📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 দ্বিতীয় পক্ষের খণ্ডন

📄 দ্বিতীয় পক্ষের খণ্ডন


তাহলে কি তাঁর আকিদা দ্বিতীয় পক্ষের আকিদা? না, সেটাও নয়। কারণ, দ্বিতীয় পক্ষের আলেমগণ (বিশেষত পরবর্তীরা) আল্লাহর ইস্তিওয়াকে তাবিল করেন। কিন্তু ইমাম আবু হানিফার বক্তব্যে সুস্পষ্ট যে, তিনি ইস্তিওয়াকে ক্ষমতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি এগুলো দিয়ে তাবিল করেননি। তা ছাড়া, এ পক্ষের আলেমগণ 'আল্লাহ আকাশে' কিংবা 'আরশের উপরে' এমন বিশ্বাস গলত মনে করেন। অথচ ইমাম আবু হানিফা সুস্পষ্টভাবে বলছেন, 'আল্লাহ আকাশে। আরশের ওপরে'। এ জন্য অনেক আলেম অন্যান্য জায়গার মতো ইমাম আবু হানিফার ব্যাখ্যাকেও তাবিল করেছেন। তারা বলেছেন, উক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে ইমাম বুঝিয়েছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য স্থান নির্ধারণ করবে সে কাফের! আবুল লাইস সমরকন্দি, আবু শাকুর সালেমি, ইয ইবনে আবদুস সালাম, তাকিউদ্দিন হিসনি, আহমদ রিফায়িসহ আল-ফিকহুল আবসাতের সকল ব্যাখ্যাতা এই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ৭৪৯

টিকাঃ
৭৪৯. দেখুন : শরহুল ফিকহিল আকবার, সমরকন্দি (২৫)। আত-তামহিদ, সালেমি (৪২)। হাম্মুর রুমুয সূত্রে শরহুল ফিকহিল আকবার, আলি কারি (৩৩৩)। দাফউ শুবাহি মান শাব্বাহা, হিসনি (১৮) আল-বুরহানুল মুয়াইয়াদ, আহমদ রিফায়ি (১৮)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 অধমের পর্যবেক্ষণ

📄 অধমের পর্যবেক্ষণ


তাহলে ইমাম আবু হানিফার মাযহাব কী? তাঁর কথার অর্থ কী? ইমাম আবু হানিফার উক্ত বক্তব্যের অর্থ ঠিক তা-ই, যা কুরআন ও সুন্নাহর বক্তব্য। তিনি নতুন কিছু বলেননি; বরং কুরআন ও সুন্নাহতে যা আছে তা-ই বলেছেন। আমরা প্রথমে তাদের যুক্তির বিপক্ষে দুটো কথা বলে এরপর ইমামের মাযহাব বর্ণনা করব।

ইমাম আবু হানিফা উভয় বাক্যে কুফরের ফাতওয়া দিয়েছেন। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি বলবে, আল্লাহ আকাশে নাকি যমিনে আমি জানি না, সে কাফের। আবার যে ব্যক্তি বলবে, আমি জানি না আরশ আকাশে নাকি যমিনে, সে কাফের। এবার প্রশ্ন হচ্ছে, প্রথম পক্ষের আলেমগণ যেহেতু মনে করেন, ইমাম আবু হানিফা এর দ্বারা সত্তাগতভাবে আল্লাহর আরশের উপর থাকা প্রমাণ করেছেন, তাহলে যারা সত্তাগতভাবে আল্লাহর আরশের উপর অবস্থানকে কিংবা 'হিস্স্সি' ঊধর্বত্বকে নাকচ করে আল্লাহকে 'বিলা-মাকান' বলেন তারা কি কাফের? তারা বলবেন—না, তারা কাফের নয়; অপব্যাখ্যাকারী গোমরাহ। বোঝা গেল, ইমাম আবু হানিফা তাদের আকিদার কথা বলেননি। একইভাবে দ্বিতীয় পক্ষের আলেমগণ যেহেতু মনে করেন, ইমাম আবু হানিফা এই বক্তব্যের মাধ্যমে সত্তাগতভাবে আল্লাহর আরশের উপর থাকাকে অস্বীকার করেছেন। প্রশ্ন হলো, তাদের মত অনুযায়ী যারা ইস্তিওয়াসংক্রান্ত আয়াতগুলোর বাহ্যিক অর্থ ধরে আরশের উপরে আল্লাহর সত্তাগত অধিষ্ঠানের কথা বলে, তারা কি কাফের? তারা বলবেন: না, তারা কাফের নয়; দেহবাদী গোমরাহ। বোঝা গেল, ইমাম তাদের দুই পক্ষের কারও কথাই বলেননি; বরং তিনি বলেছেন কুরআন ও হাদিসের কথা, সালাফের কথা।

কীভাবে? তাঁর কথার প্রতি গভীর দৃষ্টি দিন। পাশাপাশি কুরআন ও সুন্নাহর দিকে দৃষ্টি দিন। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, তিনি আকাশে। [মুলক : ১৬] রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এক দাসীকে 'আল্লাহ কোথায়' জিজ্ঞাসা করলে সে ইশারা করে দেখাল 'আকাশে।' রাসুলুল্লাহ (ﷺ) সেটা সমর্থন করেন। খোদ ইমাম নিজস্ব সনদে উক্ত হাদিস বর্ণনা করেছেন। ৭৫০ বরং আল-ফিকহুল আবসাতের আলোচিত বক্তব্যের পরেও হাদিসটি উল্লেখ করেছেন ৭৫১। হ্যাঁ, এসব আয়াত ও হাদিসের অর্থ এটা নয় যে, আল্লাহ তায়ালা সত্তাগতভাবে আকাশের মাঝে। কারণ, তিনি সকল স্থান ও কালের ঊর্ধ্বে। তথাপি কুরআন-হাদিসে যেহেতু এভাবে বলা হয়েছে, ফলে নসের প্রতি সম্মান রেখে আমাদেরও এগুলো মেনে নিতে হবে, আল্লাহ তায়ালা যা উদ্দেশ্য নিয়েছেন, সে ব্যাপারে ঈমান রাখতে হবে। এটা আহলে সুন্নাতের প্রতিষ্ঠিত মাযহাব, ইমামেরও মাযহাব, যা পিছনে একাধিক জায়গায় উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং এগুলাএকে সরাসরি অস্বীকার করে কেউ যদি মুখের উপর বলে, 'না, আল্লাহ আকাশে নয়', তাহলে সে কুরআন ও হাদিস দু'টোকেই অস্বীকার করছে। ফলে উক্ত ব্যক্তি কাফের। একইভাবে একাধিক হাদিসে আল্লাহর আরশকে পৃথিবী ও মহাবিশ্বের বাইরে সর্বোর্ধ্বে বলা হয়েছে ৭৫২। ফলে কেউ যদি বলে, আমি জানি না আরশ কোথায়, তবে সে যেন সেসব হাদীস এবং ফলশ্রুতিতে আরশের অস্তিত্ব ও আরশের ওপর আল্লাহর ইস্তিওয়াকেই প্রত্যাখ্যান করলো। আর এই সবগুলো বিষয় প্রত্যাখ্যানকারী কাফের। তাহলে দেখা গেল, ইমাম আবু হানিফা রহ. আকিদার প্রচলিত কোনো পক্ষের কথা বলেননি, বরং তিনি বলেছেন কুরআন ও সুন্নাহর কথা। সেই যুগের বিভ্রান্ত জাহমিয়্যাহদের খণ্ডনে।

এবার প্রশ্ন হলো, তাহলে আল্লাহ আকাশে এবং আরশ আকাশের ঊর্ধ্বে—এগুলোর মাধ্যমে ইমাম কী বুঝিয়েছেন? ইমাম বুঝিয়েছেন সেটাই, যেটা সকল সালাফের মাযহাব ছিল। আর তা হলো (আমিররুহা কামা জাআত বিলা কাইফ) অর্থাৎ যেভাবে এসেছে সেভাবে রেখে দাও। আল্লাহ ও তাঁর রাসুল বলেছেন তিনি আকাশে, তাই আমরাও বলি তিনি আকাশে। কিন্তু এর অর্থ—তিনি আমাদের সামনে দৃশ্যমান আকাশের মাঝে সীমাবদ্ধ—এমন নয়। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বলেছেন, আল্লাহ আরশে ইস্তিওয়া করেছেন আর আরশ সর্বোর্ধ্বে। তাই আমরাও বলি, আল্লাহ আরশে ইস্তিওয়া করেছেন আর আরশ আকাশের ঊর্ধ্বে। কিন্তু এই ঊর্ধ্বত্বের নিগূঢ় মর্ম আল্লাহ তায়ালা জানেন। কারণ, তিনি সকল স্থান, দিক, সীমা-পরিসীমার ঊর্ধ্বে। ফলে এসব আয়াত ও হাদীসের বাহ্যিক বক্তব্যের প্রতি ঈমান এনে এগুলোর প্রকৃত মর্ম, স্বরূপ, ধরন, ব্যাখ্যা সবকিছু আল্লাহর কাছে সঁপে দেয়া আবশ্যক। ৭৫৩

এটা আমাদের মনগড়া ব্যাখ্যা নয়; খোদ আল-ফিকহুল আবসাতের একটি নুসখাতে এমন বক্তব্য রয়েছে। কাওরানির সেই নুসখাতে এসেছে (ক্বলা আবু হানিফাহ মান ক্বলা: লা আ'রিফু রব্বি ফিস সামাআতি আম ফিল আরদ্বি ফাক্বদ কাফারা, লিআন্নাল্লাহ তায়ালা ক্বলা: আর-রহমানু আলাল আরশিস তাওয়া, ফাইন ক্বলা: ইন্নাহু তায়ালা আলাল আরশিস তাওয়া, ওয়ালাকিননাহু ইয়াকুলু: লা আদরি আল আরশু ফিস সামাআতি আম ফিল আরদ্বি, ক্বলা: হুয়া কাফিরুন, লিআন্নাহু আনকারা কাউনাল আরশি ফিস সামাআতি, লিআন্নাল আরশা ফি আ'লা ইল্লিয়্যিন) অর্থাৎ আবু হানিফা রহ. বলেন, যে ব্যক্তি বলবে, আমি জানি না আল্লাহ আকাশে নাকি যমিনে, সে কাফের হয়ে যাবে। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'রহমান আরশের ওপর ইস্তিওয়া করেছেন'। একইভাবে যে ব্যক্তি বলবে, তিনি আরশের উপরে ইস্তিওয়া করেছেন, কিন্তু আমি জানি না আরশ আকাশে নাকি যমিনে, সেও কাফের হয়ে যাবে। কারণ সে আকাশে আরশ থাকাকে অস্বীকার করেছে। অথচ আরশ ঊর্ধ্বজগতে। ৭৫৪

উপরোত্ত এই বক্তব্য বাইহাকীর একটি বর্ণনা দ্বারাও প্রমাণিত হয়। বাইহাকি নিজস্ব সূত্রে নুহ ইবনে আবু মারইয়াম থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন—আমরা আবু হানিফার কাছে ছিলাম। তখন তিরমিয থেকে জাহমের অনুসারী এক নারী কুফায় এলো। সে কুফাবাসীকে তার (জাহমি) মতবাদের দিকে ডাকতে লাগল। হাজার হাজার মানুষ তার বক্তব্য শুনত। তখন তাকে বলা হলো, এখানে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ আবু হানিফা নামের একজন মানুষ আছেন। মাহিলাটি ইমামের কাছে এসে বলল, আপনি মানুষকে মাসআলা-মাসায়েল শেখাচ্ছেন, অথচ নিজে দ্বীন ত্যাগ করে বসে আছেন? আপনি যে মাবুদের উপাসনা করেন, আপনার সেই মাবুদ কোথায় বলেন তো? ইমাম আজম নীরব থাকলেন। সাত দিন পরে বললেন, 'আল্লাহ তায়ালা আকাশে; যমিনে নন।' তখন এক ব্যক্তি বলল, তাহলে আল্লাহর বাণী 'তোমরা যেখানেই থাকো, তিনি তোমাদের সাথে আছেন'-এর অর্থ কী? ইমাম বললেন, এটার অর্থ ঠিক তেমন, যেমন তুমি কোনো লোকের কাছে চিঠি লিখলে—'আমি তোমার সাথে আছি', অথচ তুমি তার কাছে নও। উক্ত ঘটনা উল্লেখের পর বাইহাকি বলেন, আবু হানিফা রাযি. সঠিক কথা বলেছেন। তিনি আল্লাহর যমিনে থাকাকে নাকচ করে দিয়েছেন। কুরআন ও সুন্নাহর স্বাভাবিক বর্ণনার অনুসরণপূর্বক 'আল্লাহ আকাশে' বলেছেন। কারণ, আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন, 'তোমরা কি তার থেকে নিরাপদ হয়ে গেছ যিনি আকাশে?' [মুলক : ১৬] ৭৫৫

এখানে 'আল্লাহ আকাশে' অর্থ তিনি আকাশের মাঝে ঢুকে আছেন এমন নয়; বরং সৃষ্টি থেকে তিনি ঊর্ধ্বে ও আলাদা সেটা বলা হয়েছে। এভাবেই বুঝতে হবে ইমাম মালেকের বক্তব্য : ‘আল্লাহ আকাশে, কিন্তু তাঁর ইলম সর্বত্র।’ ৭৫৬ এমন নয় যে, আল্লাহ সত্তাগতভাবে আকাশের মাঝে ঢুকে আছেন। বরং তিনি সৃষ্টির মাঝে নন। এটাকে কুরআন-সুন্নাহতে 'আকাশে' শব্দের মাধ্যমে ব্যক্ত করা হয়েছে, তাই কুরআন-সুন্নাহর অনুসরণে ইমাম এই শব্দেই ব্যক্ত করেছেন। এর মাধ্যমে সালাফের মূলত বিভ্রান্ত জাহমিয়্যাহদের খণ্ডানো উদ্দেশ্য। যাদের মুআততিলা গোষ্ঠী আরশের ওপর আল্লাহর ইস্তিওয়া অস্বীকার করতো। আর হুলুলী গোষ্ঠী আল্লাহকে সত্তাগতভাবে সর্বত্র বিরাজমান বলতো। দু'টোর একটাও সঠিক আকিদা নয়। ইমাম দু'টোকেই কুফর সাব্যস্ত করেছেন।

টিকাঃ
৭৫০. মুসনাদু আবি হানিফা, হারেসির বর্ণনা (২৫)।
৭৫১. আল-ফিকহুল আবসাত (৫১)।
৭৫২. বুখারি (২৭৯০)। মুসনাদে আহমদ (৮৫৩৫)।
৭৫৩. দেখুন: আল-ওয়াসিয়্যাহ (৩৮-৩৯)। আস-সিফাত, দারাকুতনি (৪১-৪২)।
৭৫৪. দেখুন : আল-ফিকহুল আবসাতের টীকায় আল্লামা কাওসারি রহ. কর্তৃক কাওরানীর নুসখা থেকে সংশ্লিষ্ট অংশের উদ্ধৃতি (৫০)।
৭৫৫. আল-আসমা ওয়াস সিফাত, বাইহাকি (৫৮৮-৫৮৯)।
৭৫৬. মাসায়িলুল ইমাম আহমদ, রিওয়াইয়াতু আবি দাউদ (২৬৩)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 দোয়ার মাঝে আকাশের দিকে হাত তোলার রহস্য

📄 দোয়ার মাঝে আকাশের দিকে হাত তোলার রহস্য


প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে দোয়ার সময় মানুষ উপরের দিকে হাত তোলে কেন? আকাশের দিকে তাকায় কেন?

ইমাম জবাবে বলেন, 'আল্লাহকে নিচের দিকের পরিবর্তে উপরের দিকে ডাকা হয়; কারণ, 'নিচুতা' রবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যাহর শানের সঙ্গে সমাঞ্জস্যপূর্ণ নয়। হাদিসের মাধ্যমেও এটা প্রমাণিত হয়। রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে জনৈক সাহাবি একজন নারী দাসী নিয়ে এসে বলেন, আমার উপর মুমিন দাসী আযাদ করা আবশ্যক হয়েছে। তাকে আযাদ করলে হবে? রাসুলুল্লাহ তাকে বললেন, তুমি মুমিন? সে বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে বলো তো আল্লাহ কোথায়? সে আকাশের দিকে ইশারা করল। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তাকে আযাদ করো। সে মুমিন।'৭৫৭

এখানে লক্ষণীয়, দাসীর হাদিসটিকে ইমাম ‘নিচুতা রবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের শানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’ তাই ঊর্ধ্বত্ব বলা হয়েছে—এ হিসেবে নিয়েছেন: স্থান নির্ধারণ হিসেবে নেননি। কারণ আল্লাহ আকাশ নামক স্থানের মাঝে নন। যেহেতু একদিকে আল্লাহ সৃষ্টির মাঝে নন, অপরদিকে ‘নিচুটা’ তাঁর শানের উপযোগী নয়। এ জন্য তাঁকে সৃষ্টির ঊর্ধ্বে ও তাঁর শানের ঊর্ধ্বত্ব প্রমাণের জন্যই তাঁকে ‘আকাশে’ বলা হয়।

আলেমগণ মোনাজাতে উপরে হাত তোলার হিকমত প্রসঙ্গে বলেন—কারণ, সেটা রহমত ও রিযিক অবতীর্ণ হওয়ার জায়গা। [যারিয়াত: ২২] যদি আল্লাহর অবস্থানের জায়গা হতো, তবে সেদিকে মুখ দিয়ে দোয়া করতে বলা হতো। অথচ এভাবে দোয়া করা হয় না। একইভাবে কুরআনে বলা হয়েছে, ‘যখন আমার বান্দারা আপনাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে, আপনি বলে দিন, আমি কাছেই রয়েছি।’ [বাকারা : ১৮৬] ফলে আল্লাহকে সবার সঙ্গে ভাবতে হবে। আরও বলা হয়েছে, “পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহর ‘মুখ’।” [বাকারা : ১১৫] এ আয়াত দিয়ে সব জায়গায় আল্লাহর চেহারা কল্পনা করতে হবে। অথচ বাস্তবতা এমন নয়। সুতরাং আল্লাহকে কোনো নির্দিষ্ট দিকে সীমাবদ্ধ করা যাবে না।

টিকাঃ
৭৫৭. আল-ফিকহুল আবসাত (৫১-৫২)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 ইস্তিওয়ার ব্যাপারে ইমামের আকিদা

📄 ইস্তিওয়ার ব্যাপারে ইমামের আকিদা


পিছনের আলোচনাতে স্পষ্ট যে, আল্লাহর ঊর্ধ্বত্বকে ইমাম আজম শারীরিকভাবে ব্যাখ্যা করেন না। রাসুলুল্লাহর (ﷺ) হাদিসকে সেই অর্থে বোঝেন না, যে অর্থে পরবর্তীরা বুঝেছেন। তাঁর মতে, উপরের দিকে ফিরে দোয়া কিংবা হাদিসে দাসী কর্তৃক আকাশের দিকে ইশারা করার মানে আল্লাহর অবস্থানস্থল বোঝানো নয়। এ কারণে তাঁকে যখন প্রশ্ন করা হলো, যদি কেউ বলে, আল্লাহ কোথায়? আপনি তাকে এ ব্যাপারে কী বলবেন? তিনি বললেন, “তাকে বলব, গোটা সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার আগে আল্লাহ তায়ালা ছিলেন। আল্লাহ তায়ালা তখন ছিলেন, যখন কোনো স্থানের অস্তিত্ব ছিল না। আল্লাহ তায়ালা তখন ছিলেন, যখন ‘কোথায়’, ‘সৃষ্টি’ কিংবা ‘বস্তু’ এমন কিছুরই অস্তিত্ব ছিল না। কারণ, তিনিই সবকিছুর স্রষ্টা।”৭৫৮

ইস্তিওয়ার ব্যাপারে এটাই সালাফের মানহাজ। তারা সংক্ষেপে এবং কুরআনে যেভাবে এসেছে, হুবহু সেভাবে ইস্তিওয়ার প্রতি ইজমালি বিশ্বাস রাখতেন। এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ কিংবা ধরন বলতেন না। এটা নিয়ে অতিরঞ্জিত আলোচনা করতেন না। এটাকে 'বসা', 'স্থির হওয়া', 'অবস্থান করা' ইত্যাদি মানবিক শব্দের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করতেন না। ইমামের আকিদাসংশ্লিষ্ট সকল গ্রন্থে ইস্তিওয়ার ব্যাপারে তাঁর এই মতামতই পাওয়া যায়। ইমাম রহ. বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ আরশের উপর 'ইস্তিওয়া' করেছেন। কিন্তু তিনি আরশের প্রতি মুখাপেক্ষী নন। আরশের উপর অবস্থানকারী নন। বরং তিনি কোনো প্রয়োজন ছাড়াই আরশ ও আরশের বাইরে অন্য সকল বস্তুর রক্ষাকর্তা। সৃষ্টির মতো তিনি যদি কোনো জিনিসের মুখাপেক্ষী হতেন, তবে জগৎ সৃষ্টি ও পরিচালনা করতে সক্ষম হতেন না। তিনি যদি বসা কিংবা অবস্থানের প্রতি মুখাপেক্ষী হতেন, তবে আরশ সৃষ্টির আগে আল্লাহ কোথায় ছিলেন? আল্লাহ এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।”৭৫৯

জটিলতা হলো, পরবর্তীরা এই সংক্ষিপ্ত ও বিশুদ্ধ তানযিহের মূলনীতির উপর থাকতে পারেননি। বরং বিভিন্নমুখী প্রান্তিকতার শিকার হয়েছেন। একদল আল্লাহ তায়ালাকে আসমানে আরশের উপর বসিয়ে দিয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেছেন আরশ আল্লাহর স্থান। তিনি সেখানে অবস্থান গ্রহণ করেছেন! বরং এরচেয়েও দুঃখজনক হলো ইলমি বিকৃতি। ইমাম আবু হানিফা যেহেতু উম্মাহর একজন শ্রেষ্ঠতম বরেণ্য ইমাম এবং অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, এ জন্য তারা ইমামকে তাদের নিজ আকিদার প্রচারমাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ইমামের বক্তব্যকে বিকৃত করেছেন। ফলে ওয়াসিয়্যাহ পুস্তিকাতে আল্লাহর 'ইস্তিওয়া আলাল আরশ'-কেন্দ্রিক ব্যাখ্যাতে আমরা দেখব, ওয়াসিয়্যাহর পাণ্ডুলিপির উপর অনধিকার চর্চা করা হয়েছে। তাতে অন্যায় হস্তক্ষেপ হয়েছে। ওয়াসিয়্যাহর এক্ষেত্রে বিশুদ্ধতম পাঠ হলো যা আমরা উল্লেখ করেছি :
(ওয়া নুক্বিররু বিআন্নাল্লাহা তায়ালা আলাল আরশিস তাওয়া মিন গইরি আই ইয়াকুনা লাহ হু হাজাতুও ওয়া ইসতিক্বরাুরন আলাইহি, ওয়াহুুযা হাফিজুল আরশি ওয়া গইরিল আরশি মিন গইরি ইহতিয়াজ)

অর্থাৎ, “আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ আরশের উপর 'ইস্তিওয়া' করেছেন, প্রয়োজন ও অবস্থানগ্রহণ ব্যতীত। বরং তিনি কোনো প্রয়োজন ছাড়াই আরশ ও গয়র-আরশ সবকিছুর রক্ষাকর্তা।”৭৬০

কিন্তু উক্ত পাঠ কেউ কেউ বিকৃত করেছেন। ফলে ওয়াসিয়্যাহর সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নুসখার পাঠ এমন—
(ওয়া নুক্বিররু বিআন্নাল্লাহা তায়ালা আলাল আরশিস তাওয়া মিন গইরি আই ইয়াকুনা লাহ হু হাজাতুন, ওয়াস তাক্বরাুরন আলাইহি ওয়াহুুযা হাফিজুল আরশি ওয়া গইরিল আরশি মিন গইরি ইহতিয়াজ)

অর্থাৎ, 'আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ আরশের উপর 'ইস্তিওয়া' করেছেন। কিন্তু তিনি আরশের প্রতি মুখাপেক্ষী নন। আর তিনি আরশের উপর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তিনি কোনো প্রয়োজন ছাড়াই আরশ ও গয়র-আরশ সবকিছুর রক্ষাকর্তা। '৭৬১

দেখুন, অর্থ কীভাবে উলটে গেল। ইমামের পরবর্তী বক্তব্য হলো: 'তিনি যদি বসা কিংবা অবস্থানের প্রতি মুখাপেক্ষী হতেন, তবে আরশ সৃষ্টির আগে আল্লাহ কোথায় ছিলেন?' বিকৃত পাঠের সঙ্গে এই বক্তব্যের কোনো সামঞ্জস্যতা আছে? মোটেই না। বরং দু'টো সাংঘর্ষিক।

তবে, আলহামদুলল্লাহ, ইস্তিওয়াকেন্দ্রিক ইমাম আজমের একাধিক বক্তব্য রয়েছে। ফলে দু-একটির ভিতরে হস্তক্ষেপ করা হলেও সবগুলোর ভিতরে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি। এভাবে ইমামের বিশুদ্ধ আকিদা আমাদের সামনে রয়ে গেছে। নিশাপুরি ইমাম থেকে বর্ণনা করেন—মুকাতিল ইবনে সুলাইমানের কাছে লেখা চিঠির জবাবে ইমাম লিখেন: আল্লাহর বাণী, 'তিনি আরশের উপর ইস্তিওয়া করেছেন' সত্য। এটা মূলত কুরআনে আল্লাহ তায়ালা যা বলেছেন— 'নিশ্চয় তোমাদের পালনকর্তা যিনি ছয় দিনে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর ইস্তিওয়া করেছেন।' [আরাফ: ৫৪]—সেটাই। তিনি যেভাবে বলেছেন সেভাবেই। আরশের উপর তাঁর ইস্তিওয়া সম্পর্কে আমরা কোনোকিছু জানার দাবি করি না। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি ইস্তিওয়া করেছেন। তবে তাঁর ইস্তিওয়া সৃষ্টির ইস্তিওয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। আরশের উপর ইস্তিওয়ার ব্যাপারে আমাদের বক্তব্য এটুকুই।৭৬২ সুবহানাল্লাহ! কত সুস্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত আকিদা। কুরআনের আকিদা। এটাই সকল সালাফে সালেহিনের আকিদা।

আরেক দল ইস্তিওয়ার অর্থ সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছেন। আয়াতগুলোকে এমনভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যা আল্লাহ নিজে করেননি, তাঁর রাসুল বলেননি; সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন, তাবে-তাবেয়িন করেননি। ইমাম যেখান নিজে বলেছেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহ আরশের উপর 'ইস্তিওয়া' করেছেন।”৭৬৩ আরও বলেছেন, “তিনি আরশের উপর ইস্তিওয়া করেছেন সত্য।”৭৬৪ সেখানে তারা ইমামের অনুসরণের দাবি সত্ত্বেও 'ইস্তিওয়া'-কে নেতৃত্ব, রাজত্ব, প্রতিপত্তি, পরিচালনা ইত্যাদি নানান শব্দে ব্যাখ্যা করেছেন। কেউ তো ইস্তিওয়া অর্থ করেছেন সৃষ্টি। ফলে ইস্তিওয়া আলাল আরশ অর্থ হবে, আরশের উপর সৃষ্টি করা। অথচ ইমাম আজম কিংবা সালাফে সালেহিনের কেউ এমন ব্যাখ্যা করেননি; করলে বরং বিভ্রান্ত সম্প্রদায়গুলো করেছে।৭৬৫ তাই ব্যাখ্যার নামে এ ধরনের অদ্ভুত বক্তব্য জুড়ে দেওয়া সম্পূর্ণ অনুচিত।

এক্ষেত্রে কর্তব্য হলো মুতাকাদ্দিমিন তথা ইমাম আজমসহ প্রথম যুগের হানাফি ইমামদের সঙ্গে থাকা, পরবর্তীদের ব্যাখ্যা বর্জন করা। মুহাম্মাদ ইবনুল ফযল বলখি বলেন, “আল্লাহ তায়ালা আরশের উপর ইস্তিওয়া করেছেন। তিনি 'আরশের উপরে'— ধরনহীন, সাদৃশ্যহীন, যেমনটা তিনি চেয়েছেন।” অন্যত্র লিখেন, 'তিনি স্থানের ঊর্ধ্বে। স্থানের প্রতি অমুখাপেক্ষী। আরশ তাঁর স্থান নয়।'৭৬৬

এমনকি খোদ সমরকন্দের মুতাকাল্লিমগণ যারা ইলমুল কালামকে আকিদার মৌলিক হাতিয়ারস্বরূপ গ্রহণ করেছেন এবং সিফাতের তাবিলের ক্ষেত্রে 'উদারতা' দেখিয়েছেন, তাদেরও অনেকে ইস্তিওয়ার তাবিল করেননি। স্বয়ং ইমাম আবু মনসুর মাতুরিদি রহ. 'ইস্তিওয়া'-কে 'ইস্তিলা' (পরিচালনা, প্রতিপত্তি) ও 'আরশ'-কে 'মুলক' (রাজত্ব) নানা শব্দে ব্যাখ্যার সম্ভাব্যতা ও বৈধতা বর্ণনার করার পর বলেন, “এক্ষেত্রে আমাদের মূলকথা হলো : যেহেতু আল্লাহ তায়ালার মতো কিছু নেই যেমনটা তিনি বলেছেন, 'তাঁর মতো কিছু নেই।' [শুরা : ১১] সুতরাং আমরা বলব, রহমান আল্লাহ আরশের উপর ইস্তিওয়া করেছেন যেমনটা কুরআনে এসেছে... এরপর আমরা সেটাকে অন্য কোনো বস্তু দিয়ে নিশ্চিত তাবিল করব না। কারণ, তখন (আমরা যে শব্দে তাবিল করলাম) সেটার বাইরে আরও ভিন্ন শব্দেও তাবিল করা যাবে। তাই আমরা বলব : আল্লাহ এখানে যা উদ্দেশ্য নিয়েছেন তাতে আমরা ঈমান রাখি। ইস্তিওয়া ছাড়া আল্লাহর দিদারসহ কুরআনে বর্ণিত অন্যান্য (সিফাতের) ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। একদিকে যেমন আল্লাহর সাদৃশ্য নাকচ করতে হবে, অন্যদিকে আল্লাহ যা উদ্দেশ্য নিয়েছেন তাতে বিশ্বাস রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে সুনিশ্চিত কোনো (ব্যাখ্যা) নির্ধারণ করা যাবে না।”৭৬৭

মাতুরিদি তাঁর তাফসিরেও 'ইস্তিওয়া'র বিভিন্ন তাবিল উল্লেখ করার পরে শেষে লিখেছেন, “আমাদের মূলনীতি হলো, আল্লাহ তাঁর সকল কর্ম ও গুণে সাদৃশ্য থেকে পবিত্র। ফলে 'রহমান আরশের উপর ইস্তিওয়া করেছেন' কুরআনে যেভাবে এসেছে সেভাবেই বলতে হবে।”৭৬৮ এভাবে 'ইস্তিওয়া'র তাবিল বর্জন খোদ মাতুরিদি রহ. থেকে প্রমাণিত হলো।

একইভাবে সদরুল ইসলাম বাযদাবিও (৪৯৩ হি.) বিভিন্ন সিফাতের তাবিল করে সে তাবিলকেই হাকিকত বলা সত্ত্বেও, সিফাতকেন্দ্রিক কোথাও কোথাও বৈপরীত্যের শিকার হওয়া সত্ত্বেও—যা পিছনে তুলে ধরা হয়েছে—সামগ্রিকভাবে এবং বিশেষত ইস্তিওয়ার ক্ষেত্রে ইমাম আজম রহ. এবং সালাফে সালেহিনের অনুসরণ করেছেন। তিনি লিখেন, “আল্লাহ স্থান-পাত্রের ঊর্ধ্বে। তিনি কোনো স্থানের মাঝে বা উপরে নন। বরং সৃষ্টির আগে তিনি যেমন ছিলেন তেমন আছেন। আল্লাহ তায়ালা আরশ সৃষ্টির পর আরশের উপর ইস্তিওয়া করেছেন। তবে এটা স্থানান্তর কিংবা সত্তাসহ আরশের উপর অবস্থান নয়। আল্লাহর জন্য কোনো দিক প্রযোজ্য নয়। তিনি সকল দিকের ঊর্ধ্বে। দিক সৃষ্টির আগে তিনি যেমন ছিলেন, সবসময় তেমন আছেন ও থাকবেন।”৭৬৯

আবদুর রহিম মুফতি যাদাহ (১২০৩ হি.) একই পথে হেঁটেছেন। তিনি ইস্তিওয়া'র সম্ভাব্য একাধিক ব্যাখ্যা উল্লেখের পরে লিখেন, “তৃতীয় মাযহাব হলো 'ইস্তিওয়া'-কে একটি স্বতন্ত্র বিশেষ সিফাত হিসেবে গ্রহণ করা। এর ধরন ও স্বরূপ আল্লাহর কাছে সঁপে দেওয়া। এটাই ইমাম আজম আবু হানিফা, ইমামুল হুদা আবু মনসুর মাতুরিদি এবং প্রসিদ্ধমতে আবুল হাসান আশআরির মাযহাব। আর এটাই তাবিলের বিভিন্ন জটিলতা থেকে মুক্ত মাসলাক। ... সুতরাং আল্লাহ আরশে ইস্তিওয়া করেছেন ধরনহীন, শরীরবিহীন। তিনি আরশ থেকে অনুখাপেক্ষী। আরশের উপর অবস্থান গ্রহণ থেকে অমুখাপেক্ষী।”৭৭০

গুমুশখানভি লিখেন, “আল্লাহ তায়ালার সিফাত সৃষ্টির সিফাতের সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে না। তিনি আরশের উপর ইস্তিওয়া করেছেন যেভাবে তিনি বলেছেন এবং যে অর্থ উদ্দেশ্য নিয়েছেন।”৭৭১

শামসুদ্দিন সমরকন্দি লিখেছেন, “ইস্তিওয়াকে 'ইস্তিলা' দিয়ে ব্যাখ্যা করা সুন্দর নয়।”৭৭২

আকিদাহ তহাবিয়্যাহর ব্যাখ্যায় মাহমুদ কওনভি লিখেন, 'ইস্তিওয়া' (সহ সকল সিফাতের) ক্ষেত্রে সালাফের মাযহাব হলো, এগুলোকে তাশবিহ তথা সাদৃশ্য থেকে মুক্ত রেখে সত্যায়ন করা। এগুলোর তাবিল তথা ব্যাখ্যাকে আল্লাহর কাছে সঁপে দেওয়া। এগুলোর তাবিল না করা। বরং এ বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ যা উদ্দেশ্য নিয়েছেন সেটা হক। এটাই সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ পন্থা। যদি তারা এসব সম্পর্কে প্রশ্ন করে কিংবা এগুলোর তাবিল জানার জন্য পীড়াপীড়ি করে, তবে তাদের ধমকানো হবে, সতর্ক করা হবে।৭৭৩

টিকাঃ
৭৫৮. আল-ফিকহুল আবসাত (৫৭)।
৭৫৯. আল-ওয়াসিয়্যাহ (পাণ্ডুলিপি) (৩)।
৭৬০. আল-ওয়াসিয়্যাহ (পাণ্ডুলিপি) (৩)।
৭৬১. আল-ওয়াসিয়্যাহ (দার ইবনে হাযাম) (৩৯)।
৭৬২. আল-ইতিকাদ, নিশাপুরি (১৪৯)।
৭৬৩. আল-ওয়াসিয়্যাহ (দার ইবনে হাযাম) (৩৯)।
৭৬৪. আল-ইতিকাদ, নিশাপুরি (১৪৯)।
৭৬৫. দেখুন : আত-তাবাকাতুস সানিয়্যাহ, তাকিউদ্দিন গাজ্জি (১/১৫৭)। শরহুল ফিকহিল আকবার, সমরকন্দি (২৬)।
৭৬৬. আল-ইতিকাদ, বলখি (১০৬-১০৭)।
৭৬৭. দেখুন: আত-তাওহিদ (৫৭)। তাবসিরাতুল আদিল্লাহ (১/৩৫০)।
৭৬৮. তাফসিরে মাতুরিদি (৭/২৬৯)।
৭৬৯. উসুলুদ্দিন, বাযদাবি (২৫০-২৫১)।
৭৭০. শরহুল ওয়াসিয়্যাহ, মুফতি যাদাহ (৯৯-১০০)।
৭৭১. জামেউল মুতুন, গুমুশখানভি (৮)।
৭৭২. আস-সাহায়িফুল ইলাহিয়্যাহ (৩৭৫)।
৭৭৩. আল-কালাইদ ফি শরহিল আকাইদ (৭০)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00