📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত 📄 মাদরাসার উপর অভিযোগ

📄 মাদরাসার উপর অভিযোগ


মোটকথা, মাদরাসার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। এরা চৌদ্দশো বছরের পুরোনো লোক। এরা পশ্চাদপদ। দুনিয়ার পরিস্থিতির কোনো খবর এদের নিকট নেই। দুনিয়ার বুকে বেঁচে থাকার কোনো যোগ্যতাই এরা রাখে না। দুনিয়ার জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তির সাথে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। এরা মুসলিম জাতিকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ব্যাপৃত। এ ধরনের শ্লোগান প্রায় সময়ই বিভিন্ন মহল থেকে শোনা যায়। আর এখন বিশেষ করে পূর্ণোদ্যমে এই প্রোপাগান্ডা আমাদের দেশে দেখা যাচ্ছে।
এ ধরনের শ্লোগানও শোনা যাচ্ছে যে, দ্বীনী মাদরাসাসমূহ সন্ত্রাস পালনের কেন্দ্র। এরা উন্নতি প্রগতির প্রতিবন্ধক। সন্ত্রাসের দোষে এরা দোষী। মৌলবাদের অপরাধে এরা অপরাধী। পশ্চাদপ্রিয়তার অপরাধেও এরা অপরাধী। সংকীর্ণতার অপরাধে এরা অপরাধী। সমগ্র দুনিয়াব্যাপী তিরস্কারের বন্যা এসব মৌলভীদের উপর। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও এই মৌলভীরা তাদের কার্যক্রমে অত্যন্ত মজবুত।

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত 📄 মৌলভীদের জান বড় শক্ত

📄 মৌলভীদের জান বড় শক্ত


আমার আব্বাজান রহ. বলতেন, এই মৌলভীদের জান বড় শক্ত। তাদের উপর তিরস্কারের যত ঝড়ই তোলা হোক, তারা সব চোখ বুঝে বরদাশত করে নেয়। কারণ যখন কেউ এই গলিপথে প্রবেশ করে, তখন সে আলহামদুলিল্লাহ কোমর বেঁধেই প্রবেশ করে। সে ভালো করেই জানে, হাজারো তিরস্কারের ঝড় আমাকে বরদাশত করতে হবে। দুনিয়াবাসী আমাকে ভালো চোখে দেখবে না। সুতরাং সে এজাতীয় সকল তিরস্কার ও ভর্ৎসনাকে বরণ করে স্বাগত জানিয়ে এতে প্রবেশ করে।
جس کو ہو جان و دل عزیز اس کی گلی میں جائے کیوں
এই গলি পথে সেই প্রবেশ করবে, যে এ সকল ভর্ৎসনা ও তিরস্কার বরদাশত করতে সক্ষম। আল্লাহ তাআলা যাকে বাস্তবতার গভীর জ্ঞান প্রদান করেছেন, তার জন্য এই ভর্ৎসনা গলার হার, মাথার তাজ। কারণ এ সকল ভর্ৎসনা নবী-রাসূলগণকেও শুনতে হয়েছে। নবী-রাসূলগণের উত্তরাধিকারদেরকেও শুনতে হয়েছে। আর এর ধারাবাহিকতা কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক পথে রাখুন। ইখলাস দান করুন। তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফীক দান করুন। আমীন।

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত 📄 মৌলভীদের রুটি-রুজির চিন্তা বাদ দাও

📄 মৌলভীদের রুটি-রুজির চিন্তা বাদ দাও


আজকে আমাদের সমাজে বারবার এই দাবি উঠছে যে, এ সকল মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়া হোক। অনেকে অবশ্য বিরোধিতার জন্য নয়, বরং সহানুভূতির খাতিরে এই দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন। আবার অনেকে নিজের অভিজ্ঞতানুযায়ী এর সংস্কারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
আবার অনেকে এমন বলে থাকেন যে, মৌলভীদের আয়-উপার্জনের কোনো ব্যবস্থা নেই। সুতরাং তাদেরকে কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হোক। সেলাইকাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হোক। কিংবা এমন কোনো কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হোক, যার দ্বারা সে রুটি-রুজির ব্যবস্থা করতে পারে।

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত 📄 দুনিয়াকে পেছনে ফেলো

📄 দুনিয়াকে পেছনে ফেলো


লোকেরা অনেক সময় বিভিন্ন পরামর্শ নিয়ে আসে, মাদরাসায় কোনো কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র খুলে দিন, যাতে তাদের আয়-উপার্জনের একটা ব্যবস্থা হয়।
আমার আব্বাজান রহ. বলতেন, 'এই মৌলভীদের রুটি-রুজির চিন্তা বাদ দাও। তারা তাদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা নিজেরাই করে নেবে। এমন কোনো মৌলভীদের সন্ধান আমাকে দাও তো, যে অনাহারের কারণে আত্মহত্যা করেছে। অনেক পি.এইচ.ডি এবং মাস্টার্স ডিগ্রিধারী লোকের দৃষ্টান্ত আমি তোমাদের দিতে পারব, যারা আত্মহত্যা করেছে এবং নিজের জীবনের উপর বিতৃষ্ণ হয়ে জীবন ধ্বংস করে দিয়েছে। অনেক এমন দৃষ্টান্ত আমার সম্মুখে রয়েছে, যারা ডিগ্রি বহন করে চাকুরির জন্য অফিস আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে জুতার তলা ক্ষয় করেছেন, কিন্তু চাকুরি তাদের ভাগ্যে জুটেনি। কিন্তু এমন একজন মৌলভীর সন্ধানও আশা করি কেউ দিতে পারবে না, যিনি দারিদ্র্যের কারণে আত্মহত্যা করেছেন, কিংবা অমুক মৌলভী বেকারত্বের দুর্বিসহ জীবনযাপন করেছেন। আল্লাহ তাআলা মৌলভীদের জন্য কোনো না কোনো কাজের ব্যবস্থা করে দেন এবং আলহামদুলিল্লাহ ভালো ব্যবস্থাই করে থাকেন।'
আমার ইলমপিপাসু ভাইয়েরা! খুব ভালো করে বুঝে নাও! এই দুনিয়ার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যারা এই দুনিয়ার পেছনে ছুটে, দুনিয়া তাদের থেকে পলায়ন করে। আর যারা দুনিয়াকে পেছনে ফেলে, দুনিয়া তাদের পেছনে আসতে থাকে। কেউ কেউ এই দুনিয়ার উদাহরণ দিয়েছেন ছায়ার সাথে। যদি কেউ ছায়ার পেছনে দৌড়াতে থাকে, তাহলে ছায়া তার আগে ছুটতে থাকবে এবং সে ছায়ার নাগাল কখনও পাবে না। আর যদি কেউ পেছন ফিরে ছুটতে থাকে, তাহলে ছায়া তার পেছনে পেছনে এমনিতেই আসতে থাকবে।
এমনিভাবে মানুষ যত বেশি এই দুনিয়ার আকাঙ্ক্ষা করবে, তত বেশি দুনিয়া তার থেকে দূরে সরে যাবে। আর যত বেশি দুনিয়াকে পেছনে ফেলে দিবে এবং সত্যিকার অর্থে দুনিয়াবিমুখ হবে, তাহলে দুনিয়া তত বেশি অপদস্ত হয়ে তার সম্মুখে ধরা দেবে। দুনিয়াকে আঘাত করলে দুনিয়া তার পায়ে এসে লুটিয়ে পড়বে।
স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্য করুন, আল্লাহর যে সকল বান্দা আল্লাহর উপর ভরসা করে তাঁর দ্বীনের জন্য জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন এবং আল্লাহর মহব্বতের খাতিরে দুনিয়াকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন, আল্লাহ তাআলা দুনিয়াকে তাদের পদতলে এমনভাবে এনে দিয়েছেন যে, অন্যরা তা দেখে ঈর্ষান্বিত হয়। আল্লাহওয়ালাদের মান-মর্যাদা কেমন, তা তিনি নিজ ব্যবস্থাপনায় খোলাখুলি লোকদেরকে দেখিয়ে দেন। মহান প্রভু আমাদেরকেও ইখলাস দান করুন এবং আমাদেরকে তিনি নিজের বানিয়ে নিন। আমাদের অন্তরেও তিনি এমন স্পৃহা বা জযবা সৃষ্টি করে দিন, যাতে আমরাও স্বীয় দ্বীনের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতে পারি। আমীন।
অতঃপর ইনশাআল্লাহ দুনিয়া আখেরাতে আমাদের কোনো চিন্তাই থাকবে না। সুতরাং মৌলভীদের রুটি-রুজির চিন্তা তোমরা বাদ দাও। আল্লাহ তাআলাই তাদের সর্বোত্তম অভিভাবক।
হযরত আব্বাজান রহ. বলতেন, এ বিশ্বের মহান অধিপতি কুকুরকে রিযিক প্রদান করছেন। গাধাকে রিযিক প্রদান করছেন। শূকরকে রিযিক প্রদান করছেন। তিনি কি তাঁর দ্বীনের পতাকাবাহী মৌলভীদেরকে রিযিক প্রদান করবেন না? সুতরাং মৌলভীদের রুটি-রুজির ভাবনা তোমাদের করতে হবে না।

ফন্ট সাইজ
15px
17px