📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 সাহাবিগণ দ্বীন কীভাবে শিখেছেন?

📄 সাহাবিগণ দ্বীন কীভাবে শিখেছেন?


আল্লাহ তাআলা দ্বীনের প্রকৃতিই এমন করেছেন যে, তা সীনা থেকে সীনায় স্থানান্তরিত হয়ে থাকে। শুধু চোখ দিয়ে কিতাব অধ্যয়ন করে নিলেই হয় না। উস্তাদের সীনা থেকে তা শিষ্যের সীনায় স্থানান্তরিত হয়। সাহাবায়ে কেরাম কি কোনো কিতাব অধ্যয়ন করেছিলেন? কোনো ডিগ্রী অর্জন করেছিলেন? শিক্ষার কোনো সার্টিফিকেট লাভ করেছিলেন? কিছুই করেননি। বরং সুফফায় গিয়ে পড়ে থাকতেন। তাদের ছিল না সিলেবাস, ছিল না নির্ধারিত সময়ের কোনো গুরুত্ব।
কী করতেন তাঁরা সেখানে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মুহূর্তের কার্যকলাপ তাঁরা প্রত্যক্ষ করতেন। তিনি কী করছেন। তিনি কী বলছেন। তা প্রত্যক্ষ করতে করতে তাঁদের হৃদয়ে নববী দীক্ষার আলো প্রবেশ করেছে। অতঃপর তাবেয়ীন এবং তাবে-তাবেয়ীন থেকে নিয়ে অদ্যাবধি ইলমে দ্বীন অর্জনের এই পরম্পরা চলে আসছে। আর হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে আমরা যে বলে থাকি قال حدثنا فلان حدثنا فلان 'অমুক থেকে অমুক বর্ণনা করেছেন, অমুক থেকে বর্ণনা করেছেন'- এসব ঐ সকল পবিত্রাত্মা মনীষীগণের সনদ, যাঁদের মাধ্যমে আমাদের ঈমানের সম্পর্ক সরাসরি রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে গিয়ে জুড়ে যায়।

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 ওসীলার মাধ্যমে প্রদানকৃত

📄 ওসীলার মাধ্যমে প্রদানকৃত


যেকোনো কিতাব বা বই-পুস্তক বোঝার দুটি পদ্ধতি। এক পদ্ধতি হলো, আপনি নিজে নিজে তা অধ্যয়ন করে বুঝে নিলেন। যেখানে কোনো শব্দ বোধগম্য না হয়, সেখানে অভিধান খুলে দেখে নিলেন। আরেক পদ্ধতি হচ্ছে, উস্তাদ বা শিক্ষকের সামনে বসে তার থেকে বুঝে নেওয়া। এ দুইয়ের মাঝে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। অথচ নিজে অধ্যয়ন করে যা বুঝে এসেছে, উস্তাদ তাই বলেছেন। কোনো পার্থক্য হয়নি। কিন্তু তা সত্ত্বেও উস্তাদ বা শিক্ষকের মুখ থেকে শোনার মাঝে যে নূর থাকে, যে বরকত থাকে, তা নিজে নিজে অধ্যয়নের মাধ্যমে কখনও অর্জিত হয় না। তার কারণ হচ্ছে, বাস্তবে উস্তাদ কিছুই নয়, তার কোনো বৈশিষ্ট্য নেই এখানে, বরং জ্ঞান আল্লাহর পক্ষ থেকেই প্রদানকৃত। তবে আল্লাহর রীতি হচ্ছে মাধ্যম বা ওসীলার দ্বারা কাউকে কোনো কিছু প্রদান করা। এমনকি স্বয়ং নবী-রাসূলগণকেও মাধ্যম বা ওসীলা ব্যতিরেকে কোনো কিছু দেননি। নতুবা আল্লাহ তাআলার জন্য সরাসরি নবী-রাসূলগণের নিকট ওহী বা ঐশীবাণী প্রেরণ করা কি ক্ষমতাবহির্ভূত কোনো ব্যাপার ছিল? অথচ আল্লাহ তাআলা এমনটি করেননি; বরং জিবরাঈল আ.-কে মাধ্যম বানিয়েছেন। হযরত মূসা আ.-এর সাথে কথা বলার সময়ও একটি বৃক্ষকে মাধ্যম বানিয়েছিলেন; অর্থাৎ তুর বৃক্ষকে। এতে কী হেকমত বা রহস্য লুকায়িত? আল্লাহর রহস্য আল্লাহই ভালো জানেন। তবে তাঁর রীতি হচ্ছে, তিনি কাউকে কোনো কিছু প্রদান করলে ওসীলার মাধ্যমে প্রদান করে থাকেন। সেই ওসীলা চাই প্রাণহীন নির্জীব হোক। যেমন তুর বৃক্ষের কথাই ধরা যাক। তিনি তাঁর তাজাল্লী প্রকাশ করবেন তো সরাসরি প্রকাশ না করে তুর বৃক্ষের উপর প্রকাশ করলেন। অথচ এ ক্ষেত্রে তুর বৃক্ষের কোনো বৈশিষ্ট্য নেই। এমনিভাবে উস্তাদের কোনো বৈশিষ্ট্য নেই, কিন্তু তিনি তাকে ওসীলা বানিয়েছেন। এটা তাঁর রীতি। দানের বিধান।
উদাহরণত, জানালার দিকে তাকিয়ে দেখুন। জানালা দিয়ে সূর্যের তাপ এবং আলো ঘরে প্রবেশ করছে। জানালা কি তাপ এবং আলো সৃষ্টির ক্ষমতা রাখে যে, সে তাপ এবং আলোর কারণ হবে? বরং তাপ এবং আলো তো বাহির থেকে আসছে। তবে এতটুকু যে তাপ-আলো ঘরে প্রবেশের জন্য সে ওসীলা বনেছে। উস্তাদের বিষয়টিও এমনই। যদিও তার ব্যক্তিসত্তায় জ্ঞানের আলোর কোনো দখল নেই। তবে আমাদের পর্যন্ত জ্ঞানের আলো পৌঁছার ক্ষেত্রে তার সহযোগিতা আমরা পাই। এ জন্যই উস্তাদ বা শিক্ষকের এই মূল্য।
মোটকথা, আমার কথা হচ্ছে, যদিও কিতাবুল্লাহ এক নম্বর স্থানে এবং হাদীসে নববী দুই নম্বরে। কিন্তু আমলী দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদেরকে প্রথম হাদীসের উপর দিয়ে অতিবাহিত হতে হবে, তবেই আমরা অতি সহজেই কিতাবুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হবে। কেননা হাদীস ব্যতীত আমরা কিতাবুল্লাহকে বুঝতে সক্ষম হবো না। এ জন্য ইলমে হাদীস তথা আজকে আমরা যে ইলমের অধ্যয়ন শুরু করছি, তা আমাদের সকল প্রার্থিত ইলমের মূলবস্তু।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00