📄 ইরজার পরিচয়
আরবি 'ইরজা' (الإرجاء) শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো: বিলম্বিত করা, স্থগিত রাখা, মুলতবি করা, নিরপেক্ষ থাকা ইত্যাদি। পরিভাষায় 'ইরজা' ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রয়োগ হয়। যেমন—উসমান রাযি.-এর শাহাদাতকে কেন্দ্র করে আলি রাযি.-এর সময়ে সৃষ্ট জটিলতায় কোনো পক্ষে না গিয়ে নিরপেক্ষ থাকা, অথবা আলি ও উসমানের বিষয় আল্লাহর কাছে ছেড়ে দেওয়া, অথবা কবিরা গুনাহকারীর ব্যাপারে জান্নাতি বা জাহান্নামি সিদ্ধান্ত না দিয়ে তার পরিণতি পরকালে আল্লাহর ইচ্ছার কাছে সমর্পিত করা, অথবা আমলকে ঈমান থেকে বিলম্বিত করা, অন্যকথায়, আমলকে ঈমানের অংশ মনে না করা—এই প্রত্যেকটা বিষয়ের উপর 'ইরজা' শব্দটি প্রয়োগ করা হয়। তবে প্রসিদ্ধ অর্থে ইসলামের ইতিহাসে 'ইরজা' বলা হয় 'আমল বর্জন করে কেবল মুখে ঈমানের স্বীকৃতি'কে।
সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে ইরজার মাঝে একাধিক প্রকারভেদ পাওয়া গেলেও ইসলামের ইতিহাসে 'মুরজিয়া' শব্দটি সাধারণত নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ, যারা স্রেফ মুখের স্বীকৃতিকে ঈমান মনে করে, আমলের কোনো ধার ধারে না, এ ধরনের বিভ্রান্ত সম্প্রদায়কেই মূলত 'মুরজিয়া' বলা হয়। এর বাইরে কবিরা গুনাহকারীর পরিণতি আল্লাহর ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেওয়া, সাহাবাদের মাঝে সৃষ্ট জটিলতাকে আল্লাহর কাছে সঁপে দেওয়া, কিংবা ঈমানের সংজ্ঞায়নের ক্ষেত্রে আমলকে স্বতন্ত্র রেখে ঈমানের অতিরিক্ত অথচ আবশ্যক অঙ্গ গণ্য করা, যা ইমাম আজম এবং হানাফি আলেমদের মাযহাব, এগুলো শাব্দিকভাবে 'ইরজা' হলেও প্রায়োগিকভাবে ইরজা নয়। কারণ, এসব মতবাদের অনুসারী সকলেই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অন্তর্ভুক্ত। তাদের প্রত্যেকের মতে, ভালো আমল মুমিনের মর্যাদা বাড়িয়ে দেয়। মন্দ আমল বা গুনাহ মুমিনের ঈমানকে ক্ষতি করে। আল্লাহর অবাধ্যতা মানুষের জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। বিপরীতে ভ্রান্ত মুরজিয়ারা মনে করে, স্রেফ ঈমানই যথেষ্ট, আমলের কোনো প্রয়োজন নেই। গুনাহ মুমিনের কোনো ক্ষতি করে না।
📄 সালাফের দৃষ্টিতে মুরজিয়া
সালাফের পরিভাষায় মুরজিয়া হলো—যারা মনে করে, আল্লাহ তায়ালা, রাসুল এবং তিনি আল্লাহর কাছ থেকে যা-কিছু নিয়ে এসেছেন সেগুলো স্রেফ জানা। জানার বাইরে মুখের স্বীকৃতি, অন্তরের সত্যায়ন ও আত্মসমর্পণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান, ভয়, ভরসা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমল—এগুলোর কোনোকিছুই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়। একইভাবে তাদের কাছে কুফর হলো স্রেফ আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা! ফলে কোনো ব্যক্তির যদি জানা থাকে যে, আল্লাহ বলতে একজন আছেন, এর পর মুখে তাকে অস্বীকার করে, তবুও সে কাফের নয়! আশআরি লিখেন : ‘চরমপন্থি মুরজিয়াদের মতে—ঈমান হলো স্রেফ আল্লাহকে জানা, আর কুফর হলো তাকে না জানা। ফলে কেউ যদি তিন খোদায় বিশ্বাস করে, তবুও কাফের হবে না। তবে এটুকু যে, কাফের ছাড়া আর কেউ এটা বলে না। তাদের মতে, আল্লাহকে জানাই যথেষ্ট। এটাই তাকে ভালোবাসা এবং তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণ করা। তাদের মতে, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনাই ইবাদত। ফলে নামায কোনো ইবাদত নয়।’³⁸⁷ এরা মূলত জাহমিয়্যাহ নামে পরিচিত। অর্থাৎ, জাহমিয়্যাহরাই ঈমানের ক্ষেত্রে চরমপন্থি মুরজিয়া।
ইবনে হাযাম লিখেন, ‘চরমপন্থি মুরজিয়ারা দুটো ফিরকায় বিভক্ত। এক. যাদের মতে, ঈমান স্রেফ মুখের স্বীকৃতি। ফলে কেউ অন্তরে কুফরি সত্ত্বেও মুখে ঈমানের দাবি করলে মুমিন গণ্য হবে এবং জান্নাতে যাবে (এরা কাররামিয়্যাহ নামে পরিচিত মুরজিয়াদের একটি গ্রুপ)...! দুই. যারা বলে—ঈমান স্রেফ অন্তরের সত্যায়ন। ফলে কেউ যদি অন্তরে সত্যায়ন করার পরে মুখে কোনো কারণ ব্যতীত শুধু শুধু (অন্যকথায় জোরজবরদস্তি ছাড়াও) কুফরি করে, মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়, ইহুদি বা নাসারাদের দলে যোগ দেয়, ক্রুশ পূজা করে, ত্রিত্ববাদের ঘোষণা করে (অর্থাৎ, যত কুফর ও শিরক করুক), সে মারা গেলে পূর্ণ ঈমানদার হিসেবে মারা যাবে! পরকালে জান্নাতি হবে। এটা জাহম ইবনে সাফওয়ানের বক্তব্য’ (এরা জাহমিয়্যাহ ও চরমপন্থি মুরজিয়া নামে পরিচিত)।³⁸⁸
ভ্রান্ত মুরজিয়াদের বিরুদ্ধে আহলে সুন্নাতের ইমামগণ শুরু থেকেই সতর্ক ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ রহ. বলেন, ‘আজকের মুরজিয়া হলো—যারা বলে, ঈমান স্রেফ মুখের স্বীকৃতি; আমলের কোনো অংশ নেই তাতে। তোমরা তাদের সঙ্গে বসো না। তাদের সঙ্গে পানাহার করো না। তাদের সঙ্গে নামায পড়ো না। তাদের উপর জানাযা পড়ো না।'³⁸⁹
টিকাঃ
৩৮৭. মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন, আশআরি (১/১১৪-১১৫)।
৩৮৮. আল-ফাসল, ইবনে হাযাম (৪/১৫৪-১৫৫)।
৩৮৯. তাহযিবুল আসার (মুসনাদে ইবনে আব্বাস ২/৬৫৯)।
📄 মুরজিয়াদের বিরুদ্ধে ইমাম আজমের সংগ্রাম
ভ্রান্ত আকিদা থেকে সৃষ্ট সকল অন্যায় ও অনাচারের বিরুদ্ধে ইমাম আজম সবসময় সরব ছিলেন। সত্যপ্রকাশ এবং বিশুদ্ধ আকিদা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি জালেমের জুলুম কিংবা শাসকের উৎপীড়নকে ভয় করতেন না। মুরজিয়াদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম মূলত মুরজিয়াদের বিরুদ্ধেই সংগ্রাম। এ ছাড়াও ইমাম আজম তাঁর আকিদাবিষয়ক গ্রন্থগুলোতে ঈমান ও ইরজা, ঈমান ও আমল ইত্যাদি সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে মুরজিয়াদের নানান ধারার সকল ভ্রান্তি খণ্ডনপূর্বক এ ব্যাপারে আহলে সুন্নাতের বিশুদ্ধ আকিদা প্রতিষ্ঠা করেছেন।
খারেজি ও মুরজিয়া উভয়ের খণ্ডনে ইমাম বলেন, 'মুমিনের পিছনে—চাই সে পুণ্যবান হোক কিংবা পাপী হোক—নামায আদায় করা জায়েয। তবে আমরা এ কথা বলি না যে, পাপ মুমিনের কোনো ক্ষতি করে না। এটাও বলি না যে, সে একেবারেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। আবার এটাও বলি না যে, সে জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হিসেবে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়, হোক সেটা ফাসেক অবস্থায়ও। মুরজিয়াদের মতো এটাও বলি না যে, তাঁর পুণ্যসমূহ আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে আর তার পাপসমূহ মার্জিত হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা বলি: যে ব্যক্তি সব ধরনের শর্ত মেনে ত্রুটিমুক্ত কোনো নেক আমল করবে, কুফর ও ধর্মত্যাগ থেকে দূরাবস্থান করে মুমিন অবস্থায় পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তায়ালা তার আমল নষ্ট করবেন না; বরং কবুল করে নেবেন এবং তাকে প্রতিদান দেবেন। আর যে ব্যক্তি শিরক ও কুফর ছাড়া অন্য কোনো গুনাহ করে, এর পর তাওবা না করেই ফাসেক মুমিন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, সে আল্লাহর ইচ্ছার অধীনে থাকবে—চাইলে তিনি ক্ষমা করে দেবেন, চাইলে জাহান্নামের শাস্তি দেবেন। তবে চিরস্থায়ী শাস্তি দেবেন না।'³⁹⁰ এটা আহলে সুন্নাতের সকল ইমামের আকিদা।
ইমাম আজম আল-ওয়াসিয়্যাহ গ্রন্থেও মুরজিয়াদের বিচ্যুতি খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেন, “কেবল জানার নামই ঈমান নয়। এমন হলে আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা সবাই মুমিন গণ্য হতো। কারণ, আল্লাহ তাদের ব্যাপারে বলেছেন, ‘যাদের আমি কিতাব দিয়েছি, তারা আপনাকে সেভাবে চেনে যেভাবে চেনে নিজের সন্তানদের।’ [বাকারা : ১৪৬] তবুও তারা মুমিন নয়। কারণ, তারা চিনলে ও জানলেও স্বীকৃতি দেয় না।”³⁹¹
ইমাম আরও বলেন, “কেবল জানা যথেষ্ট নয়, মুখে স্বীকার করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (স) বলেছেন, 'তোমরা বলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তাহলে সফলকাম হবে।' তিনি আরও বলেছেন, 'যে ব্যক্তি বলবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।' ফলে কেবল জানলেই হবে না, মুখে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।”³⁹²
তহাবি রহ. বলেন, 'আমরা সৎকর্মশীল মুমিনদের জন্য আল্লাহর কাছে আশা করি তিনি তাদের ক্ষমা করে দেবেন। স্বীয় অনুগ্রহে তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। কিন্তু আমরা তাদের ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত-নিরাপদ হয়ে যাই না। কারও ব্যাপারে জান্নাতের সাক্ষ্য দিই না। আর গুনাহগার মুমিনদের জন্য আমরা ক্ষমা প্রার্থনা করি, তাদের ব্যাপারে আশঙ্কা করি, কিন্তু নিরাশ করি না। (ভবিষ্যৎ পরিণতি থেকে) নিশ্চিন্তভাব কিংবা নিরাশা দুটোর কোনোটাই মিল্লাতে ইসলামিয়্যাতে সমর্থিত নয়। কিবলার অনুসারীদের হকের পথ হচ্ছে এই দুটোর মাঝামাঝি।'³⁹³
টিকাঃ
৩৯০. আল-ফিকহুল আকবার, আবু হানিফা (৫)।
৩৯১. আল-ওয়াসিয়্যাহ, আবু হানিফা (২৭-২৮)।
৩৯২. আল-উসুলুল মুনিফাহ (৩১-৩২)।
৩৯৩. আকিদাহ তহাবিয়্যাহ (২১)।
📄 ইমামের চোখে ইরজার উৎস ও প্রকৃতি
ইরজার ইতিহাস ও সূত্রপাত কোত্থেকে? এ ব্যাপারে ইমাম আজমের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যাখ্যা রয়েছে। তিনি মনে করেন, “ইরজার সূচনা হয়েছিল ফেরেশতাদের মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা যখন ফেরেশতাদের সামনে বিভিন্ন সৃষ্টি রেখে সেগুলোর নাম জিজ্ঞাসা করলেন, তখন ফেরেশতারা না জেনে আন্দাজে জবাব দেওয়ার সাহস করলেন না। কারণ, তাতে অনধিকার চর্চা হবে। ফলে তারা নীরবতা অবলম্বন করে বললেন, ‘আপনি মহা পবিত্র। নিশ্চয়ই আমাদের যা শিখিয়েছেন সেগুলো ছাড়া আর কিছু জানি না।’ [বাকারা : ৩২] সুতরাং ফেরেশতাদের এই কর্মপন্থা ছিল সঠিক কর্মপন্থা। তারা ওই ব্যক্তির মতো ছিলেন না যাকে তার অজানা একটা বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো আর সে না জেনেই যা ইচ্ছা বলে গেল। এই লোক যদি ভুল বলে, তাহলে সে অপরাধী বিবেচিত হবে। যদি সৌভাগ্যক্রমে সঠিকটা বলতে পারে, তবুও ধন্যবাদ পাওয়ার উপযুক্ত হবে না। কারণ, সে অনধিকার চর্চা করেছে। না জেনে কথা বলেছে। এ কারণে আল্লাহ তায়ালা নবিজি (সা.)-এর উদ্দেশে বলেছেন, ‘যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই সেটার পিছনে পড়ো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও হৃদয় এগুলোর প্রত্যেকটিই জিজ্ঞাসিত হবে।’ [ইসরা : ৩৬] যেখানে রাসুল (সা.)-কেও না জেনে কেবল ধারণার বশবর্তী হয়ে কারও ব্যাপারে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে, সেখানে সাধারণ মানুষের ব্যাপারে কীই-বা বলার থাকে?”³⁹⁴
ইমাম আরও বলেন, “ইরজার ব্যাখ্যা হলো : ধরো তুমি একটা কওমের মাঝে ছিলে। তখন তারা হক ও সত্যের উপর ছিল। এর পর ওই অবস্থায় তাদের কাছ থেকে চলে গেলে। একটা সময় তোমার কাছে সংবাদ পৌঁছল যে, তারা দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। তখন তুমি তাদের কাছে গেলে। গিয়ে দেখলে এখনও তারা সেই হকের উপরই আছে। এ অবস্থাতেই নিজেদের একদল আরেক দলকে হত্যা করেছে। তাদের তুমি কারণ জিজ্ঞাসা করলে। উভয় দলের লোকেরাই তোমাকে বলল যে, তারা মজলুম। কিন্তু তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে তৃতীয় পক্ষের কোনো প্রমাণ নেই। হয়তো নিজেও তাদের খুনাখুনি দেখলে, কিন্তু যে জালেম আর কে মজলুম সেটা বোঝার কোনো সুযোগ পেলে না। তাদের দুই দলের পরস্পরের বিরুদ্ধে দেওয়া সাক্ষ্যও গ্রহণযোগ্য নয়। এখন তুমি কী করবে? তখন তোমার এটা চিন্তা করতে হবে যে, তাদের দুই দলের উভয়েই সঠিক হতে পারে না। হয়তো দুই দলেরই ভুল আছে। অথবা একদল সঠিক, অন্যদল বেঠিক। এই ক্ষেত্রে তুমি 'ইরজা'র আশ্রয় নেবে। তুমি বলবে, যারা গুনাহ করেছে তারা জাহান্নামিও নয় আবার জান্নাতিও নয়। কারণ, মানুষ তিন ধরনের। এক. নবি-রাসুলগণ এবং তারা জান্নাতি। দুই. নবি-রাসুলগণ যাদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন তারা। এই দুই দলের বিপরীতে মুশরিকদের অবস্থান এবং তারা সকলে জাহান্নামি। তিন. সাধারণ মুমিনগণ, যাদের ব্যাপারে জান্নাত বা জাহান্নাম কোনোটা সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না। তবে আমরা তাদের ব্যাপারে ভালোর প্রত্যাশা করব, মন্দের আশঙ্কা করব। আমরা তাদের ব্যাপারে সেটা বলব যেটা আল্লাহ বলেছেন: ‘আর কোনো কোনো লোক রয়েছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা মিশ্রিত করেছে একটি নেককাজ এবং অন্য একটি বদকাজ। শীঘ্রই আল্লাহ হয়তো তাদের ক্ষমা করে দেবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল করুণাময়।’ [তাওবা : ১০২] সুতরাং আমরা তাদের ব্যাপারে ক্ষমার আশা করব। কারণ, আল্লাহ ওয়াদা দিয়েছেন, তিনি শিরক ব্যতীত বাকি সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।”³⁹⁵
টিকাঃ
৩৯৪. আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম (২২-২৩)।
৩৯৫. প্রাগুক্ত (২৩)।