📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 নাস্তিকদের সঙ্গে ইমামের বিতর্ক

📄 নাস্তিকদের সঙ্গে ইমামের বিতর্ক


ইমাম বিভিন্ন সময় নাস্তিকদের সঙ্গে বিতর্ক করতেন। যুক্তির মাধ্যমে তাদের পরাস্ত করতেন। এমন একটি ঘটনা সমরকন্দি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, একবার ইমাম আবু হানিফা রহ. এক নাস্তিক (দাহরি) লোকের সাথে বিতর্কে বসলেন। নাস্তিক বলল, পৃথিবীতে যাবতীয় বস্তুর পরিবর্তন স্রষ্টার কারণে নয়, বরং এর চারটি মৌল প্রকৃতি তথা আর্দ্রতা, শুষ্কতা, শীতলতা ও তাপের কারণে হয়। যখন এই চারটি মৌল পদার্থ বরাবর ও ভারসাম্যপূর্ণ থাকে, তখন সেই ব্যক্তি বা বস্তুও ভারসাম্যপূর্ণ থাকে। যখন একটি পদার্থ অন্যগুলোর উপর বিজয়ী হয় (ছাড়িয়ে যায়), তখন ভারসাম্য নষ্ট হয়। ইমাম আবু হানিফা রহ. বললেন, 'স্রষ্টাকে অস্বীকার করতে গিয়ে তোমার এ কথার মাধ্যমে নিজেই স্রষ্টা ও সৃষ্টি দুটোকেই প্রমাণ করে দিলে। কারণ, তুমি স্বীকার করলে, একটি পদার্থ অন্যগুলোর উপর বিজয়ী হয়। অন্যগুলো পরাজিত হয়। এর মানে, পৃথিবীতে জয়ী ও পরাজিতের অস্তিত্ব আছে। একইভাবে গোটা পৃথিবীর উপর একজন জয়ী আছেন। আর তিনি হলেন সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ। এ কথা শুনে নাস্তিক ঈমান গ্রহণ করল। ৫৩৫

বরং নাস্তিক্যবাদ ও নাস্তিকদের (দাহরিয়িয়নের) বিরুদ্ধে তাঁর অব্যাহত সংগ্রামের কারণে তিনি তাদের চক্ষুশূলে পরিণত হন। তারা তাঁকে হত্যার সুযোগ খুঁজতে থাকে। ঘটনাক্রমে একদিন ইমাম তাঁর মসজিদে একা ছিলেন। তখন একদল দাহরিয়্যিন তাঁর উপর তরবারি ও ছুরি নিয়ে আক্রমণ করে। তারা তাঁকে হত্যার উপক্রম করে। তখন ইমাম তাদের বলেন, 'একটু সবর করো! আমার একটা প্রশ্নের জবাব দিয়ে যা মন চায় করো।' তারা বলল, কী প্রশ্ন? তিনি বললেন, 'সে ব্যক্তির ব্যাপারে তোমাদের কী বক্তব্য যে বলে, আমি তরঙ্গোদবেল সমুদ্রে একটি মালবোঝাই জাহাজ দেখেছি যেটা সমুদ্রের উত্তাল তরঙ্গ ও ঝোড়ো হাওয়ার মাঝেও ডানে-বামে না গিয়ে সোজা ধীর-স্থিরভাবে চলছে। অথচ তাতে কোনো মাঝিমাল্লা নেই। পাল-মাস্তুল নেই। এই কথা কি বিশ্বাসযোগ্য?' তারা বলল, কখনো নয়। এটা কোনো যৌক্তিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক কথা নয়। ইমাম বললেন, 'সুবহানাল্লাহ! মাঝিমাল্লাবিহীন একটি নৌকা যদি সমুদ্রে সোজাভাবে চলতে না পারে, তবে এই বিশাল পৃথিবী, পৃথিবীতে বিদ্যমান এত রং ও রূপ, এত সৃষ্টি ও বৈচিত্র্য—এগুলো সব কোনো সৃষ্টিকর্তা ছাড়া এমনিতেই অস্তিত্বে চলে এসেছে? কোনো রক্ষাকর্তা ছাড়া এমনিতেই বিদ্যমান রয়েছে?' ইমামের কথা হামলাকারীদের মনে দারুণ প্রভাব ফেলল। তারা সকলে কাঁদতে কাঁদতে ইমামকে বলল, আপনি সত্য বলেছেন। অতঃপর তারা অস্ত্র ফেলে দিয়ে ইমামের হাতে তাদের গোমরাহি থেকে তাওবা করল। ৫৩৬

টিকাঃ
৫৩৫. শরহুল ফিকহিল আকবার, সমরকন্দি (৪৪)।
৫৩৬. মানাকিব, মক্কি (১৫১)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00