📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 আবদুল কাদের জিলানি ইমাম আজমকে মুরজিয়া বলেননি

📄 আবদুল কাদের জিলানি ইমাম আজমকে মুরজিয়া বলেননি


প্রশ্ন হতে পারে, শায়খ আবদুল কাদের জিলানি 'আল-গুনইয়া' গ্রন্থে আবু হানিফা রহ.-কে মুরজিয়া বলেছেন। সুতরাং তাকে মুরজিয়া বলা ভুল হবে কেন? প্রথমে আমরা শায়খের বক্তব্য দেখব, এর পর সেটার উপর আমাদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরব।

শায়খ জিলানি আল-গুনইয়াতে মুরজিয়াদের বিভিন্ন ফিরকার ব্যাপারে আলোচনার সময় বলেন, (মুরজিয়াদের) 'আরেকটি ফিরকা হলো হানাফিয়্যাহ। আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবেতের শিষ্য-অনুসারীরা। তাদের মতে, ঈমান হলো স্রেফ জানা (মারেফাত) এবং আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা-কিছু নিয়ে এসেছেন সেটার সামগ্রিক স্বীকৃতি দেওয়া' (الإيمان هو المعرفة والإقرار بالله ورসوله وبما جاء من عنده جملة)।⁴¹⁹

উপরের বক্তব্যটি বারাহুতি নামক অখ্যাত-অজ্ঞাত এক ব্যক্তির 'আশ-শাজারাহ' নামক কিতাব থেকে বর্ণনা করা হয়েছে। অথচ উক্ত লেখক এবং এমন বইয়ের অস্তিত্ব সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। এমন অজ্ঞাত লেখক ও লেখার উপর নির্ভর করে এ ধরনের স্পর্শকাতর একটি বক্তব্য দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? তাই অধমের ধারণা, শায়খ আবদুল কাদের জিলানি রহ. এ ধরনের বক্তব্য দেননি; বরং এটা তার বক্তব্য বিকৃত করে পরবর্তীকালে অনুপ্রবেশ ঘটানো হয়েছে। এ কারণে আমাদের হাতে বিদ্যমান আল-গুনইয়ার কোনো কোনো নুসখাতে আলোচ্য জায়গার পুরো বক্তব্যটা থাকলেও কেবল হানাফিদের জায়গায় 'গাসসানিয়্যাহ' নামটি রয়েছে আর আবু হানিফার জায়গায় 'গাসসান কুফি'র নাম রয়েছে।⁴²⁰ এটাই অধিক যুক্তিযুক্ত। কারণ, গাসসানিয়্যাহদের মুরজিয়া হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই এবং উপর্যুক্ত আকিদা তাদেরই আকিদা, ইমাম আজমের নয়। ইমাম আজম কখনোই ঈমানকে স্রেফ মারিফাত (জানা) বলেননি।

তর্কের খাতিরে যদি এটা শায়খ জিলানির বক্তব্য হিসেবে মেনে নেওয়াও হয়, তবে এর একটি জোরালো সম্ভাব্য ব্যাখ্যা এই যে, গাসসানিয়্যাহরা যেহেতু ইমাম আজমের অনুসারী 'হানাফি' দাবিদার ছিল এবং তারা এসব ভ্রান্ত আকিদা ইমামের নামে প্রচার করত, এ জন্য জিলানি রহ. তাদের 'হানাফি' শব্দে ব্যক্ত করেছেন; ইমাম আবু হানিফা কিংবা সাধারণ হানাফিরা উদ্দেশ্য নয়। কারণ, খোদ জিলানি রহ. উক্ত গ্রন্থের বিভিন্ন জায়গাতে ইমামদের মতভেদ নিয়ে আলোচনাপ্রসঙ্গে তিনি ইমামের পাশাপাশি ইমাম আজমের নাম উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর শানে বিভিন্ন জায়গায় 'ইমাম আজম' শব্দ ব্যবহার করেছেন। যদি তিনি ইমামকে ভ্রান্ত মুরজিয়া মনে করতেন, তবে তাঁর ব্যাপারে সম্মানসূচক 'ইমাম আজম' শব্দ ব্যবহার করতেন না। ফলে উক্ত নুসখার বর্ণনা সঠিক ধরা হলেও তিনি এখানে ইমাম আজমের সমালোচনা করেননি, বরং হানাফি পরিচয় দেওয়া একদল ভ্রান্ত মুরজিয়ার সমালোচনা করেছেন।

টিকাঃ
৪১৯. দেখুন: আল-গুনইয়াহ, জিলানি (৮০) [আল-মাতবাআতুল মিসরিয়‍্যাহ]।
৪২০. দেখুন: আল-গুনইয়াহ, জিলানি (১/১৮৬) [দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ]।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00