📄 কালাম নিষিদ্ধ হলে আকিদা নিয়ে সকল বিতর্কও নিষিদ্ধ
এখানে আরও একটি বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন। সেটা হলো, একদল লোক সালাফের বিভিন্ন বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে কালামকে সর্বাঙ্গীণভাবে হারাম ও নিষিদ্ধ মনে করলেও আকিদাকেন্দ্রিক অর্থহীন ঝগড়া-বিবাদ ও তর্কবিতর্ককে ঠিকই বড় জিহাদ এবং দ্বীনের বিশাল খেদমত মনে করেন। অথচ সালাফের কালামচর্চার নিষেধাজ্ঞা স্রেফ শাস্ত্র হিসেবে নয়, বরং এই অর্থহীন বিতর্কের মূল উপকরণ হওয়ার কারণে। ইমাম আজমসহ সালাফের বক্তব্যে এ বাস্তবতা স্পষ্ট থাকলেও তারা এটাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। যেমন—ইমাম আজম রহ. যখন পুত্র হাম্মাদকে কালামচর্চা করতে নিষেধ করেন, তখন কারণ হিসেবে বলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে মুনাযারা করার সময় আতঙ্কিত থাকতাম যেন কেউ বিভ্রান্ত না হই। আর তোমরা এখন এটা নিয়ে মুনাযারা করোই প্রতিপক্ষকে গোমরাহ করতে। যে ব্যক্তি এমন কামনা করে, সে মূলত তার কুফর কামনা করে। আর যে ব্যক্তি অন্যের কুফর কামনা করে, দেখা যায়, সে অন্যের আগে নিজে তাতে পতিত হয়। এটা নিষিদ্ধ। এ ধরনের মুতাকাল্লিমের পিছনে নামায হবে না।’ এখানে স্পষ্ট যে, শাস্ত্রটা কালাম হোক কিংবা অন্যকিছু হোক সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, দ্বীন নিয়ে বিবাদ-বিতর্ক করা, অন্য মুসলিমকে ভ্রান্ত সাব্যস্তের কোশেশ করাটাই নিন্দনীয়।
একইভাবে ইমাম আবু ইউসুফ রহ. থেকে বর্ণিত আরেকটি ঘটনাতে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। আবু ইউসুফ রহ. বর্ণনা করেন, ‘আমরা আবু হানিফা রহ.-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় একদল লোক দুই ব্যক্তিকে নিয়ে এলো। এসে বলল, এই ব্যক্তি কুরআনকে মাখলুক বলে। আর দ্বিতীয় জন তাকে নিষেধ করে বলে, কুরআন মাখলুক নয় (আমরা তাদের ব্যাপারে কী করব?)। ইমাম বললেন, ‘তাদের কারও পিছনে নামায পড়ো না।’ আমি বললাম, প্রথম জনের ব্যাপার তো স্পষ্ট। কারণ, সে কুরআনকে মাখলুক বলে। কিন্তু দ্বিতীয় জনের পিছনে নামায বাদ দেওয়ার কারণ কী? তার কথা তো ঠিকই আছে। ইমাম বললেন, ‘কারণ, তারা দ্বীন নিয়ে বিবাদ করেছে। অথচ দ্বীন নিয়ে বিবাদ বিদআত।’
এখানে কালামের কোনো উল্লেখ নেই; বরং স্রেফ কুরআন নিয়ে বিতর্ককেও ইমাম নিষেধ করেছেন। এসব বিষয় নিয়ে বিতর্ককারীর পিছনে নামায পড়তে বারণ করেছেন। ফাতহুল কাদিরে আরও স্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে। ইমাম আবু ইউসুফ রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘মুতাকাল্লিম তথা কালাম চর্চাকারীর পিছনে নামায পড়া বৈধ নয়, সত্য বললেও।’ অর্থাৎ আকিদা নিয়ে যে বিতর্ক করবে সে-ই বিদআতি গণ্য হবে, হোক সে সত্যবাদী। তার পিছনে নামায বর্জন করা হবে।
সুতরাং বিতর্ক কোন নামে হচ্ছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং আহলে সুন্নাতের মাঝে এগুলো নিয়ে বিতর্ক করা সর্বতোভাবেই নিন্দনীয়। কারণ হলো, এগুলো দ্বীনের কোনো মৌলিক বিষয় নয়। সামগ্রিকভাবে সকলেই হকের উপর। স্রেফ উত্তম-অনুত্তমের ব্যাপার। কিন্তু সেটা নিয়ে যখন বিতর্ক অব্যাহত থাকবে, একপর্যায়ে তা বিরাট বিষয়ে পরিণত হবে। ফেতনা ছড়াবে। দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি মনোযোগ হ্রাস পাবে। উপরন্তু শাখাগত বিষয়ে বিতর্ক শুরু করলে মুসলিম উম্মাহর বিভক্তি অনিবার্য হবে। ঐক্য বিনষ্ট হবে। উম্মাহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে গুরুত্বহীন বিষয়ের মাঝে ডুবে যাবে। দ্বীনের শাখাগত বিষয়গুলোকে মৌলিক বানিয়ে ফেলবে। এটা অত্যন্ত ভয়ংকর ব্যাপার, যা আমাদের চারপাশে আমরা নিজ চোখে দেখতে পাচ্ছি। ফলে কালামকে নিন্দা করে ‘আকিদা’র নামে উম্মাহর মাঝে শাখাগত ও গৌণ বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক করা, একে অন্যকে আহলে সুন্নাত থেকে খারিজ করা এবং বিদআতি আখ্যা দিয়ে মুসলিম উম্মাহর দুর্বল দেহকে কেটে টুকরো টুকরো করা আর যা-ই হোক, ইসলামের কাজ নয়। এটা এক ধরনের তালবিসে ইবলিস তথা শয়তানের ধোঁকা। কালামকে নিন্দা করলে আকিদার নামে শাখাগত বিষয় নিয়ে উম্মাহর মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করারও নিন্দা করতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘হেদায়াত লাভের পরে কোনো সম্প্রদায় তখনই বিভ্রান্ত হয়, যখন তারা বিতর্কে জড়ায়। ’ ফলে দ্বীনের শাখাগত সকল বিষয় নিয়ে বিতর্ক বাদ দিতে হবে। কারণ, তাতে হেদায়াত নেই, কল্যাণ নেই। আহলে সুন্নাতের বিভিন্ন ধারা হাজার বছর ধরে আকিদার শাখাগত বিষয়গুলো নিয়ে বিরোধ করছে। আজ পর্যন্ত কোনো সর্বসম্মত সমাধানে আসতে পেরেছে? পারেনি। কিয়ামত পর্যন্ত আসতে পারবে না। কারণ, এগুলো একমত হওয়ার বিষয়ই নয়। আবার এগুলোতে দ্বিমত থাকা সত্ত্বেও তাদের একদল অন্যদলকে কাফের বা জাহান্নামি বলতে পারছে না. নিজেকে জান্নাতি সনদও দিতে পারছে না। ফলে এই সহস্রাধিক বছরের বিতর্ক একটা বদ্ধগলিতে গিয়ে আটকা পড়ছে। এখান থেকে উম্মাহকে বের হতে হবে। দ্বীনের মৌলিক বিষয় নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিলে সকলে মিলে সেটার বিরোধিতা করতে হবে। শিরকের পরিবর্তে তাওহিদ এবং বিদআতের পরিবর্তে সুন্নাহ প্রচারের জিহাদ অব্যাহত রাখতে হবে। কিন্তু নিজেদের মাঝে বিদ্যমান শাখাগত বিষয়ে বিতর্ক পরিহার করতে হবে। উম্মাহর আলেম ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমগণ এটা যত দ্রুত উপলব্ধি করবেন, ততই মঙ্গল।
টিকাঃ
১৫৯. ফাতহুল কাদির (১/৩৫০)। তাতারখানিয়্যাহ (১৮/২৭৬-২৭৭)।
১৬০. তালখিসুল আদিল্লাহ, সাফফার (৫৬)।
১৬১. ফাতহুল কাদির (১/৩৫১)।
১৬২, তিরমিযি (আবওয়াবু তাফসিরিল কুরআন: ৩২৫৩)। ইবনে মাজা (আবওয়াবুস সুন্নাহ: ৪৮)
📄 আকিদা বিষয়ে ইমাম আজমের গ্রন্থগুলোর প্রামাণ্যতা
আকিদা বিষয়ে লিখিত পাঁচটি প্রসিদ্ধ প্রাচীন পুস্তিকা ইমাম আবু হানিফা রহ.- এর দিকে সম্পৃক্ত করা হয়। সেগুলো হলো : এক. আল-ফিকহুল আকবার। সংকলক : ইমামপুত্র হাম্মাদ ইবনে আবু হানিফা। দুই. আল-ফিকহুল আবসাত। সংকলক : আবু মুতি বলখি। তিন. আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম। সংকলক : আবু মুকাতিল সমরকন্দি। চার. আর-রিসালাহ। বসরার আলেম উসমান আল- বাত্তির কাছে লেখা ইমামের চিঠি। পাঁচ. আল-ওয়াসিয়্যাহ। জীবনের শেষলগ্নে ইমামপ্রদত্ত ওসিয়ত সংকলন।
যেহেতু এসব গ্রন্থ অত্যন্ত প্রাচীন, সহস্র বছরের চেয়েও বেশি পুরোনো, ফলে স্বাভাবিকভাবেই এসব গ্রন্থের প্রামাণ্যতার উপর আপত্তি ওঠে, যেমন প্রাচীন অসংখ্য গ্রন্থের উপরই উঠেছে। এগুলোর উপর ওঠা আপত্তি মোটা দাগে দুই ধরনের। নিচে আমরা সেসব আপত্তি এবং সেগুলোর উপর আমাদের পর্যালোচনা ধারাবাহিকভাবে পেশ করছি।
📄 সামগ্রিক সংশয়
যদিও এসব গ্রন্থ অত্যন্ত প্রাচীন এবং সেই প্রথম কয়েক শতাব্দীতেই এগুলোর উপর ব্যাখ্যাগ্রন্থ লেখা হয়েছে, এসব গ্রন্থের আলোকে বড় বড় ইমাম আবু হানিফার আকিদা লিখেছেন, চর্চা করেছেন, বিচার করেছেন, যাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন ইমাম আবু জাফর তহাবি, আবু মনসুর আল-মাতুরিদি, আবুল লাইস সমরকন্দি, ইবনে ফওরক, আবদুল কাহের বাগদাদি, আবুল মুজাফফর ইসফারায়েনি প্রমুখ, তবুও কোনো কোনো গবেষক এসব গ্রন্থের উপর আপত্তি তুলেছেন; বরং তাদের কেউ কেউ সুস্পষ্ট ভাষায় এসব গ্রন্থকে ইমাম আবু হানিফার নয় বলে মত দিয়েছেন। তাদের মাঝে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন ওরিয়েন্টালিস্ট গবেষক কার্ল ব্রুকলম্যান। তিনি তাঁর ‘আরবি সাহিত্যের ইতিহাস’-শীর্ষক গ্রন্থে বলেন, ‘আবু হানিফা থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত কোনো গ্রন্থ নেই। ফলে আল-ফিকহুল আকবার নামে প্রসিদ্ধ দুটো গ্রন্থ তাঁর নয়। খুব সম্ভবত এগুলো আশআরির পরে লেখা হয়েছে। ’
মিশরীয় গবেষক আহমদ আমিন ‘আল-ফিকহুল আকবার’-এর উপর নানান সন্দেহ ও সংশয় উত্থাপন করেছেন। এ কিতাবগুলোর প্রামাণ্যতার ব্যাপারে বিভিন্ন বক্তব্য উল্লেখ করেছেন। শেষে অবশ্য আংশিকভাবে হলেও ইতিবাচক মত দিয়েছেন। তার মতে, আমাদের সামনে বিদ্যমান ‘আল-ফিকহুল আকবার’ মৌলিকভাবে ইমাম আবু হানিফার গ্রন্থ। তবে তাতে পরবর্তী সময়ে কিছু সংযোজিত হয়েছে। কী সংযোজিত হয়েছে সেটা অবশ্য বলেননি।
শায়খ শিবলি নুমানিও ‘আল-ফিকহুল আকবার’-এর প্রামাণ্যতার উপর সশংয় প্রকাশ করেছেন এবং এটা যে ইমামের কিতাব সেটা মেনে নিতে তাঁর দ্বিধার কথা জানিয়েছেন। তাঁর একটি যুক্তি হলো, আল-ফিকহুল আকবারে এমন কিছু পরিভাষা এসেছে, যেগুলো ইমামের যুগে ছিল না। যেমন: ‘জাওহার’, ‘আরাজ’ ইত্যাদি দার্শনিক পরিভাষা, যেগুলো পরবর্তী সময়ে অস্তিত্বে এসেছে, বিশেষত আব্বাসি যুগে অনুবাদকেন্দ্রিক জাগরণের মাধ্যমে। শিবলি নুমানির আরেকটি আপত্তি হচ্ছে : দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শতাব্দের গ্রন্থগুলোতে এই কিতাবের ব্যাপারে কোনো বক্তব্য নেই; বরং পঞ্চম শতাব্দে বাযদাবিই সর্বপ্রথম এটার নাম উল্লেখ করেন। শিবলি নুমানির তৃতীয় সংশয় হলো আবু মুতি বলখিকে ঘিরে। তাঁর ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের তাজরিহ তথা সমালোচনা অত্যন্ত বেশি। ফলে তিনি নির্ভরযোগ্য নন। সুতরাং স্রেফ এমন ব্যক্তির মাধ্যমে বর্ণিত কোনো গ্রন্থকে গ্রহণযোগ্য বলে মেনে নেওয়া যায় না। এ কারণে শিবলি নুমানির কথা হচ্ছে, আবু মুতি বলখি নিজে হয়তো এ কিতাব লিখে থাকবেন, যা ধীরে ধীরে ইমাম আজমের নামে প্রচারিত হয়েছে এবং পরবর্তীকালেও এর সংযোজন অব্যাহত থেকেছে। বরং কেবল আল-ফিকহুল আকবার নয়, শায়খ নুমানি মনে করেন, ‘আজ ইমাম আজমের কোনো গ্রন্থ আমাদের সামনে নেই।’ এর মানে, তিনি কেবল ‘আল-ফিকহুল আকবার’ নয়, বরং ‘আল-ফিকহুল আবসাত’, ‘আল-আলিম ওয়াল মুতাআল্লিম’, উসমান বাত্তির কাছে ইমাম আজমের চিঠি (আর-রিসালাহ), তাঁর ওসিয়ত সংকলন ‘আল-ওয়াসিয়্যাহ’ এগুলোর কোনোটা ইমাম আজমের গ্রন্থ হিসেবে মানছেন না।
টিকাঃ
১৬৩. দেখুন : তারিখুল আদাবিল আরাবি (৩/২২৭-২২৮)।
১৬৪. দেখুন: যুহাল ইসলাম (২/১৯৭-১৯৮)।
১৬৫. দেখুন: সিরাতে নুমান (২/১১৭-১১৯)।
📄 আংশিক সংশয়
একদল আলেম এসব গ্রন্থকে সামগ্রিকভাবে ইমাম আজম রহ.-এর গ্রন্থ মনে করেন। তবে তারা মনে করেন-এগুলো হুবহু ইমাম আজমের সংরক্ষিত আকিদা নয়, বরং এতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। আমরা এখানে সেসব আলেমের নাম উল্লেখ করব না। স্রেফ সংশয়গুলো উল্লেখ করে সেগুলোর যথার্থতা-অযথার্থতা দেখাব।
তাদের একদল আল-ফিকহুল আকবারের বিভিন্ন বক্তব্য পরবর্তীকালে অনুপ্রবেশকৃত মনে করেন। যেমন-একজন লিখেছেন, (وَقَدْ كَانَ الله تَعَالَى مُتكَلِّمًا وَلَمْ يَكُنْ كَلّم مُوسَى عَلَيْهِ السَّلَام وَقَدْ كَانَ الله تَعَالَى خَالِقًا فِي الْأَزَلِ ولم يخلق الخلق فَلَمَّا كلم الله مُوسَى كَلِّمه بِكَلَامِهِ الَّذِي هُوَ لَهُ صفة فِي الْأَزَّلِ) অর্থ : “আল্লাহ মুসার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। কিন্তু মুসার সঙ্গে কথা বলার অনেক আগে অনাদিতেও আল্লাহ তায়ালা ‘মুতাকাল্লিম’ (কালাম গুণসম্পন্ন) ছিলেন, যেমন গোটা সৃষ্টিজগৎ সৃষ্টি করার আগেও আল্লাহ তায়ালা ‘খালিক’ (সৃষ্টিকর্তা) ছিলেন। সুতরাং তিনি যখন মুসার সঙ্গে কথা বলেছিলেন, তখন তাঁর সেই শাশ্বত ‘কালাম’ গুণের মাধ্যমে কথা বলেছিলেন।” -এ কথা ইমাম বলেননি। একইভাবে (وَاللَّهُ تَعَالَى يَتَكَلَّم بِلَا آلَةٍ وَلَا حُرُوف) অর্থ : ‘আল্লাহ কথা বলেন উপকরণ ও অক্ষর ছাড়া।’-এটাও পরবর্তীকালে অনুপ্রবেশকৃত; ইমামের বক্তব্য হতে পারে না। একইভাবে (ولفظنا بِالْقُرْآنِ مَخْلُوق) অর্থ : ‘কুরআনে (পাঠের সময়) আমাদের শব্দ সৃষ্ট’-এটাও পরবর্তীকালে সংযোজিত। একইভাবে (وَاللَّهُ تَعَالَى يرى في الآخِرَة وَيَرَاهُ الْمُؤْمِنُونَ وهم في الجنَّة بأعين رؤوسهم بلا تشبيه ولا كيفيّة ولا يكون بينه وبين خلقه مَسَافَة অর্থ : ‘আখেরাতে আল্লাহকে দেখা যাবে; মুমিনরা জান্নাতে স্বচক্ষে আল্লাহর দিদার লাভ করবে, তবে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য বা ধরণ ব্যতিরেকে। তাঁর ও সৃষ্টির মাঝে তখন কোনো দূরত্ব থাকবে না।’-এটাকেও তারা পরবর্তীকালে সংযোজিত মনে করেন।
তাদের এ দাবির পক্ষে দলিল হলো, ‘এসব বিষয় সে যুগে প্রচলিত ছিল না, বরং পরবর্তীকালে কালামপন্থিরা এগুলো উদ্ভাবন করেছে এবং ইমামের নামে চালিয়ে দিয়েছে। আকিদাহ তহাবিয়্যাহতে ইমাম তহাবি এগুলো বর্ণনা করেননি। এগুলো ইমামের আকিদা হলে ইমাম তহাবি উল্লেখ করতেন।’