📄 মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর মাঝে পার্থক্য
আল্লাহ তাআলা মানুষ এবং জানোয়ারের মাঝে সামান্য পার্থক্য রেখেছেন। তা হলো, জানোয়ারদের জন্য কোনো প্রশিক্ষক বা মুরব্বীর তেমন প্রয়োজন পড়ে না, যেমনটি প্রয়োজন পড়ে মানুষের। উদাহরণস্বরূপ মাছের পোনা পানিতেই মাছের ডিম থেকে ফুটে বের হয়ে আসে এবং সাথে সাথে সাঁতার কাটতে শুরু করে। পানিতে সাঁতার কাটার ক্ষেত্রে তার জন্য কোনো প্রশিক্ষক বা মুরব্বীর প্রয়োজন পড়েনি। সৃষ্টিগতভাবেই আল্লাহ তাকে এভাবে তৈরি করেছেন যে, এর জন্য তার কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু কোনো মানুষ যদি ভাবে, মাছের পোনা প্রশিক্ষণ ব্যতীত পানিতে সাঁতার কাটছে, সুতরাং আমার সন্তানকেও সাঁতার শেখানো ব্যতীত পানিতে ছেড়ে দিই। তাহলে এই ব্যক্তি কি বোকা হিসেবে সাব্যস্ত হবে না? কোথায় মাছের পোনা আর কোথায় মানবসন্তান! মাছের পোনার জন্য আল্লাহ তাআলা প্রশিক্ষণ বা তালীম-তরবিয়াতের প্রয়োজন রাখেননি। কিন্তু মানুষ- যার সাঁতার শেখার জন্য কোনো প্রশিক্ষক বা উস্তাদের প্রয়োজন অবশ্যই রয়েছে।
অথবা ধরুন, মুরগির বাচ্চা ডিম থেকে বের হলো এবং বের হয়েই সে খাদ্য খুঁজতে লাগল। তার খাদ্য খাওয়ার জন্য কোনো শিক্ষক বা মুআল্লিমের প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু যে শিশুটি আজকে জন্মগ্রহণ করেছে, সে আজকে রুটি খেতে পারবে না। কারণ সে রুটি খাওয়ার ব্যাপারে কোনো উস্তাদ বা মুআল্লিমের মুখাপেক্ষী। যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ তাকে রুটি খাওয়া না শেখাবে এবং বাস্তব প্রশিক্ষণ না দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে খেতে পারবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টিগতভাবেই এভাবে তৈরি করেছেন যে, সে প্রশিক্ষক বা মুআল্লিম ব্যতীত কোনো জ্ঞানবিদ্যা অর্জন করতে পারে না।
📄 বই পড়ে আলমারি বানানো
রাজমিস্ত্রির কাজ বই-পুস্তকে লেখা রয়েছে। কীভাবে স্যুকেস বানাতে হয়, কীভাবে আলমারি বানাতে হয়, কীভাবে চেয়ার বানাতে হয় এবং কী কী উপকরণ এসব তৈরির ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। বই সামনে রেখে যদি কেউ আলমারি বানাতে চায়, তাহলে আলমারি বানাতে পারবে কি? কখনও পারবে না। অপরদিকে একজন কখনও বই পড়েনি, কিন্তু একজন রাজমিস্ত্রির সাহচর্যে সে চার মাস ছিল। কীভাবে সে আলমারি তৈরি করে তা প্রত্যক্ষ করেছে, কীভাবে সে যন্ত্র ব্যবহার করে দেখে নিয়েছে, তাহলে আশা করি সহজেই সে আলমারি বানাতে সক্ষম হবে।
📄 শুধু বই পড়ে বিরিয়ানি রাঁধা যায় না
আমি প্রায়ই বলে থাকি, খাবার রান্নার পদ্ধতি বই-পুস্তকে লেখা রয়েছে যে, কীভাবে পোলাও-বিরিয়ানি রাঁধতে হয়, কীভাবে কোর্মা-কাবাব রাঁধতে করতে হয়। বই-পুস্তকে এ-ও লেখা আছে, উপকরণগুলো কতটুকু পিষতে হবে, কী পরিমাণ লবণ দিতে হবে, কী পরিমাণ মরিচ দিতে হবে, কোন মসলা কতটুকু দিতে হবে। এখন যে ব্যক্তি জীবনে কোনদিন এসব রাঁধেনি, সে যদি বই সামনে রেখে সে অনুযায়ী বিরিয়ানী রাঁধে, বইয়ে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী সকল মসলা ব্যবহারও করে, তাহলে কি তা বিরিয়ানি হবে? আল্লাহই ভালো জানেন তা কী হবে। কেন? এজন্য যে, শুধু বই পড়ে বিরিয়ানি রাঁধা যায় না, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন বাবুর্চির নিকট থেকে বাস্তব প্রশিক্ষণ নেওয়া না হবে।
📄 বাস্তব প্রশিক্ষণ প্রয়োজন
মোটকথা, এটা সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য যে, কোনো মানুষ শুধু বই-পুস্তক পড়ে কোনো জ্ঞান বা বিদ্যা অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না কোনো মুআল্লিম বা মুরব্বীর নিকট দীক্ষা না নেবে, তার সাহচর্য গ্রহণ না করবে। জগতের সমগ্র জ্ঞান-বিদ্যার ব্যাপারে একই বিধান। যখন পার্থিব জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এই বিধান, সেখানে কেউ যদি ধর্মীয় ব্যাপারে এমন ভাবে যে, শুধু কিতাব পড়ে দ্বীন শিখে নেবো, তাহলে স্মরণ রাখুন, গোটা জীবনেও প্রকৃত দ্বীন অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না কোনো উস্তাদ বা মুআল্লিমের নিকট দীক্ষা না নেবে, তাঁর সাহচর্য গ্রহণ না করবে।