📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 ঈমানের সংজ্ঞার্থ ও পরিচয়

📄 ঈমানের সংজ্ঞার্থ ও পরিচয়


ঈমান শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো বিশ্বাস করা, সত্যায়ন করা। ইমাম আজম রহ. বলেন, ‘ঈমান হলো মুখের স্বীকৃতি, অন্তরের সত্যায়ন এবং হৃদয় দ্বারা চেনা।’ পরিভাষায় ঈমান হলো, আল্লাহর একত্ববাদ এবং নবি-রাসুলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে যা-কিছু নিয়ে এসেছেন, সেগুলোকে দৃঢ়ভাবে জানা, সত্যায়ন করা, স্বীকৃতি দেওয়া এবং সেগুলোর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা। ইমাম আজম বিভিন্ন গ্রন্থে ঈমানের সংজ্ঞার্থ দিয়েছেন। ‘আল-ফিকহুল আকবারে’ এসেছে—‘ঈমান হলো এই মৌখিক স্বীকারোক্তি দেওয়া : آمنت بالله وملائكته وكتبه ورسله، والبعث بعد الموت، والقدر خيره وشره من الله تعالى، والحساب والميزان والجنة والنار، وذلك كله حق অর্থাৎ, ‘আমি ঈমান আনলাম আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাগণের উপর, তাঁর কিতাবসমূহের উপর, তাঁর রাসুলগণের উপর, মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের উপর, আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত তাকদিরের ভালোমন্দের উপর, পরকালের হিসাব-নিকাশ, মিযান (দাঁড়িপাল্লা) এবং জান্নাত-জাহান্নামের উপর। আমি বিশ্বাস করি, এগুলো সব সত্য। ’ আল-ফিকহুল আবসাতে এসেছে, ঈমান হলো, ‘আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই—এ মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া। আর আল্লাহর ফেরেশতা, তাঁর নাযিলকৃত কিতাব, তাঁর প্রেরিত রাসুল, তাঁর জান্নাত, জাহান্নাম, কিয়ামত এবং তাকদিরের ভালোমন্দে সাক্ষ্য দেওয়া। আরও সাক্ষ্য দেওয়া যে, পৃথিবীর কাউকে তার নিজের উপর ছেড়ে দেওয়া হয়নি, বরং আল্লাহ তাকে যে উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন, প্রত্যেককে সেদিকেই যেতে হবে। প্রত্যেকে তাকদিরের অধীন।’

ইমাম তহাবি রহ. বলেন, ‘ঈমান হলো মুখে স্বীকার করা, অন্তরে সত্যায়ন করা। পরিভাষায় ঈমান বলা হয়—আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, রাসুল, আখেরাত এবং তাকদিরের ভালোমন্দে বিশ্বাস করা।’

ঈমানের এই সংজ্ঞায়ন ও রুকনগুলো কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। কারও ব্যক্তিগত ইজতিহাদ ও জ্ঞান-গবেষণার ফলাফল নয়। কারণ, ঈমান হলো সবকিছুর মূল ভিত্তি। ইসলামের ছোট ছোট ইবাদতের কথাও আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসুলের পক্ষ থেকে বলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে ঈমানের কথা বলা হবে না—এটা অসম্ভব। এ কারণে কুরআন-সুন্নাহতে ঈমানের রুকনগুলো সম্পর্কে বিস্তৃত বক্তব্য বিদ্যমান।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘কেবল পূর্ব এবং পশ্চিম দিকে মুখ ফেরানো পুণ্যের কাজ নয়; বরং পুণ্য হলো সে ব্যক্তির কাজ যে আল্লাহ, পরকাল, ফেরেশতাগণ, সমস্ত কিতাব এবং নবিগণে ঈমান রাখে। আল্লাহর ভালোবাসায় আত্মীয়স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, মুসাফির, সাহায্যপ্রার্থীদের এবং দাস-মুক্তির জন্য অর্থ দান করে, নামায কায়েম করে এবং যাকাত প্রদান করে। আর প্রতিশ্রুতি দিলে তা পূর্ণ করে, অর্থ-সংকটে, দুঃখ-ক্লেশে এবং সংগ্রাম-সমরে ধৈর্য ধারণ করে। তারাই সত্যপরায়ণ আর তারাই মুত্তাকি।’ [বাকারা : ১৭৭]

‘হে ঈমানদারগণ, আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস স্থাপন করো এবং বিশ্বাস স্থাপন করো তাঁর রাসুল এবং তাঁর কিতাবের উপর যা তিনি নাযিল করেছেন স্বীয় রাসুলের উপর। ঈমান আনো সে সমস্ত কিতাবের উপর যেগুলো নাযিল করা হয়েছিল ইতঃপূর্বে। যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ, তার রাসুলগণ এবং কিয়ামত দিনের উপর বিশ্বাস করবে না, সে পথভ্রষ্ট হয়ে বহু দূরে গিয়ে পড়বে।’ [নিসা: ১৩৬]

উপরের আয়াত দুটোতে ঈমানের পাঁচটি রুকন রয়েছে। ষষ্ঠ তথা তাকদির বিভিন্ন আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা তোমাদের এবং তোমরা যা করো তা সৃষ্টি করেছেন।’ অন্যত্র বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত তোমরা কোনো ইচ্ছা করো না।’ [ইনসান : ৩০] আরও বলেন, ‘আমি সবকিছু সৃষ্টি করেছি সুপরিমিতরূপে।’ [কামার: ৪৯]

একাধিক হাদিসে ঈমানের সংজ্ঞার্থ ও রুকন উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু হাদিস ইমাম নিজস্ব সনদে বর্ণনা করেছেন। আবু মুতি তাকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রসিদ্ধ ‘হাদিসে জিবরিল’ বর্ণনা করেন, যেখানে ফেরেশতা জিবরিল আ. মানুষের রূপ ধারণ করে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। রাসুল (ﷺ) বলেন, ‘ঈমান হচ্ছে আল্লাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই আর মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসুল—এই মর্মে সাক্ষ্য দেওয়া। আল্লাহর ফেরেশতা, কিতাব, রাসুল, পরকাল এবং তাকদিরের ভালোমন্দে সবকিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশ্বাস করা।’ অতঃপর জিবরিল আ. তাঁকে ইসলাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) জবাবে বলেন, ‘নামায কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা, রমযানের রোযা রাখা, সামর্থ্য থাকলে বাইতুল্লাহর হজ করা এবং ফরয গোসলের প্রতি নিষ্ঠাবান থাকা।’ অতঃপর জিবরিল আ. তাঁকে ইহসান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ‘এমনভাবে ইবাদত করবে যেন তুমি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছ। যদি দেখতে না পাও এ বিশ্বাস রাখো যে, তিনি তোমাকে দেখছেন।’

মুহাম্মাদ ইবনে উবাইদ বলেন, আমি কাতাদার কাছে ছিলাম। এমন সময় আবু হানিফা রহ. সেখানে এলেন। কাতাদাকে লক্ষ্য করে বললেন, আবুল খাত্তাব, ঈমানের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী? কাতাদা বললেন, আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করি। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর কাছ থেকে যা-কিছু নিয়ে এসেছেন তাতে বিশ্বাস করি। বিশ্বাস করি ফেরেশতা, রাসুলগণ, শেষ দিবস, জান্নাত-জাহান্নামে। তবে (আল্লাহর কাছে পরকালে) উচ্চ মর্যাদা পাব কি না সেটা জানি না। বর্ণনকারী মুহাম্মাদ বলেন, অতঃপর আমরা সেখান থেকে বের হয়ে এলাম। আবু হানিফাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তাঁর বক্তব্যের ব্যাপারে আপনার মতামত কী? তিনি বললেন, সুন্দর (অর্থাৎ, সমর্থন করলেন)।

ইমাম তহাবি রহ. লিখেছেন, ‘ঈমান হলো : আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, রাসুল এবং শেষ দিবসে বিশ্বাস স্থাপন করা আর এ কথা বিশ্বাস করা যে, তাকদিরের ভালোমন্দ, পছন্দ-অপছন্দ সবকিছুই আল্লাহর পক্ষ থেকে।’

টিকাঃ
২১৬. আল-ওয়াসিয়্যাহ (২৭)।
২১৭. দেখুন : আস-সাহায়িফুল ইলাহিয়্যাহ (৪৫০)।
২১৮. আল-ফিকহুল আকবার (১)।
২১৯. আল-ফিকহুল আবসাত (৪২)।
২২০. আকিদাহ তহাবিয়্যাহ (২১-২২)।
২২১. আল-ফিকহুল আবসাত (৪০-৪১)।
২২২. আল-ইতিকাদ, নিশাপুরি (৯৯)।
২২৩. আকিদাহ তহাবিয়্যাহ (২২)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 ঈমানের হাকিকত (ঈমান কীভাবে সংঘটিত হয়?)

📄 ঈমানের হাকিকত (ঈমান কীভাবে সংঘটিত হয়?)


পিছনে যেমনটা বলেছি, ঈমান অর্থ হলো বিশ্বাস ও সত্যায়ন। তবে ঈমানের হাকিকত কী কিংবা এটা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে সেটা নিয়ে রয়েছে বড় মাপের বিভিন্নতা এবং দীর্ঘ বিতর্ক। বড় বিতর্ক রয়েছে আহলে সুন্নাত ও আহলে বিদআতের মাঝে। কিছু ভিন্নতা রয়েছে আহলে সুন্নাতের নানান ধারার মাঝে। আরেকটা বিতর্ক রয়েছে খোদ ইমাম আজম এবং পরবর্তী হানাফি উলামায়ে কেরামের মাঝে। ধারাবাহিকভাবে সবগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 জাহমিয়্যাহ ও মুরজিয়াদের মতে ঈমান স্রেফ জানা

📄 জাহমিয়্যাহ ও মুরজিয়াদের মতে ঈমান স্রেফ জানা


ভ্রান্ত জাহমিয়্যাদের মতে ঈমান হলো—আল্লাহ তায়ালা, রাসুল এবং তিনি আল্লাহর কাছ থেকে যা-কিছু নিয়ে এসেছেন সেগুলো স্রেফ জানা। জানার বাইরে মুখের স্বীকৃতি, অন্তরের সত্যায়ন ও আত্মসমর্পণ, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান, ভয়, অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমল—এগুলোর কোনোকিছুই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাদের কাছে কুফর হলো স্রেফ আল্লাহ সম্পর্কে অজ্ঞতা! ফলে কোনো ব্যক্তির যদি জানা থাকে যে, আল্লাহ বলতে একজন আছেন, এরপর মুখে তাকে অস্বীকার করে, তবুও সে কাফের নয়! চরমপন্থি মুরজিয়াদের (যেমন আবুল হুসাইন সালেহির) মতে, ঈমান হলো স্রেফ আল্লাহকে জানা, আর কুফর হলো তাকে না জানা। ফলে কেউ যদি তিন খোদায় বিশ্বাস করে, তবুও কাফের হবে না। তবে এটুকু যে, কাফের ছাড়া আর কেউ এটা বলে না। তাদের মতে, আল্লাহকে জানাই যথেষ্ট। এটাই তাঁকে ভালোবাসা, তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণ করা। তাদের মতে, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনাই ইবাদত। ফলে নামায কোনো ইবাদত নয়।

জাহমিয়্যাহ ও মুরজিয়াদের উক্ত মূলনীতি অনুযায়ী জগতে কাফের খুঁজে পাওয়া কঠিন। কারণ, এ মূলনীতি অনুযায়ী ইবলিস, ফিরাউন, আবু জাহল, আবু লাহাব—সবাই মুমিন হয়ে যায়। জগতের সকল ধর্মে বিশ্বাসী লোকজন কোনো-না-কোনোরূপে আল্লাহ অথবা একজন স্রষ্টার কথা জানে। ফলে সবাই মুমিন হয়ে পড়ে! এগুলো কুফরি কথা। ইমাম আজম রহ. তাদের খণ্ডনে বলেন, ‘কেবল অন্তরের জানার নামই ঈমান নয়। এমন হলে আহলে কিতাব তথা ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা সবাই মুমিন হিসেবে গণ্য হতো। কারণ, আল্লাহ তাদের ব্যাপারে বলেছেন, ‘আমি যাদের কিতাব দান করেছি, তারা তাকে চেনে যেমন চেনে নিজেদের সন্তানকে।’ [বাকারা: ১৪৬] অথচ তবুও তারা মুমিন নয়। কারণ, তারা জানলেও স্বীকৃতি দেয় না।’ একইভাবে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তারা অন্যায় ও অহংকার করে নিদর্শনাবলি প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে জেনেছিল।’ [নামল: ১৪] জানা সত্ত্বেও তারা মুমিন নয়। কারণ, ঈমান স্রেফ জানা নয়, বরং গভীর বিশ্বাস ও আত্মসমর্পণ।

টিকাঃ
২২৪. দেখুন : মাকালাতুল ইসলামিয়্যিন, আশআরি (১/১১৪-১১৫)।
২২৫. আল-ওয়াসিয়্যাহ, আবু হানিফা (২৮)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 কাররামিয়্যাহদের মতে ঈমান স্রেফ মুখের স্বীকৃতি

📄 কাররামিয়্যাহদের মতে ঈমান স্রেফ মুখের স্বীকৃতি


কাররামিয়্যাহদের মত জাহমিয়্যাহ ও মুরজিয়াদের ঠিক বিপরীত। তাদের মতে, ঈমান হলো স্রেফ মুখের স্বীকৃতি। অন্তরের সত্যায়ন ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমলও ঈমানের অন্তর্ভুক্ত নয়। তাদের দলিল হলো তায়ালার বাণী : ‘তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং সেই বাণীর প্রতি যা আমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে আর যা ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাদের সন্তানদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যা দেওয়া হয়েছিল মুসা ও ঈসাকে, যা অন্য নবিগণকে তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। আমরা নবিগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না। আমরা তাঁরই অনুগত।’ [বাকারা : ১৩৬] আল্লাহর বাণী : ‘রাসুলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তারা যখন সেটা শোনে, তখন আপনি তাদের চোখ অশ্রুসিক্ত দেখতে পাবেন। এ কারণে যে, তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে। তারা বলে : হে আমাদের প্রতি পালক, আমরা মুসলমান হয়ে গেলাম। অতএব, আমাদেরও সাক্ষ্যদাতাদের তালিকাভুক্ত করে নিন।’ [মায়িদা : ৮৩] তাদের বক্তব্য হলো, এসব আয়াতে স্রেফ ‘বলা’ তথা মুখের স্বীকতিকেই ঈমান বলা হয়েছে। মুখের স্বীকৃতি ঈমান না হলে শুধু এটাকে ঈমান বলা হতো না।

এটা গলত ও জঘন্য আকিদা। কারণ, এর মাধ্যমে সকল মুনাফিকও মুমিন গণ্য হবে। পৃথিবীতে মুনাফিক বলতে কিছু থাকবে না। ইমাম আজম রহ. তাদের খণ্ডনে বলেন, “কেবল মুখের স্বীকৃতি ঈমান নয়। কারণ, এমন হলে মুনাফিকরাও সবাই মুমিন হিসেবে গণ্য হতো। অথচ তারা মুখে স্বীকৃতি দিলেও অন্তরে বিশ্বাস করে না। তাই তারা মুমিন নয়। বরং আল্লাহ তাদের মিথ্যুক অভিহিত করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন, নিশ্চয়ই মুনাফিকরা মিথ্যাবাদী’।” [মুনাফিকুন : ১]

মুখের স্বীকৃতি থাকার পরও মুনাফিকদের আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে থাকার ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘মুনাফিকরা থাকবে জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে। আর তাদের জন্য আপনি কখনো কোনো সহায় পাবেন না।’ [নিসা : ১৪৫] ফলে মুনাফিকরাও কাফের। তাদের কখনোই ক্ষমা না করার ঘোষণা করে বলেন, ‘আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন বা না করেন একই কথা৷ আপনি সত্তরবার তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আল্লাহ তাদের কখনোই ক্ষমা করবেন না। এ জন্য যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করেছে। আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথ প্রদর্শন করেন না।’ [তাওবা : ৮০]

পাশাপাশি কুরআনের সেসব আয়াতও কাররামিয়্যাহদের ভ্রান্ত মাযহাবের খণ্ডন যেখানে অন্তরকে ঈমানের আধার বলা হয়েছে। যেমন-আল্লাহ তায়ালা ‘হে রাসুল, যারা কুফরির দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে, তারা যেন আপনাকে দুঃখ না দেয়। তারা সেসব লোক যারা মুখে বলে: ঈমান এনেছি। কিন্তু তাদের অন্তর ঈমান আনেনি।’ [মায়িদা : ৪১] অন্যত্র বলেন, ‘বেদুইনরা বলে, ‘আমরা ঈমান আনলাম।’ বলুন! ‘তোমরা ঈমান আনোনি’, বরং তোমরা বলো, ‘আমরা (বাহ্যিকভাবে) আত্মসমর্পণ করেছি।’ কারণ, ঈমান এখনও তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি।” [হুজুরাত : ১৪] আরও এক স্থানে আল্লাহ বিশ্বাসহীন মুখের স্বীকৃতিকে ঈমান বলা নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘কিছু লোক এমন আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসে ঈমান এনেছি, অথচ (প্রকৃতপক্ষে) তারা মুমিন নয়।’ [বাকারা : ৮] এখানে উল্লিখিত প্রত্যেকটি আয়াতে মুখের স্বীকৃতিকে অগ্রহণযোগ্য, অনির্ভরযোগ্য ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে। বোঝা গেল, স্রেফ মুখের স্বীকৃতি যথেষ্ট নয়, বরং মুখের স্বীকৃতির সঙ্গে যদি অন্তরের বিশ্বাস ও বাস্তবতা না থাকে, তবে সে মুনাফিক গণ্য হবে।

টিকাঃ
২২৬. দেখুন: শরহুল ওয়াসিয়্যাহ, মুফতি যাদাহ (৩২)। আল-মিলাল ওয়ান নিহাল (১/১১৩)। তাবসিরাতুল আদিল্লাহ (২/১০৭৬)।
২২৭. আল-ওয়াসিয়্যাহ, আবু হানিফা (২৭)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00