📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 আকিদা বিষয়ে ইমাম আজমের গ্রন্থগুলোর প্রামাণ্যতা

📄 আকিদা বিষয়ে ইমাম আজমের গ্রন্থগুলোর প্রামাণ্যতা


আকিদা বিষয়ে লিখিত পাঁচটি প্রসিদ্ধ প্রাচীন পুস্তিকা ইমাম আবু হানিফা রহ.- এর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়। সেগুলো হলো : এক. আল-ফিকহুল আকবার। সংকলক : ইমামপুত্র হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফা। দুই. আল-ফিকহুল আবসাত। সংকলক : আবু মুতি বলখি। তিন. আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম। সংকলক : আবু মুকাতিল সমরকন্দি। চার. আর-রিসালাহ। বসরার আলেম উসমান আল- বাত্তির কাছে লেখা ইমামের চিঠি। পাঁচ. আল-ওয়াসিয়্যাহ। জীবনের শেষলগ্নে ইমামপ্রদত্ত ওসিয়ত সংকলন।

যেহেতু এসব গ্রন্থ অত্যন্ত প্রাচীন, সহস্র বছরের চেয়েও বেশি পুরোনো, ফলে স্বাভাবিকভাবেই এসব গ্রন্থের প্রামাণ্যতার উপর আপত্তি ওঠে, যেমন প্রাচীন অসংখ্য গ্রন্থের উপরই উঠেছে। এগুলোর উপর ওঠা আপত্তি মোটা দাগে দুই ধরনের। নিচে আমরা সেসব আপত্তি এবং সেগুলোর উপর আমাদের পর্যালোচনা ধারাবাহিকভাবে পেশ করছি।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 সামগ্রিক সংশয়

📄 সামগ্রিক সংশয়


যদিও এসব গ্রন্থ অত্যন্ত প্রাচীন এবং সেই প্রথম কয়েক শতাব্দীতেই এগুলোর উপর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখা হয়েছে, এসব গ্রন্থের আলোকে বড় বড় ইমাম আবু হানিফার আকিদা লিখেছেন, চর্চা করেছেন, বিচার করেছেন, যাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন ইমাম আবু জাফর তহাবি, আবু মনসুর আল-মাতুরিদি, আবুল লাইস সমরকন্দি, ইবনে ফওরক, আবদুল কাহের বাগদাদি, আবুল মুজাফফর ইসফারায়েনি প্রমুখ, তবুও কোনো কোনো গবেষক এসব গ্রন্থের উপর আপত্তি তুলেছেন; বরং তাদের কেউ কেউ সুস্পষ্ট ভাষায় এসব গ্রন্থকে ইমাম আবু হানিফার নয় বলে মত দিয়েছেন। তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন ওরিয়েন্টালিস্ট গবেষক কার্ল ব্রুকলম্যান। তিনি তাঁর ‘আরবি সাহিত্যের ইতিহাস’-শীর্ষক গ্রন্থে বলেন, ‘আবু হানিফা থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত কোনো গ্রন্থ নেই। ফলে আল-ফিকহুল আকবার নামে প্রসিদ্ধ দুটো গ্রন্থ তাঁর নয়। খুব সম্ভবত এগুলো আশআরির পরে লেখা হয়েছে। ’

মিশরীয় গবেষক আহমদ আমিন ‘আল-ফিকহুল আকবার’-এর উপর নানান সন্দেহ ও সংশয় উত্থাপন করেছেন। এ কিতাবগুলোর প্রামাণ্যতার ব্যাপারে বিভিন্ন বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। শেষে অবশ্য আংশিকভাবে হলেও ইতিবাচক মত দিয়েছেন। তার মতে, আমাদের সামনে বিদ্যমান ‘আল-ফিকহুল আকবার’ মৌলিকভাবে ইমাম আবু হানিফার গ্রন্থ। তবে তাতে পরবর্তী সময়ে কিছু সংযোজিত হয়েছে। কী সংযোজিত হয়েছে সেটা অবশ্য বলেননি।

শায়খ শিবলি নুমানিও ‘আল-ফিকহুল আকবার’-এর প্রামাণ্যতার উপর সশংয় প্রকাশ করেছেন এবং এটা যে ইমামের কিতাব সেটা মেনে নিতে তাঁর দ্বিধার কথা জানিয়েছেন। তাঁর একটি যুক্তি হলো, আল-ফিকহুল আকবারে এমন কিছু পরিভাষা এসেছে, যেগুলো ইমামের যুগে ছিল না। যেমন: ‘জাওহার’, ‘আরাজ’ ইত্যাদি দার্শনিক পরিভাষা, যেগুলো পরবর্তী সময়ে অস্তিত্বে এসেছে, বিশেষত আব্বাসি যুগে অনুবাদকেন্দ্রিক জাগরণের মাধ্যমে। শিবলি নুমানির আরেকটি আপত্তি হচ্ছে : দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দের গ্রন্থগুলোতে এই কিতাবের ব্যাপারে কোনো বক্তব্য নেই; বরং পঞ্চম শতাব্দে বাযদাবিই সর্বপ্রথম এটার নাম উল্লেখ করেন। শিবলি নুমানির তৃতীয় সংশয় হলো আবু মুতি বলখিকে ঘিরে। তাঁর ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের তাজরিহ তথা সমালোচনা অত্যন্ত বেশি। ফলে তিনি নির্ভরযোগ্য নন। সুতরাং স্রেফ এমন ব্যক্তির মাধ্যমে বর্ণিত কোনো গ্রন্থকে গ্রহণযোগ্য বলে মেনে নেওয়া যায় না। এ কারণে শিবলি নুমানির কথা হচ্ছে, আবু মুতি বলখি নিজে হয়তো এ কিতাব লিখে থাকবেন, যা ধীরে ধীরে ইমাম আজমের নামে প্রচারিত হয়েছে এবং পরবর্তীকালেও এর সংযোজন অব্যাহত থেকেছে। বরং কেবল আল-ফিকহুল আকবার নয়, শায়খ নুমানি মনে করেন, ‘আজ ইমাম আজমের কোনো গ্রন্থ আমাদের সামনে নেই।’ এর মানে, তিনি কেবল ‘আল-ফিকহুল আকবার’ নয়, বরং ‘আল-ফিকহুল আবসাত’, ‘আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম’, উসমান বাত্তির কাছে ইমাম আজমের চিঠি (আর-রিসালাহ), তাঁর ওসিয়ত সংকলন ‘আল-ওয়াসিয়্যাহ’ এগুলোর কোনোটা ইমাম আজমের গ্রন্থ হিসেবে মানছেন না।

টিকাঃ
১৬৩. দেখুন : তারিখুল আদাবিল আরাবি (৩/২২৭-২২৮)।
১৬৪. দেখুন: যুহাল ইসলাম (২/১৯৭-১৯৮)।
১৬৫. দেখুন: সিরাতে নুমান (২/১১৭-১১৯)।

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 আংশিক সংশয়

📄 আংশিক সংশয়


একদল আলেম এসব গ্রন্থকে সামগ্রিকভাবে ইমাম আজম রহ.-এর গ্রন্থ মনে করেন। তবে তারা মনে করেন-এগুলো হুবহু ইমাম আজমের সংরক্ষিত আকিদা নয়, বরং এতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। আমরা এখানে সেসব আলেমের নাম উল্লেখ করব না। স্রেফ সংশয়গুলো উল্লেখ করে সেগুলোর যথার্থতা-অযথার্থতা দেখাব।

তাদের একদল আল-ফিকহুল আকবারের বিভিন্ন বক্তব্য পরবর্তীকালে অনুপ্রবেশকৃত মনে করেন। যেমন-একজন লিখেছেন, (وَقَدْ كَانَ الله تَعَالَى مُتكَلِّمًا وَلَمْ يَكُنْ كَلّم مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَام وَقَدْ كَانَ الله تَعَالَى خَالِقًا فِي الْأَزَلِ ولم يخلق الخلق فَلَمَّا كلم الله مُوسَى كَلِّمه بِكَلَامِهِ الَّذِي هُوَ لَهُ صفة فِي الْأَزَّلِ) অর্থ : “আল্লাহ মুসার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। কিন্তু মুসার সঙ্গে কথা বলার অনেক আগে অনাদিতেও আল্লাহ তায়ালা ‘মুতাকাল্লিম’ (কালাম গুণসম্পন্ন) ছিলেন, যেমন গোটা সৃষ্টিজগৎ সৃষ্টি করার আগেও আল্লাহ তায়ালা ‘খালিক’ (সৃষ্টিকর্তা) ছিলেন। সুতরাং তিনি যখন মুসার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তখন তাঁর সেই শাশ্বত ‘কালাম’ গুণের মাধ্যমে কথা বলেছিলেন।” -এ কথা ইমাম বলেননি। একইভাবে (وَاللَّهُ تَعَالَى يَتَكَلَّم بِلَا آلَةٍ وَلَا حُرُوف) অর্থ : ‘আল্লাহ কথা বলেন উপকরণ ও অক্ষর ছাড়া।’-এটাও পরবর্তীকালে অনুপ্রবেশকৃত; ইমামের বক্তব্য হতে পারে না। একইভাবে (ولفظنا بِالْقُرْآنِ مَخْلُوق) অর্থ : ‘কুরআনে (পাঠের সময়) আমাদের শব্দ সৃষ্ট’-এটাও পরবর্তীকালে সংযোজিত। একইভাবে (وَاللَّهُ تَعَالَى يرى في الآخِرَة وَيَرَاهُ الْمُؤْمِنُونَ وهم في الجنَّة بأعين رؤوسهم بلا تشبيه ولا كيفيّة ولا يكون بينه وبين خلقه مَسَافَة অর্থ : ‘আখেরাতে আল্লাহকে দেখা যাবে; মুমিনরা জান্নাতে স্বচক্ষে আল্লাহর দিদার লাভ করবে, তবে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য বা ধরণ ব্যতিরেকে। তাঁর ও সৃষ্টির মাঝে তখন কোনো দূরত্ব থাকবে না।’-এটাকেও তারা পরবর্তীকালে সংযোজিত মনে করেন।

তাদের এ দাবির পক্ষে দলিল হলো, ‘এসব বিষয় সে যুগে প্রচলিত ছিল না, বরং পরবর্তীকালে কালামপন্থিরা এগুলো উদ্ভাবন করেছে এবং ইমামের নামে চালিয়ে দিয়েছে। আকিদাহ তহাবিয়্যাহতে ইমাম তহাবি এগুলো বর্ণনা করেননি। এগুলো ইমামের আকিদা হলে ইমাম তহাবি উল্লেখ করতেন।’

📘 ইমাম আজমের আকিদা > 📄 সংশয়ের পর্যালোচনা

📄 সংশয়ের পর্যালোচনা


এগুলো সঠিক ও যৌক্তিক অভিযোগ নয়। দলিল-প্রমাণবিহীন কেবল অনুমানকে ভিত্তি বানিয়ে ইমাম আজমের কিতাবকে অগ্রহণযোগ্য করে তোলার প্রচেষ্টা। মূলত তাদের প্রচলিত মতাদর্শের সঙ্গে ইমামের আকিদার সংঘর্ষ তৈরি হওয়াতে এগুলোকে তারা অপ্রমাণিত ও পরবর্তীকালে সংযোজিত বলেছেন। অথচ শক্তিশালী দলিল ব্যতীত এমন দাবি গ্রহণযোগ্য হওয়ার কোনো কারণ নেই।

যেমন-প্রথম বাক্যে তাদের আপত্তির জায়গা হলো, আল্লাহর কালাম সিফাতকে ‘আযাল’ তথা ‘অনাদি’ বলা। তারা বিশ্বাস করেন, মুসা আ.-এর সঙ্গে আল্লাহ অক্ষর ও আওয়াজ-সহ কথা বলেছেন, যা তাদের কাছে হাদেস (নবসৃষ্ট)। অথচ ইমাম বলছেন, “আল্লাহ যখন মুসার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তখন তাঁর সেই শাশ্বত ‘কালাম’ গুণের মাধ্যমে কথা বলেছিলেন।” এটা তাদের প্রচলিত আকিদার সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। একইভাবে ইমামের বক্তব্য ‘আল্লাহ কথা বলেন উপকরণ ও অক্ষর ছাড়া।’-তাদের আকিদার সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক। ইমামের বক্তব্য ‘কুরআনে (পাঠের সময়) আমাদের শব্দগুলো সৃষ্ট। ’-এটাও তাদের প্রতিষ্ঠিত মতাদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেননা, তারা এগুলোকেও আল্লাহর কালাম মনে করেন। সবশেষে ইমামের বক্তব্য ‘আখেরাতে আল্লাহকে দেখা যাবে; মুমিনরা জান্নাতে স্বচক্ষে আল্লাহর দিদার লাভ করবে, তবে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য ও ধরন ব্যতিরেকে। তাঁর ও সৃষ্টির মাঝে তখন কোনো দূরত্ব থাকবে না।’- এটাও তারা নাকচ করেন। কারণ, তাদের বিশ্বাস, আল্লাহকে সামনাসামনি উপরের দিকে দেখা যাবে। ফলে ইমাম যখন ‘দূরত্ব’ নাকচ করে দিলেন, তখন তাদের আকিদার সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি হয়ে গেল। কারণ, এর মাধ্যমে ‘দিক’, ‘সামনাসামনি’ সবকিছু নাকচ হয়ে গেল, যেগুলোকে তারা সালাফের আকিদা বলে প্রচার করেন এবং বিশ্বাস রাখেন।

ফলে দেখা যাচ্ছে, তাদের এসব আপত্তির মূল কারণ ইলমি বা ঐতিহাসিক নয়, বরং মতাদর্শিক। ইমাম আজমের এসব বক্তব্য তাদের প্রচলিত আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কিন্তু ইমাম আজম রহ. যেহেতু সালাফে সালেহিনের আকিদা রাখতেন, বরং তিনি নিজেই সালাফে সালেহিনের প্রথম সারির বরেণ্য ইমাম, আর এসব আকিদা তাদের মতাদর্শমতে সালাফের আকিদা নয়; অন্যদিকে ইমাম আজমকে সালাফ থেকে বের করাও যাচ্ছে না, তাকে আহলে বিদআতও বলা যাচ্ছে না, এ জন্য তারা এগুলোকে পরবর্তীকালে সংযোজিত বলেছেন। অথচ এগুলো পরবর্তীকালে সংযোজিত নয়। বস্তুত এটা তাদের জন্য একটা বড় মাথাব্যথার কারণ। অন্যকথায়, ইমামকে নিয়ে এ ধারার লোকজন উভয়সংকটে পতিত। কারণ, তাদের ‘সালাফ’ মুরজিয়া, জাহমিসহ হেন কোনো অভিধা নেই যা ইমামের উপর প্রয়োগ করেননি। অন্যকথায়, তারা ইমামকে সম্পূর্ণ গোমরাহ মনে করতেন, পিছনে যার উদাহরণ দিয়েছি আমরা। এতে স্পষ্ট যে, ইমামের আকিদা তাদের আকিদার মতো ছিল না। কিন্তু তাদের মতাদর্শের পরবর্তী মূল প্রতিষ্ঠাতারা আবার ইমামের ব্যাপারে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। ইমাম আজমের আকিদা বাকি তিন ইমামের মতো বলেছেন। এই দুই বিপরীতমুখী বক্তব্যই তাদের জটিলতায় ফেলেছে। ইমামকে তারা গোমরাহ বলতে পারছেন না, আবার ইমামের সব আকিদা মেনেও নিতে পারছেন না। ফলে অনন্যোপায় হয়ে যেসব ক্ষেত্রে ইমামের আকিদা তাদের আকিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছে না, সেগুলোকে ‘অপ্রমাণিত’ বলছেন, ভিন্নভাবে ব্যাখ্যার চেষ্টা করছেন। এই ‘অপ্রমাণিত’ বলা ভিত্তিহীন দাবি। এগুলো অপ্রমাণিত হলে তাদের সালাফ তো ইমামকে তাদের মতোই বলতেন। জাহমি কেন বলেছেন? মোটকথা, ইমামের প্রতি তারা কেমন দৃষ্টিভঙ্গি রাখবেন সেটা তাদের ব্যাপার। কিন্তু নিজেদের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ইমামের আকিদার ভিতর থেকে কিছু আকিদাকে প্রমাণিত বলবেন, আবার কিছু নাকচ করবেন—এটা হতে পারে না।

আমাদের দাবির স্বপক্ষে অনেকগুলো প্রমাণ রয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো :

এক. প্রথম প্রমাণ তো হলো সবগুলো পাণ্ডুলিপিতে এসব বক্তব্য বিদ্যমান রয়েছে। আমাদের জানামতে, এমন কোনো প্রাচীন পাণ্ডুলিপি নেই যাতে এসব বক্তব্য আসেনি। ফলে এগুলোকে পরবর্তীকালে সংযোজিত বলতে হলে সে ধরনের কোনো গ্রহণযোগ্য প্রাচীন পাণ্ডুলিপি দেখাতে হবে যাতে এসব বক্তব্য নেই।

দুই. এসব বক্তব্য আগপাছের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাযুজ্যপূর্ণ। অর্থাৎ, এমন নয় যে, হঠাৎ মাঝখানে অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে, ফলে এগুলো প্রসঙ্গবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে; বরং প্রত্যেকটি বিষয় সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিক এবং ইমামের বক্তব্য ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেমন—প্রথম বক্তব্যে ইমাম বলেন, (زند كَانَ الله تَعَالَى متكلما ولم يكن كلم مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَام وَقد كَانَ الله تَعَالَى خَالِقًا فِي الْأَزَلِ وَلم يخلق الخلق فَلَمَّا كلم الله مُوسَى كَلمه بِكَلَامِهِ الَّذِي هُوَ لَهُ صفة فِي الْأَزَّل) অর্থ : “আল্লাহ মুসার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। কিন্তু মুসার সঙ্গে কথা বলার অনেক আগে অনাদিতেও আল্লাহ তায়ালা ‘মুতাকাল্লিম’ (কালাম গুণসম্পন্ন) ছিলেন, যেমন গোটা সৃষ্টিজগৎ সৃষ্টি করার আগেও আল্লাহ তায়ালা ‘খালিক’ (সৃষ্টিকর্তা) ছিলেন। সুতরাং তিনি যখন মুসার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তখন তাঁর সেই শাশ্বত ‘কালাম’ গুণের মাধ্যমে কথা বলেছিলেন।”-এখানে গভীরভাবে লক্ষ করে দেখুন, কেবল ‘কালাম’-এর ব্যাপারেই ‘আযাল’ (তথা অনাদি) ব্যবহার করা হয়নি, বরং ‘খলক’ তথা সৃষ্টি গুণের ব্যাপারেও একই শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে। ইমাম তহাবি রহ. তাঁর আকিদাতে এটাকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যা একটু পরে উল্লেখ করা হচ্ছে। ফলে এটা ইমাম আজমের আকিদা হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ নেই।

একইভাবে (وَاللهُ تَعَالَى يَتَكَلَّم بِلَا آلَةٍ وَلَا حُرُوف) অর্থ : ‘আল্লাহ কথা বলেন উপকরণ ও অক্ষর ছাড়া।’-এটাও প্রসঙ্গবিহীন নয়। ইমাম বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালার সকল সিফাত (গুণ) মাখলুকের সিফাতের (গুণ) চেয়ে ভিন্ন। তিনি জানেন, কিন্তু আমাদের জানার মতো নয়। তিনি শক্তি রাখেন, কিন্তু আমাদের শক্তির মতো নয়। তিনি দেখেন, তবে আমাদের দেখার মতো নয়। তিনি কথা বলেন, তবে আমাদের কথা বলার মতো নয়। তিনি শোনেন, তবে আমাদের শোনার মতো নয়। আমরা বিভিন্ন উপকরণ ও অক্ষরের মাধ্যমে কথা বলে থাকি; তিনি কথা বলেন উপকরণ ও অক্ষর ছাড়াই। অক্ষর হলো সৃষ্ট, কিন্তু আল্লাহর কালাম সৃষ্ট নয়।’ পাঠক, এখানে গভীরভাবে লক্ষ করে দেখুন, পুরো বক্তব্য প্রাসঙ্গিক ও যৌক্তিক। আল্লাহর সকল সিফাত আমাদের সিফাতের চেয়ে ভিন্ন। তাঁর দেখা ও শোনা আমাদের মতো নয়। সুতরাং তাঁর বলাও আমাদের মতো নয়। আমরা উপকরণ ও অক্ষর দিয়ে কথা বলে থাকি: তিনি কথা বলেন এগুলো ছাড়াই। কারণ, তিনি কোনোকিছুর প্রতি মুখাপেক্ষী নন। যারা এ বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন, কেন করেছেন? কারণ, এটা তাদের আকিদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, আহলে সুন্নাতের আকিদা হলো, আল্লাহ অক্ষর ও আওয়াজ-সহ কথা বলেন। তারা যেহেতু ইমাম আজমকে তাদের পরিভাষায় আহলে সুন্নাত মনে করেন, ফলে এগুলো তাঁর আকিদা সেটা নাকচ করা জরুরি হয়ে যায়, নতুবা তাদের নিজেদের আকিদাই নাকচ হয়ে যায়!

একইভাবে ইমামের বক্তব্য, ‘কুরআন (পাঠের সময়) আমাদের শব্দ সৃষ্ট।’— এটাও সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিক এবং যৌক্তিক। এখানে ইমামের পুরো বাক্য হলো, ‘কুরআন আল্লাহ তায়ালার ‘কালাম’ (বাণী); গ্রন্থে লিপিবদ্ধ, হৃদয়ে সুরক্ষিত, মুখে পঠিত, নবিজি (ﷺ)-এর উপর অবতীর্ণ। কুরআনে (পাঠের সময়) আমাদের শব্দগুলো সৃষ্ট। কুরআন (লেখার সময়) আমাদের লেখাগুলো সৃষ্ট। আমাদের (কুরআনের) পাঠ (তেলাওয়াত) সৃষ্ট; কিন্তু স্বয়ং কুরআন সৃষ্ট নয়।’ এখানে অতিরিক্ত এমন কী কথা আছে, যাতে এটা পরবর্তীকালে অনুপ্রবেশকৃত বলে বিশ্বাস করতে হবে? আমরা যখন কুরআন তেলাওয়াত করি, তখন আমাদের আওয়াজ সৃষ্ট। আমরা যখন কুরআন কাগজের উপর কালি দিয়ে লিখি, এই লেখাগুলোও সৃষ্ট। সুতরাং আমরা যখন আমাদের মুখ, জিহ্বা ও কণ্ঠের সাহায্যে কুরআন পড়ি, তখন আমাদের উচ্চারিত শব্দগুলো কেন সৃষ্ট হবে না? হ্যাঁ—যেমনটা ইমাম বলেছেন—এতে কুরআন সৃষ্ট হয়ে যায় না। কারণ, মূল কুরআন আল্লাহর কালাম।

তাদের কারও কারও যুক্তি ‘কুরআনে (পাঠের সময়) আমাদের শব্দ সৃষ্ট। ’- এসব পরিভাষা ইমাম আহমদ রহ.-এর যুগে মুতাযিলাদের সঙ্গে সৃষ্ট সংঘাতের পরে অস্তিত্বে এসেছে। ফলে বোঝা গেল, এটা ইমাম আজমের আকিদা নয়, বরং পরবর্তীকালে সংযোজিত। কিন্তু এটা অজ্ঞতাপ্রসূত বক্তব্য। কারণ, কুরআনকেন্দ্রিক বিতর্কের জন্ম হয় জাদ ইবনে দিরহাম এবং জাহম ইবনে সাফওয়ানের যুগেই। ফলে এ ব্যাপারে ইমাম আবু হানিফা রহ.-এর বিশ্লেষিত ও বিস্তারিত বক্তব্য থাকা মোটেই অসম্ভব নয়; বরং ইমাম আজম রহ. জাহম ইবনে সাফওয়ানের সঙ্গে মুনাযারাও করেছেন, কুরআনকেন্দ্রিক বিভিন্ন ভ্রান্তির খণ্ডন করেছেন, যা আমরা পিছনে দেখেছি এবং সামনেও দেখব। ফলে এগুলো ইমাম আজমের যুগে ছিল না-এমন দাবি সঠিক নয়।

একইভাবে আল্লাহর দিদারের ক্ষেত্রে ইমামের বক্তব্য ‘তাঁর ও সৃষ্টির মাঝে তখন কোনো দূরত্ব থাকবে না।’— এখানেও দূরত্বের বিষয়টি নাকচ করা মোটেও অপ্রাসঙ্গিক নয়; বরং আল-ফিকহুল আকবারের একাধিক জায়গাতে এটাকে নাকচ করা হয়েছে। যেমন—ইমাম অন্যত্র বলেন, ‘আল্লাহর নৈকট্য বা দূরত্ব (বস্তুগত) কাছে বা দূরে থাকার ভিত্তিতে নয়; এটা মর্যাদা ও অপমানের ভিত্তিতে। অনুগত বান্দা আল্লাহর নিকটবর্তী, ধরন ব্যতিরেকে। আর অবাধ্য আল্লাহ থেকে দূরবর্তী, ধরন ব্যতিরেকে। একইভাবে জান্নাতে আল্লাহর পাশে থাকা ধরন ব্যতিরেকে। আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো ধরন ব্যতিরেকে।’ ফলে তানযিহের সর্বোচ্চ স্তর বজায় রাখতে ইমাম যে সর্বত্র এ ধরনের শব্দ আল্লাহর উপর প্রয়োগ থেকে বিরত থাকেন, সেটা স্পষ্ট। কেবল ইমাম নন, মুতাযিলাদের খণ্ডনে সে যুগে এবং পরবর্তী সময়ে অনেক আলেমই এ ধরনের কুয়ুদ (শর্তযুক্ত শব্দ) ব্যবহার করেছেন।

তিন. এগুলো কেবল আল-ফিকহুল আকবারের বক্তব্য—এমন নয়, বরং ইমামের অন্যান্য গ্রন্থেও কাছাকাছি বক্তব্য রয়েছে, যা সুস্পষ্টভাবেই এগুলো ইমামের বক্তব্য বলে প্রমাণ করে। যেমন—প্রথম বক্তব্য, যেখানে কালামকে ‘অনাদি গুণ’ বলা হয়েছে, সেটা অন্য সকল সিফাতের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সৃষ্টি, শ্রবণ, দর্শন-সবগুলো আল্লাহর অনাদি গুণ। এমনকি ইমাম তহাবিও বিভিন্ন সিফাতের ক্ষেত্রে ‘আযালি’ তথা অনাদি শব্দটা ব্যবহার করেছেন। সুতরাং ‘এটা পরবর্তীকালে অনুপ্রবেশকৃত’-এমন কথার যুক্তি নেই। তহাবি বলেন, (مَا زَلَ بِصِفَاتِهِ قَدِيماً قَبْلَ خَلْقِهِ، لَمْ يَزْدَدْ بِكَوْنِهِمْ شَيْئًا لَمْ يَكُنْ قَبْلَهُمْ مِنْ صِفَتِهِ، وَكَمَا كَانَ بِصِفَاتِهِ أَزَلِيًّا، كَذَلِكَ لا يَزَالُ عَلَيْهَا أَبَدِيَّا، لَيْسَ بَعْدَ خَلْقِ الخَلْقِ اسْتَفَادَ اسْمَ الخَالِقِ، وَلا بِإِحْدَاثِهِ البَرِيَّةَ اسْتَفَادَ اسْمَ البَارِي অর্থ : “সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার আগে থেকেই তিনি সকল গুণের অধিকারী। সৃষ্টির মাধ্যমে তাঁর মাঝে এমন কোনো গুণের সংযোজন ঘটেনি, যা আগে ছিল না। তিনি সর্বদাই নিজের গুণাবলি নিয়ে ছিলেন (আযালি), সর্বদাই তেমন থাকবেন (আবাদি)। তাই সৃষ্টিকে সৃষ্টি করার পর থেকে তাঁর নাম ‘খালিক’ (সৃষ্টিকর্তা) হয়নি, জগৎকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনায় তাঁর নাম ‘বারি’ (উদ্ভাবক) হয়নি।” —ইমাম তহাবির এই বক্তব্য আর ইমাম আজমের বক্তব্যের মাঝে সিয়াক (প্রসঙ্গ) ও উসলুব (বর্ণনাপদ্ধতি)-গত কোনো পার্থক্য নেই।

একইভাবে (وَاللَّهُ تَعَالَى يَتَكَلَّم بِلَا آلَةٍ وَلَا حُرُوف) অর্থ : ‘আল্লাহ কথা বলেন কোনো উপকরণ ও অক্ষর ছাড়া।’-এটাও নতুন কোনো বিষয় নয়; বরং অন্যান্য গ্রন্থেও কাছাকাছি এবং একই ধরনের বক্তব্য রয়েছে। যেমন—‘আল-ওয়াসিয়্যাহ’ গ্রন্থে ইমাম রহ. বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, কুরআন আল্লাহর কালাম, মাখলুক নয়। এটা তাঁর ওহি এবং তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, তাঁর গুণ (সিফাত)। লেখা (الكتابة), অক্ষর (الحرف), শব্দ (الكلمات) ও আয়াত (الآيات) -এগুলো কুরআনের নির্দেশক। মানুষের প্রয়োজনে এগুলো অস্তিত্বে এসেছে। বিপরীতে আল্লাহর কালাম তাঁর সত্তার সঙ্গে বিদ্যমান। সেই কালামের অর্থ বোধগম্য হয় এসব উপকরণের মধ্য দিয়ে। পাঠক, এখানে খেয়াল করুন, ইমাম আজম রহ. ওয়াসিয়্যাহ গ্রন্থেও ‘অক্ষর’-সহ অন্যান্য মানবিক উপকরণ সুস্পষ্টভাবে নাকচ করেছেন। ফলে এটাকেও পরবর্তীকালে অনুপ্রবেশকৃত বলতে হবে। একইভাবে তিনি এখানে ‘কালিমা’-কে নাকচ করেছেন। আর ‘কালিমা’ মূলত ‘লফজ’ বা শব্দই। ফলে আল-ফিকহুল আকবারের ‘কুরআনে (পাঠের সময়) আমাদের শব্দগুলো সৃষ্ট। ’-বক্তব্য আল-ওয়াসিয়্যাহ গ্রন্থের বক্তব্যের মাধ্যমেও প্রমাণিত।

وَالله تَعَالَى يرى فِي الْآখِرَةِ وَيَرَاهُ الْمُؤْمِنُونَ وهم في الجنَّة بأعين رؤوسهم بلا تشبيه وَلَا كَيْفَيَّة وَلَا يكون بينه وَبَين خلقه مَسَافَة অর্থ : ‘আখেরাতে আল্লাহকে দেখা যাবে; মুমিনরা জান্নাতে স্বচক্ষে আল্লাহর দিদার লাভ করবে, তবে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য ও ধরন ব্যতিরেকে। তাঁর ও সৃষ্টির মাঝে তখন কোনো দূরত্ব থাকবে না।’—এটাও কেবল আল-ফিকহুল আকবারের বক্তব্য নয়, অন্যান্য গ্রন্থেও প্রমাণিত। যেমন—আল-ওয়াসিয়্যাহ গ্রন্থে ইমাম আজম রহ. বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, জান্নাতিরা তাদের প্রতিপালককে দেখতে পাবে। আল্লাহ বলেন, وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَّاضِرَةٌ إِلَى رَبِّهَا নাত্বিরাহ অর্থ : ‘সেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের পালনকর্তার দিকে তাকিয়ে থাকবে।’ [কিয়ামাহ : ২২-২৩] তবে এই দর্শন কোনো ধরন (কাইফিয়্যাহ), সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য (তাশবিহ) ও দিক (জিহাহ) ছাড়া। কারণ, আল্লাহ এসবের ঊর্ধ্বে।” এখানে খেয়াল করে দেখুন, ইমাম আজম আল্লাহকে দেখার ক্ষেত্রে ‘দিক’ সুস্পষ্টভাবে নাকচ করে দিয়েছেন। আর এর মাধ্যমে ‘দূরত্ব’ (মাসাফাহ) নাকচ হয়ে গেল। বরং ইমাম তহাবিও আকিদাহ তহাবিয়্যাহতে সুস্পষ্টভাবে বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সব ধরনের সীমাপরিসীমা ও গণ্ডির ঊর্ধ্বে। তিনি সকল উপাদান, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও উপকরণ থেকে মুক্ত। সৃষ্টির মতো ছয় দিক তাকে পরিবেষ্টন করতে পারে না।’ এখানেও দিক নাকচ করা হয়েছে। ফলে ইমাম আজমের আল-ফিকহুল আকবারের বক্তব্যকে নাকচ করার কোনো অর্থ নেই; বরং তাদের মাযহাবের সঙ্গে যাক বা না যাক, এটাই ইমামের মাযহাব।

টিকাঃ
১৯৭. আল-ফিকহুল আকবার (২)।
১৯৮. প্রাগুক্ত (২)।
১৯৯. প্রাগুক্ত (২)।
২০০. প্রাগুক্ত (৬)।
২০১. আল-ফিকহুল আকবার (২)।
২০২. প্রাগুক্ত (২)।
২০৩. আল-ফিকহুল আকবার (৭-৮)।
২০৪. আকিদাহ তহাবিয়্যাহ (৯-১০)।
২০৫. আল-ওয়াসিয়্যাহ (৪০-৪২)।
২০৬. এ প্রসঙ্গে দেখুন: উসুলুদ্দিন, বাযদাবি (৭৩-৭৪)।
২০৭. আল-ওয়াসিয়্যাহ (৫৮-৫৯)।
২০৮. শরহুল ফিকহিল আকবার, মাগনিসাভি (১৪৭)।
২০৯. আকিদাহ তহাবিয়্যাহ (১৫)।
২১০. আল-ফিকহুল আকবার (১)।
২১১. প্রাগুক্ত (১)।
২১২. রিসালাহ ইলা আহলিস সাগর (১২১)।
২১৩. আল-ফিকহুল আকবার (১)।
২১৪. আল-ফিকহুল আকবার (২)।
২১৫. দেখুন: তাবসিরাতুল আদিল্লাহ (১/২৬১-২৬২)। যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি (৫/২০৭)। শরহুল ফিকহিল আকবার, আলি কারি (৩৪-৩৫)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00