📄 মুখের স্বীকৃতি যেভাবে বাদ পড়ে যায়
উপরের আলোচনা দ্বারা বাহ্যিকভাবে মনে হয়, ইমাম আজমের কাছে মূল ঈমান হলো অন্তরের সত্যায়ন। মুখের স্বীকৃতি কেবল বাহ্যিক বিচারের জন্য, মানুষকে জানানোর জন্য। ফলে এটা ঈমানের মৌলিক বিষয় (রুকন) নয়। এটাকে এভাবেই বুঝেছেন পরবর্তী যুগের অনেক হানাফি আলেম। তারা বলেছেন, ইমামের মাযহাব হলো— মুখের স্বীকৃতি সর্বাবস্থায় কেবলই বাহ্যিক বিধিবিধান প্রয়োগের জন্য। এটা ঈমানের রুকন নয়, বরং শর্ত। এটুকুতে সীমাবদ্ধ থাকলেও বড় জটিলতা ছিল না। কিন্তু বড় জটিলতা হলো, কেউ কেউ আরও সামনে এগিয়ে একপর্যায়ে স্বীকৃতিকে ঈমানের সংজ্ঞার্থ থেকে খারিজ করে দেন। ঈমানের আলোচনায় মৌখিক স্বীকৃতির বিষয়টি পুরোপুরি গায়েব করে দেন, যা ইমাম আজমের বিশুদ্ধ মত নয়। বরং এটা পরবর্তী সময়ের আশআরি মাযহাবের মত।
ইমাম আবু মনসুর মাতুরিদি (৩৩৩ হি.) ‘আত-তাওহিদ’-এ বলেন, ‘একদল লোক (কাররামিয়্যাহ) দাবি করেছে—ঈমান কেবল মুখের স্বীকৃতি; অন্তরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা নেই। কিন্তু আমরা বলি, ঈমানের মূল পাত্র হলো অন্তর। ... অন্তরে ঈমান থাকা অবস্থায় মুখের কুফরকে আল্লাহ কুফর বলেননি। বোঝা গেল, ঈমানের মূল জায়গা অন্তর। ...কেউ বলতে পারে—হাদিসে যে শাহাদাহ দেওয়া পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার কথা বলা হয়েছে, সেটার ব্যাখ্যা কী? আসলে এর মাধ্যমে এটা বোঝায় না যে, শাহাদাহটাই ঈমান কিংবা ঈমান অন্তরের বিষয় নয়; বরং এটা (শাহাদাহ তথা বাহ্যিক স্বীকৃতি) ঈমানের নির্দেশক ও পরিচায়ক। ফলে পার্থিব বিধিবিধানের ক্ষেত্রে আমাদের এটা গ্রহণ করা ছাড়া উপায় নেই। পৃথিবীর সব কাজেই এমন করতে হয়—বাহ্যিক অবস্থা দেখে ফয়সালা করতে হয়। ভিতরের বাস্তবতা সেটার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এমনটা জরুরি নয়...।’ ইমাম মাতুরিদি তাঁর তাফসিরের বিভিন্ন জায়গাতেও কাছাকাছি, বরং আরও স্পষ্ট মত ব্যক্ত করেছেন। যেমন—তিনি সূরা মায়িদার ৪১ নং আয়াতের তাফসিরে লিখেন, ‘এর দ্বারা বোঝা যায়, মুখের স্বীকৃতি ঈমানের শর্ত নয়; বরং ঈমান হলো অন্তরের সত্যায়ন। মুখ দ্বারা স্রেফ অন্তরের সত্যায়নটা প্রকাশ করা হয়।’ তিনি অন্যত্র লিখেন, ‘ঈমান স্রেফ সত্যায়ন; অন্যকিছু নয়।’ মাইমুন নাসাফি (৫০৮ হি.) বলেন, ‘আবু মনসুর আল-মাতুরিদির কাছে ঈমান হচ্ছে স্রেফ সত্যায়ন (الإيمان مجرد التصديق)।’ তাঁর অনুসরণে আবু সালামাহ সমরকন্দিও লিখেন, ‘ঈমান হলো সত্যায়ন।’
নাসাফি বলেন, ‘ঈমান হলো অন্তরের সত্যায়ন। এটাই আবু মনসুর মাতুরিদির মত। আবু হানিফা থেকেও এটা বর্ণিত।’ নাসাফি তাঁর ‘আত-তামহিদ’-এ লিখেন, ‘ঈমানের শাব্দিক অর্থ সত্যায়ন করা। এই শাব্দিক অর্থ তথা অন্তরের সত্যায়নই ঈমানের হাকিকত। এটুকুই বান্দার উপর ওয়াজিব। সুতরাং কেউ যখন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যা-কিছু নিয়ে এসেছেন সেগুলোকে সত্যায়ন করে, তবে আল্লাহর কাছে সে মুমিন গণ্য হবে। তবে মুখের স্বীকৃতি হচ্ছে মানুষকে জানানোর জন্য, (ব্যক্তির উপর) ইসলামের বিধিবিধান প্রয়োগের জন্য।’ জামালুদ্দিন আহমদ গযনবিও একই কথা লিখেছেন।
নুরুদ্দিন সাবুনি (৫৮০ হি.) লিখেন, ‘আমাদের মুহাক্কিকদের মাযহাব হলো, ঈমান স্রেফ অন্তরের সত্যায়ন। মুখের স্বীকৃতি দুনিয়ার বিধিবিধানের জন্য। ফলে কেউ অন্তরে সত্যায়নের পরে মুখে স্বীকৃতি না দিলেও আল্লাহর কাছে মুমিন গণ্য হবে। ...এটা ইমাম আবু হানিফা এবং আবু মনসুর মাতুরিদির বক্তব্য। ফলে মূল ঈমান হলো অন্তরের সত্যায়ন। মুখের স্বীকৃতি কিংবা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমলের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। হ্যাঁ, যেহেতু অন্তরের সত্যায়ন বাইরের কারও জানার সুযোগ নেই, তাই এর আলামতস্বরূপ কাজ করবে মুখের স্বীকৃতি। দুনিয়ার বিধিবিধান সে আলোকে নির্ধারিত হবে।’
মাহমুদ ইবনে যায়েদ লামিশি (৫২২ হি.) লিখেন, ‘অধিকাংশ আহলে সুন্নাতের কাছে ঈমান হলো মুখের স্বীকৃতি এবং অন্তরের সত্যায়ন দুটোর সমন্বয়। ফলে একদিকে অন্তরের সত্যায়ন করতে হবে, অন্যদিকে ঈমানের বিধান প্রয়োগের জন্য মুখে স্বীকৃতি দিতে হবে। বিপরীতে আবু হানিফা রহ. থেকে বর্ণিত আছে, ঈমান কেবল অন্তরের সত্যায়ন। মুখের স্বীকৃতি রুকন নয়, বরং ঈমানের নির্দেশক। এটা আবুল হাসান আশআরি এবং আবু মনসুর মাতুরিদিসহ একদল মুতাকাল্লিমের বক্তব্য।’
আবু বারাকাত নাসাফি (৭১০ হি.) ‘আল-ইতিমাদ’-এ লিখেন, ‘ঈমান হচ্ছে তাসদিক তথা অন্তরের সত্যায়ন। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসুল (ﷺ) যা-কিছু তাঁর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন সেগুলোকে সত্যায়ন করবে, আল্লাহর কাছে সে মুমিন গণ্য হবে। মুখের স্বীকৃতি ইসলামের বিধিবিধান প্রয়োগের জন্য। এটাই ইমাম আবু হানিফার মত। এটাকেই গ্রহণ করেছেন শায়খ আবু মনসুর আল-মাতুরিদি এবং আশআরির বিশুদ্ধ মতও এটাই।’
আল্লামা বদরুদ্দিন আইনি (৮৫৫ হি.) বলেন, ‘মুখের স্বীকৃতি ঈমানের রুকন নাকি স্রেফ দুনিয়ার বিধিবিধান প্রয়োগের শর্ত, এটা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কারও কারও মতে এটা শর্ত। ফলে যদি কেউ আল্লাহ ও রাসুলকে অন্তরে স্বীকার করে, তবে সে আল্লাহর কাছে মুমিন গণ্য হবে, মুখে স্বীকৃতি না দিলেও চলবে। নাসাফি থেকে বর্ণিত, এটাই ইমাম আবু হানিফা, আশআরি ও মাতুরিদির মত। বিপরীতে কারও কারও মত হলো, মুখের স্বীকৃতি রুকন। হ্যাঁ, অন্তরের সত্যায়নের মতো মূল রুকন নয়, বরং অতিরিক্ত রুকন। এ কারণে বাধ্যবাধকতা বা অক্ষমতার সময় এক্ষেত্রে ছাড় থাকবে। ফখরুল ইসলাম বাযদাবি বলেন, ফকিহদের কাছে এটা (অতিরিক্ত) রুকন। আর মুতাকাল্লিমিনের কাছে এটা দুনিয়ার বিধিবিধান প্রয়োগের শর্ত।’
টিকাঃ
২৪১. আত-তাওহিদ, মাতুরিদি (২৬৮-২৭০)।
২৪২. তাফসিরে মাতুরিদি (তাবিলাতু আহলিস সুন্নাহ) (৩/৫২০)।
২৪৩. তাফসিরে মাতুরিদি (৪/৫৩৩)।
২৪৪. দেখুন: বাহরুল কালাম, নাসাফি (১৫১-১৫২)। তাবসিরাতুল আদিল্লাহ (১/১৫৪)।
২৪৫. দেখুন: জুমাল মিন উসুলিদ্দিন (১৪-১৫)।
২৪৬. তাবসিরাতুল আদিল্লাহ (২/১০৭৭)।
২৪৭. আত-তামহিদ ফি উসুলিদ্দিন (১৪৬-১৪৭)।
২৪৮. দেখুন: উসুলুদ্দিন, গযনবি (২৫২)।
২৪৯. দেখুন: আল-কিফায়াহ, সাবুনি (৩৫৩-৩৫৪)। আল-বিদায়াহ মিনাল কিফায়াহ (১৫২)
২৫০. দেখুন : আত-তামহিদ, লামিশি (১২৬-১২৭)।
২৫১. আল-ইতিমাদ ফিল ইতিকাদ (৩৭০)।
২৫২. উমদাতুল কারি, আইনি (১/১০৩)।
📄 ইমাম আজমের মাযহাব নির্ধারণ
ইমাম আজমের মাযহাব নির্ধারণ: কিন্তু বিষয়টি এত সরল নয়। অর্থাৎ, ইমাম আজম রহ.-এর বক্তব্য দ্বারা—তিনি মুখের স্বীকৃতিকে ঈমানের রুকন মনে করতেন না, স্রেফ বাহ্যিক বিধিবিধান প্রয়োগের শর্ত বলতেন—সেটা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করা যায় না। কারণ, তিনি ঈমানের পরিচয়দানে সর্বত্রই মুখের স্বীকৃতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করেছেন। স্রেফ ‘তাসদিক’ তথা সত্যায়নকে তিনি কোথাও ঈমান বলেননি।
আল-ফিকহুল আকবারের শুরুতেই ইমাম বলেন, ‘তাওহিদ ও আকিদার মূল বিষয় হলো মুখে স্বীকৃতি দেওয়া যে (يجب أن يقول), আমি ঈমান আনলাম আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাগণের উপর, তাঁর কিতাবসমূহের উপর, তাঁর রাসুলগণের উপর, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের উপর, আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত তাকদিরের ভালোমন্দের উপর, পরকালের হিসাব-নিকাশ, মিযান (আমলের দাঁড়িপাল্লা) এবং জান্নাত-জাহান্নামের উপর। আমি বিশ্বাস করি এগুলো সব সত্য।’ এখানে ইমাম ঈমানকে মুখে স্বীকৃতি দিতে বলেছেন, ‘স্রেফ অন্তরে বিশ্বাস করবে’ এমন বলেননি। আল-ফিকহুল আকবারের অন্যত্র আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘ঈমান হলো স্বীকৃতি ও সত্যায়ন (الإقرار والتصديق)।’
সায়েদ নিশাপুরি ওয়াকি ইবনুল জাররাহ থেকে বর্ণনা করেন, আবু হানিফা রহ. বলেছেন, কেবল জানাশোনার (মারিফাত) মাধ্যমে কেউ মুমিন হতে পারবে না, বরং (হৃদয়ের) জানার পাশাপাশি মুখেও স্বীকৃতি দিতে হবে। যখন জানার পাশাপাশি মুখে স্বীকৃতি দেবে, তখনই মুমিন হবে (لا يكون مؤمنا بالمعرفة، حتى يعرف ويقر بلسانه، فإذا عرف وأقر بلسانه فهو مؤمن)।
আল-ফিকহুল আবসাতে আবু মুতি বলখি ঈমান সম্পর্কে জানতে চাইলে ইমাম আজম বলেন, ‘ঈমান হলো—আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই—এ মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া। আর আল্লাহর ফেরেশতা, তাঁর নাযিলকৃত কিতাব, তাঁর প্রেরিত রাসুল, তাঁর জান্নাত, জাহান্নাম, কিয়ামত এবং তাকদিরের ভালোমন্দে সাক্ষ্য দেওয়া। আরও সাক্ষ্য দেওয়া যে, পৃথিবীর কাউকে তার নিজের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি; বরং আল্লাহ তাকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন প্রত্যেককে সেদিকেই যেতে হবে। প্রত্যেকে তাকদিরের অধীন।’
একইভাবে ইমাম নিজস্ব রেওয়ায়াতে হাদিসে জিবরিল বর্ণনা করেন। সেখানে জিবরিলের প্রশ্নের উত্তরে রাসুলুল্লাহ (স) বলেন ঈমান হচ্ছে, ‘আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই আর মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল—এই মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া।’ আর সাক্ষ্য হচ্ছে মুখের স্বীকৃতি। আবু মুতি তা-ই বুঝেছেন। ফলে তিনি ইমামকে বলেন, যদি এগুলো বিশ্বাস করে এবং স্বীকৃতি দেয়, তবে সে মুমিন? ইমাম বলেন, ‘হ্যাঁ। কারণ, যখন এগুলোর স্বীকৃতি দিলো, তখন সে সামগ্রিক ইসলামের স্বীকৃতি দিলো। তাই সে মুমিন (فإذا استيقن بهذا وأقر به فهو مؤمن؟ قال نعم، إذا أقر بهذا فقد أقر بجملة الإسلام وهو مؤمن)।’
আবু মুতি তাকে আরও জিজ্ঞাসা করেন, যদি কেউ শিরকের ভূখণ্ডে বসে ইসলামের সামগ্রিক বিষয়কে স্বীকৃতি দেয়, কিন্তু ফরয বিধিবিধান ও শরিয়ত সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান না থাকে, আল্লাহর কিতাব ও শরিয়তের কোনো-কিছুতে স্বীকৃতি না থাকে, তবে আল্লাহকে স্বীকার করে, তাঁর প্রতি ঈমানকে স্বীকার করে এবং এই অবস্থায় মারা যায়, সে কি মুমিন? ইমাম বললেন, ‘হ্যাঁ। যদি শরিয়ত সম্পর্কে কোনো জ্ঞান না থাকে এবং কোনো আমল না থাকে, কিন্তু ঈমানের স্বীকৃতি থাকে, তবে সে মুমিন।’ এখানে প্রত্যেকটি জায়গাতে ‘মুখের স্বীকৃতি’ (الإقرار) বলা হয়েছে। স্রেফ অন্তরের সত্যায়ন (التصديق) শব্দটা উল্লেখ করাই হয়নি। ফলে ইমাম ঈমান বলতে কেবল অন্তরের সত্যায়নকে বুঝতেন, মুখের স্বীকৃতিকে অতিরিক্ত শর্ত বলতেন—এটা দলিলবিহীন বক্তব্য। শিরকের ভূখণ্ডে তার উপর কে ইসলামের আইন প্রয়োগ করবে? তবুও সেখানে ইমাম ‘স্বীকৃতি’র কথা বলেছেন। বোঝা গেল, এটা কেবল বাহ্যিক বিধান প্রয়োগের শর্ত নয়, বরং ঈমানের মৌলিক অঙ্গ (রুকন)।
ইমাম আজম তাঁর জীবনের সর্বশেষ মুহূর্তে কৃত ওসিয়তও শুরু করেছেন ঈমানের পরিচয় দিয়ে। সেখানেও একই কথা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, ‘ঈমান হলো (الإيمان هو إقرار باللسان وتصديق بالجنان)।’ এখানে দেখুন, ইমাম মুখের স্বীকৃতিকে সত্যায়নের আগে নিয়ে এসেছেন। বরং আল-ওয়াসিয়্যাহতে ইমাম আজম ঈমানের প্রত্যেকটি বিষয় আলোচনার আগে ‘আমরা স্বীকৃতি দিই’ (نقر) শব্দটি ব্যবহার করেছেন। ফলে এটা ঈমানের হাকিকত নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাঁর মাযহাব বোঝার এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। যদি মুখের স্বীকৃতিকে তিনি ঈমানের রুকন মনে না করতেন, তবে ‘আমরা সত্যায়ন করি’ (نصدق) কিংবা ‘বিশ্বাস করি’ (نؤمن) এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করলেই পারতেন। এর পরেও যেসব আলেম ঈমান স্রেফ সত্যায়নের প্রবক্তা, তারা এগুলোকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করেছেন।
টিকাঃ
২৫৩. আল-ফিকহুল আকবার (১)।
২৫৪. প্রাগুক্ত (৬)।
২৫৫. আল-ইতিকাদ (১০২-১০৩)।
২৫৬. আল-ফিকহুল আবসাত (৪২)।
২৫৭. প্রাগুক্ত (৪০-৪১)।
২৫৮. আল-ফিকহুল আবসাত (৪১)।
২৫৯. দেখুন : আল-ফিকহুল আবসাত (৪২)।
২৬০. আল-ওয়াসিয়্যাহ (২৭)।
২৬১. দেখুন: শরহুল ওয়াসিয়্যাহ, বাবিরতি (৫১-৫৩)।
📄 ঈমানের জন্য মুখের স্বীকৃতি আবশ্যক
ঈমানের জন্য মুখের স্বীকৃতি আবশ্যক: মোটকথা, ইমাম আজমের একাধিক গ্রন্থের অগণিত বক্তব্য দ্বারা প্রমাণিত যে, তাঁর কাছে ঈমান মানে অন্তরের সত্যায়ন এবং মুখের স্বীকৃতি দুটোই। বরং মুখের স্বীকৃতির অধিক গুরুত্ব বোঝাতে তিনি এটাকে সর্বত্র অন্তরের সত্যায়নের আগে উল্লেখ করেছেন। প্রশ্ন আসতে পারে, তাহলে এই আলোচনার শুরুর দিকে উদ্ধৃত ইমামের বক্তব্য— ‘ঈমান হৃদয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে কোনো ব্যক্তি যদি মুখে ঈমান আনে কিন্তু হৃদয়ে ঈমান না আনে, তবে সে আল্লাহর কাছে মুমিন হিসেবে গণ্য হবে না। বিপরীতে যে ব্যক্তি হৃদয়ে বিশ্বাস করে কিন্তু মুখে সেটা প্রকাশ না করে, আল্লাহর কাছে সে মুমিন বলে গণ্য হবে।’-এর ব্যাখ্যা কী? এর দ্বারা তো স্পষ্টভাবে বোঝা যায় মুখের স্বীকৃতি মূল ঈমানের জন্য নিষ্প্রয়োজন।
আমরা বলব—হ্যাঁ, এখানকার বক্তব্য দ্বারা তা-ই বোঝা যায়। কিন্তু এই একটা বক্তব্য দ্বারাই ‘ইমাম মৌখিক স্বীকৃতিকে ঈমানের রুকন মনে করতেন না।’—এ ধরনের দাবি করা যায় না। কারণ, অন্যান্য বক্তব্য দেখলে বুঝে আসবে, এটা স্বাভাবিক অবস্থায় নয়। বরং তিনি ‘আমল’ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয় সেটা বোঝাতে গিয়ে বলেছেন যে, মুখে স্বীকৃতি দেওয়া ছাড়াও মুমিন হওয়ার পথ রয়েছে। অর্থাৎ, যেভাবে আমল ছাড়া ঈমান সংঘটিত হয়, একইভাবে স্বীকৃতি দেওয়া ছাড়াও ঈমান সংঘটিত হবে। কিন্তু সেটা সর্বাবস্থায় নয়, বরং বিশেষ প্রয়োজন-সাপেক্ষে—স্বীকৃতির পথে প্রতিবন্ধকতা থাকা অবস্থাতে। যেমন—কেউ স্বীকৃতি দেওয়ার আগেই মারা গেল। অথবা অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য ওজরের কারণে মুখে স্বীকৃতি দিতে পারল না। তার জন্য কেবল অন্তরের সত্যায়ন দ্বারা ই ঈমান সংঘটিত হয়ে যাবে। মানুষের কাছে কাফের থাকলেও আল্লাহর কাছে মুমিন গণ্য হবে। কারণ, তিনি অন্তর্যামী। এক্ষেত্রে আহলে সুন্নাতের কারও দ্বিমত নেই।
কিন্তু সুযোগ ও সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মুখের স্বীকৃতি পরিত্যাগ করলে সংখ্যাগরিষ্ঠ সকল ইমামের মতো ইমাম আজমের মতেও আল্লাহর কাছেও মুমিন গণ্য হবে না। কারণ, সে ঈমানের রুকন ভঙ্গ করেছে। আমাদের দাবির দলিল খোদ ইমামের বক্তব্য। তিনি বলেন (আবু ইউসুফের বর্ণনা অনুযায়ী) : (وَإِنْ عُرِفَ الله وصدق به، ومات قبل أن يقر بلسانه مع إمكانه فهو كافر، لأن الله تعالى جعل الإيمان في كتابه بجارحة القلب واللسان) অর্থাৎ, ‘এটা হলো তাদের ক্ষেত্রে যাদের মুখে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব না হয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তির পক্ষে মুখে স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব হওয়ার পরও যদি মুখে স্বীকৃতি না দেয়, তবে তার অন্তরের ঈমান গ্রহণযোগ্য হবে না এবং সে মৃত্যুবরণ করলে কাফের হিসেবে মৃত্যুবরণ করবে। কেননা, ঈমান অন্তরের বিশ্বাস এবং মুখের স্বীকারোক্তি দুটোই। ইমাম এক্ষেত্রে কিছু দলিল পেশ করে বলেন,
‘তোমরা বলো, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তদীয় বংশধরের প্রতি এবং মুসা, ঈসা, অন্যান্য নবিকে পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা দান করা হয়েছে সবকিছুর উপর। আমরা তাদের মাঝে ভেদাভেদ করি না। আমরা তাঁরই কাছে আত্মসমর্পণকারী। অতএব, তারা যদি ঈমান আনে তোমাদের ঈমান আনার মতো, তবে তারা সুপথ পাবে।’ [বাকারা : ১৩৬-১৩৭] আরও বলেন, ﴾وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ Тَقْوَى﴿ অর্থ : ‘তাদের উপর তাকওয়ার কালিমা (মুখের স্বীকৃতি) অপরিহার্য করে দিলেন।’ [ফাতাহ : ২৬]
আরও বলেন, ﴾ وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوًّا ﴿ অর্থ : ‘তারা অন্যায় ও অহংকারবশত (আমার) নিদর্শনাবলিকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে চিনেছিল।’ [নামল : ১৪]
অন্যত্র বলেন, ‘আমি যাদের কিতাব দান করেছি, তারা তাকে চেনে যেমন চেনে নিজেদের সন্তানকে।’ [বাকারা : ১৪৬] অন্তরের বিশ্বাস ও চেনা সত্ত্বেও আল্লাহ তায়ালা তাদের মুমিন বলেননি (কারণ, তারা সত্যায়ন ও স্বীকৃতি দেয়নি)। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘তোমরা বলো, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তাহলে সফলকাম হবে।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি বলবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।’ ফলে কেবল জানলেই হবে না, মুখে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।
উল্লিখিত কুরআনের আয়াত ও হাদিসগুলোতে সুস্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ঈমানকে মুখেও ‘স্বীকৃতি দিতে’ বলা হচ্ছে। বোঝা গেল, মুখের স্বীকৃতি স্রেফ বাহ্যিক বিধিবিধানের জন্য শর্ত নয়, বরং এটা ঈমানের রুকন। আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্যও অন্তরের সত্যায়নের পাশাপাশি মুখের স্বীকৃতি প্রয়োজন। কারণ, তিনি নিজেই এটাকে প্রয়োজনীয় বলে ঘোষণা করেছেন। হ্যাঁ, কেউ বিশেষ পরিস্থিতিতে মুখে স্বীকৃতি না দিতে পারলে তখন অন্তরের ঈমান আল্লাহর কাছে মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে, ইনশাআল্লাহ, যেমনটা আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘কেউ ঈমান আনার পরে আল্লাহকে অস্বীকার করলে এবং কুফরের জন্য হৃদয় উন্মুক্ত করলে তার উপর আল্লাহর ক্রোধ আপতিত হবে এবং তার জন্য আছে মহা শাস্তি। তবে তার জন্য নয়, যাকে কুফর করতে বাধ্য করা হয় এবং তার চিত্ত ঈমানে অবিচল থাকে।’ [নাহল : ১০৬] কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া স্বীকৃতি ছেড়ে দিলে ঈমান গ্রহণযোগ্য হবে না। ফলে মুখের স্বীকৃতি ইমাম আজমের কাছে ঈমানের রুকন; কিন্তু অবস্থার প্রেক্ষিতে কখনো কখনো তাতে ‘রুখসত’ (ছাড়) দেওয়ার সুযোগ আছে।
ফলে ইমামের মাযহাব স্পষ্ট। বিশেষ প্রয়োজনে মুখের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় মুখের স্বীকৃতি রুকন গণ্য হবে এবং মুখের স্বীকৃতি ছাড়া আল্লাহর কাছেও ঈমান গ্রহণযোগ্য হবে না। জাহম ইবনে সাফওয়ানের সঙ্গে ইমামের আলোচনার মাঝেও এটার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। পিছনে আমরা সবিস্তারে এটা উল্লেখ করেছি। সেখানে দেখেছি, জাহম ইমামকে জিজ্ঞাসা করেন, মুখের স্বীকৃতি ছাড়া কেবল অন্তরের জানাশোনা (মারিফাত) দ্বারা কেউ মুমিন হবে কি না? ইমাম তার জবাবে বলেন, ‘যদি অন্তরের জানা মুখে স্বীকার না করে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে কাফের।’ জাহম প্রশ্ন করেন, আল্লাহর সকল সিফাত জানার পরেও মুমিন হবে না কীভাবে? ইমাম আজম তখন তার সামনে কুরআন ও সুন্নাহর একাধিক দলিল উপস্থাপন করেন, যেখানে মুখের স্বীকৃতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইমাম বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ঈমানকে হৃদয় ও মুখ দুটোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর তারা রাসুলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যখন শোনে, তখন আপনি তাদের চোখ অশ্রুসিক্ত দেখতে পাবেন। এ কারণে যে, তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা মুসলমান হয়ে গেলাম। অতএব, আমাদেরও সাক্ষ্যদাতাদের তালিকাভুক্ত করে নিন। আল্লাহ এবং আমাদের কাছে আগত সত্যে আমাদের ঈমান না আনার কী কারণ থাকতে পারে যখন আমরা প্রত্যাশা করি, আল্লাহ আমাদেরকে সৎকর্মপরায়ণদের তালিকাভুক্ত করুন? সুতরাং তাদের এ কথার কারণে আল্লাহ তাদের এমন সব উদ্যান দান করবেন যার তলদেশে নহর প্রবহমান থাকবে। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। এটাই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।’ [মায়িদা : ৮৩-৮৫] ফলে জান্নাতে যাওয়ার জন্য অন্তরের জানা এবং মুখের স্বীকৃতি দুটোই জরুরি। আল্লাহ তায়ালা
‘তোমরা বলে দাও যে, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং সেই বাণীর প্রতি যা আমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে আর যা ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাদের সন্তানের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যা দেওয়া হয়েছিল মুসা ও ঈসাকে, যা অন্যান্য নবিকে তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। আমরা নবিগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আমরা তাঁরই অনুগত। অতএব, তারা যদি ঈমান আনে যেভাবে তোমরা ঈমান এনেছ, তবে তারা সুপথ পাবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা হঠকারিতায় রয়েছে। সুতরাং এখন তাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।’ [বাকারা : ১৩৬-১৩৭]
ইমাম আরও বলেন—আল্লাহর রাসুল (ﷺ) বলেন, ‘তোমরা বলো লা ইলাহা ইলাল্লাহ, তাহলে সফলতা লাভ করবে।’ ফলে মুখের স্বীকৃতি ছাড়া কেবল অন্তরে জানলে কেউ মমিন হবে না। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “জাহান্নাম থেকে সে ব্যক্তি বের হয়ে আসবে যে বলত ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, আর যার অন্তরে দানাপরিমাণ ঈমান থাকবে।” রাসুলুল্লাহ (স) এটা বলেননি যে, আল্লাহকে চিনত; বরং ঈমান যদি স্বীকৃতির পরিবর্তে কেবল জানার নামই হতো, তবে ঈমান প্রত্যাখ্যানকারী প্রত্যেককে মুমিন বলা হতো। এই যুক্তিতে ইবলিসও মুমিন হতো। কেননা, সে আল্লাহকে চেনে ও জানে। তাকে স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবন ও মৃত্যুদাতা হিসেবে চেনে। ...বরং এতে সকল কাফের মুখে অস্বীকার করা সত্ত্বেও
‘তারা অন্যায় ও অহংকার করে নিদর্শনাবলিকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে নিশ্চিত জেনেছিল।’ [নামল : ১৪] এখানে তাদের অন্তরের নিশ্চিত জানা (ইয়াকিন) সত্ত্বেও তাদের মুমিন বলা হয়নি। কারণ, তারা মুখে অস্বীকার করেছে। আল্লাহ আরও বলেন, ‘তারা আল্লাহর নেয়ামত চেনার পরও অস্বীকার করে। তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ।’ [নাহল : ৮৩] আল্লাহ আরও বলেন, “আপনি জিজ্ঞাসা করুন, কে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে জীবনোপকরণ সরবরাহ করেন? শোনা ও দেখা কার কর্তৃত্বাধীন? জীবিতকে মৃত থেকে কে বের করেন, আর মৃতকে জীবিত থেকে কে বের করেন? এবং সকল বিষয় কে নিয়ন্ত্রণ করেন? তখন তারা বলবে, ‘আল্লাহ’। বলো, তবুও কি তোমরা (তাকে) ভয় পাবে না?” [ইউনুস : ৩১] এখানেও দেখো, কেবল অন্তরের জানাশোনা কোনো কাজে আসেনি। মুখে অস্বীকার করার কারণে অন্তরে নবিজিকে নিজেদের সন্তানের মতো চিনেও তারা মুমিন হতে পারেনি।
এটা কেবল ইমাম আজমের নয়, জমহুর আহলে সুন্নাতের ইমামদের বক্তব্যও এক ও অভিন্ন। ইমাম বুখারি বলেন, ‘আমি হিজায, মক্কা, মদিনা, কুফা, ওয়াসেত, ইরাক, বাগদাদ, শাম ও মিশরের হাজারের অধিক আলেমের সাক্ষাৎ পেয়েছি। তাদের কয়েকজন হলেন মক্কি ইবনে ইবরাহিম, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া, কুতাইবা ইবনে সাইদ, শিহাব ইবনে মা'মার, মুহাম্মাদ আল-ফিরয়াবি, ইয়াহইয়া ইবনে কাসির, আবু সালেহ, নুআইম ইবনে হাম্মাদ, হুমাইদি, মুতাররিফ ইবনে আবদুল্লাহ, ইবরাহিম ইবনুল মুনযির, যাহহাক ইবনে মাখলাদ, হিশাম ইবনে আবদুল মালিক, আহমদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, আবু উবাইদ কাসেম ইবনে সাল্লাম, ইসহাক ইবনে ইবরাহিম হানযালি... (আরও অনেক নাম উল্লেখ করে বলেন), তাদের কাউকে এই বিষয়ে আমি মতভেদ করতে দেখিনি যে, দ্বীন (তথা ঈমান) হলো মুখের স্বীকারোক্তি ও আমল (অন্তরের সত্যায়ন এবং বাহ্যিক আমল) (الدين قول وعمل)।
টিকাঃ
২৬২. আল-উসুলুল মুনিফাহ (৩১-৩২)।
২৬৩. দেখুন: মানাকিব, মক্কি (১২৪-১২৬)। মানাকিব, বাযযাযি (২০১-২০২)।
📄 মুহাক্কিক হানাফি ইমামগণের মতামত
মুহাক্কিক হানাফি ইমামগণের মতামত: প্রথম যুগের হানাফি ইমামদের মতামতও জমহুর আহলে সুন্নাত এবং ইমাম আজমের মতামতের মতোই। বিষয়টির গুরুত্বের প্রতি লক্ষ রেখে এ সম্পর্কে হানাফি মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিছু ইমামের বক্তব্য আমরা নিচে তুলে ধরছি :
* ইবরাহিম ইবনে তাহমান (১৬৩ হি.) বলেন, ‘ঈমান হলো গোপনে ও প্রকাশ্যে সত্যায়ন করা।’ উল্লেখ্য, প্রকাশ্যে সত্যায়ন হলো স্বীকৃতি। ইমামের শাগরেদ হাফস ইবনে আবদুর রহমান (১৯৯ হি.) বলেন, ‘আমাদের কাছে ঈমান হলো স্বীকৃতি ও সত্যায়ন।’ ইমাম মুহাম্মাদ রহ.-এর ছাত্র মুহাম্মাদ ইবনে মুকাতিল আর-রাযি (২৪৮ হি.) বলেন, ‘ঈমান হলো স্বীকৃতি ও সত্যায়ন।’ ইমাম মাতুরিদির শায়খ নুসাইর ইবনে ইয়াহইয়া বলখি (২৬৮ হি.) বলেন, ‘ঈমান হলো অন্তরে স্বীকৃতি দেওয়া, মুখে সেটার সত্যায়ন করা’ (اقرار بالقلب وتصديق باللسان)। ইমাম আজমের শাগরেদ হাফস ইবনে আবদুর রহমানের ছাত্র আহমদ ইবনে হরব (২৩৪ হি.) বলেন, ‘ঈমান হলো সত্যায়ন ও স্বীকৃতি। ঈমানের হ্রাসবৃদ্ধি নেই। আমল হচ্ছে শরিয়ত।’ হাফস ইবনে আবদুর রহমানের আরেক ছাত্র আইয়ুব নিশাপুরি (২৫১ হি.) বলেন, ‘আমাদের কাছে ঈমান হলো মুখের স্বীকৃতি, অন্তরের সত্যায়ন। আমল হচ্ছে শরিয়ত। ঈমানের হ্রাসবৃদ্ধি নেই; আমলের হ্রাসবৃদ্ধি আছে।’ এখানে দেখা যাচ্ছে স্বয়ং ইমাম আজম, তাঁর সরাসরি শাগরেদগণ, তাঁর শাগরেদগণের শাগরেদ সকলের মতে, ঈমান হলো মুখের স্বীকৃতি, অন্তরের সত্যায়ন। প্রথম যুগের কেউ এ ব্যাপারে দ্বিমত করেননি।
* অতঃপর এলেন আহলে সুন্নাতের আকিদার ইমাম আবু জাফর তহাবি। ঈমানের পরিচয়ে তিনি বলেন, ‘ঈমান হলো: মুখে স্বীকার করা, অন্তরে সত্যায়ন (الإيمان هو الإقرار باللسান والتصديق بالجنان)।’ এখানে ইমাম তহাবি মুখের স্বীকারোক্তিকে বরং অন্তরের সত্যায়নের আগে এনেছেন। এর মাধ্যমে তিনি যেন ঈমানকে স্রেফ ‘সত্যায়ন’ মনে করার ধারণার খণ্ডন করলেন আর ইমাম আজম এবং তাঁর শীর্ষ দুই শাগরেদ আবু ইউসুফ ও মুহাম্মাদের আকিদা যে ঈমান দুটোর সমন্বয়ে সেটা প্রমাণ করলেন।
* আবু হাফস বুখারি লিখেন, ‘আহলে সুন্নাতের বৈশিষ্ট্য হলো এই আকিদা রাখা যে, ঈমান দুটো অঙ্গের মাধ্যমে সংঘটিত হয় : এক. অন্তর (সত্যায়ন), দুই মুখ (স্বীকৃতি)। সুতরাং কেউ অন্তরে আল্লাহকে জানা সত্ত্বেও যদি মুখে স্বীকৃতি না দেয়, তবে সে কাফের। আবার কেউ মুখে স্বীকৃতি দেওয়া সত্ত্বেও যদি অন্তরে বিশ্বাস না করে, তবে সে মুনাফিক। হ্যাঁ, যদি কোনো ওজরের কারণে মুখে স্বীকৃতি দিতে না পারে, সেটা ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু ওজর ছাড়া স্বীকৃতি না দিলে সে আল্লাহর কাছেও কাফের গণ্য হবে।’ এটা কেবল আবু হাফস নয়, আহলে সমরকন্দের বিপরীতে বুখারার সকল মাশায়েখের মত।
* আবুল লাইস সমরকন্দি (৩৭৫ হি.) বলেন, ‘ঈমান হলো মুখের স্বীকারোক্তি এবং অন্তরের সত্যায়ন। সুতরাং কেউ যখন অন্তর দিয়ে সত্যায়ন করবে এবং মুখে স্বীকার করবে, সে মুমিন গণ্য হবে। কিন্তু কেউ যদি অন্তরে সত্যায়ন করে, কিন্তু সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও মুখে স্বীকার না করে, তবে সে মুমিন গণ্য হবে না (وإذا صدقه بقلبه ولم يقر بلسانه وهو في الإمكان من الإقرار فإنه لا يصير مؤمنا)। একইভাবে কেউ যদি মুখে স্বীকার করে কিন্তু অন্তরে সত্যায়ন না করে, তবে সেও মুমিন গণ্য হবে না।’
* মুহাম্মাদ ইবনুল ফযল বলখি (৪১৯ হি.) বলেন, ‘ঈমান হলো মুখে স্বীকৃতি দেওয়া, অন্তরে সত্যায়ন করা—আল্লাহ তায়ালা এক। তাঁর কোনো শরিক নেই। তাঁর সকল সিফাত মেনে নেওয়া। আল্লাহ, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, নবি-রাসুল, পরকাল, পুনরুত্থান, তাকদিরের ভালোমন্দ, জান্নাত-জাহান্নাম এবং আল্লাহর সকল বিধানের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা।’ বলখি আরও লিখেন, ‘ঈমান দুটো অঙ্গের ভিত্তিতে সংঘটিত হয়: এক. অন্তর, দুই. মুখ... ফলে যে ব্যক্তি বলবে ঈমান মুখের নয়, স্রেফ অন্তরের বিষয়, সে খবিস জাহমি’ (ومن قال بأن الإيمان بالقلب دون اللسان فهو جهمي خبيث)।
* আবু শাকুর সালেমি (৪৬০ হি.) বলেন, (ঈমানের সংজ্ঞার্থের ক্ষেত্রে) ‘সবচেয়ে বিশুদ্ধ কথা হলো—মুখের স্বীকৃতি এবং অন্তরের সত্যায়ন ঈমানের রুকন। এটা ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর বক্তব্য’ (والأصح أن نقول إن ركن الإيمان الإقرار باللسان والتصديق بالقلب وهو قول أبي حنيفة)।
* শামসুল আয়িম্মাহ সারাখসি (৪৮৩ হি.) বলেন, ‘ঈমানের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো অন্তরের সত্যায়ন। এটা কোনো অবস্থাতেই ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এমনকি ঈমান ছাড়তে কেউ বাধ্য করলেও অন্তরের সত্যায়ন পরিত্যাগ করা যাবে না (কারণ, অন্তরের সত্যায়ন পরিত্যাগে কাউকে বাধ্য করা যায় না)। সুতরাং এমন অবস্থাতেও যদি কেউ অন্তরের সত্যায়ন পরিত্যাগ করে, তবে সে কাফের হয়ে যাবে। অন্তরের সত্যায়নের সঙ্গে মুখের স্বীকৃতিও ঈমানের একটি রুকন। (والإقرار باللسان ركن فيه مع التصديق بالقلب في أحكام الدنيا والآخرة جميعا) অর্থাৎ, অন্তরের সত্যায়ন সত্ত্বেও যদি মুখের স্বীকৃতি পরিত্যাগ করা হয়, তবে মানুষের দৃষ্টিতে যেমন কাফের হবে, আল্লাহর কাছেও কাফের গণ্য হবে।’
* ফখরুল ইসলাম বাযদাবি (৪৮২ হি.) একই কথা লিখেছেন, ‘ঈমানের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় রয়েছে : এক. অন্তরের সত্যায়ন। এটা কখনোই ছাড়ার সুযোগ নেই। সুতরাং অন্তরের সত্যায়ন না থাকলে কুফর অনিবার্য। দুই. মুখের স্বীকৃতি। এটা সংযুক্ত রুকন। ওজরের কারণে এক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। ফলে কেউ যদি বাধ্য হয়ে মুখের স্বীকৃতি না দেয়, তবে সেটা কুফর হবে না। কেননা, মুখ সত্যায়নের কেন্দ্র নয়। তবে বাধ্য হওয়া ছাড়া মুখের স্বীকৃতি পরিত্যাগ অন্তরের সত্যায়নের অনুপস্থিতি বোঝায়। সুতরাং প্রথমটার পরে এটাও রুকন হিসেবে সাব্যস্ত হবে। তাই যে ব্যক্তি অন্তরে সত্যায়ন করবে কিন্তু কোনো ওজর ব্যতীত মুখের স্বীকৃতি (فمن صدق بقلبه وترك البيان من غير عذر لم يكن مؤمنا) বর্জন করবে, সে মুমিন হবে না। হ্যাঁ, কেউ যদি মুখের স্বীকৃতি দেওয়ার সময় না পায় কিন্তু অন্তরে সত্যায়ন থাকে, তবে সে মুমিন গণ্য হবে।’
* সদরুল ইসলাম বাযদাবি (৪৯৩ হি.) একই কথা লিখেছেন। তাঁর কথা সারমর্ম হলো : ‘ঈমানের শাব্দিক অর্থ সত্যায়ন। কিন্তু শরিয়তে ঈমান বলতে অন্তরের সত্যায়ন এবং মুখের সত্যায়ন দুটোই বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ﴾ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ ﴿ অর্থ : ‘তাঁর মতো কিছু নেই। তিনি সবকিছু শোনেন ও দেখেন।’ [শুরা : ১১] সুতরাং আমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব এবং তাঁর সকল গুণে বিশ্বাস করি। আমরা নবিদেরকে তাঁদের নবুওতের ক্ষেত্রে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যা-কিছু নিয়ে এসেছেন, সেগুলোতে সত্যায়ন করি। ইসলামের সকল রুকনে বিশ্বাস রাখি। এ সবকিছু (মুখে) স্বীকার করি। ফলে ঈমানের অর্থ দাঁড়ায়: মুখের স্বীকৃতি এবং অন্তরের সত্যায়ন।’ তিনি অন্যত্র বলেন, ‘আহলে সুন্নাতের কাছে ঈমান অন্তরের সত্যায়ন এবং মুখের স্বীকৃতি৷ দুটোর প্রত্যেকটিই ভিত্তি (রুকন)। হ্যাঁ, যদি কোনো অক্ষমতা থাকে, যেমন বোবা থাকে কিংবা মুখে কুফরের উপর বাধ্য করা হয়, তবুও মুমিন থাকবে।’
* আবু ইসহাক সাফফার (৫৩৪ হি.) ঈমানের হাকিকতের ক্ষেত্রে ইমাম রহ.-এর বিশুদ্ধ মাযহাব অত্যন্ত জোরালোভাবে এবং একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি ঈমানকে কেবল ‘সত্যায়ন’ বলা আশআরিদের মাযহাব হিসেবে নির্ধারণ করেছেন এবং সেটার খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঈমান আনার জন্য অন্তরের সত্যায়ন এবং মুখের স্বীকৃতি জরুরি। এটা ইমাম আবু হানিফার বক্তব্য। ইমাম আবু আবদুল্লাহ এবং মুহাম্মাদ ইবনুল হাসানের বর্ণনাতেও আবু হানিফা থেকে এটা প্রমাণিত। জাহম ইবনে সাফওয়ানের বিরুদ্ধে ইমাম আজমের মুনাযারা থেকেও এটা প্রমাণিত। আমি আমার দাদা আবু নসর সাফফারের লেখা দেখেছি: ‘আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, সালাফের ফুকাহা সকলের মাযহাব ছিল-ঈমান অন্তরের সত্যায়ন এবং মুখের স্বীকৃতি।’ অতঃপর লেখক এ ব্যাপারে কুরআন থেকে বিস্তারিত দলিল-প্রমাণ উল্লেখ করেন।
* আবু হাফস উমর নাসাফি (৫৩৭ হি.) তাঁর বিখ্যাত আকায়েদ গ্রন্থেও ঈমানের সংজ্ঞায় অন্তরের সত্যায়ন এবং মুখের স্বীকৃতি দুটোই উল্লেখ করেছেন।
* আল্লামা কাসানি (৫৮৭ হি.) লিখেন, ‘অন্তরের সত্যায়ন ঈমানের মৌলিক শর্ত। ফলে এটা ছাড়া কেউ মুখে স্বীকৃতি দিলে মুমিন হবে না। কিন্তু মুখের স্বীকৃতি রুকন কি না এ ব্যাপারে আলেমগণ মতবিরোধ করেছেন। অধিকাংশ মাশায়েখের কাছে (অন্তরের সত্যায়নের মতো) এটাও রুকন। কেউ কেউ এটাকে রুকন হিসেবে মানেননি। ... যথা-ইমাম মাতুরিদি এবং একদল মুতাকাল্লিম।’
* আবুল মুনতাহা মাগনিসাভি (১০০০ হি) লিখেন, ‘মুখের স্বীকৃতি ঈমানের রুকন। কারণ ঈমানের মূল কথা হলো স্বীকৃতি ও সত্যায়ন দু'টোই’ (الإقرار ركن في الإيمان، لأن أصل الإيمان الإقرار والتصديق)।
* মোল্লা আলি কারি (১০১৪ হি.) লিখেছেন, ‘ঈমান হলো অন্তরের সত্যায়ন এবং মুখের স্বীকৃতি। তবে এক্ষেত্রে তাসদিক তথা সত্যায়নটা হলো মূল রুকন—কখনো ছেড়ে দেওয়া যাবে না। বিপরীতে স্বীকৃতি হলো শর্ত অথবা সংযুক্ত রুকন—বাধ্যবাধকতা কিংবা ওজর থাকলে ছেড়ে দেওয়া যায়। ফলে যদি ওজর ছাড়া স্বীকৃতি না দেয়, তবে কাফের হয়ে যাবে। আর যদি ওজর থাকে, তবে কাফের হবে না। ...শামসুল আয়িম্মাহ সারাখসি সকল ক্ষেত্রে স্বীকৃতিকে ঈমানের রুকন বলেন। বিপরীতে আবদুল্লাহ নাসাফি স্বীকৃতিকে স্রেফ দুনিয়ার বিধিবিধান প্রয়োগের শর্ত বলেন। এটা আশআরিদের কাছে গ্রহণযোগ্য বক্তব্য। আবু মনসুর মাতুরিদির মতও এটাই।’
* মোল্লা হুসাইন ইবনে ইস্কান্দার হানাফি (১০৮৪ হি.) লিখেন, ‘ঈমানের শাব্দিক অর্থ সত্যায়ন। আর শরিয়তের পরিভাষায় ঈমান হলো, মুখে আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি দেওয়া এবং অন্তরে সেটা সত্যায়ন করা’। (الإيمان شرعا إقرار باللسان وتصديق بالقلب بوحدانية الله)
* আবু সাইদ খাদেমি (১১৭৬ হি.) লিখেন, ‘ঈমান সত্যায়ন ও স্বীকৃতির সমন্বয়। এটাই ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর মাযহাব।’
* বরং নাসাফি যিনি তাঁর ‘তামহিদ’ ও ‘তাবসিরাহ’-তে ঈমানকে স্রেফ অন্তরের সত্যায়নের কথা বলেছেন, তিনিই ‘বাহরুল কালাম’-এ ভিন্ন আলোচনা করেছেন আর সেটাই অধিকতর নির্ভরযোগ্য এবং তাঁর সর্বশেষ সিদ্ধান্তের দলিল। তিনি লিখেন, ‘অধিকাংশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের কাছে ঈমান হলো (الإيمان هو الإقرار باللسান والتصديق بالقلب عند أكثر أهل السنة والجماعة)। শাফেয়ি রহ.-এর কাছে ঈমান হলো মুখের স্বীকৃতি, অন্তরের সত্যায়ন এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমল। কাররামিয়্যাহদের মতে, ঈমান হলো স্রেফ স্বীকৃতি; অন্তরের সত্যায়ন নয়। আবু মনসুর মাতুরিদির কাছে ঈমান হলো স্রেফ সত্যায়ন (مجرد التصديق)।’
টিকাঃ
২৬৪. উসুল ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ, লালাকায়ি (১/১৯৩)।
২৬৫. আল-ইতিকাদ, নিশাপুরি (১০৬-১০৮)।
২৬৬. আকিদাহ তহাবিয়্যাহ (২১)।
২৬৭. আস-সাওয়াদুল আজম (৫,৭, ৩৮-৩৯)।
২৬৮. দেখুন: শরহুল ফিকহিল আকবার (আবসাত), সমরকন্দি (১৪-১৫)।
২৬৯. আল-ইতিকাদ, বলখি (৯৮)।
২৭০. আত-তামহিদ, সালেমি (১০২)।
২৭১. উসুলুস সারাখসি (২/২৯০)।
২৭২. উসুলুল বাযদাবি (৩৪)।
২৭৩. উসুলুদ্দিন, বাযদাবি (১৪৮)।
২৭৪. প্রাগুক্ত (১৫১)।
২৭৫. তালখিসুল আদিল্লাহ (৭০০-৭০২)।
২৭৬. দেখুন : শরহুল আকায়েদ (২৯১)।
২৭৭. আল মুতামাদ ফিল মুতাকাদ, (১২)।
২৭৮. শরহুল ফিকহিল আকবার, মাগনিসাভি (১০৪)।
২৭৯. শরহুল ফিকহিল আকবার, আলি কারি (৮৫-৮৬)।
২৮০. আল-জাওহারাতুল মুনিফাহ ফি শরহি ওয়াসিয়্যাতিল ইমাম আবি হানিফা, হুসাইন ইবনে ইস্কান্দার হানাফি (৫২)।
২৮১. শরহুল ওয়াসিয়্যাহ (১৫৬)।
২৮২. বাহরুল কালাম, নাসাফি (৫৮, ৬৫, ১৫১-১৫২)।