📄 একটি শিক্ষণীয় ঘটনা
আমার আব্বাজান রহ. একটি ঘটনা শুনিয়েছেন। হযরত মাওলানা মুহাম্মদ সাহুল ওসমানী সাহেব রহ. নামে এক বুযুর্গ দারুল উলূম দেওবন্দের একজন নামিদামি উস্তাদ ছিলেন। তিনি হযরত শাইখুল হিন্দ মাওলানা মাহমূদুল হাসান সাহেব রহ.-এর বিশেষ শাগরেদ ছিলেন। দারুল উলূম দেওবন্দে পড়াতেন। পড়ানোর এক পর্যায়ে তাঁর খেয়াল হলো, আমি তো মাদরাসায় পড়িয়ে বেতন নিচ্ছি। এটা তো পারিশ্রমিক হয়ে যাচ্ছে। দ্বীনের খেদমত হচ্ছে না। দ্বীনের খেদমত তো হতে হবে বিনা পারিশ্রমিকে। পারিশ্রমিক নিয়ে যে পড়াচ্ছি, জানা নেই এর প্রতিদান আমি পাব কি পাব না। এর বিপরীতে যদি জীবনচালনার জন্য এমন কোনো পন্থা খুঁজে পাই, যার দ্বারা রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়ে যায়, আর অবশিষ্ট সময়ে দ্বীনের কোনো খেদমত বিনা পারিশ্রমিকে করে নেব; যথা কোথাও ওয়াজ করে দিলাম, কোথাও দ্বীনের উপর আলোচনা করলাম কিংবা কোনো ফতোয়া লিখে দিলাম। ইতিমধ্যে সরকারি এক প্রতিষ্ঠান থেকে অফার এলো, আপনি আমাদের এখানে পড়ান। আপনাকে এ পরিমাণ বেতন দেওয়া হবে। (আপনারা ভালো করেই জানেন, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খুব অল্প দায়িত্ব থাকে। সারাদিনে এক-দুইঘণ্টা পড়াতে হয়। আর পড়ানোর ক্ষেত্রেও তেমন বেগ পেতে হয় না। নিজের তেমন পড়াশোনা করতে হয় না। অথচ দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের মৌলভীদের দিনে পাঁচঘণ্টা পড়াতে হয় এবং পাঁচঘণ্টা পড়ানোর জন্য দশঘণ্টা নিজে পড়তে হয়। কলুর বলদের মতো তাদের অবস্থা। কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে এমন কলুর বলদ পাওয়া যাবে কোথায়?)
যাহোক, মাওলানা ওসমানী সাহেব ভাবলেন, দ্বীনের খেদমত করার এই তো সুবর্ণ সুযোগ। সেখানে দুইঘণ্টা পড়াবো। অবশিষ্ট সময় বিনা পারিশ্রমিকে দ্বীনের খেদমত করবো। এই জযবা বা স্পৃহা নিয়ে তিনি শাইখুল হিন্দ হযরত মাওলানা মাহমূদুল হাসান সাহেব রহ.-এর নিকট গেলেন এবং আরয করলেন, হযরত! আমার ব্যাপারে এই অফার এসেছে এবং এই নিয়তে সেখানে যেতে চাই।
হযরত শাইখুল হিন্দু রহ. বললেন, 'ঠিক আছে ভাই, তোমার দিলে যেহেতু আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে, তাই গিয়ে দেখ।'
হযরত ভাবলেন, তার মনে যাওয়ার আগ্রহ যেহেতু প্রবল। তাই তাকে বাঁধা দেওয়া উচিত হবে না। এ জন্য তিনি অনুমতি দিয়ে দিলেন এবং ওসমানী সাহেবও চলে গেলেন।
ছয় মাস অতিবাহিত হয়ে গেল। ছয় মাস পর এক ছুটিতে তিনি দেওবন্দ এলে হযরত শাইখুল হিন্দ রহ. প্রথম সাক্ষাতেই জিজ্ঞেস করলেন, 'মাওলানা সাহুল সাহেব! আপনি তো এই নিয়তে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরি নিয়েছিলেন যে, সেখানে পড়ানোর পর অবশিষ্ট সময়ে দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দেবেন, বলুন তো দেখি, এই ছয় মাসে কতটুকু লিখেছেন? কয়টি ফতোয়া দিয়েছেন এবং কয়টি ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেছেন?'
শাইখুল হিন্দ রহ.-এর কথা শুনে তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, 'হযরত! এটা ছিল শয়তানী ধোঁকা। কারণ দারুল উলূমে অবস্থান করে যে পরিমাণ দ্বীনের খেদমত করার তাওফীক হয়েছে, সেখানে গিয়ে এর অর্ধেকও সম্ভব হয়নি। অথচ অবসর সময় ছিল দারুল উলূমের চেয়েও কয়েক গুণ বেশি।'