📄 কুরআন বুঝার জন্য হাদীছের প্রয়োজনীয়তা ও তার কতিপয় উদাহরণ
আল্লাহর বাণী- ‘পুরুষ চোর এবং নারী, তাদের হাত কেটে দাও’ (মায়েদা ৩৮) এর যথার্থ উদাহরণ। কেননা এ আয়াতে হাতের ন্যায় চোর শব্দও মুতলাক বা সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কওলী হাদীছ চোরের ব্যাখ্যা দিয়েছে এবং যে চোর এক চতুর্থাংশ দীনার চুরি করে তার সাথে মুকাইয়াদ বা শর্তযুক্ত করেছে। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘এক দীনারের এক চতুর্থাংশ বা তার বেশি চুরি না করলে চোরের হাত কাটা যাবে না’।৪ অনুরূপভাবে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কর্ম বা তাঁর ছাহাবীগণের কর্ম ও উহার প্রতি তাঁর স্বীকৃতি প্রদানমূলক হাদীছ চোরের হাত কতটুকু কাটতে হবে তা ব্যাখ্যা করেছে। কারণ ছাহাবীগণ চোরের হাতের কব্জি পর্যন্ত কেটে ফেলতেন। হাদীছের গ্রন্থাবলীতে যার স্পষ্ট বিবরণ রয়েছে।
‘তোমরা পবিত্র মাটি দ্বারা তোমাদের মুখমণ্ডলে ও হাতে মাসেহ করবে’ (মায়েদা ৬)। তায়াম্মুম সম্পর্কিত এ আয়াতে উল্লিখিত হাত সম্পর্কে কওলী হাদীছ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে যে, তা হল হাতের তালু। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তায়াম্মুম হল মুখমণ্ডল ও দুই হাতের তালুর জন্য একবার মাটিতে হাত মারা’।৫
নিম্নে আপনাদের জন্য আরো এমন কতিপয় আয়াত উল্লেখ করা হচ্ছে, হাদীছ ছাড়া যেগুলোর সঠিক মর্ম অনুধাবন করা সম্ভব নয়।
১. আল্লাহর বাণী : ‘যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি, নিরাপত্তা তাদেরই জন্য এবং তারাই সৎপথপ্রাপ্ত’ (আন‘আম ৮২)। আল্লাহ তা‘আলার বাণী দ্বারা ছাহাবায়ে কেরাম সাধারণভাবে সকল প্রকার যুলুম বুঝেছিলেন। সেটা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন। এজন্য এ আয়াতটির মর্ম তাদের কাছে দুর্বোধ্য ঠেকলে তারা বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে তার নফসের উপর যুলুম করে না। তখন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছিলেন, ‘তোমরা যে যুলুমের কথা ভাবছ সেটা উদ্দেশ্য নয়। বরং ওটা হচ্ছে শিরক। তোমরা কি লুকমান তার সন্তানকে যে কথা উপদেশ দিয়ে বলেছে তা শুননি : ‘হে বৎস! আল্লাহর সাথে শিরক কর না। নিশ্চয়ই শিরক চরম যুলুম’ (লুকমান ১৩)।৬
২. আল্লাহর বাণী : ‘তোমরা যখন যমীনে সফর করবে তখন যদি তোমাদের আশংকা হয় যে, কাফিররা তোমাদের জন্য ফিতনা সৃষ্টি করবে, তবে ছালাত সংক্ষিপ্ত করলে তোমাদের কোন দোষ নেই’ (নিসা ১০১)। এই আয়াতের প্রকাশ্য অর্থ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, সফরে ছালাত কছর বা সংক্ষিপ্ত করার শর্ত হচ্ছে শত্রুভীতি। এজন্য কতিপয় ছাহাবী রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে নিরাপদ অবস্থায় ছালাত কছর করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেছিলেন, ‘এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য ছাদাকা বা দান। সুতরাং তোমরা তার দান গ্রহণ কর’।৭
৩. মহান আল্লাহর বাণী : ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু ও রক্ত’ (মায়েদা ৩)। কওলী হাদীছ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে যে, মৃত ফড়িং ও মাছ এবং কলিজা ও প্লীহার রক্ত হালাল। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘দু’প্রকার মৃত জন্তু এবং দু’প্রকার রক্ত আমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। মৃত জন্তু দু’টি হল ফড়িং ও মাছ। আর দু’প্রকার রক্ত হল কলিজা ও প্লীহা’। ইমাম বায়হাকী ও অন্যরা মারফূ ও মাওকূফ উভয় সূত্রে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। মাওকূফ হাদীছের সনদটি ছহীহ এবং এটা মারফূর হুকুমে।৮ কেননা নিজস্ব মতের আলোকে এমনটি বলা যায় না।
৪. আল্লাহর বাণী : ‘বল, আমার প্রতি যে ওহী হয়েছে তাতে, লোকে যা আহার করে তার মধ্যে আমি কিছুই হারাম পাই না, মৃত, বহমান রক্ত ও শূকরের গোশত ব্যতীত। কেননা এগুলি অবশ্যই অপবিত্র অথবা যা অবৈধ, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গের কারণে’ (আন‘আম ১৪৫)। অতঃপর এই আয়াতে উল্লেখ নেই এমন কিছু বিষয় হাদীছ হারাম সাব্যস্ত করেছে। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তীক্ষ্ণ দাঁতওয়ালা প্রত্যেক হিংস্র জন্তু খাওয়া হারাম’।৯
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রত্যেক তীক্ষ্ণ দাঁতওয়ালা হিংস্র জন্তু এবং ধারালো নখ বিশিষ্ট পাখি খেতে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিষেধ করেছেন।১০ এ জাতীয় বস্তু হারাম হওয়া সম্পর্কে আরো অনেক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। যেমন খায়বারের দিন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূল গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে তোমাদেরকে নিষেধ করেছেন। কেননা ওটা অপবিত্র’।১১
৫. মহান আল্লাহর বাণী : ‘বল, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের জন্য যেসব শোভার বস্তু ও পবিত্র জীবিকা সৃষ্টি করেছেন তা কে হারাম করেছে’? (আ‘রাফ ৩২)। হাদীছই বর্ণনা করেছে যে, কিছু শোভার বস্তু হারাম। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে ছহীহ সূত্রে বর্ণিত আছে যে, একদিন তিনি তাঁর ছাহাবীদের নিকট আসলেন। তখন তার এক হাতে রেশম ও অন্য হাতে স্বর্ণ ছিল। তিনি (ছাঃ) বললেন, ‘এ দু’টো জিনিস আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম, কিন্তু মহিলাদের জন্য হালাল’।১২
এ মর্মে ছহীহ বুখারী, ছহীহ মুসলিম ও অন্যান্য গ্রন্থে অনেক হাদীছ বর্ণিত রয়েছে। হাদীছ ও ফিকহে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিকট এ জাতীয় অনেক পরিচিত উদাহরণ বিদ্যমান রয়েছে।
ভ্রাতৃবর্গ! পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে আমাদের নিকট ইসলামী শরী‘আতে হাদীছের গুরুত্ব প্রতিভাত হল। আমরা যেসব উদাহরণ উল্লেখ করিনি সেগুলো ব্যতীত শুধু উল্লিখিত উদাহরণগুলোর প্রতি যদি আমরা দৃষ্টি নিবদ্ধ করি তাহলে নিশ্চিত হব যে, হাদীছ ছাড়া সঠিকভাবে কুরআন বুঝার কোন উপায় নেই।
প্রথম উদাহরণে ছাহাবায়ে কেরাম আয়াতে উল্লিখিত শব্দের প্রকাশ্য অর্থ বুঝেছিলেন। অথচ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর ভাষ্য অনুযায়ী তাঁরা ছিলেন, ‘এই উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, সবচেয়ে নিষ্কলুষ অন্তরের অধিকারী, গভীর পাণ্ডিত্যের অধিকারী এবং কম ভানকারী’। এতদসত্ত্বেও তারা শব্দের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে ভুল করেছিলেন। যদি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাদেরকে তাদের ভুল থেকে নিবৃত্ত না করতেন এবং বুঝিয়ে না দিতেন যে, আয়াতে উল্লিখিত দ্বারা শিরক উদ্দেশ্য, তাহলে আমরাও তাদের ভুলের অনুসরণ করতাম। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর দিকনির্দেশনা ও হাদীছ দ্বারা আমাদেরকে এথেকে রক্ষা করেছেন।
দ্বিতীয় উদাহরণে উল্লিখিত হাদীছ যদি না থাকত তাহলে আয়াতের প্রকাশ্য ভাব অনুযায়ী শত্রুভীতির শর্ত আরোপ না করলেও অন্তত নিরাপদ অবস্থায় সফরে ছালাত কছর করার ব্যাপারে আমরা সন্দিগ্ধ থেকে যেতাম, যেমনটি কিছু ছাহাবী বুঝেছিলেন। যদি ছাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে সফর অবস্থায় ছালাত কছর করতে না দেখতেন, তাহলে তারাও কছর করতেন না। আর তারা নিরাপদ অবস্থায় সফরে তাঁর সাথে ছালাত কছর করতেন।
তৃতীয় উদাহরণে উল্লিখিত হাদীছ যদি না থাকত তাহলে আমাদের জন্য হালালকৃত কিছু পবিত্র বস্তুকে আমরা হারাম সাব্যস্ত করতাম। যেমন : ফড়িং, মাছ, কলিজা ও প্লীহা।
চতুর্থ উদাহরণে উল্লিখিত কতিপয় হাদীছ যদি না থাকত তাহলে আল্লাহ তাঁর নবী (ছাঃ)-এর যবানে আমাদের জন্য যেসব বস্তু হারাম করেছেন, সেগুলোকে আমরা হালাল গণ্য করতাম। যেমন : হিংস্র জন্তু ও ধারালো নখ বিশিষ্ট পাখি।
অনুরূপভাবে পঞ্চম উদাহরণে উল্লিখিত হাদীছগুলো যদি বিদ্যমান না থাকত তাহলে আল্লাহ তাঁর নবীর যবানে যেসব বিষয় হারাম সাব্যস্ত করেছেন, সেগুলোকে আমরা হালাল মনে করতাম। যেমন : স্বর্ণ ও রেশম। এজন্য কতিপয় পূর্বসূরী বিদ্বান বলেছেন, ‘হাদীছ কুরআনের উপর ফয়ছালা করে’।
টিকাঃ
৪. ইবনু হিব্বান, হাদীছ নং ৪৪৬৫, ‘চুরির শাস্তি’ অনুচ্ছেদ; বুখারী, হাদীছ নং ৬৭৮৯, ‘দণ্ডবিধি’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৩; মুসলিম, হাদীছ নং ১৬৮৪, ‘দণ্ডবিধি’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১; মিশকাত, হাদীছ নং ৩৫৯০, ‘দণ্ডবিধি’ অধ্যায়, ‘চোরের হাত কাটার বিধান’ অনুচ্ছেদ।
৫. আহমাদ, হাদীছ নং ১৮৩৪৫; বুখারী, হাদীছ নং ৩৪৭, ‘তায়াম্মুম’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৮; মুসলিম, হাদীছ নং ৩৬৮, ‘হায়েয’ অধ্যায়, ‘তায়াম্মুম’ অনুচ্ছেদ; সিলসিলা ছহীহা, হাদীছ নং ৬৯৪।
৬. বুখারী, হাদীছ নং ৪৬২৯, ‘তাফসীর’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩, হাদীছ নং ৩৪২৯, ‘নবীদের কাহিনী’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৪১; হাদীছ নং ৬৯১৮ ‘আল্লাহদ্রোহী ও ধর্ম ত্যাগীদেরকে তওবার প্রতি আহ্বান ও তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১; মুসলিম, হাদীছ নং ১২৪, ‘ঈমান’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৫৬।
৭. মুসলিম, হাদীছ নং ৬৮৬, ‘মুসাফিরের ছালাত ও তা কছর করা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১।
৮. ইবনু মাজাহ, হাদীছ নং ৩৩১৪, ‘খাদ্য’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩১; বায়হাকী, হাদীছ নং ১১২৮, ‘পবিত্রতা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২৬৭; মিশকাত, হাদীছ নং ৪১৩২, ‘শিকার ও যবেহ’ অধ্যায়, ‘যে সকল প্রাণী খাওয়া হালাল ও যা হারাম’ অনুচ্ছেদ; সিলসিলা ছহীহা, হাদীছ নং ১১১৮।
৯. মুসলিম, হাদীছ নং ১৯৩৩, ‘শিকার ও যবেহ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩; মিশকাত, হাদীছ নং ৪১০৪, ‘শিকার ও যবেহ’ অধ্যায়, ‘যে সকল প্রাণী খাওয়া হালাল ও যা হারাম’ অনুচ্ছেদ।
১০. মুসলিম, হাদীছ নং ১৯৩৪, ‘শিকার ও যবেহ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩; মিশকাত, হাদীছ নং ৪১০৫ ‘শিকার ও যবেহ’ অধ্যায়, ‘যে সকল প্রাণী খাওয়া হালাল ও যা হারাম’ অনুচ্ছেদ।
১১. বুখারী, হাদীছ নং ৫৫২৮ ‘যবেহ ও শিকার’ অধ্যায়, ‘গৃহপালিত গাধার গোশত’ অনুচ্ছেদ; মুসলিম, হাদীছ নং ১৯৪০, ‘শিকার ও যবেহ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৫।
১২. ইবনু মাজাহ, হাদীছ নং ৩৫৯৫, ‘পোশাক-পরিচ্ছদ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১৯; সিলসিলা ছহীহা, হাদীছ নং ৩৩৭, হাদীছটি ছহীহ।
📄 আহলে কুরআনের ভ্রষ্টতা
দুঃখজনক যে, কতিপয় আধুনিক মুফাসসির ও লেখক শুধু কুরআনের উপর নির্ভর করে শেষ দু’টি উদাহরণে উল্লিখিত হিংস্র জন্তু ভক্ষণ করা এবং স্বর্ণ ও রেশম পরিধান করা জায়েয বলে মত প্রকাশ করেছেন। এমনকি বর্তমান যুগে ‘আহলে কুরআন’ নামধারী একটি গোষ্ঠীর অস্তিত্বও পরিলক্ষিত হচ্ছে, যারা ছহীহ হাদীছের সহযোগিতা ছাড়াই কুরআন মজীদের কপোলকল্পিত ও মস্তিষ্কপ্রসূত তাফসীর করছে। তাদের নিকট হাদীছ তাদের খেয়াল-খুশির অনুগামী। যেসব হাদীছ তাদের মতের অনুকূলে সেগুলোকে তারা আঁকড়ে ধরে এবং যেগুলো তাদের মতের বিরোধী সেগুলোকে তারা তাদের পশ্চাতে নিক্ষেপ করে। সম্ভবত এদের দিকে ইঙ্গিত করেই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ছহীহ হাদীছে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ‘আমি যেন তোমাদের কাউকে এরূপ না দেখি যে, সে তার গদীতে ঠেস দিয়ে বসে থাকবে, আর তার কাছে আমার কোন আদেশ বা নিষেধাজ্ঞা আসলে সে বলবে যে, আমি এসব কিছু জানি না। যা আল্লাহর কিতাবে পাব, তারই আমরা অনুসরণ করব’।১৩ আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, ‘জেনে রাখ! আমি কুরআন ও তার মতো আরেকটি বস্তু (হাদীছ) প্রাপ্ত হয়েছি’।১৪ অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘আমরা এতে যা হারাম পেয়েছি তাকে হারাম বলে জানি। সাবধান! রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ কর্তৃক হারামকৃত বস্তুর ন্যায়’।১৫
আরো দুঃখজনক হল, জনৈক সম্মানিত লেখক ইসলামী শরী‘আহ ও তার আকীদা বিষয়ে একটি বই লিখেছেন। তিনি এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, এই বইটি লেখার সময় তার কাছে কুরআন ছাড়া অন্য কোন গ্রন্থ ছিল না।
উল্লিখিত ছহীহ হাদীছটি অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, শুধু কুরআনই ইসলামী শরী‘আত নয়; বরং কুরআন ও হাদীছ উভয়ই শরী‘আত। যে ব্যক্তি এ দু’টির একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে আঁকড়ে ধরে, সে যেন এর একটিকেও আঁকড়ে ধরে না। কেননা কুরআন ও হাদীছ উভয়ই উভয়কে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ প্রদান করে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে রাসূলের আনুগত্য করল সে আল্লাহরই আনুগত্য করল’ (নিসা ৮০)। ‘তোমার প্রভুর শপথ! তারা কখনোই মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদীয় বিষয় সমূহে তোমাকেই একমাত্র সমাধানকারী হিসাবে গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমার দেওয়া ফায়ছালা সম্পর্কে তারা তাদের মনে কোনরূপ দ্বিধা-সংকোচ পোষণ না করবে এবং অবনতচিত্তে তা গ্রহণ না করবে’ (নিসা ৬৫)। ‘কোন মুমিন পুরুষ বা নারীর পক্ষে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দেওয়া ফায়ছালার ব্যাপারে (ভিন্নমত পোষণের) কোনরূপ এখতিয়ার নেই। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করল, সে স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে পতিত হল’ (আহযাব ৩৬)। ‘রাসূল তোমাদেরকে যা প্রদান করেন, তা গ্রহণ কর এবং যাথেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক’ (হাশর ৭)।
এই আয়াতের ব্যাপারে ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ)-এর একটি ঘটনা আমাকে বিস্মিত করে। ঘটনাটি হচ্ছে- একদা (বনু আসাদ গোত্রের উম্মে ইয়াকূব নামে) এক মহিলা তাঁর নিকট এসে বলল, আপনি নাকি সৌন্দর্যের উদ্দেশ্যে যেসব নারী অপরের অঙ্গে উল্কি অংকন করে এবং নিজের অঙ্গেও করায়, যারা ভ্রূ উপড়িয়ে ফেলে এবং যেসব নারী দাঁত সরু করে দাঁতের মাঝে ফাঁক করে, যা আল্লাহর সৃষ্টিকে বদলে দেয় তাদের প্রতি লা‘নত করেছেন। জবাবে তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যাদের প্রতি লা‘নত করেছেন আমি তাদের প্রতি কেন লা‘নত করব না? এমতাবস্থায় তা কুরআনে বিদ্যমান আছে। মহিলা বলল, ‘আমি সমগ্র কুরআন পড়েছি। (কিন্তু তুমি যা বলছ তাতে) আমি তা পাইনি। তখন ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) মহিলাকে বললেন, ‘যদি আপনি কুরআন পড়তেন, তাহলে অবশ্যই তা পেতেন। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘রাসূল তোমাদেরকে যা প্রদান করেন, তা গ্রহণ কর এবং যাথেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক’। ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘সৌন্দর্যের জন্য উল্কি অঙ্কনকারী ও উল্কি গ্রহণকারী, ভ্রূ উত্তোলনকারী নারী এবং দাঁত সরু করে মাঝে ফাঁক সৃষ্টিকারী নারী, যা আল্লাহর সৃষ্টিকে বদলে দেয়, তাদের উপর আল্লাহর অভিশাপ বর্ষিত হোক’।১৬
টিকাঃ
১৩. তিরমিযী, হাদীছ নং ২৬৬৩, ‘ইলম’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১০; আবূ দাউদ, হাদীছ নং ৪৬০৫, ‘সুন্নাহ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৬; ইবনু মাজাহ, হাদীছ নং ১৩, অনুচ্ছেদ-২, হাদীছটি ছহীহ।
১৪. আবূ দাউদ, হাদীছ নং ৪৬০৪, ‘সুন্নাহ’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৬; মিশকাত, হাদীছ নং ১৬৩, ‘ঈমান’ অধ্যায়, ‘কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা’ অনুচ্ছেদ, হাদীছটি ছহীহ।
১৫. তিরমিযী, হাদীছ নং ২৬৬৪ ‘ইলম’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-১০; ইবনু মাজাহ, হাদীছ নং ১২, অনুচ্ছেদ-২, হাদীছটি ছহীহ।
১৬. বুখারী, হাদীছ নং ৪৮৮৬, ‘তাফসীর’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৪, হাদীছ নং ৫৯৩৯, ৫৯৪৩, ‘পোশাক’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৮৪ ও ৮৫; মুসলিম, হাদীছ নং ২১২৫, ‘পোশাক ও সাজসজ্জা’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৩৩।
📄 কুরআন বুঝার জন্য আরবী ভাষা জানাই যথেষ্ট নয়
পূর্ববর্তী আলোচনা থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যে, কোন ব্যক্তি যত বড় আরবী ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক হোক না কেন হাদীছের সহযোগিতা ছাড়া তার পক্ষে কুরআনুল কারীম বুঝার কোন সুযোগই নেই। কারণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর ছাহাবীগণের চেয়ে আরবী ভাষায় অধিক পণ্ডিত কেউ হতে পারবে না, যাদের ভাষায় কুরআন নাযিল হয়েছিল। আর তখনও অশুদ্ধতা, কথ্য ভাষা ও ভুল-ভ্রান্তি আরবী ভাষাকে কলুষিত করেনি। এতদসত্ত্বেও শুধুমাত্র তাদের ভাষার ওপর নির্ভর করার কারণে পূর্ববর্তী আয়াতসমূহ বুঝতে তারা ভুল করেছিল। এজন্য এটা স্বতঃসিদ্ধ যে, কোন ব্যক্তি হাদীছ সম্পর্কে যত বেশি পাণ্ডিত্য অর্জন করবে, সে হাদীছে অজ্ঞ ব্যক্তির চেয়ে কুরআন বুঝা ও তাথেকে মাসআলা ইস্তিম্বাতের অধিকতর যোগ্য বিবেচিত হবে। তাহলে যে হাদীছের ধার ধারে না এবং তার দিকে কার্যত ভ্রূক্ষেপই করে না তার চেয়ে ঐ ব্যক্তির অবস্থা কি হবে, যে হাদীছের জ্ঞান রাখে?
এজন্য ওলামায়ে কেরামের নিকট সর্বজনবিদিত নিয়ম হল, কুরআনের ব্যাখ্যা কুরআন ও হাদীছ দ্বারা করতে হবে।১৭ অতঃপর ছাহাবীদের মতামত দ্বারা...।
এথেকে প্রাচীন ও আধুনিক যুক্তিবাদীদের পথভ্রষ্টতা এবং আহকাম ছাড়াও সালাফে ছালেহীনের আকীদার ব্যাপারে তাদের বিরোধিতার মূল কারণ আমাদের নিকট সুস্পষ্ট হল। আর তা হল হাদীছ ও হাদীছের জ্ঞান থেকে তাদের দূরে সরে যাওয়া এবং আল্লাহর গুণাবলী সংক্রান্ত ও অন্যান্য আয়াতসমূহে তাদের বিবেক-বুদ্ধি ও খেয়াল-খুশি অনুযায়ী ফায়ছলা করা। (ইবনু আবিল ইয্য হানাফী কৃত) ‘শারহুল আকীদা আত-তাহাবিয়্যাহ’ (৪র্থ সংস্করণ, পৃঃ ২১২) গ্রন্থে কত সুন্দরই না বলা হয়েছে-
‘যে কুরআন ও হাদীছ ব্যতীত কোন ব্যক্তির মত থেকে দ্বীন গ্রহণ করে, সে কিভাবে দ্বীনের মূলনীতির ব্যাপারে কথা বলবে? যদি সে ধারণা করে যে, সে কুরআন থেকে দ্বীন গ্রহণ করে তাহলে সে হাদীছ থেকে কুরআনের তাফসীর গ্রহণ করে না এবং হাদীছ, ছাহাবী ও তাবেঈগণের মতামতের দিকে ভ্রূক্ষেপ করে না। যা আমাদের নিকট ঐ সকল নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিত হয়েছে, যাদেরকে সমালোচকরা নির্বাচন করেছেন। কারণ তারা শুধু কুরআনের শব্দই বর্ণনা করেননি; বরং উহার শব্দ ও অর্থ উভয়ই বর্ণনা করেছেন। আর বাচ্চারা যেভাবে কুরআন শিখে তারা সেভাবে কুরআন শিখতেন না; বরং তারা অর্থসহ কুরআন শিখতেন। কাজেই যে তাদের পদাংক অনুসরণ করে না সে তার নিজস্ব মতের আলোকে কথা বলে। আর যে নিজের মত অনুযায়ী কথা বলে এবং কুরআন থেকে গৃহীত নয় এমন বিষয়কে দ্বীন মনে করে, সে পাপী। যদিও সে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে। আর যে কুরআন ও হাদীছ থেকে দ্বীন গ্রহণ করে, সে ভুল করলেও ছওয়াব পাবে। তবে এরূপ ব্যক্তি যদি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে তাহলে দ্বিগুণ ছওয়াব পাবে’।
অতঃপর ইবনু আবিল ইয্য হানাফী বলেন, ‘সুতরাং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করা, তাঁর নির্দেশ পালন করা এবং যুক্তির দোহাই পেড়ে ভ্রান্ত কল্পনাবশত হাদীছের বিরোধিতা না করে বা তাতে সন্দেহ-সংশয় সৃষ্টি না করে বা ব্যক্তির মতামত ও তাদের মস্তিষ্কপ্রসূত ব্যাখ্যাকে হাদীছের ওপর প্রাধান্য না দিয়ে তাঁর হাদীছকে গ্রহণ করা এবং সত্য বলে বিশ্বাস করা আবশ্যক। বিচার-ফায়ছালা, আনুগত্য ও অনুসরণ-অনুকরণের ক্ষেত্রে আমরা তাঁকে (ছাঃ) এক গণ্য করব, যেমনভাবে নবী প্রেরণকারী মহান আল্লাহকে ইবাদত, বিনয়-নম্রতা, তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করা ও তাঁর উপর ভরসা করার ক্ষেত্রে একক-অদ্বিতীয় গণ্য করব’ (পৃঃ ২১৭)।
তিনি আরো বলেন, ‘মোদ্দাকথা, গ্রহণ ও বিধান প্রবর্তনের ক্ষেত্রে কুরআন ও হাদীছের মধ্যে পার্থক্য না করা সকল মুসলমানের উপর ওয়াজিব। কারণ ডানে-বামে ঝুঁকে পড়া এবং পথভ্রষ্ট হয়ে পশ্চাৎগামী হওয়া থেকে এটাই তাদের রক্ষাকবচ। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এ বিষয়টি তার এ বাণীর দ্বারা স্পষ্ট করেছেন, ‘আমি তোমাদের মাঝে দু’টি বস্তু ছেড়ে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা এ দু’টিকে আঁকড়ে ধরে থাকবে ততক্ষণ পথভ্রষ্ট হবে না। বস্তু দু’টি হচ্ছে- আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাত। আর আমার নিকট হাওযে কাওছারে পৌঁছার পূর্বে এ দু’টি কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না’।১৮
টিকাঃ
১৭. অনেক আলেমের নিকট যেমনটা প্রচলিত আছে আমরা তেমনটা বলছি না যে, কুরআনের ব্যাখ্যা কুরআন দ্বারাই করতে হবে। আর কুরআনে না পাওয়া গেলে তবেই হাদীছ দ্বারা ব্যাখ্যা করতে হবে। এই পুস্তিকার শেষে মু‘আয বিন জাবাল (রাঃ)-এর হাদীছের ওপর আলোচনা দ্রষ্টব্য।
১৮. মুওয়াত্তা মালেক, হাদীছ নং ৩৩৩৮, ‘আল-জামে’ অধ্যায়, ‘তাকদীরের বিষয়ে বিতর্ক করা নিষেধ’ অনুচ্ছেদ; হাকেম, হাদীছ নং ৩১৯ ‘ইলম’ অধ্যায়; মিশকাত, হাদীছ নং ১৮৬, ‘ঈমান’ অধ্যায়, সনদ হাসান।
📄 একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কীকরণ
এরপর আমার স্বতঃস্ফূর্ত বক্তব্য হল- ইসলামী শরী‘আতে হাদীছের এরূপ গুরুত্ব ঐ হাদীছের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা মুহাদ্দিছদের নিকট গবেষণার ভিত্তিতে ছহীহ সনদে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) থেকে প্রমাণিত। তাফসীর, ফিকহ, তারগীব (উৎসাহ প্রদান), তারহীব (ভীতি প্রদর্শন), মনগলানো উপদেশ, নছীহত প্রভৃতি গ্রন্থাবলীতে যে হাদীছগুলো রয়েছে (ঢালাওভাবে) সেগুলো নয়। কেননা এ সকল গ্রন্থে অনেক যঈফ ও জাল হাদীছ রয়েছে। এসব গ্রন্থে এমন কিছু হাদীছও রয়েছে, যেগুলোর সাথে ইসলামের কোন সম্পৃক্ততা নেই। যেমন : হারূত, মারূত ও সুন্দরী যুবতীর কাহিনী। এ ঘটনা নাকচকরণে আমার একটি প্রকাশিত গ্রন্থ রয়েছে।১৯
আমার বিশাল বই ‘সিলসিলাতুল আহাদীছ আয-যঈফা ওয়াল মাওযূ‘আহ ওয়া আছারুহাস সাইয়ি ফিল উম্মাহ’ (سلسلة الأحاديث الضعيفة والموضوعة وأثرها السيء في الأمة) গ্রন্থে আমি এ জাতীয় অনেক হাদীছ তাখরীজ (সংকলন) করেছি। এগুলোর মধ্যে কিছু হাদীছ যঈফ ও কিছু জাল।
বিদ্বানগণ বিশেষ করে যারা মানুষের নিকট তাদের ফিকহ ও ফাতাওয়া প্রচার-প্রসার করেন, তারা হাদীছের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে নিশ্চিত না হয়ে হাদীছ দ্বারা দলীল পেশ করার দুঃসাহস দেখাবেন না। কারণ যেসব ফিকহের গ্রন্থাবলীকে তারা সাধারণত উৎস হিসাবে ব্যবহার করেন, সেগুলো যঈফ, জাল ও ভিত্তিহীন হাদীছে পরিপূর্ণ। ওলামায়ে কেরামের নিকট এটা সুবিদিত।
আমার দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প আমি শুরু করেছিলাম। ফিকহ চর্চাকারীদের জন্য তা অত্যন্ত উপকারী। আমি সেই গ্রন্থের নাম রেখেছি ‘আল-আহাদীছ আয-যঈফা ওয়াল মাওযূ‘আহ ফী উম্মাহাতিল কুতুব আল-ফিকহিয়্যাহ’ (الأحاديث الضعيفة والموضوعة في أمهات الكتب الفقهية)। ফিকহের উৎস গ্রন্থসমূহ দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হল-
১. মারগিনানী রচিত হানাফী ফিকহ গ্রন্থ ‘আল-হেদায়া’ (الهداية)।
২. ইবনুল কাসেম রচিত মালেকী ফিকহ গ্রন্থ ‘আল-মুদাওয়ানাহ’ (المدونة)।
৩. রাফেঈ রচিত শাফেঈ ফিকহ গ্রন্থ ‘শারহুল ওয়াজীয’ (شرح الوجيز)।
৪. ইবনু কুদামা রচিত হাম্বলী ফিকহ গ্রন্থ ‘আল-মুগনী’ (المغنى)।
৫. ইবনু রুশদ আল-আন্দালুসী রচিত তুলনামূলক ফিকহ গ্রন্থ ‘বিদায়াতুল মুজতাহিদ’ (بداية المجتهد)।
কিন্তু দুঃখজনক হল, এ গ্রন্থটি সমাপ্ত করার সুযোগ আমার হয়নি। কারণ ‘আল-ওয়াই আল-ইসলামী’(الوعي الإسلامي) নামে যে কুয়েতী পত্রিকাটি এটা ছাপানোর অঙ্গীকার করেছিল এবং এ প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়েছিল, এটা পাওয়ার পর তারা আর তা ছাপেনি। যেহেতু আমার ঐ প্রকল্প ভেস্তে গেছে, সেহেতু ইনশাআল্লাহ অন্য কোন উপলক্ষে আমার ফিকহ চর্চাকারী ভাইদের জন্য এমন এক সূক্ষ্ম গবেষণা পদ্ধতি উদ্ভাবনের তৌফীক লাভ করব, যা তাদেরকে সহযোগিতা করবে এবং হাদীছের যে সকল উৎস গ্রন্থের দিকে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে হাদীছের মান জানা যায় তা তাদের জন্য সহজ করে দিবে। এবং আমি তাদের জন্য ঐ সকল গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যাবলী ও সেগুলোর মধ্যে কোনগুলোর উপর নির্ভর করা যায় তাও বর্ণনা করব। আল্লাহই উত্তম তৌফীক দাতা।
টিকাঃ
১৯. উক্ত গ্রন্থটির নাম ‘নাছাবুল মাজানীক ফী নাসফি কিছছাতিল গারানীক’। প্রকাশক : আল-মাকতাবুল ইসলামী।