনি আল্লাহর নির্দেশে পূর্বের শরিয়তকে রহিত করে দেন। কিন্তু নবি তাঁর পূর্বের রাসুলের শরিয়তের অনুসারী এবং কিতাবের সুরক্ষা দানকারী হয়ে থাকেন, যেমনটা হারুন আলাইহিস সালাম ছিলেন মুসার সঙ্গে; লুত ছিলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সঙ্গে।৯২৭
টিকাঃ
৯২২. দেখুন: ফয়যুল কাদির, মুনাভি (১/২০-২২)।
৯২৩. উসুলুদ্দিন, বাযদাবি (২২৯)।
৯২৪. তাফসিরে বায়যাবি (৪/৭৫)।
৯২৫. শরহুল ফিকহিল আকবার, মাগনিসাভি (১০৫)।
৯২৬. দেখুন: আল কালাইদ (৪০)।
৯২৭. দেখুন: তালখিসুল আদিল্লাহ (১৬৮-১৬৯)।
📄 অধমের পর্যবেক্ষণ
উপরি-উক্ত আলোচনাশেষে অধমের কাছে অগ্রগণ্য মত হলো, রাসুল হলেন: (এক) যাকে স্বতন্ত্র শরিয়ত দেওয়া হয়, (দুই.) বিরুদ্ধবাদী সম্প্রদায়ের মাঝে যিনি দাওয়াতের কাজ করেন। এই দুটো বৈশিষ্ট্য যার মাঝে পাওয়া যাবে, তিনি রাসুল। ‘রাসুল’-এর শাব্দিক অর্থ এবং কুরআন-সুন্নাহতে রাসুলদের সংগ্রাম দেখলে এই দুটো অভিন্ন বৈশিষ্ট্য সবার মাঝে চোখে পড়ে। এখানে কিতাব দেওয়া না-দেওয়া মুখ্য নয়। জিবরাইল সরাসরি আসা না-আসাও মুখ্য নয়। কারণ, ওহির একাধিক প্রকার রয়েছে। ফলে যিনি বিরুদ্ধবাদী সম্প্রদায়ের কাছে নতুন শরিয়ত নিয়ে আগমন করেন, আল্লাহর পথে সংগ্রাম করেন, তিনিই রাসুল। ওহির অধিকারী (চাই সেটা ওহির যেকোনো প্রকারই হোক) বাকি সবাই নবি。
তবে এ বক্তব্যকেই আমরা চূড়ান্ত বলতে পারছি না; বরং আমাদের কথা হলো বিষয়টা মতভেদপূর্ণ থাকবেই। কারণ, প্রথমত এ ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহতে কোনো সুস্পষ্ট আলোচনা আসেনি। দ্বিতীয়ত সাহাবা বা তাবেয়িসহ প্রথম যুগের সালাফ এ ব্যাপারে কোনো বক্তব্য দেননি। তৃতীয়ত কুরআন ও সুন্নাহতে হাতেগোনা কয়েকজন নবির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাজার হাজার নবির নবুওত ও রিসালাতের বিস্তারিত আলোচনা দেশের কথা, নাম পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাদের জানা ব্যতীত মাত্র কয়েকজন নবি-রাসুলের ব্যাপারে শরিয়তে বর্ণিত সংক্ষিপ্ত কিছু নস (বক্তব্য) ইজতিহাদ করে চূড়ান্ত বক্তব্য দেওয়া নিতান্তই দুরূহ ব্যাপার। তাই এ ব্যাপারে আমরা নীরব-নিরপেক্ষ থাকব। যাদের কুরআন-সুন্নাহতে রাসুল বলা হয়েছে কেবল তাদের রাসুল বলব। বাকি সবাইকে নবি গণ্য করব।
📄 নবি-রাসূলদের সংখ্যা
আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে যত নবি-রাসুল পাঠিয়েছেন, সবার উপর ঈমান আনতে হবে। নবি প্রমাণিত এমন কোনো একজনের নবুওত অস্বীকার করলে সে ব্যক্তি কাফের হয়ে যাবে। নবি ও রাসুলদের সংখ্যার ব্যাপারেও নানান বক্তব্য পাওয়া যায়। কারণ, কুরআন এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কিছু বলেননি। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ﴾ وَরُسُلًا قَدْ قَصَصْنْهُمْ عَلَيْكَ مِنْ قَبْلُ وَরُসُلًا لَّمْ نَقْصُصْهُمْ عَلَيْكَ﴿ অর্থ : ‘আমি আপনার পূর্বে অনেক রাসুল পাঠিয়েছি যাদের কতক রাসুলের কথা আপনাকে বলেছি। অনেক রাসুলের কথা আপনাকে বলিনি।’ [নিসা : ১৬৪] নবি-রাসুলদের সংখ্যার ব্যাপারে যেসব হাদিস বর্ণিত আছে সেগুলো দুর্বল। তাই উত্তম হলো তাদের সংখ্যার ব্যাপারে নীরব থাকা।
বাযদাবি বলেন, “নবি-রাসুলদের ব্যাপারে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা উচিত নয়। কারণ, এটা কুরআন-সুন্নাহতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত নয়। কুরআনে কেবল বলা হয়েছে, ﴾وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّن قَبْلِكَ مِنْهُم মَّن قَصَصْنَا عَلَيْكَ وَمِنْهُم মَّن لَّمْ নَقْصُصْ ﴿অর্থ : ‘আমি আপনার পূর্বে অনেক রাসুল প্রেরণ করেছি। তাদের কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করেছি এবং কারও কারও ঘটনা আপনার কাছে বিবৃত করিনি।’ [গাফের : ৭৮] সুতরাং সকল নবি-রাসুলের উপর ঈমান আনাই যথেষ্ট; তাদের সংখ্যা জানা নিষ্প্রয়োজন।”৯২৮
নাসাফি লিখেন, (যেহেতু নবি-রাসুলের সংখ্যা চূড়ান্তরূপে জানা নেই) ‘সেহেতু নিরাপদ পন্থা হলো এভাবে বলা : আমি আল্লাহর উপর ঈমান রাখি, আল্লাহর পক্ষ থেকে যা-কিছু এসেছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যসহ তাতে বিশ্বাস করি। আমি আল্লাহর প্রেরিত সকল নবি-রাসুলের প্রতি ঈমান রাখি। এভাবে বললে যিনি নবি ছিলেন এমন কাউকে অবিশ্বাস করা হবে না; আবার যিনি নবি ছিলেন না এমন কাউকে নবি বানানো হবে না। ’৯২৯
টিকাঃ
৯২৮. উসুলুদ্দিন, বাযদাবি (২২৯)।
৯২৯. বাহরুল কালাম (২৮২)।
📄 নবুওত ও রিসালাত চিরন্তন
নবি ও রাসুলের বৈশিষ্ট্য চিরন্তন। অর্থাৎ, নবির মৃত্যুর পরও তাঁর নবুওতের মর্যাদা অবশিষ্ট থাকে। রাসুলের ওফাতের পরও তাঁর রিসালাতের শ্রেষ্ঠত্ব বিদ্যমান থাকে। এগুলো কবর, হাশর এমনকি জান্নাতেও থাকবে। কারণ, এগুলো আল্লাহর চিরন্তন ও শাশ্বত অনুগ্রহ। এটা বোঝার জন্য গভীরে যাওয়া নিষ্প্রয়োজন। সাধারণ মুমিন ও ওলির বৈশিষ্ট্যও তো মৃত্যুর পরে অব্যাহত থাকে। আল্লাহর একজন ওলি কি মৃত্যুর পরে ফাসেক হয়ে যান? তার বেলায়াত ছিনিয়ে নেওয়া হয়? কখনোই নয়। তাহলে নবুওত ও রিসালাতের মর্যাদা কেন থাকবে না? বোঝা গেল, এটাও স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত থাকে। হ্যাঁ, দায়িত্ব থেকে তারা অব্যাহতি পান। এটা স্বাভাবিক। কারণ, দুনিয়া হচ্ছে কর্মস্থল, পরকাল সে কর্মের ফলাফল পাওয়ার জায়গা।
মুতাযিলারা বিশ্বাস করে, মৃত্যুর পরে নবি-রাসুলের বৈশিষ্ট্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অবশিষ্ট থাকে না! এটা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য। একইভাবে একদল ভ্রান্ত সুফিরও ধারণা হলো, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে নবুওত ও রিসালাত শেষ হয়ে যায়। এ কারণে তারা ওলিদের নবির চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে। এটাও চূড়ান্ত পর্যায়ের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য।৯৩০
টিকাঃ
৯৩০. দেখুন: উসুলুদ্দিন, বাযদাবি (২২৯)।