📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 শুধু বই পড়ে বিরিয়ানি রাঁধা যায় না

📄 শুধু বই পড়ে বিরিয়ানি রাঁধা যায় না


আমি প্রায়ই বলে থাকি, খাবার রান্নার পদ্ধতি বই-পুস্তকে লেখা রয়েছে যে, কীভাবে পোলাও-বিরিয়ানি রাঁধতে হয়, কীভাবে কোর্মা-কাবাব রাঁধতে করতে হয়। বই-পুস্তকে এ-ও লেখা আছে, উপকরণগুলো কতটুকু পিষতে হবে, কী পরিমাণ লবণ দিতে হবে, কী পরিমাণ মরিচ দিতে হবে, কোন মসলা কতটুকু দিতে হবে। এখন যে ব্যক্তি জীবনে কোনদিন এসব রাঁধেনি, সে যদি বই সামনে রেখে সে অনুযায়ী বিরিয়ানী রাঁধে, বইয়ে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী সকল মসলা ব্যবহারও করে, তাহলে কি তা বিরিয়ানি হবে? আল্লাহই ভালো জানেন তা কী হবে। কেন? এজন্য যে, শুধু বই পড়ে বিরিয়ানি রাঁধা যায় না, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন বাবুর্চির নিকট থেকে বাস্তব প্রশিক্ষণ নেওয়া না হবে।

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 বাস্তব প্রশিক্ষণ প্রয়োজন

📄 বাস্তব প্রশিক্ষণ প্রয়োজন


মোটকথা, এটা সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য যে, কোনো মানুষ শুধু বই-পুস্তক পড়ে কোনো জ্ঞান বা বিদ্যা অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না কোনো মুআল্লিম বা মুরব্বীর নিকট দীক্ষা না নেবে, তার সাহচর্য গ্রহণ না করবে। জগতের সমগ্র জ্ঞান-বিদ্যার ব্যাপারে একই বিধান। যখন পার্থিব জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এই বিধান, সেখানে কেউ যদি ধর্মীয় ব্যাপারে এমন ভাবে যে, শুধু কিতাব পড়ে দ্বীন শিখে নেবো, তাহলে স্মরণ রাখুন, গোটা জীবনেও প্রকৃত দ্বীন অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না কোনো উস্তাদ বা মুআল্লিমের নিকট দীক্ষা না নেবে, তাঁর সাহচর্য গ্রহণ না করবে।

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 শুধু কিতাব কখনও পাঠানো হয়নি

📄 শুধু কিতাব কখনও পাঠানো হয়নি


এ রহস্যের কারণেই আল্লাহ তাআলা কখনও শুধু কিতাব পাঠাননি। এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে যে, নবী এসেছেন, কিন্তু কোনো নতুন কিতাব নিয়ে আসেননি। কিন্তু এমন কোনো দৃষ্টান্ত নেই যে, আসমানী কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে অথচ কোনো নবী আসেননি। এটা কেন? এ জন্য যে, যদি শুধু কিতাব পাঠানো হতো, তাহলে মানুষের মাঝে এমন যোগ্যতা নেই যে, তারা নিজে নিজে শুধু কিতাবের মাধ্যমে সংশোধন হয়ে যাবে। অথচ আল্লাহ তাআলার জন্য শুধু কিতাব প্রেরণ অসম্ভব ছিল না। তা ছাড়া কাফেরদের দাবিও ছিল এটা যে,
لَوْ لَا نُزِّلَ عَلَيْهِ الْقُرْآنُ جُمْلَةً وَاحِدَةً * 'আমাদের উপর একসাথে কেন কুরআন অবতীর্ণ করা হলো না।'
আল্লাহ তাআলার জন্য কি এটা অসম্ভব ছিল যে, সকালবেলা ঘুম থেকে জেগে প্রত্যেক মানুষ তার শিয়রে একটি করে উন্নত বাঁধাইয়ের কুরআন দেখতে পেত এবং আকাশ থেকে বলা হতো যে, এটা আমার প্রেরিত কিতাব। এটাকে আকড়ে ধরো। এটার উপর আমল করো। এ কাজটা কি আল্লাহ তাআলার জন্য কঠিন ছিল? মোটেও কঠিন ছিল না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এমনটি করেননি। শুধু কিতাব প্রেরণ করেননি। বরং সাথে মুআল্লিমও প্রেরণ করেছেন। প্রশিক্ষকও প্রেরণ করেছেন।

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 কিতাব পড়ার জন্য দুটি নূর বা আলো প্রয়োজন

📄 কিতাব পড়ার জন্য দুটি নূর বা আলো প্রয়োজন


কিতাব পড়ার জন্য দুটি নূর প্রয়োজন। কেননা কিতাব ততক্ষণ পর্যন্ত বুঝে আসবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত পয়গাম্বরী দীক্ষার নূর সঙ্গী না হবে। আমার সম্মুখে কিতাব উপস্থিত রয়েছে। অত্যন্ত সাহিত্যপূর্ণ এবং প্রাঞ্জল ভাষার কিতাব, কিন্তু আমি অন্ধকারে বসে আছি, আমার নিকট কোনো আলোর ব্যবস্থা নেই। এমতাবস্থায় কি কিতাব থেকে উপকৃত হতে পারব? প্রথমত আমার চোখের আলো থাকতে হবে, দ্বিতীয়ত আমার নিকট সূর্য বা বিদ্যুতের আলো থাকতে হবে। এই দুই আলোর একটি যদি অনুপস্থিত থাকে, তাহলে কিতাব দ্বারা উপকৃত হওয়া সম্ভব নয়। যথা বাইরে সূর্যের আলো রয়েছে, কিন্তু আমার চোখের আলো থেকে বঞ্চিত, তাহলে কি আমি কিতাব পড়তে সক্ষম হব? অথবা আমার চোখের আলো রয়েছে, কিন্তু বাইরের আলো নেই। অর্থাৎ সূর্যের আলো, বিদ্যুতের আলো বা কোনো প্রদীপের আলো নেই, তাহলেও কি আমি কিতাব পড়তে পারব? পারব না। কারণ কিতাব পড়ার জন্য দুটি আলো প্রয়োজন। এক. নিজের ভেতরগত আলো, দুই. বাইরের সূর্য বা বিদ্যুতের আলো। এই দুই আলোর সমন্বয় যখন ঘটবে, তখন কিতাব দ্বারা উপকৃত হওয়া যাবে। এজন্যই আল্লাহ তাআলা দ্বীন প্রচারের জন্য দুটি মাধ্যম প্রেরণ করেছেন। এক. কিতাবুল্লাহ, দুই. রিজালুল্লাহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00