📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 ‘কিতাবই যথেষ্ট’ বলার ধৃষ্টতা

📄 ‘কিতাবই যথেষ্ট’ বলার ধৃষ্টতা


এখান থেকেই সকল ভ্রষ্টতা জন্মলাভ করে। সুতরাং এক ফেরকা বলে বেড়ায় - حَسْبُنَا كِتَابِ اللَّهِ শুধু কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট।
শ্লোগানটি খুবই আকর্ষণীয় যে, আমাদের জন্য শুধু আল্লাহ তাআলার কিতাবই যথেষ্ট। বাহ্যত খুবই চমৎকার শ্লোগান। কারণ আল্লাহ তাআলার কিতাব تِبْيَانًا لِكُلِّ شَيْءٍ প্রত্যেক বিষয়ের বর্ণনাকারী। কিন্তু এই শ্লোগান প্রদানকারীকে জিজ্ঞেস করো যে, মেডিকেল সাইন্সের বইগুলো ঘরে রাখা রয়েছে। যাতে চিকিৎসা এবং অপারেশনের সকল বিধি-বিধান লিপিবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও উস্তাদ ব্যতীত তা মূল্যহীন। তদ্রুপ আল্লাহর কিতাবের ক্ষেত্রে এমন বলা যে, শুধু কিতাবই আমাদের জন্য যথেষ্ট, বাস্তব প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আমাদের নেই, আল্লাহ ক্ষমা করুন এটা গোমরাহী এবং ভ্রষ্টতা বৈ কিছু নয়।
মোটকথা, এক দল তো কিতাবকে আঁকড়ে ধরেছে আর রিজালুল্লাহ তথা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে পরিত্যাগ করেছে এবং ভ্রষ্টতার গভীরে নিপতিত হয়েছে। মূলত তারা রিজালুল্লাহকে পরিত্যাগ করার দ্বারা প্রকারান্তরে কিতাবুল্লাহকেই পরিত্যাগ করেছে। কেননা স্বয়ং কিতাবেই যেখানে ঘোষণা করা হয়েছে যে, রিজালুল্লাহকে অনুসরণ করো, আমি তাদেরকে মুআল্লিম বানিয়ে প্রেরণ করেছি। তাদেরকে নবী বানিয়ে প্রেরণ করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি কিতাবুল্লাহকে আঁকড়ে ধরে রিজালুল্লাহকে পরিত্যাগ করে, সে মূলত কিতাবুল্লাহকেই পরিত্যাগ করে। মেডিকেল সাইন্সের বই-পুস্তকে লেখা রয়েছে- 'চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ঔষধ খাবেন না।' এখন যদি কেউ তা ভুলে গিয়ে শুধু মেডিকেল সাইন্সের বই পড়ে নিজের চিকিৎসা নিজেই করতে শুরু করে, তাহলে ফলাফল এই হবে যে, কালকের পরিবর্তে আজকেই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে। ঠিক একই অবস্থা ঐ সকল লোকদের, যারা 'আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট' বলে শ্লোগান তুলে রিজালুল্লাহর ব্যাপারে লোকদেরকে নিরুৎসাহিত করে।

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 শুধু রিজালুল্লাহও যথেষ্ট নয়

📄 শুধু রিজালুল্লাহও যথেষ্ট নয়


দ্বিতীয় গোমরাহ দল রিজালুল্লাহর মাঝে এমনভাবে বিলীন হয়ে গেছে যে, কিতাবুল্লাহর কোনো খবরই তাদের নেই। তারা বলে বেড়ায় আমাদের তো শুধু রিজালুল্লাহই যথেষ্ট। কিতাবুল্লাহর ব্যাপারে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। সুতরাং তারাও পথভ্রষ্ট। কারণ তারা নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী রিজালুল্লাহকে নিজেদের পথপ্রদর্শক বানিয়ে নিয়ে তাদেরকে পূজা করতে শুরু করেছে। কিতাবুল্লাহ কী বলছে, সে ব্যাপারে তাদের কোনো মাথাব্যাথা নেই।

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 মধ্যমপন্থী দল

📄 মধ্যমপন্থী দল


এখন মধ্যমপন্থা হচ্ছে, কিতাবুল্লাহকে আঁকড়ে ধরতে হবে এবং রিজালুল্লাহকেও অনুসরণ করতে হবে। কিতাবুল্লাহকে রিজালুল্লাহর শিক্ষার আলোকে অধ্যয়ন করলে হেদায়েতের পথ পাওয়া যাবে। এই দুটিকে একত্রিত করার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي
مَا أَنَا عَلَيْهِ দ্বারা উদ্দেশ্য কিতাব এবং أَصْحَابِی দ্বারা উদ্দেশ্য রিজাল। অর্থাৎ যে কিতাবের উপর আমি রয়েছি, একে এবং আমার সাহাবীগণকে আঁকড়ে ধরো। যে ব্যক্তি এ দুটিকে একসাথে নিয়ে চলবে, সে হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে। এ বিষয়টি ভালোভাবে বুঝে নিলে আমাদের জ্ঞানগত এবং আমলগত ভ্রষ্টতার পথ রুদ্ধ হয়ে যাবে। যারা শুধু কিতাব অধ্যয়ন করে পথপ্রদর্শক বনে গেছেন এবং শুধু কিতাব অধ্যয়ন করে বলে দিয়েছেন যে, ‘আমিও আবু হানীফা বনে গেছি’- এবং এই শ্লোগান তুলেছেন যে- هُمْ رِجَالٌ وَنَحْنُ رِجَالٌ ‘তারাও মানুষ এবং আমরাও মানুষ’। তারা যে কাজ করেছেন, আমরাও সে কাজ করব। তারা যেমন কুরআন হাদীসের উপর ইজতেহাদ বা গবেষণা করে মাসাইল বের করেছেন, আমরাও তা করব, তাহলে বাস্তবে এ ধরনের ব্যক্তি গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট। তার দৃষ্টান্ত মক্তবের ঐ শিক্ষার্থীর ন্যায়, যে একজন ডাক্তারের ব্যাপারে বলে, সে-ও আমার ন্যায় মানুষ। সে যদি অপারেশন করতে পারে আমিও পারব। সে যেমন মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাটাছেঁড়া করতে পারে, আমিও পারব। আরে আহম্মক! সে তো কাটাছেঁড়া করে সুস্থতা অর্জনের জন্য, আর তুমি তো কাটবে জবাই করার জন্য। আবার শ্লোগান তুলছ ‘সে যেমন মানুষ, আমিও তেমন মানুষ।’
সুতরাং রিজালুল্লাহ তথা আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তিগণকে ছেড়ে এবং উস্তাদের নিকট শিক্ষাগ্রহণ এবং অধ্যয়ন ব্যতিরেকে যারা আজকাল দ্বীন অর্জনের দাবি তুলছে, মূলত তারাও তৃতীয় ভ্রষ্টতায় নিপতিত।
যদি ধরে নেওয়া হয়, এক ব্যক্তি খুবই মেধার অধিকারী। সে মেডিকেল সাইন্সের বই-পুস্তক নিয়ে পড়াশোনা শুরু করল। তাতে লেখা রয়েছে অমুক রোগের চিকিৎসা এই অমুক রোগের সমাধান এই। এরপর একপর্যায়ে সে চিকিৎসা কেন্দ্র খুলে বসল এবং তার চিকিৎসায় আট-দশজন আরোগ্যও লাভ করল। এখন যদি লোকেরা বলতে থাকে, ভাই অমুকের চিকিৎসা খুবই কার্যকর। সে অনেক বড় ডাক্তার বনে গেছে। ফলে তার চিকিৎসার পেছনে মানুষ লাইন ধরতে শুরু করেছে। কিন্তু মানুষের কি এ কথা জানা আছে যে, আট-দশজন উপকৃত হয়েছে সত্য, কিন্তু যখন কোনো মানুষের জীবনহানি ঘটবে, তখন তার অবস্থা কী হবে? কারণ তার নির্বুদ্ধিতার কারণে সে এমন কাজও করে বসবে, যখন মানুষের জীবন নিয়ে টানাটানি শুরু হবে।
সুতরাং আট-দশজন সুস্থ হয়ে গেলেই কোনো আনাড়ি এবং অনভিজ্ঞ ডাক্তারের পেছনে পড়া কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ প্রতি মুহূর্তে আশঙ্কা রয়েছে, যেকোনো সময় তার ভুল চিকিৎসায় মানুষের জীবনহানি ঘটতে পারে।
অনেকে শ্লোগান তুলে, অমুক ব্যক্তি বড় বড় কিতাব অধ্যয়ন করে দ্বীনের উপর এসে গেছে। প্রথম বেদ্বীন ছিল, এখন দ্বীনদার বনে গেছে। নামায পড়ত না, এখন নামাযী বনে গেছে। মৌলভীরা খামাখাই তার অনুসরণ করতে মানা করে। তার রচিত বই-পুস্তক পড়তে নিষেধ করে। আমরা তো দেখছি তার বই-পুস্তক পড়ে অনেক উপকার হচ্ছে। এমন মন্তব্যকারীদের জবাবে আমার সেই আনাড়ি ডাক্তারের দৃষ্টান্তই প্রযোজ্য। কারণ এমন ব্যক্তি শুধু কিতাব অধ্যয়ন করে দার্শনিক বনে লোকদেরকে যে দ্বীন শিখিয়েছে এবং বাহ্যত লোকদের কিছু ফায়দাও হচ্ছে, এই ফায়দা দেখে ধোঁকায় পড়া উচিত হবে না। কারণ ঐ অনভিজ্ঞ ডাক্তারের ন্যায় কখনও এমন কথা সে বলে ফেলবে, যার দ্বারা পূর্ণ দ্বীন ধ্বংসের সম্মুখীন হবে।

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 সাহাবিগণ দ্বীন কীভাবে শিখেছেন?

📄 সাহাবিগণ দ্বীন কীভাবে শিখেছেন?


আল্লাহ তাআলা দ্বীনের প্রকৃতিই এমন করেছেন যে, তা সীনা থেকে সীনায় স্থানান্তরিত হয়ে থাকে। শুধু চোখ দিয়ে কিতাব অধ্যয়ন করে নিলেই হয় না। উস্তাদের সীনা থেকে তা শিষ্যের সীনায় স্থানান্তরিত হয়। সাহাবায়ে কেরাম কি কোনো কিতাব অধ্যয়ন করেছিলেন? কোনো ডিগ্রী অর্জন করেছিলেন? শিক্ষার কোনো সার্টিফিকেট লাভ করেছিলেন? কিছুই করেননি। বরং সুফফায় গিয়ে পড়ে থাকতেন। তাদের ছিল না সিলেবাস, ছিল না নির্ধারিত সময়ের কোনো গুরুত্ব।
কী করতেন তাঁরা সেখানে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মুহূর্তের কার্যকলাপ তাঁরা প্রত্যক্ষ করতেন। তিনি কী করছেন। তিনি কী বলছেন। তা প্রত্যক্ষ করতে করতে তাঁদের হৃদয়ে নববী দীক্ষার আলো প্রবেশ করেছে। অতঃপর তাবেয়ীন এবং তাবে-তাবেয়ীন থেকে নিয়ে অদ্যাবধি ইলমে দ্বীন অর্জনের এই পরম্পরা চলে আসছে। আর হাদীস বর্ণনা করতে গিয়ে আমরা যে বলে থাকি قال حدثنا فلان حدثنا فلان 'অমুক থেকে অমুক বর্ণনা করেছেন, অমুক থেকে বর্ণনা করেছেন'- এসব ঐ সকল পবিত্রাত্মা মনীষীগণের সনদ, যাঁদের মাধ্যমে আমাদের ঈমানের সম্পর্ক সরাসরি রাসূলে মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে গিয়ে জুড়ে যায়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00