📄 আবু হানিফা : আহলে সুন্নাতের আকিদার ইমাম
ইমাম আজম রহ.-এর সকল জীবনীকার ও ঐতিহাসিক এ ব্যাপারে একমত যে, ফিকহের প্রতি মনোযোগী হওয়ার আগে তিনি বিধর্মী, নাস্তিক ও ইসলামবিরোধীদের বিরুদ্ধে ইসলামের একজন প্রখ্যাত মুনাযির হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিলেন। কুরআন-সুন্নাহ ও যুক্তির মাধ্যমে তিনি ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতেন। সালাফের আকিদার সুরক্ষা নিশ্চিত করতেন। বিভ্রান্ত ফিরকাগুলোর বিভ্রান্তি খণ্ডন করতেন। আকিদা ছাড়া সে সময়ে তিনি আর কোনো শাস্ত্র চর্চা করতেন না। ফলে তিনি ছিলেন তাঁর যুগের শ্রেষ্ঠ মুনাযির, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকিদার শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার। খালেদ ইবনে ইয়াযিদ আল-উমরি বলেন, ‘আবু হানিফা, আবু ইউসুফ, যুফার ও হাম্মাদ ইবনে হানিফা, তাদের প্রত্যেকেই কালাম সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। তারা মানুষের সঙ্গে মুনাযারা করেছেন, তাদের খণ্ডন করেছেন। তারা এ শাস্ত্রের ইমাম।’
যুফার বলেন, ‘আমি আবু হানিফা রহ.-কে বলতে শুনেছি—(ইমাম বলেন) আমি কালাম চর্চা করতাম। এ শাস্ত্রে পর্বতপ্রমাণ প্রসিদ্ধি লাভ করি...।’ কবিসা ইবনে উকবা বলেন, ‘আবু হানিফা তাঁর জীবনের প্রথম দিকে প্রবৃত্তিপূজারী ও বাতিলপন্থিদের বিরুদ্ধে মুনাযারা (বিতর্ক) করতেন। এক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেন। পরবর্তীকালে তর্কশাস্ত্র পরিত্যাগ করে ফিকহ ও সুন্নাহতে মনোযোগী হন, আহলে সুন্নাতের ইমামে পরিণত হন।’ ইয়াহইয়া ইবনে শাইবান থেকে বর্ণিত, আবু হানিফা রহ. বলেন, ‘আমাকে কালামশাস্ত্রে আল্লাহ গভীর জ্ঞান দান করেছিলেন। বিশাল একটা সময় আমি এ শাস্ত্রে ব্যাপৃত থাকি, চর্চা করি, এর সুরক্ষা নিশ্চিত করি। বসরা তখন ছিল (ধর্মীয় বিষয়গুলো নিয়ে) বিতর্ক-বিবাদের কেন্দ্র বিন্দু। আমি কুড়িবারেরও বেশি সেখানে গিয়েছি। কোনো কোনোবার এক বছর থেকেছি। কখনো আরও কম বা বেশি। আমি ইবাযিয়্যাহ ও সুফরিয়্যাহ-সহ বিভিন্ন খারেজি ও হাশাভি সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিতর্ক করি...। পরবর্তীকালে আমি বিতর্ক ছেড়ে দিই। সালাফে সালেহিনের আদর্শ (ফিকহ, হাদিস ইত্যাদিতে) মনোযোগী হই।’
জীবনের এই পরিবর্তনের মুখে তিনি আকিদাচর্চা কিংবা আকিদার সুরক্ষা ছেড়ে দিয়েছিলেন এমন নয়, বরং তৎকালীন কালামশাস্ত্র ও প্রচলিত বিতর্ক ছেড়ে দিয়েছিলেন; কিন্তু কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বিশুদ্ধ আকিদাচর্চা এবং বিভ্রান্ত আকিদার খণ্ডন কখনোই পরিত্যাগ করেননি। সেটা সম্ভবও ছিল না। কারণ, ইরাক ছিল বিভিন্ন বিভ্রান্ত ফিরকার কারখানা। কুফা ও বসরাতে প্রতিদিন নতুন নতুন বিভ্রান্তি ও বিদআতের জন্ম হতো, মক্কা কিংবা মদিনা যা থেকে মুক্ত ছিল। ফলে ইমাম আজমকে জীবনভর সহিহ আকিদার সুরক্ষা এবং নানামুখী গোমরাহির বিরুদ্ধে যতটা লড়াই করতে হয়েছে, খুব কম ইমামকেই সেটা করতে হয়েছে। কেবল নিজে নন, ছাত্রদেরও তিনি আকিদার ক্ষেত্রে বীর সেনানী করে গড়ে তোলেন। ফিকহের পাশাপাশি তাঁর মজলিসগুলোতে আকিদাচর্চা অব্যাহত রাখেন। আবু ইউসুফের সঙ্গে এক কুরআনের মাসআলা নিয়ে দীর্ঘ ছয় মাস আলোচনা করেন। আকিদার বিভিন্ন মাসআলায় তাঁর বিছিন্ন ছাত্র ও আলেমের কাছে চিঠি লিখেন। বিভ্রান্ত ফিরকাগুলোর বিরুদ্ধে তিনি ও তাঁর ছাত্ররা মুনাযারা অব্যাহত রাখেন। হিজরি দ্বিতীয় শতকের তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যার দিকে আকিদার কমপক্ষে পাঁচটি কিতাব সরাসরি সম্পৃক্ত করা হয়। এ কারণে ফিকহের ক্ষেত্রে তিনি যেমন ইমাম, আকিদার ক্ষেত্রেও তিনি আহলে সুন্নাতের প্রধান সারির ইমাম।
কিন্তু এটা এত সহজ ছিল না। অসংখ্য কুরবানি দিতে হয়েছে এর জন্য। বিশুদ্ধ আকিদা প্রচার এবং ভ্রান্তদের খণ্ডনের কারণে তিনি কম মুসিবতের শিকার হননি। বরং আকিদার কারণে ইমাম আজম আবু হানিফা রহ. যতটা চতুর্মুখী সংকট, নানামুখী জটিল সমস্যা ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছেন, সালাফে সালেহিনের ইমামদের মাঝে সেটা একদম বিরল। খারেজিরা বারবার তাঁর মাথায় তরবারি ধরেছে, হত্যা করতে চেয়েছে। দাহরিয়্যিন নাস্তিকরা তাকে হত্যা করার জন্য উন্মুক্ত তরবারি নিয়ে কুফার মসজিদে হামলা করেছে। জাহমিয়্যাহরা তাকে খারেজি আখ্যা দিয়েছে। মুরজিয়ারা তার নামে নিজেদের মতাদর্শ বিক্রির উদ্দেশ্যে তাকে মুরজিয়া বলে প্রচার করেছে। এগুলো বাইরের আঘাত। ভিতরের আঘাতও কম নয়। একদল তাকে ‘খালকে কুরআন’ (কুরআন সৃষ্টির) মিথ্যা অভিযোগে মুশরিক আখ্যা দিয়েছে, আরেক দল মুরজিয়া বানিয়ে দিয়েছে। একদল হাদিস-বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করেছে, আরেক দল তাকে যমিনের উপর সবচেয়ে নিকৃষ্ট মানুষ, ইসলামের কলঙ্ক বানিয়ে দিয়েছে। শেষে শাসকগোষ্ঠীর হাতে তিনি অন্তরিন অবস্থায় শাহাদাত বরণ করেছেন।
আকিদা ও আদর্শের কারণে ঘর ও বাইরের এত আঘাত আর কোনো তাবেয়ি ইমামকে সহ্য করতে হয়নি। জীবনভর বিভ্রান্ত লোকেরা তার বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, অপবাদ রটিয়েছে, হত্যার চেষ্টা করেছে। আর ঘরের লোকেরা ভুল বুঝেছে। কিন্তু আল্লাহ তাকে চিনেছেন। তাঁর কুরবানির মূল্য দিয়েছেন। ফলে জীবদ্দশায় যে মানুষটি মুশরিক, মুরজিয়া, পরিত্যক্ত-সহ নানান অপবাদবাণে জর্জরিত হয়েছেন, মৃত্যুর পরে আল্লাহ তাকে সুরাইয়াসম উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন। তাকে ‘ইমাম আজম’ হিসেবে কবুল করে নিয়েছেন। ফিকহ ও আকিদা উভয় ক্ষেত্রে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের ইমাম বানিয়ে দিয়েছেন। রাযিয়াল্লাহু আনহু।
এই গ্রন্থে আমরা তাঁর উপর ঘরে-বাইরের লোকদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত সকল অভিযোগ-অপবাদের জবাব দিতে পারব না। কারণ, এটা আমাদের মূল আলোচ্য বিষয় নয়। তবে বিশুদ্ধ আকিদা প্রচার এবং ভ্রান্ত আকিদা খণ্ডনে তাঁর কুরবানির কিছু দিক অবশ্যই উল্লেখ করার চেষ্টা করব। পাশাপাশি বিভিন্ন মাসআলা নিয়ে আলোচনার সময় প্রতিপক্ষ কীভাবে তাকে ভুল বুঝেছে কিংবা ভিত্তিহীন অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে, সেগুলো দেখাব, ইনশাআল্লাহ।
টিকাঃ
৬২. মানাকিব, মক্কি (১০০)। বাযযাযি (৪৪)।
৬৩. মানাকিবে মক্কি (৫১, ৫৪,৫৫)।
৬৪. আসমা ওয়াস সিফাত, বাইহাকি (১/৩৮১)।
৬৫. শাদ্দাদ ইবনে হাকিম বর্ণনা করেন, আবু হানিফা রহ. কাদারিয়্যাহদের সঙ্গে মুনাযারার পদ্ধতি শেখাতে গিয়ে বলেন, “যখন তাকদির অস্বীকারকারীর সঙ্গে বিতর্ক করবে, তখন মাত্র দুটো কথা দিয়েই তাকে পরাস্ত করতে পারবে। হয়তো তাওবা করবে, নয়তো কাফের হয়ে যাবে। তৃতীয় কোনো পথ নেই। তাকে জিজ্ঞাসা করবে, আল্লাহ তায়ালা অনাদিতে বর্তমানের সবকিছু সম্পর্কে জানতেন কি না? যদি বলে, ‘না’, তবে সে কাফের। আর যদি বলে, ‘হ্যাঁ’, তবে তাকে জিজ্ঞাসা করবে, তিনি কি চেয়েছেন তাঁর জানা ঠিক থাকুক এবং তাঁর নির্দেশে সবকিছু সেভাবেই ঘটুক, নাকি চাননি? যদি বলে, ‘না’, তবে সে কাফের। আর যদি বলে, ‘হ্যাঁ’, তবে সে তাকদির স্বীকার করে নিল।” [তারিখে বাগদাদ: ১৫/৫১৬] হাসান বসরির শাগরেদ উসমান আল-বাত্তির কাছে লেখা চিঠিতে ইমাম তাকে আকিদার ব্যাপারে বলেন, ‘এটা আপনার সঙ্গী-শাগরেদদের শিক্ষা দিন। তাদের এ পথে ডাকুন। এর উপর উৎসাহিত করুন। কেননা, এটাই সর্বোত্তম ইলম। এরচেয়ে উত্তম কোনো ইলম আপনি শিখতে পারবেন না, শেখাতে পারবেন না। এটা করতে পারলে নামাযি, রোযাদার এবং আল্লাহর পথে জিহাদকারীর চেয়ে আপনার বেশি পুণ্য মিলবে। যদি আহলে বিদআত আপনার মাঝে কোনো সন্দেহ তৈরি করে, তবে আমাকে জানান। আমি আপনার সংশয় দূর করতে সহায়তা করব।’ [আর-রিসালাহ : ৩৭; তালখিসুল আদিল্লাহ: ৫৪]
৬৬. ইমাম আজম রহ. তাবেয়ি ছিলেন। তিনি আনাস ইবনে মালেক (৯৩ হি.), আবদুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (৮৭ হি.), আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস (৮৮ হি.), আবুত তুফাইল-সহ (১১০ হি.) একাধিক সাহাবিকে দেখেছেন। এটা ইবনে সাদ, শিরাজি, সাইমারি, বাযযাযি, খতিবে বাগদাদি, নববি, আসকালানি, সাখাভি, সুয়ুতি, আইনি-সহ সকল মুহাক্কিক ইমামের বক্তব্য। কাযি সাইমারি (৪৩৬ হি.) আনাস ইবনে মালেক রাযি.-এর সঙ্গে ইমামের কথোপকথনের কথাও উল্লেখ করেছেন। খতিবে বাগদাদিও আনাস রাযি.-এর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করেছেন। শিরাজি (৪৭৬ হি.) তাকে ফকিহ তাবেয়িদের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন। এ এমন এক বিরল সৌভাগ্য যা তাঁর সামসময়িক অন্যান্য প্রসিদ্ধ ইমামের কারও নসিব হয়নি।
📄 জাহমিয়্যাহদের বিরুদ্ধে ইমাম
আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ. আবু হানিফার কাছে এলে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, কী খবর? ইবনুল মুবারক বলেন, জাহম নামের এক লোকের আর্বিভাব ঘটেছে। ইমাম বললেন, সে কী বলে? ইবনুল মুবারক বললেন, কুরআনকে মাখলুক বলে। তখন আবু হানিফা রহ. এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন, لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ وَلَا لِآبَابِهِمْ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا : مَا অর্থ : ‘এই বিষয়ে এদের কোনো জ্ঞান নেই এবং এদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না। এদের মুখনিঃসৃত কথা কী সাংঘাতিক! এরা তো কেবল মিথ্যাই বলে।’ [কাহাফ : ৫] তিনি তাঁর পিছনে নামায পড়তেও নিষেধ করেন।
একপর্যায়ে ইমাম আজম রহ. জাহম ইবনে সাফওয়ানের বিভ্রান্তি সম্পর্কে জানার পর সেগুলোকে কুফর আখ্যা দেন। জাহমিয়্যাহদের বিভ্রান্ত ফিরকা হিসেবে গণ্য করেন; বরং তাকফিরের ক্ষেত্রে ইমাম আজম রহ. অত্যন্ত সতর্ক ও রক্ষণশীল হওয়া সত্ত্বেও জাহম ইবনে সাফওয়ানকে তিনি কাফের ফাতাওয়া দেন।
আবু ইসহাক খাওয়ারযেমি বলেন, একবার জাহম ইবনে সাফওয়ান আবু হানিফার কাছে এলেন। জাহম বললেন : আমি আপনার সাথে কিছু কথা বলার জন্য এসেছি। ইমাম বললেন : তোমার সঙ্গে কথা বলা কলঙ্কের। আর ওসব বিষয়ে প্রবেশ করা আগুনের মাঝে প্রবেশের মতো।
জাহম : আমার সঙ্গে দেখা কিংবা আমার কথা শোনার আগেই এ ধরনের মন্তব্য করা উচিত হলো?
ইমাম : আমি তোমার ব্যাপারে এমন অনেক কথা শুনেছি যা কোনো মুসলিম বলতে পারে না।
জাহম : আপনি অদৃশ্যের উপর ভিত্তি করে আমার উপর ফয়সালা করবেন?
ইমাম : এগুলো তোমার ব্যাপারে প্রসিদ্ধ হয়ে গেছে। সকল জনসাধারণের কাছে এগুলো স্পষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এ ব্যাপারে তোমার উপর অভিযোগ করতে বাধা নেই।
জাহম : আমি আপনার কাছে শুধু ঈমান সম্পর্কে জানতে এসেছি। ফলে কেবল এটা নিয়েই কথা বলুন।
ইমাম : এখন পর্যন্ত ঈমান চিনতে পারোনি?
জাহম: হ্যাঁ, পেরেছি। কিন্তু আমি একটু দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও সংশয়ে আছি।
ইমাম : ঈমানের বিষয়ে কোনো ধরনের সংশয় কুফর।
জাহম : কোন দিক থেকে কুফর বুঝিয়ে বলবেন কি?
ইমাম : তুমি কোনটা জানতে চাও?
জাহম: যদি কেউ তার হৃদয়ে আল্লাহকে চেনে। জানে যে, আল্লাহ এক। তাঁর কোনো শরিক নেই। অংশীদার ও প্রতিপক্ষ নেই। তাঁর সকল গুণও জানে। তাঁর মতো কেউ নেই জানে। কিন্তু মুখে সেগুলো স্বীকার না করে মৃত্যুবরণ করে। এমন ব্যক্তির মৃত্যু মুমিন না কাফের অবস্থায় হলো?
ইমাম : যদি অন্তরের জানা মুখে স্বীকার না করে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে কাফের, জাহান্নামের অধিবাসী।
জাহম : আল্লাহর সকল সিফাত জানার পরও মুমিন হবে না কীভাবে?
ইমাম : যদি তুমি কুরআনকে দলিল হিসেবে মানো, তবে তোমার সাথে কথা বলব। আর যদি কুরআনকে দলিল হিসেবে না মানো, তবে তোমার সাথে কথা নেই।
জাহম : কুরআনে আমি বিশ্বাস করি এবং দলিল হিসেবে মানি।
ইমাম : আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ঈমানকে হৃদয় ও মুখ দুটোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন। আল্লাহ বলেন, وَإِذَا سَمِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَى أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّমْعِ مِمَّا عَرَفُوا مِنَ الْحَقِّ يَقُولُونَ رَبَّنَا ءَامَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّهِدِينَ وَمَا لَنَا لَا نُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَمَا جَاءَنَا مِنَ الْحَقِّ وَنَطْمَعُ أَن يُدْখِلَنَا رَبُّنَا مَعَ الْقَوْمِ الصَّالِحِينَ * فَأَتَبَهُمُ اللَّهُ بِمَا قَالُوا جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذَلِكَ جَاءُ الْمُحْسِنِينَ
অর্থ : আর তারা রাসুলের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা যখন শোনে, তখন আপনি তাদের চোখ অশ্রুসিক্ত দেখতে পাবেন। এ কারণে যে, তারা সত্যকে চিনে নিয়েছে। তারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক, আমরা মুসলমান হয়ে গেলাম। অতএব, আমাদেরও মান্যকারীদের তালিকাভুক্ত করে নিন। আল্লাহ এবং আমাদের কাছে আগত সত্যে আমাদের ঈমান না আনার কী কারণ থাকতে পারে যখন আমরা প্রত্যাশা করি আল্লাহ আমাদের সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করুন? সুতরাং তাদের এ কথার কারণে আল্লাহ তাদের এমন সব উদ্যান দান করবেন, যার তলদেশে নহর প্রবহমান থাকবে। তাতে তারা সর্বদা থাকবে। এটাই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।’ [মায়িদা: ৮৩-৮৫] ফলে জান্নাতে যাওয়ার জন্য অন্তরের জানা এবং মুখের স্বীকৃতি দুটোই জরুরি।
قُوْلُوْا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَعِيْلَ وَإِسْحَقَ وَيَعْقُوْবَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّوْنَ مِنْ رَّبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُوْনَ ﴿১৩৬﴾ فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا وَ إِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ﴿১৩৭﴾ অর্থ : ‘তোমরা বলে দাও যে, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি এবং সেই বাণীর প্রতি যা আমাদের উপর নাযিল করা হয়েছে আর যা ইবরাহিম, ইসমাইল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাদের সন্তানদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যা দেওয়া হয়েছিল মুসা ও ঈসাকে, যা অন্য নবিগণকে তাঁদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল। আমরা নবিগণের মাঝে কোনো পার্থক্য করি না। আমরা তাঁরই অনুগত। এবং তারা যদি ঈমান আনে যেভাবে তোমরা ঈমান এনেছ, তবে তারা সুপথ পাবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারা হঠকারিতায় রয়েছে। সুতরাং এখন তাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।’ [বাকারা: ১৩৬-১৩৭]
আল্লাহ আরও বলেন, ﴾وَأَلْজَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَى ﴿ অর্থ : ‘আর তাদের তাকওয়ার বাক্যে সুদৃঢ় করলেন...।’ [ফাতাহ : ২৬]
তিনি আরও বলেন, ﴾ وَهُدُوا إِلَى الطَّيِّبِ مِنَ الْقَوْلِ وَهُدُوا إِلَى صِرَاطِ الْحَمِيدِ ﴿ অর্থ : ‘তাদের পবিত্র বাক্যের অনুগামী করা হয়েছিল এবং তারা পরিচালিত হয়েছিল পরম প্রশংসাভাজন আল্লাহর পথে।’ [হজ : ২৪]
আরও বলেন, ﴾ إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ﴿ অর্থ : ‘তাঁরই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ সমুত্থিত হয়।’ [ফাতির : ১০]
অন্যত্র বলেন, ﴾ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ ءَامَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَوةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ﴿ অর্থ : ‘যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী, তাদের দুনিয়ার জীবনে এবং আখেরাতে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন।’ [ইবরাহিম : ২৭]
আল্লাহর রাসুল (ﷺ) বলেন, ‘তোমরা বলো লা ইলাহা ইলাল্লাহ, তাহলে সফলতা লাভ করবে।’ ফলে মুখের স্বীকৃতি ছাড়া কেবল অন্তরে জানলে কেউ মুমিন হবে না। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, “জাহান্নাম থেকে সে ব্যক্তি বের হয়ে আসবে যে বলত ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, আর যার অন্তরে দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে।” রাসুলুল্লাহ (স) এটা বলেননি যে, আল্লাহকে চিনত; বরং ঈমান যদি স্বীকৃতির পরিবর্তে কেবল জানার নামই হতো, তবে ঈমান প্রত্যাখানকারী পত্যেককে মুমিন বলা হতো। এই যুক্তিতে ইবলিসও মুমিন হতো। কেননা, সে আল্লাহকে চেনে ও জানে। তাঁকে স্রষ্টা, রিযিকদাতা, জীবিত ও মৃত্যুদাতা হিসেবে চেনে। ...বরং এতে সকল কাফের মুখে অস্বীকার করা সত্ত্বেও মুমিন হয়ে যেত।
আল্লাহ বলেন, وَجَحَدُوا بِهَا وَاسَيْقَنَتْهَا أَنفُسُهُمْ ظُلْمًا وَعُلُوا فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ অর্থ : ‘তারা অন্যায় ও অহংকার করে নিদর্শনাবলিকে প্রত্যাখ্যান করল, যদিও তাদের অন্তর এগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল।’ [নামল: ১৪] এখানে তাদের অন্তরের বিশ্বাস সত্ত্বেও তাদের মুমিন বলা হয়নি। কারণ, তারা মুখে অস্বীকার করেছে।
আল্লাহ আরও বলেন, يَعْرِفُونَ نِعْمَتَ اللَّهِ ثُمَّ يُنكِرُونَهَا وَأَكْثَرُهُمُ الْكَافِرُونَ অর্থ : ‘তারা আল্লাহর নেয়ামত চেনার পরও অস্বীকার করে। তাদের অধিকাংশই অকৃতজ্ঞ।’ [নাহল : ৮৩] আল্লাহ আরও বলেন, قُلْ مَن يَرْزُقُكُم مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ أَمَّن يَمْلِكُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَ مَن يُخْرِجُ الْحَى مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَى وَمَن يُدَبِّرُ الْأَمْرَ فَسَیَقُولُونَ اللَّهُ فَقُلْ أَفَلَا تَتَّقُونَ অর্থ: “আপনি জিজ্ঞাসা করুন, কে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে জীবনোপকরণ সরবরাহ করেন? শোনা ও দেখা কার কর্তৃত্বাধীন? জীবিতকে মৃত থেকে কে বের করেন, আর মৃতকে জীবিত থেকে কে বের করেন? এবং সকল বিষয় কে নিয়ন্ত্রণ করেন? তখন তারা বলবে, ‘আল্লাহ’। বলুন, তবুও কি তোমরা (তাকে) ভয় পাবে না?” [ইউনুস: ৩১] এখানেও দেখো কেবল অন্তরের জানাশোনা কোনো কাজে আসেনি। মুখে অস্বীকার করার কারণে অন্তরে নবিজিকে নিজেদের সন্তানদের মতো চিনেও তারা মুমিন হতে পারেনি।
ইমাম আজম রহ.-এর এই নুসুসভিত্তিক বুদ্ধিদীপ্ত কথা শুনে জাহম কিছুক্ষণ নীরব থেকে আস্তে উঠে চলে গেল।
নুহ ইবনে ইবরাহিম বলেন, ‘আমরা আবু হানিফার কাছে ছিলাম। তখন তিরমিয থেকে জাহমের অনুসারী এক নারী কুফায় এলো। সে কুফাবাসীকে তার (জাহমি) মতবাদের দিকে মানুষকে ডাকতে লাগল। হাজার হাজার মানুষ তার বক্তব্য শুনত। তখন তাকে বলা হলো, এখানে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ আবু হানিফা নামের একজন মানুষ আছেন। মাহিলাটি ইমামের কাছে এসে বলল, আপনি মানুষকে মাসআলা-মাসায়েল শেখাচ্ছেন, অথচ নিজে দ্বীন ত্যাগ করে বসে আছেন? আপনি যেই মাবুদের উপাসনা করেন, আপনার সেই মাবুদ কোথায় বলুন তো। ইমাম আজম নীরব থাকলেন। সাত দিন পর বললেন, ‘আল্লাহ তায়ালা আকাশে, যমিনে নন।’ তখন একব্যক্তি বলল, তাহলে আল্লাহর বাণী ‘তোমরা যেখানেই থাকো, তিনি তোমাদের সাথে আছেন’-এর অর্থ কী? ইমাম বললেন, এটার অর্থ ঠিক তেমন, যেমন তুমি কোনো লোকের কাছে চিঠি লিখলে, ‘আমি তোমার সাথে আছি’। অথচ তুমি তার কাছে নেই।
টিকাঃ
৬৭. তারিখে বাগদাদ (১৫/৫১৭)।
৬৮. তালখিসুল আদিল্লাহ, সাফফার (৫৬)।
৬৯. দেখুন: তারিখে বাগদাদ (১৫/৫০২)।
৭০. মানাকিব, মক্কি (১২৪-১২৬)।
৭১. আল-আসমা ওয়াস সিফাত, বাইহাকি (১/৫৮৮-১৫৮৯)।
📄 খারেজিদের বিরুদ্ধে ইমাম
ভ্রান্ত আকিদা থেকে সৃষ্ট সকল অন্যায় ও অনাচারের বিরুদ্ধে ইমাম আজম সবসময় সরব ছিলেন। সত্যপ্রকাশ এবং বিশুদ্ধ আকিদা প্রতিষ্ঠা ও প্রসারের ক্ষেত্রে তিনি জালেমের জুলুম কিংবা শাসকের উৎপীড়নকে ভয় করতেন না। খারেজি নেতা যাহহাক ইবনে কাইস শাইবানি যখন কুফা দখল করে নিল, জামে মসজিদে ঢুকে সেখানকার পুরুষদের হত্যা এবং নারীদের বন্দি করার নির্দেশ দিলো। ইমাম আজম একটি জামা ও চাদর গায়ে জড়িয়ে মসজিদে গেলেন। যাহহাককে লক্ষ্য করে বললেন, ‘আমি আপনাকে একটি কথা বলতে চাই।’ যাহহাক বলল, ‘বলুন!’ ইমাম বললেন, ‘কীসের ভিত্তিতে আপনি এসব পুরুষকে হত্যা এবং নারী-শিশুকে বন্দি করা হালাল বানিয়েছেন?’ যাহহাক বলল, ‘তারা ধর্মত্যাগী (মুরতাদ) হয়ে গিয়েছে, তাই।’ ইমাম বললেন, ‘আগে কি তাদের অন্য কোনো ধর্ম ছিল যে, ইসলাম ত্যাগ করে সে ধর্মে ফিরে গিয়েছে?’ যাহহাক বলল, ‘কী বললেন বুঝিনি! আবার বলুন।’ ইমাম আবার বললেন। যাহহাক তাঁর কথা শুনে বলল, ‘ ভুল হয়ে গেছে।’ অতঃপর তারা তরবারি কোষবদ্ধ করে চলে গেল। ইমামের বরকত ও সাহাসে কুফাবাসী রক্ষা পেল। এ কারণে কুফাবাসীকে ‘আবু হানিফার মাওয়ালি’ (আযাদকৃত দাস) বলা হতো।
কাযি আবু বকর আতিক ইবনে দাউদ খারেজিদের সঙ্গে ইমামের আরও একটি মুনাযারার কথা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, খারেজিরা যখন কুফা দখল করে নিল, আবু হানিফা তাদের হাতে আটক হলেন। তাদের বলা হলো, এই লোক (আবু হানিফা) এখানকার শায়খ। খারেজিরা যেহেতু তাদের প্রতিপক্ষকে কাফের মনে করত, ফলে তারা ইমামকে লক্ষ্য করে বলল, ‘শায়খ, আপনি কুফর থেকে তাওবা করুন।’ ইমাম বললেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে সকল প্রকারের কুফর থেকে তাওবা করলাম।’ তারা তাঁর পথ ছেড়ে দিলো। ইমাম চলে যাওয়ার পরে কেউ তাদের বলল, ‘তিনি কুফর বলতে আপনাদের কুফর থেকে তাওবা করেছেন।’ তখন তারা আবার তাকে ডেকে পাঠাল। ইমাম আসার পর খারেজিদের নেতা বলল, ‘শায়খ, আপনি কি আমাদের মতাদর্শকে কুফর মনে করে সেটা উদ্দেশ্য নিয়েছেন?’ ইমাম বললেন, ‘এটা তুমি ধারণা করে বললে, নাকি জেনেশুনে?’ খারেজি নেতা বলল, ‘ধারণা করে।’ ইমাম বললেন, “আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন, ‘নিঃসন্দেহে কিছু ধারণা পাপ।’ সুতরাং তুমি পাপ করেছ। আর তোমাদের কাছে পাপ হচ্ছে কুফর। অতএব, তুমি আগে কুফর থেকে তাওবা করো।’ খারেজি নেতা বলল, ‘সত্য বলেছেন। ঠিক আছে, আমি কুফর থেকে তাওবা করছি। আপনিও তাওবা করুন।’ ইমাম বললেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে সকল প্রকারের কুফর থেকে তাওবা করছি।’ তারা ইমামকে ছেড়ে দিলো।
ইমামপুত্র হাম্মাদ বর্ণনা করেন, যখন খারেজি সম্প্রদায় জানতে পারে ইমাম আবু হানিফা গুনাহের কারণে কোনো মুসলমানকে কাফের বলেন না, তখন তাদের সত্তর জন লোকের একটি দল কুফায় আসে। ইমামের আশেপাশে তখন অনেক ছাত্র ছিল। তারা তাকে ঘিরে রাখে। খারেজিরা ইমামকে লক্ষ্য করে বলল, আবু হানিফা, আমরা সবাই এক মিল্লাতের অনুসারী। লোকদের দূরে সরে যেতে বলুন। তিনি সবাইকে সরে যেতে বললেন। খারেজিরা ইমামের মাথার কাছে এসে তরবারি খুলে দাঁড়াল। অতঃপর তাকে লক্ষ্য করে বলল, হে আবু হানিফা, হে উম্মাহর দুশমন! তাদের কেউ কেউ বলল, হে উম্মাহর শয়তান! তোমাকে হত্যা করা আমাদের প্রত্যেকের কাছে সত্তর বছর জিহাদ করার চেয়ে উত্তম। কিন্তু আমরা তোমার উপর জুলুম করতে চাই না। ইমাম তাদের বললেন, ‘তাহলে কি ইনসাফ করতে চাও?’ তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, ‘তবে সবার আগে তরবারি কোষবদ্ধ করো।’ তারা বলল, সেটা সম্ভব নয়। তোমার রক্ত দিয়ে আমরা এগুলো সিক্ত করতে চাই। ইমাম বললেন, ‘তবে আল্লাহর নাম নিয়ে কথা শুরু করো।’ তারা বলল, ধরুন মসজিদের দরজায় দুটো জানাযা আছে; একটা হলো পুরুষ লোকের, যে মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করে মারা গিয়েছে। আরেকটা এক নারীর, যে ব্যভিচারের মাধ্যমে গর্ভবতী হওয়ার পর আত্মহত্যা করেছে। তাদের দুজনের বিধান কী? ইমাম বললেন, ‘তাদের দুজন কি ইহুদি ছিল?’ তারা বলল, না। ইমাম বললেন, ‘খ্রিষ্টান ছিল?’ তারা বলল, না। ইমাম বললেন, ‘অগ্নিপূজক ছিল?’ তারা বলল, না। ইমাম বললেন, ‘তাহলে তারা কোন ধর্মের ছিল?’ তারা বলল, যে ধর্ম বলে, আল্লাহ ছাড়া আর কোনা ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (স) তাঁর বান্দা ও রাসুল। ইমাম বললেন, ‘তবে এবার আমাকে বলো, এই সাক্ষ্য ঈমানের কতটুকু অংশ? অর্ধেক নাকি এক- তৃতীয়াংশ অথবা এক-চতুর্থংশ?’ তারা বলল, ঈমানের মাঝে কোনো বিভাজন হয় না। তিনি বললেন, ‘তাহলে এই সাক্ষ্য ঈমানের কতটুকু অংশ?’ তারা বলল, এটাই পূর্ণ ঈমান। তিনি বললেন, ‘তোমরা নিজের মুখেই স্বীকার করেছ তারা দুজন মুমিন ছিল। তাহলে আবার এমন প্রশ্ন কেন?’ তারা বলল, এসব বাদ দিন। আমরা জানতে চাচ্ছি তারা জান্নাতি নাকি জাহান্নামি? ইমাম বললেন, ‘এটা তো আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। যদি বলতেই হয়, তবে আমি তাদের ব্যাপারে সে কথা বলব, যা আল্লাহর নবি নুহ আ. তাদের চেয়েও অধিক অপরাধী সম্প্রদায়ের ব্যাপারে বলেছিলেন, وَقَالَ وَمَا عِلْمِي بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ অর্থ : ‘নুহ বললেন, তারা কী কাজ করত আমি কীভাবে বলব?’ [শুরা : ১১২] যেমনটা আল্লাহর খলিল ইবরাহিম আ. তাদের দুজনের চেয়ে অত্যন্ত জঘন্য অপরাধী সম্প্রদায়ের ব্যাপারে বলেছিলেন, رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيْرًا مِّنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّى وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ অর্থ : ‘হে আমার প্রতিপালক, এরা অনেক মানুষকে বিপথগামী করেছে। অতএব, যে আমার অনুসরণ করে, সে আমার দলভুক্ত; আর যে আমার অবাধ্য হলো, নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।’ [ইবরাহিম : ৩৬] যেমনটা ঈসা ইবনে মারইয়াম তাদের দুজনের চেয়ে গর্হিত অপরাধে নিমজ্জিত সম্প্রদায়ের ব্যাপারে বলেছিলেন, إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادُكَ وَإِنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ অর্থ : ‘যদি আপনি তাদের শাস্তি দেন, তবে তারা তো আপনারই বান্দা। আর যদি আপনি তাদের ক্ষমা করেন, তবে আপনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ [মায়িদা : ১১৮] আমি সে কথা বলব যা অবতীর্ণ হয়েছিল আমাদের নবি মুহাম্মাদ (স)-এর উপর : وَلَا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ إِنِي مَلَكٌ وَلَا أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَن يُؤْتِيَهُمُ اللَّهُ خَيْرًا اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا فِي أَنفُسِهِمْ إِنِّي إِذًا لَّمِنَ الظَّالِمِينَ অর্থ : ‘আর আমি তোমাদের বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধনভান্ডার রয়েছে। এ কথাও বলি না যে, আমি গায়েব তথা অদৃশ্যের সংবাদ জানি। এ কথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। আর আমি এ কথা বলি না যে, তোমাদের দৃষ্টিতে যারা ক্ষুদ্র-নগণ্য, আল্লাহ তাদের কোনো কল্যাণ দান করবেন না। তাদের মনের কথা আল্লাহ ভালো করেই জানেন। সুতরাং এমন কথা বললে আমি অন্যায়কারী হব।’ [হুদ : ৩১] ইমামের এসব কথা শুনে তারা বলল, আমাদের মুক্ত করলেন। আল্লাহ আপনাকেও মুক্ত করুন। আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তাঁর কাছে আমাদের সকল বিভ্রান্তি থেকে তাওবা করছি। অতঃপর তারা খারেজি মতাদর্শ ত্যাগ করে আহলে সুন্নাতের অনুসারী হয়ে গেল।
খারেজিরা আলি ও মুআবিয়া রাযি.-সহ সিফফিনের ‘তাহকিম’ [সালিশ নিয়োগ]-এর ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাহাবাদের কাফের মনে করত। তাদের সমর্থন করার কারণে আহলে সুন্নাতকেও তারা বিভ্রান্ত ও কাফের আখ্যা দিত। খারেজিরা যখন কুফা দখল করে নিল, তখন ইমামকে তাওবা করতে বলল। ইমাম বললেন, ‘কীসের তাওবা?’ তারা বলল, আলি ও মুআবিয়ার ব্যাপারে সন্তুষ্টি থেকে তাওবা। তিনি বললেন, ‘তোমরা আমার সঙ্গে মুনাযারা করবে?’ তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বললেন, ‘যদি কোনো বিষয়ে আমাদের দ্বিমত হয়, তবে সেটা কে নিরসন করবে?’ তারা তাদের একজনকে দেখিয়ে বলল, অমুক। ইমাম বললেন, ‘তাকে আমাদের মাঝে মীমাংসাকারী হিসেবে তোমরা রাজি?’ তারা বলল, হ্যাঁ। ইমাম বললেন, “এই তোমরাও তো ‘তাহকিম’-এর সমর্থক।” (অর্থাৎ আলি ও মুআবিয়াকে যে কারণে তোমরা কাফের মনে করো, একই কারণ তো তোমাদের মাঝেও বিদ্যমান!) তখন তারা চুপ হয়ে গেল।
টিকাঃ
৭২. দেখুন: মানাকিব, মক্কি (১৪৯)।
৭৩. প্রাগুক্ত (১৪৯)।
৭৪. আল-ইতিকাদ, নিশাপুরি (১১৫-১১৬)। মানাকিব, মক্কি (১০৮-১০৯)। বাযযাযি (১৮১-১৮২)।
৭৫. আল-ইনতিকা (৩০৭)।
📄 কাদারিয়্যাহদের বিরুদ্ধে ইমাম
বাশশার ইবনে কিরাত বর্ণনা করেন, একবার কুফায় কাদারিয়্যাহ সম্প্রদায়ের সত্তর জন ফকিহ আগমন করেন। তারা কুফার মসজিদে তাকদির বিষয়ে কথা বলেন। আবু হানিফা রহ.-এর কাছে এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি বলেন, ‘গোমরাহি প্রচার করতে এসেছে।’ আবু হানিফা রহ.-এর এ মন্তব্য শুনে তারা তাঁর কাছে এসে বলল, আমরা আপনার সঙ্গে মুনাযারা করতে চাই। তিনি বললেন, ‘কী বিষয়ে?’ তারা বলল, তাকদির বিষয়ে। ইমাম বললেন, ‘তোমরা কি জানো তাকদিরের দিকে তাকানো কিয়ামতের সূর্যের দিকে তাকানোর মতো—যতই সেদিকে তাকাবে, ততই অস্থিরতা বাড়বে?’ তারা (কৌশলের আশ্রয় নিয়ে) বলল, তাহলে আল্লাহর ফয়সালা ও ইনসাফ (কাযা ও আদল) নিয়ে বিতর্ক করব। ইমাম বললেন, ‘ঠিক আছে, আল্লাহর নামে শুরু করো।’
কাদারিয়্যাহ সম্প্রদায় : কোনো মানুষের আল্লাহর দুনিয়ায় তাঁর ফয়সালার বাইরে কিছু করার সাধ্য আছে? (তাহলে কাফেরদের দোষ কী?)
ইমাম : না। তবে ফয়সালা দুই প্রকার। একটা হলো ওহির নির্দেশ তথা অপার্থিব, আরেকটা হলো পার্থিব। পার্থিব নির্দেশ চূড়ান্তরূপে বাস্তবায়িত হয়। বিপরীতে ওহির নির্দেশ। এখানেও আল্লাহর ফয়সালা আছে (কিন্তু তিনি এক্ষেত্রে মানুষকে স্বাধীনতা দেন)। ফলে তিনি কাফেরদের বিরুদ্ধে কুফরের ফয়সালা করেন, কিন্তু সেটার নির্দেশ দেন না; বরং উলটো নিষেধ করেন (ফলে মানুষ নিজ ইচ্ছামতো ঈমান ও কুফর বেছে নিতে পারে)।
কাদারিয়্যাহ সম্প্রদায় : আল্লাহর নির্দেশ কি তাঁর ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, নাকি সাংঘর্ষিক?
ইমাম : আল্লাহর নির্দেশ তাঁর ইচ্ছার অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ইচ্ছা নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয় (অর্থাৎ, যখন নির্দেশ দেন, তখন নিজের ইচ্ছাতেই দেন। কিন্তু নির্দেশ দিলেই সেটা বাস্তবায়নের ইচ্ছা করবেন, সেটা জরুরি নয়। ফলে নির্দেশ দেওয়ার পরও কোনোটা বাস্তবায়িত নাও হতে পারে)। যেমন-ইবরাহিম আ.-এর ব্যাপারে আল্লাহর বক্তব্য : ﴿فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَبُنَيَّ إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانْظُرْ مَاذَا تَرَى قَالَ يَابَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّبِرِينَ﴾ অর্থ : “এরপর সে যখন তার পিতার সঙ্গে কাজ করার মতো বয়সে উপনীত হলো, তখন ইবরাহিম বলল, ‘বৎস, আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে আমি যবাই করছি। এখন তোমার অভিমত কী, বলো।’ সে বলল, ‘হে আমার পিতা, আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা-ই করুন। আল্লাহর ইচ্ছায় আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন’।” [সাফফাত : ১০২] এখানে না চাইলেও ধৈর্যশীল হবেন এমন কথা বলেননি। কারণ, এটা তাঁর নির্দেশ (আর ইচ্ছা নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়)। যেহেতু তার যবাই হওয়া আল্লাহর ইচ্ছা ছিল না, তাই তাকে যবাই হতে হয়নি।
কাদারিয়্যাহ সম্প্রদায় : ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন, وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرُ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَرَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ذَلِكَ قَوْلُهُم بِأَفْوَاهِهِمْ يُضَاهِؤُنَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَبْلُ قَتَلَهُمُ اللَّهُ أَنَّى يُؤْفَكُونَ
ইহুদিরা বলে উযাইর আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলে মসিহ আল্লাহর পুত্র। এটা তাদের মুখের কথা। এরা পূর্ববর্তী কাফেরদের মতো কথা বলে। আল্লাহ এদের ধ্বংস করুন। কোন উলটো পথে যাচ্ছে তারা?’ [তাওবা : ৩০] আল্লাহ কি নিজের ব্যাপারে চেয়েছেন যে, তাকে গালি দেওয়া হবে অথবা তার জন্য স্ত্রী ও সন্তান নির্ধারণ করা হবে?
ইমাম : আল্লাহ নিজের উপর কোনো ফয়সালা করেন না, বরং বান্দাদের উপর ফয়সালা করেন। নিজের উপর ফয়সালা করলে তিনি নিজেও তাকদিরের ভিতরে পড়ে যান (অর্থাৎ, ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা নিজেদের জন্য আল্লাহর সমালোচনাকে বেছে নিয়েছে, তখন আল্লাহ তাদের ব্যাপারে উক্ত ফয়সালা দিয়েছেন, অর্থাৎ সমালোচনার সুযোগ ও ক্ষমতা দিয়েছেন। নিজ থেকে নিজের বিরুদ্ধে তাদের সমালোচনার নির্দেশ ও তৌফিক দিয়েছেন-এমন নয়)।
কাদারিয়্যাহ সম্প্রদায় : আল্লাহ যখন কোনো বান্দার কাছ থেকে কুফর চান, তিনি কি তার প্রতি ইনসাফ করলেন, নাকি জুলুম করলেন?
ইমাম : নির্দেশের বিরোধিতার নাম জুলুম। আল্লাহ এটা থেকে পবিত্র। কারণ, তিনি বান্দাদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি তাদের কাছ থেকে ঈমান চান (অর্থাৎ, আল্লাহ বান্দাদের থেকে ঈমান চান, তাদের ঈমানের নির্দেশ দেন। ফলে আল্লাহ ইনসাফগার। বিপরীতে মানুষ নিজে কুফর বেছে নিয়ে আল্লাহর নির্দেশের বিরোধিতা করে। ফলে মানুষ নিজে জালেম)।
কাদারিয়্যাহ সম্প্রদায় : আবু হানিফা, আপনি কি মুমিন?
ইমাম : আলবত।
কাদারিয়্যাহ সম্প্রদায় : আপনি কি আল্লাহর কাছেও মুমিন?
ইমাম : তোমরা কি আমার জানার থাকা কথা জানতে চাইছ, নাকি আল্লাহর কাছে যেটা আছে সেটা?
কাদারিয়্যাহ সম্প্রদায় : আপনার যেটা জানা সেটা বলুন, আল্লাহরটা না।
ইমাম : আমি যেটা জানি সেটা হলো আমি মুমিন। আল্লাহর কাছে কী আছে সেটা আমার জানা দরকার নেই (অর্থাৎ, পরিণতির ব্যাপারে আল্লাহর প্রতি সদিচ্ছা রেখে নিজের দায়িত্ব নিজে পালন করে যাওয়া মুমিনের কাজ)।
কাদারিয়্যাহ সম্প্রদায় : আবু হানিফা, কত দিন পর্যন্ত মানুষকে গোমরাহ করতে থাকবেন?
ইমাম : গোমরাহ তিনিই করতে পারেন, যিনি হেদায়াত দিতে পারেন। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দেন, যাকে ইচ্ছা গোমরাহ করেন।
আলি ইবনে হারমালা এবং ইমামপুত্র হাম্মাদ বর্ণনা করেন, (কাদারিয়্যাত সম্প্রদায়ের নেতা) গায়লান দিমাশকির এক শাগরেদ শাম থেকে কুফায় এলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল আবু হানিফা রহ.-এর সঙ্গে তাকদির বিষয়ে বিতর্ক করা। ইমাম তাকে বললেন, তোমার প্রশ্ন উত্থাপন করো।
আগন্তুক বললেন : আল্লাহ তায়ালা ফিরাউনের জন্য কী চেয়েছেন?
ইমাম : আল্লাহ তার জন্য কুফর চেয়েছেন।
আগন্তুক : ইবলিস ফিরাউনের জন্য কী চেয়েছে?
ইমাম : ইবলিস তার জন্য কুফর চেয়েছে।
আগন্তুক : ফিরাউন নিজের জন্য কী চেয়েছে?
ইমাম : সে নিজের জন্য কুফর চেয়েছে।
আগন্তুক : মুসা আ. ফিরাউনের জন্য কী চেয়েছেন?
ইমাম : মুসা আ. তার জন্য ঈমান চেয়েছেন।
আগন্তুক : তাহলে কি মুসার চাওয়া আল্লাহর চাওয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, আর ইবলিসের চাওয়া আল্লাহর চাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে গেল না? কারণ, আল্লাহ কুফর চেয়েছেন, ইবলিসও কুফর চেয়েছে; অথচ মুসা আল্লাহর চাওয়ার বিরুদ্ধে গিয়ে তার জন্য ঈমান চেয়েছেন!
ইমাম : না। কারণ, আল্লাহ ফিরাউনের জন্য কুফর চেয়েছেন। ইবলিসের জন্য চেয়েছেন সে যেন ফিরাউনের জন্য কুফর চায়। ফিরাউনের জন্য চেয়েছেন সে যেন নিজের জন্য কুফর চায়। আর মুসার জন্য চেয়েছেন তিনি যেন ফিরাউনের জন্য ঈমান চান। ফলে ইবলিসের চাওয়া, ফিরাউনের চাওয়া এবং মুসার চাওয়া- সবগুলো আল্লাহর চাওয়ার অধীনে।
আগন্তুক : (ইমামের জবাব শুনে হতভম্ব হয়ে) আল্লাহ মুসলমানদের জন্য আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। আমার অতীতের বক্তব্য থেকে তাওবা করছি। কিন্তু আমার প্রকৃত তাওবা কীভাবে হবে? ইমাম বললেন, ‘তোমার তাওবা হলো, শামে ফিরে গিয়ে যাদের এতদিন বিভ্রান্ত করেছ, তাদের হেদায়াতের পথে ফিরিয়ে আনবে।’ তখন লোকটি তাওবা করে শামে ফিরে গেল। সেখানকার বিভ্রান্ত লোকদের মাঝে দাওয়াত ও মুনাযারার কাজ করতে লাগল। একসময় অনেক লোক তার হাত ধরে সুন্নাহর পথে ফিরে এলো।
টিকাঃ
৭৬. আল-ইনতিকা (৩১৫-৩১৭)।
৭৭. আল-ইতিকাদ, নিশাপুরি (১২২)। তালখিসুল আদিল্লাহ (৭৪৩-৭৪৪)। কাদারিয়্যাহ সম্প্রদায় মূলত আল্লাহ কর্তৃক মানুষের জন্য নির্ধারিত তাকদিরকে অস্বীকার করত। ফলে ইমাম তাদের এভাবে জবাব দিয়েছেন। এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা তাকদিরের উপর ঈমান অধ্যায়ে দেখুন।