📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 আল্লাহর আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলি)

📄 আল্লাহর আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলি)


মহান আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য সুন্দর নামের অধিকারী। তিনি বলেন, وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا অর্থ: 'আল্লাহর রয়েছে সুন্দর সুন্দর নাম। কাজেই তোমরা তাঁকে সেসব নামে ডাকো।' [আরাফ: ১৮০] হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম রয়েছে। যে ব্যক্তি সেগুলো আত্মস্থ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।' ৫৩৭

আর ভাষার ক্ষেত্রে যেহেতু মূল হলো 'তাওকিফ' তথা আল্লাহপ্রদত্ত, যেমনটা وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنْبِعُونِي بِأَسْمَاءِ هَٰؤُلَاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ অর্থ : “তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন। তারপর সেই সমুদয় ফেরেশতাদের সামনে প্রকাশ করলেন এবং বললেন, ‘এই সমুদয়ের নাম আমাকে বলে দাও যদি তোমরা সত্যবাদী হও'।” [বাকারা : ৩১] এ কারণে আহলে সুন্নাতের মতে, আল্লাহর তায়ালার নামগুলো ‘তাওকিফিয়‍্যাহ’; অর্থাৎ, আল্লাহ নিজের উপর প্রয়োগ করেননি অথবা রাসুল (সা.) বলেননি এমন কোনো নাম মানুষের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য নির্ধারণ করা বৈধ নয়।

ফলে সমার্থক হলেও কুরআন-সুন্নাহতে আসেনি এমন নাম আল্লাহর উপর প্রয়োগ করা যাবে না। যেমন 'জাওয়াদ' (দাতা) ও ‘আলেম' (জ্ঞানী) আল্লাহর নাম। কিন্তু এর পরিবর্তে 'সাখি' (দাতা), 'ফাযিল' (জ্ঞানী) ব্যবহার করা যাবে না। একইভাবে ‘রহিম' (দয়ালু) আল্লাহর নাম। কিন্তু এর জায়গায় ‘শফিক' (দয়ালু) ব্যবহার করা যাবে না। মোটকথা, অর্থ ঠিক থাকলেই আল্লাহর নাম সাব্যস্ত করা যাবে না, কিংবা এক নামের জায়গায় সমার্থক শব্দকে নাম বানানো যাবে না। কুরআনে ব্যবহৃত আল্লাহর গুণবাচক শব্দ অভিধানে খুঁজে সেসব অর্থ আল্লাহর উপর প্রয়োগ করা যাবে না। পুরো ব্যাপারটা শতভাগ কুরআন-সুন্নাহর উপর নির্ভরশীল থাকবে।

আল্লাহর নামসমূহের সঙ্গে সৃষ্টির নামের কোনো তুলনা নেই। বাহ্যিক সাদৃশ্য থাকলেও অর্থের গভীরতা ও বাস্তবতার সঙ্গে সৃষ্টির সাদৃশ্য নেই। ফলে আল্লাহর নামগুলোর আল্লাহর ক্ষেত্রে যে অর্থ থাকবে, সৃষ্টির ক্ষেত্রে সে অর্থ থাকবে না। যেমন—আল্লাহর নাম ‘খালিক’ তথা সৃষ্টিকর্তা, স্রষ্টা। আল্লাহর নাম ‘রহিম’ তথা দয়ালু, ‘কারিম' তথা মেহেরবান, ‘আলিম' তথা জ্ঞানী। এসব নাম সৃষ্টির উপরও প্রয়োগ করা হয়। কিন্তু আল্লাহর ক্ষেত্রে এগুলোর যে গভীর ও মৌলিক অর্থ থাকে, সৃষ্টির ক্ষেত্রে সেটা কখনোই বিশ্বাস রাখা যাবে না। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, وَرَبُّ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا فَاعْبُدْهُ وَاصْطَبِرْ لِعِبَادَتِهِ هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيًّا ۚ অর্থ : ‘তিনি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং তাদের অন্তর্বর্তী যা-কিছু রয়েছে তার প্রতিপালক। সুতরাং তাঁরই বন্দেগি করো এবং তাতে অবিচল থাকো। তুমি কি তাঁর সমনাম কাউকে জানো।' [মারইয়াম : ৬৫] অথচ বাস্তবে দেখা যায়, তাঁর নামের মতো নাম অনেক মানুষেরও আছে। ফলে আয়াতের মর্ম হলো, যদিও মানুষ সেসব নাম ধারণ করে, কিন্তু সেটা রূপক অর্থে। সেসব নাম পূর্ণাঙ্গ অর্থে ধারণ করার একমাত্র অধিকারী আল্লাহ তায়ালা। তাঁর শানেই সেগুলো শোভনীয়। ৫৪০

একইভাবে আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য সুন্দর গুণের অধিকারী। সেগুলোকে সাতটি কিংবা কোনো বিশেষ সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করা সঠিক নয়। বরং যাবতীয় সকল জামাল ও কামাল তথা সৌন্দর্য ও পূর্ণাঙ্গতার আধার তিনি। তাঁর সত্তার মতো তাঁর গুণাবলিও চিরন্তন, চিরস্থায়ী। তিনি শুরু থেকেই এসব গুণে গুণান্বিত। সবসময় গুণান্বিত থাকবেন। সৃষ্টির কোনোকিছু যেমন তাঁর সত্তার সাদৃশ্য রাখে না, তেমনই সৃষ্টির কোনো গুণ তাঁর গুণের সাদৃশ্য রাখে না। আল্লাহর গুণকে সৃষ্টির গুণের সঙ্গে সাদৃশ্য করা কুফর। তেমনই কুরআন ও সুন্নাহতে সুনিশ্চিতভাবে প্রমাণিত আল্লাহর গুণগুলো অস্বীকার করাও কুফর।

আল্লাহর নাম ও গুণাবলিকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিভ্রান্তির কারণেই আমাদের ইমামগণ এ ব্যাপারে আলোচনা করেছেন; এক্ষেত্রে সৃষ্ট বিচ্যুতি খণ্ডন করেছেন। ৫৪১

ইমাম আজম রহ. বলেন, 'আল্লাহ তায়ালা এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরিক নেই। তিনি অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি। কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি। তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। তিনি তাঁর সৃষ্টির কোনো বস্তুর মতো নন। তাঁর সৃষ্টির কোনো বস্তুও তাঁর মতো নয়।' ৫৪২ এটা মূলত কুরআনের সুরা ইখলাসের ব্যাখ্যা।

ইমামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কেউ যদি বলে, আমি আল্লাহকে মানি, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি তাঁর সন্তান আছে। তখন কী হবে? ইমাম বললেন : 'সুবহানাল্লাহ! এটা কীভাবে সম্ভব? এগুলো তো সব বেহুদা প্রশ্ন। মৃত ব্যক্তির কি স্বপ্নদোষ হয়? যদি মৃত ব্যক্তির স্বপ্নদোষ হয় এমন বলা না যায়, তবে কোনো একত্ববাদীর পক্ষে এটা বলা সম্ভব নয় যে, আল্লাহর সন্তান রয়েছে।' ৫৪৩

আমরা যদি সিফাতের ক্ষেত্রে ইমামের মানহাজের দিকে তাকাই, তবে দেখব, সেটা সালাফে সালেহিনের মানহাজ। সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়িন যে আকিদার উপর ছিলেন, ইমাম আজম রহ. একজন তাবেয়ি হিসেবে সেই আকিদার উপরই ছিলেন। তারা আল্লাহর সিফাতগুলোকে সাব্যস্ত করার নামে আল্লাহকে মানুষের মতো কল্পনা করেননি, আবার সরাসরি কিংবা অপব্যাখ্যার মাধ্যমে সেগুলো নাকচও করে দেননি; বরং কুরআন সুন্নাহতে যেভাবে এসেছে সেভাবেই রেখে দিয়েছেন। ইমাম বলেন, 'আমরা আল্লাহকে সেভাবে চিনি যেভাবে তাঁকে চেনা উচিত, যাবতীয় গুণসহ যেভাবে তিনি নিজেকে স্বীয় কিতাবে বর্ণনা করেছেন।' ৫৪৪

আল্লাহর সিফাতের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—এগুলো চিরন্তন, অনাদি (আযালি), পরবর্তীকালে তৈরি হওয়া নয়। ইমাম বলেন, 'আল্লাহ তায়ালার গুণসমূহ চিরন্তন। পরবর্তীকালে অস্তিত্বে এসেছে এমন নয়, সৃষ্টও নয়। সুতরাং যে বলবে, আল্লাহর গুণসমূহ সৃষ্ট, কিংবা পরবর্তীকালে অস্তিত্বে এসেছে, কিংবা এ ব্যাপারে নিরপেক্ষ ভূমিকা অবলম্বন করবে অথবা সন্দেহ করবে, সে যেন আল্লাহ তায়ালাকেই অস্বীকার (কুফর) করল।' ৫৪৫

ইমাম আজম বলেন, “আল্লাহ তায়ালা তাঁর নামসমূহ এবং তাঁর সত্তাগত ও কর্মগত গুণাবলিতে সতত বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তাঁর কোনো নাম বা গুণ পরবর্তীকালে অস্তিত্বে আসেনি। তাঁর সত্তাগত গুণাবলি হচ্ছে: 'হায়াত' (জীবন), 'কুদরত' (শক্তি), 'ইলম' (জ্ঞান), 'কালাম' (বাণী), 'সাম্' (শ্রবণ), 'বাসার' (দর্শন) এবং 'ইরাদা' (ইচ্ছা)। আর তাঁর কর্মগত গুণাবলি হচ্ছে: 'তাখলিক' (সৃষ্টি করা), 'তারযিক' (রিযিক দেওয়া), 'ইনশা' (সূচনা করা), 'ইবদা' (উদ্ভাবন করা) ও 'সুনউ' (তৈরি করা) ইত্যাদি।” ৫৪৭ এসব সিফাতের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা নিচে দেওয়া হলো :

'হায়াত' (জীবন) হলো আল্লাহর অনাদি ও অনন্ত শাশ্বত একটি সিফাত। তিনি সর্বদা এ গুণে গুণান্বিত ছিলেন ও থাকবেন। তিনি চিরঞ্জীব-চিরস্থায়ী। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ﴾اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ﴿ অর্থ : 'আল্লাহ। তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। তিনি চিরঞ্জীব। সদা বিদ্যমান রক্ষাকর্তা (কাইয়ুম)।' [বাকারা : ২৫৫] আল্লাহ আরও বলেন, ﴾وَتَوَكَّلْ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ﴿ অর্থ : 'আর আপনি ভরসা করুন সেই চিরঞ্জীব সত্তার উপর যিনি মৃত্যুবরণ করবেন না।' [ফুরকান: ৫৮]

'কুদরত' (শক্তি-সামর্থ্য) আল্লাহ তায়ালার একটি চিরন্তন সিফাত। তিনি সবকিছু করতে সক্ষম। সর্বশক্তিমান। তিনি যখন কিছু করেন, তখন তাঁর চিরন্তন 'কুদরত'-এর মাধ্যমে করেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ﴾إِنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ﴿ অর্থ : 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাবান।' [বাকারা : ২০] অন্যত্র বলেন, 'বলুন, তিনি (আল্লাহ) সম্পূর্ণ ক্ষমতাবান, তোমাদের উপর কোনো শাস্তি উপর দিক থেকে, অথবা তোমাদের পদতল থেকে প্রেরণ করবেন...' [আনআম : ৬৫]

'ইলম' (জ্ঞান) আল্লাহ তায়ালার অবিনশ্বর সিফাত (গুণ)। তিনি সবকিছু জানেন। গোপন ও প্রকাশ্য, বিদ্যমান ও অবিদ্যমান, সম্ভব ও অসম্ভব—সবকিছু সম্পর্কে সবিস্তার জানেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'আল্লাহ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা হতে। এরপর শুক্রবিন্দু হতে। এরপর তোমাদের করেছেন যুগল! আল্লাহর অজ্ঞাতসারে কোন নারী গর্ভধারণ করে না এবং প্রসবও করে না... নিশ্চয়ই এটা আল্লাহর জন্য সহজ।' [ফাতির : ১১] আরও বলেন, 'তিনি (আল্লাহ) তাদের সামনে ও পশ্চাতে যা-কিছু আছে সবকিছু সম্পর্কে অবগত। তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ব্যাতীত তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না।' [বাকারা : ২৫৫]

'কালাম' আল্লাহ তায়ালার একটি চিরন্তন সত্তাগত গুণ। আল্লাহ তায়ালা শুরু থেকেই কথা বলেন। কিন্তু তাঁর কথা সৃষ্টির কথার সঙ্গে সাদৃশ্য রাখে না। আল্লাহ বলেন, 'আল্লাহ তায়ালা মুসা আ.-এর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন।' [নিসা: ১৬৪]

'সাম্' তথা শ্রবণ আল্লাহ তায়ালার একটি চিরন্তন গুণ। তিনি সেই চিরন্তন গুণের মাধ্যমে সকল আওয়াজ ও কথা শোনেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'তাঁর মতো কিছু নেই। তিনি সবকিছু শোনেন ও দেখেন।' [শুরা : ১১] আল্লাহ আরও বলেন, 'আল্লাহ অবশ্যই শুনেছেন সে নারীর কথা যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সঙ্গে বাদানুবাদ করছিল... আল্লাহ আপনাদের কথোপকথন শোনেন।' [মুজাদালাহ : ১]

'বাসার' তথা দর্শনও আল্লাহর চিরন্তন গুণ। তিনি সেই চিরন্তন গুণের মাধ্যমে সকল আকার-আকৃতি ও রং-রূপ দেখতে পান। আল্লাহ তায়ালা বলেন, 'যিনি আপনাকে দেখেন যখন আপনি (নামাযে) দণ্ডায়মান হন; আর দেখেন সিজদাকারীদের সঙ্গে আপনার ওঠাবসা।' [শুরা : ২১৮-২১৯] আল্লাহ আরও বলেন, 'আপনি বলুন, তোমরা আমল করতে থাকো। আল্লাহ তোমাদের আমল দেখবেন...' [তাওবা : ১০৫]

'ইরাদা' আল্লাহর একটি সত্তাগত চিরন্তন গুণ। ফলে তিনি ইচ্ছা তা-ই করেন, তা-ই নির্দেশ দেন। আল্লাহ বলেন, 'তিনি যা ইচ্ছা তাই করেন।' [বুরূজ: ১৬] তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই হয়। যা ইচ্ছা করেন না, তা হয় না। আল্লাহ বলেন, 'তোমরা বিশ্বজগতের পালনকর্তা আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত ইচ্ছা করো না।' [তাকভির : ২৯]

ইমামের বক্তব্যে উল্লিখিত আল্লাহর তিনটি কর্মগত সিফাত তথা 'তাখলিক', 'ইনশা', 'সুনউ' সমার্থক শব্দ। সবগুলোর অর্থ সামগ্রিকভাবে সৃষ্টি করা। 'তাখলিক' হলো সাধারণভাবে সৃষ্টি করা। আল্লাহ বলেন, 'আল্লাহ সমস্ত কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সমস্ত কিছুর কর্মবিধায়ক।' [যুমার : ৬২] 'সুনউ' বলা হয় সুনিপুণ ও সুপরিকল্পিত সৃষ্টি। আল্লাহ বলেন, 'এটা আল্লাহরই সৃষ্টিনিপুণতা, যিনি সমস্ত কিছুকে করেছেন সুসংহত।' [নামল : ৮৮] আর 'ইনশা' হলো সর্বপ্রথম সৃষ্টি করা।

টিকাঃ
৫৩৭. বুখারি (২৭৩৬)। মুসলিম (২৬৭৭)।
৫৪০. তালখিসুল আদিল্লাহ (৩৪১-৩৪২)।
৫৪১. লুবাবুল কালাম, উসমান্দি (পাণ্ডুলিপি: ৪৮)।
৫৪২. আল-ফিকহুল আকবার (১)।
৫৪৩. আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম (২১)।
৫৪৪. আল-ফিকহুল আকবার (৬)।
৫৪৫. আল-ফিকহুল আকবার (১-২)।
৫৪৭. আল-ফিকহুল আকবার (১)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 সত্তাগত সিফাত ও কর্মগত সিফাতের মাঝে পার্থক্য কী?

📄 সত্তাগত সিফাত ও কর্মগত সিফাতের মাঝে পার্থক্য কী?


হানাফি উলামায়ে কেরাম এই দুই প্রকারের সিফাত সহজে বোঝার জন্য কিছু মূলনীতি তৈরি করেছেন। তারা লিখেন, যে সিফাতের বিপরীত সিফাতটিও আল্লাহর উপর প্রয়োগ করা যায়, সেটা কর্মগত সিফাত। আর যে সিফাতের বিপরীতটা আল্লাহর উপর প্রয়োগ করা যায় না, সেটা সত্তাগত সিফাত। উদাহরণস্বরূপ সৃষ্টি করা, বিপরীত হলো ধ্বংস করা। সন্তুষ্ট হওয়া, বিপরীতটা হলো অসন্তুষ্ট বা ক্রুদ্ধ হওয়া। দয়া করা, বিপরীতটা হলো শাস্তি দেওয়া। সবগুলোই আল্লাহর উপর প্রয়োগ করা যায়। ফলে এগুলো সত্তাগত নয়; কর্মগত সিফাত। বিপরীতে জীবন, ইজ্জত (সম্মান) ও জ্ঞান। এগুলোর বিপরীত হলো মৃত্যু, অসম্মান ও মূর্খতা, যা আল্লাহর উপর প্রয়োগ করা যায় না। সুতরাং জীবন, সম্মান ও জ্ঞান সত্তাগত সিফাত।

উলামায়ে কেরাম আরও লিখেন, আল্লাহর সত্তাগত ও কর্মগত সিফাতের মাঝে আরেকটি পার্থক্য হলো, সত্তাগত সিফাত দিয়ে শপথ (কসম) করলে সেটা বিশুদ্ধ হবে। কারণ, এর বিপরীত নেই। যেমন—আল্লাহর ইজ্জত তথা সম্মানের মাধ্যমে শপথ করা বৈধ। কিন্তু কর্মগত সিফাত দিয়ে শপথ বিশুদ্ধ নয়। যেমন—আল্লাহর ক্রোধের নামে শপথ করলে সেটা শপথ হবে না। কারণ, ক্রোধের বিপরীতে আল্লাহর রহমত রয়েছে। ৫৫৫

টিকাঃ
৫৫৫. দেখুন: শরহুল ফিকহিল আকবার, মাগনিসাভি (১০৮)। আলি কারি (২০)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 আল্লাহর নাম ও গুণাবলির মর্যাদার তারতম্য

📄 আল্লাহর নাম ও গুণাবলির মর্যাদার তারতম্য


বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সিফাতের মাঝে প্রকারভেদ করা গেলেও এগুলো আল্লাহর সিফাত হওয়ার ক্ষেত্রে মূলত সবই সমান। এ কারণে ইমাম বলেন, “আল্লাহর সকল নাম ও গুণ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে সমান। এগুলোর ভিতরে কোনো পার্থক্য নেই।” ৫৫৬ ইমামের এ বক্তব্য সিফাত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অর্থাৎ, এগুলো আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণ এ হিসেবে সবগুলো সমান। কিন্তু মর্যাদার দিক থেকে এসব নামের মাঝে তারতম্য রয়েছে।

বিশেষত 'আল্লাহ' নামটি তাঁর সকল নামের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। খোদ ইমাম আজম রহ. থেকে বর্ণিত আছে, আল্লাহর এ নামটি অনন্য, দৃষ্টান্তহীন। এটা সর্বশ্রেষ্ঠ নাম, অর্থগতভাবে এবং শাব্দিকভাবেও। ফলে, তাঁর মতে, এ শব্দটি নিজেই পরিপূর্ণ। অন্য কোনো শব্দ থেকে এটা উদ্ভূত হয়নি, 'রহমান' যেমন 'রহমত' থেকে উদ্ভূত, 'রব' যেমন 'রবুবিয়্যাহ' থেকে নির্গত; 'আল্লাহ' নামটি নিজেই পরিপূর্ণ। ফলে ঈমান আনার ক্ষেত্রেও 'আল্লাহ' নামটি জানা ও বলাই যথেষ্ট। আর কোনো নামের প্রয়োজন নেই। 'আল্লাহ' নামের অর্থ : উপাস্য, মাবুদ, ইবাদতের একমাত্র উপযুক্ত ইত্যাদি। ৫৫৭

গাযালি রহ. লিখেন, 'আল্লাহ' নামটি আল্লাহর নিরানব্বই নামের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ। কারণ, এটা আল্লাহর সকল গুণের নির্দেশক। আল্লাহর অন্য নামগুলো ভিন্ন ভিন্ন গুণ, অর্থ ও মর্যাদা বহন করে। যেমন 'আলিম' নামটি জ্ঞানের কথা বোঝায়, 'কাদির' নামটি শক্তির নির্দেশক ইত্যাদি। বিপরীতে এ নামটি তাঁর সকল গুণ ও বৈশিষ্ট্যের আধার। তা ছাড়া, এটা একমাত্র তাঁর জন্যই নির্ধারিত। ফলে 'আলিম', 'কাদির', 'রহিম' ইত্যাদি সৃষ্টির উপর প্রয়োগ করা যায়। কিন্তু 'আল্লাহ' নামটি শাব্দিক বা রূপক কোনো অর্থেই কোনোভাবেই তিনি ছাড়া আর কারও উপর প্রয়োগ করা যায় না। ৫৫৮

টিকাঃ
৫৫৬. আল-ফিকহুল আকবার (৭)।
৫৫৭. দেখুন : তালখিসুল আদিল্লাহ (৩৮২, ৩৯৮)।
৫৫৮. দেখুন: আল-মাকসিদুল আসনা ফি শরহি মাআনি আসমায়িল্লাহিল হুসনা (৬১)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 তাশবিহ ও তাতিলের মাঝে ভারসাম্যপূর্ণ মানহাজ

📄 তাশবিহ ও তাতিলের মাঝে ভারসাম্যপূর্ণ মানহাজ


সিফাতের ক্ষেত্রে আবু হানিফা রহ. এবং সালাফে সালেহিনের মানহাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, তাশবিহ (সাদৃশ্য) ও তাতিল (নাকচ)-এর মাঝে ভারসাম্যপূর্ণ মানহাজ। ফলে তারা কুরআন-সুন্নাহতে বর্ণিত সিফাতগুলোকে আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করলেও সেগুলো সাব্যস্তের নামে বাড়াবাড়ি করে আল্লাহকে সৃষ্টিসদৃশ বানিয়ে দেননি, যেমনটা দেহবাদী ও সাদৃশ্যবাদীরা করেছে। আবার তারা সৃষ্টির সঙ্গে আল্লাহর সাদৃশ্যের ভয়ে সিফাতকে নাকচ করেননি, যেমনটা জাহমিয়‍্যাহ ও মুতাযিলারা করেছে। বরং তারা এর বাস্তবতা ও মৌলিকত্বের উপর বিশ্বাস রাখেন। কিন্তু নিগূঢ় মর্ম, ধরন ও স্বরূপ আল্লাহর কাছে সঁপে দেন। অন্যকথায়, তারা সিফাতকে যেভাবে এসেছে সেভাবে রেখে দেন। এগুলোতে বিশ্বাস রাখেন, গ্রহণ করেন। কিন্তু এগুলো নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি অপছন্দ করেন। এটাই সালাফে সালেহিনের প্রতিষ্ঠিত মানহাজ। ইমাম আজম রহ. থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি বলতেন: “আহলে সুন্নাতের আকিদা হলো 'তাশবিহ' ও 'তাতিল'-মুক্ত বিশুদ্ধ তাওহিদ।” ৫৯৫

তিরমিযি আল্লাহর সিফাতসংক্রান্ত হাদিসের আলোচনায় বলেন, “সুফিয়ান সাওরি, মালেক ইবন আনাস, ইবনুল মুবারক, ইবনে উয়াইনাহ, ওয়াকিসহ এ ব্যাপারে সকল ইমামের মাযহাব হলো: এসব হাদিস বর্ণনা করা হবে। আমরা এগুলোতে ঈমান রাখব। কিন্তু 'কীভাবে' এমন প্রশ্ন করা যাবে না। সকল মুহাদ্দিসের মতামতও তা-ই—এসব হাদিস যেভাবে এসেছে সেভাবে বর্ণনা করা হবে। এগুলোর উপর ঈমান আনতে হবে। কিন্তু এগুলো ব্যাখ্যা করা যাবে না। অনুমান করা যাবে না। 'কীভাবে' এমন প্রশ্ন করা যাবে না।” ৫৯৬

সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহ তায়ালা নিজের ব্যাপারে কুরআনে যা বলেছেন, সেগুলা পড়াই তার তাফসির। আরবি কিংবা ফারসিতে সেগুলা ব্যাখ্যা করা কারও জন্য বৈধ নয়।' ৫৯৭

ইমাম আজম রহ. বলেন, 'আল্লাহ তায়ালার সকল সিফাত (গুণ) মাখলুকের সিফাতের (গুণ) চেয়ে ভিন্ন। তিনি জানেন; কিন্তু আমাদের জানার মতো নয়। তিনি শক্তি রাখেন; কিন্তু আমাদের শক্তির মতো নয়। তিনি দেখেন; তবে আমাদের দেখার মতো নয়। তিনি কথা বলেন; তবে আমাদের কথা বলার মতো নয়। তিনি শোনেন; তবে আমাদের শোনার মতো নয়।' ৫৮৮

অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালার (সত্তাগত ও কর্মগত) সকল গুণ সৃষ্টি থেকে আলাদা। 'তিনি জানেন; কিন্তু আমাদের জানার মতো নয়।' কারণ, আমাদের জ্ঞান নবসৃষ্ট; ধারণা, অনুমান ও কল্পনানির্ভর; উপার্জিত। অপরদিকে আল্লাহর জ্ঞান চিরন্তন; মহাসত্য ও চূড়ান্ত। সবকিছু তাঁর সামনে উদ্ভাসিত। 'তিনি শক্তি রাখেন; কিন্তু আমাদের শক্তির মতো নয়।' কারণ, আল্লাহর শক্তি চিরন্তন, স্থায়ী। আমাদেরটা নবসৃষ্ট, অস্থায়ী। আমাদের ক্ষমতা সীমিত। তাও বিভিন্ন উপায়-উপকরণ, সহায়-সাহায্য ও যন্ত্রপাতিনির্ভর। আল্লাহর ক্ষমতা এ সবকিছুর ঊর্ধ্বে। সকল উপায়-উপকরণ ও সাহায্যসহযোগিতার অমুখাপেক্ষী। 'তিনি দেখেন; তবে আমাদের দেখার মতো নয়।' কারণ, আমাদের দেখতে হলে উপকরণ লাগে, অনুকূল পরিস্থিতি লাগে। উপরন্তু আমাদের দৃষ্টি সীমাবদ্ধ। অথচ আল্লাহ তায়ালা সবকিছু দেখেন। তাঁর দেখতে কোনো উপকরণ লাগে না, স্থান-কালের আনুকূল্য লাগে না। দিক ও মুখোমুখি হওয়া লাগে না। 'তিনি কথা বলেন; তবে আমাদের কথা বলার মতো নয়।' এক্ষেত্রে পার্থক্য স্বয়ং ইমাম আজম নিজেই উল্লেখ করেছেন। এভাবে যখন প্রত্যেকটা সিফাতকে বোঝা হবে, তখন বিতর্ক হয় না। বিচ্যুতি আসে না। সাদৃশ্যের ভয়ে তাবিল (রূপক ব্যাখ্যা) কিংবা তাহরিফ (বিকৃতিসাধন) করতে হয় না।

সাদৃশ্যের কথা চিন্তা করতে গেলে এমন অনেক সিফাতই মানুষের সঙ্গে মিলে যায়। তাই বলে সেগুলো অস্বীকার কিংবা তাবিল করা যাবে? না, করা যাবে না। কারণ, সাদৃশ্যটা স্রেফ শাব্দিক; মৌলিক সাদৃশ্য নয়। তাই সাদৃশ্যের অজুহাতে সিফাতগুলো নাকচ করা যাবে না, আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুল বলেননি এমন কোনো শব্দে ব্যাখ্যা করা যাবে না। বরং যেভাবে এসেছে সেভাবে রেখে দিতে হবে।

ইমাম সিফাতের ক্ষেত্রে জাহমিয়্যাহদের বিকৃতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। জারুদ ইবনে ইয়াযিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু হানিফা রহ.-কে বলতে শুনেছি, “জাহম সব সিফাতকে অস্বীকার করেছে। ফলে একপর্যায়ে আল্লাহকে 'কিছু না' (লা শাইউন) বানিয়ে দিয়েছে! কুরআনের উপর রাগ দেখিয়েছে (তাতে আল্লাহর সিফাত থাকার কারণে)!” জারুদ ইমামকে বললেন, এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী? তিনি বললেন, "আল্লাহ তায়ালা কুরআনে যা-কিছু বলেছেন এবং রাসুলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা-কিছু বর্ণিত, আমি তা-ই বলি।” ৫৯৯

তাশবিহ ও তাতিলের মাঝে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় ইমাম বলেন, 'সৃষ্টির কোনো বৈশিষ্ট্য (তথা সিফাত)-কে আল্লাহর উপর আরোপ করা যাবে না। তাঁকে সৃষ্টির কোনো বিশেষণে বিশেষিত করা যাবে না। তাঁর ক্রোধ ও সন্তুষ্টি তাঁর দুটো সিফাত। কোনো ধরন বা স্বরূপ ছাড়াই সেটা বিশ্বাস করতে হবে। এটাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদা। আল্লাহ ক্রুদ্ধ হন এবং সন্তুষ্ট হন। তাঁর ক্রোধকে শাস্তি এবং সন্তুষ্টিকে পুরস্কার ইত্যাদি দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। বরং তিনি নিজের ব্যাপারে যা বলেছেন আমরাও তা-ই বলব। তিনি অমুখাপেক্ষী। সবাই তাঁর প্রতি মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি। কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি। তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি চিরঞ্জীব। চিরজাগ্রত তত্ত্বাবধায়ক। তিনি সবকিছু শোনেন। সবকিছু দেখেন। সবকিছু জানেন। বান্দার হাতের উপর আল্লাহর হাত (ইয়াদ) রয়েছে। কিন্তু সেগুলা সৃষ্টির হাতের মতো নয়। অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নয়। কারণ, তিনি সকল হাতের সৃষ্টিকর্তা। একইভাবে তাঁর চেহারাও (ওয়াজহ) সৃষ্টির কোনো চেহারার মতো নয়। কারণ, তিনিই সকল চেহারার সৃষ্টিকর্তা। তাঁর নফস সৃষ্টির কোনো নফসের মতো নয়। কারণ, তিনি সকল নফসের সৃষ্টিকর্তা। তাঁর মতো কিছুই নেই। তিনি সর্বশ্রোতা। সর্বদ্রষ্টা। ৬০০

ইমাম রহ. আল-ফিকহুল আকবারেও বিষয়টির প্রতি তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আল্লাহ তায়ালার 'ইয়াদ' (হাত), 'ওয়াজহ' (চেহারা) এবং 'নফস' (সত্তা) রয়েছে, যেভাবে কুরআনে এসেছে সেভাবে। এটা বলা যাবে না যে, তাঁর 'ইয়াদ' (হাত) তাঁর কুদরত ও নেয়ামত। কারণ, এভাবে বললে তাঁর সিফাতকে বাতিল করে দেওয়া হয়। আর এটা কাদারিয়্যা ও মুতাযিলাদের বক্তব্য। বরং 'ইয়াদ' (হাত) তাঁর একটি সিফাত, ধরন নেই। 'গাযাব' (ক্রোধ) ও 'রিযা' (সন্তুষ্টি) আল্লাহর দুটি সিফাত, ধরন নেই।” ৬০১ ইমাম তহাবি রহ. বলেন, 'আল্লাহ তায়ালা রাগ করেন। তিনি সন্তুষ্ট হন; কিন্তু তাঁর রাগ ও সন্তুষ্টি সৃষ্টিজীবের মতো নয়।' ৬০২

বরং তাবিল নাকচ এবং সর্বোচ্চ তানযিহ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইমাম আজম রহ. আল্লাহর কিছু সিফাতের অনুবাদ করতেও নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন, “উলামায়ে কেরাম ফারসি ভাষায় আল্লাহর যেসব সিফাতের উল্লেখ করেছেন, সেগুলা বলা বৈধ। ব্যতিক্রম 'ইয়াদ' (হাত)। ফারসিতে এটার অনুবাদ করা যাবে না। ফলে 'বরুয়ে খোদা' (আল্লাহর চেহারা) বলা যাবে। সাদৃশ্য ও ধরন বর্ণনা ব্যতিরেকে।” ৬১০

টিকাঃ
৫৯৫. তালখিসুল আদিল্লাহ (৩৯৯-৪০০)।
৫৯৬. তিরমিযি (আবওয়াবু সিফাতিল জান্নাহ : ২৫৫৭ হাদিসসংক্রান্ত আলোচনা)।
৫৯৭. আল-ইতিকাদ, নিশাপুরি (১৭০)।
৫৯৯. আল-ইতিকাদ, নিশাপুরি (৯২)।
৬০০. আল-ফিকহুল আবসাত (৫৬-৫৭)। ইতিকাদ, নিশাপুরি (৯০)।
৬০১. আল-ফিকহুল আকবার (৩)।
৬০২. আকিদাহ তহাবিয়্যাহ (৫)।
৬১০. আল-ফিকহুল আকবার (৭)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00