📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 আল্লাহর ব্যাপারে ‘জাওহার’ ও ‘আরাজ’ নাকচ করার রহস্য

📄 আল্লাহর ব্যাপারে ‘জাওহার’ ও ‘আরাজ’ নাকচ করার রহস্য


যদি আল্লাহর উপর মনগড়া কোনো শব্দ প্রয়োগ নিষিদ্ধ হয়, তবে ইমাম আজম এখানে 'জাওহার' ও 'আরাজ' ইত্যাদি নিয়ে কেন কথা বললেন? কেন আল্লাহর ব্যাপারে এগুলো নাকচ করলেন? অথচ এগুলো কুরআন-সুন্নাহর শব্দ নয়, সালাফ এগুলো বলেননি!

উত্তর হলো, এগুলো আকিদা 'তাকরির' তথা বর্ণনা ও প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আনেননি, বরং বিভ্রান্তি খণ্ডনের জন্য এনেছেন। আকিদার ক্ষেত্রে ইমাম আজমের মানহাজ হলো, কুরআন ও সুন্নাহতে যতটুকু এসেছে, ততটুকু বলা। মনগড়া শব্দ ব্যবহার পরিত্যাগ করা। এটা সাধারণ ক্ষেত্রে। কিন্তু বিপরীতে যখন বিভ্রান্ত লোকেরা আকিদার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ছড়াবে, আল্লাহর উপর মনগড়া শব্দ প্রয়োগ করবে, তখন সেটার প্রতিবাদ ও খণ্ডন আবশ্যক হবে। ইমাম আজম সেটাই করেছেন। অর্থাৎ, যখন খ্রিষ্টান ও কাররামিয়্যাহ সম্প্রদায় আল্লাহর উপর 'জিসম', 'জাওহার', 'আরাজ' এসব শব্দ প্রয়োগ করতে লাগল, অথচ জিসম তথা দেহ হলো বিভিন্ন উপাদানে গঠিত এবং কোনো এক স্থানে সীমাবদ্ধ, যা থেকে আল্লাহ মুক্ত। একইভাবে জিসম নবসৃষ্ট, অথচ আল্লাহ চিরন্তন, অনাদি, অনন্ত। 'জাওহার'ও (মৌল) কোনো জায়গায় সীমাবদ্ধ এবং জিসমের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর 'আরাজ' (বাহ্যিক রূপ-রং) হলো জিসম ও জাওহারে বিদ্যমান অনিত্য গুণাবলি, যেমন : রং, স্বাদ, ঘ্রাণ ইত্যাদি, যা স্থায়ী নয়; অথচ আল্লাহর যাত ও সিফাত চিরন্তন ও চিরস্থায়ী। ৫৯২ এভাবে তারা যখন আল্লাহর উপর এসব মনগড়া শব্দ প্রয়োগ করতে লাগল, তখন ইমাম এগুলো নাকচ করলেন, তাদের খণ্ডন করলেন।

ইমাম আজমকে 'জিসম' ও 'আরাজ' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, 'আমর ইবনে উবাইদের উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক। সে মুসলমানদের উপর এটা নিয়ে বিতর্কের দরজা উন্মুক্ত করেছে।' ৫৯৩ অর্থাৎ, এগুলো নিয়ে কথা বলাই নিষিদ্ধ। কিন্তু যখন তারা অন্যায় কথা বলা শুরু করল, তখন তাদের খণ্ডন না করে উপায় নেই। নতুবা তাঁর এবং আহলে সুন্নাতের স্বাভাবিক নীতি হলো, যেমনটা হারাভি নিজস্ব সূত্রে নুহ আল-জামি থেকে বর্ণনা করেন, আমি আবু হানিফাকে জিজ্ঞাসা করলাম, 'জিসম', 'আরাজ' ইত্যাদি নিয়ে মানুষ যেসব নতুন কথা শুরু করেছে, সে ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী? তিনি বললেন, “এগুলো দার্শনিকদের কথা। 'আসার' তথা সুন্নাহ ও সালাফের অনুসরণ করো। প্রত্যেক নবসৃষ্ট বিষয় থেকে বেঁচে থাকো। কারণ, সেগুলো বিদআত।” ৫৯৪

টিকাঃ
৫৯২. উসুলুদ্দিন, গযনবি (৬৮-৬৯)।
৫৯৩. দেখুন : তাবসিরাতুল আদিল্লাহ (১/২৬১-২৬২)। শরহুল ফিকহিল আকবার, আলি কারি (৩৪-৩৫)।
৫৯৪. যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি (৫/২০৭)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00