📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 মাদরাসার ক্ষতি কখনও মেনে নেবে না

📄 মাদরাসার ক্ষতি কখনও মেনে নেবে না


সালাম কালামের পর তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কোত্থেকে এসেছেন?'
বললাম, 'আমি পাকিস্তান থেকে এসেছি।'
অতঃপর তিনি দারুল উলূম সম্পর্কে কতিপয় প্রশ্ন করলেন, 'আপনি যে পড়েছেন এবং পড়াচ্ছেন, সেটা কেমন মাদরাসা?'
আমি তাঁকে বিস্তারিত বললাম। জিজ্ঞেস করলেন, 'সেখানে কী পড়ানো হয়? কোন ধরনের কিতাবাদি পড়ানো হয়?'
আমি সে সকল কিতাবের নাম বললাম, যেগুলো আমাদের এখানে পড়ানো হয়। সাথে সাথে তার মুখ থেকে এক চিৎকার বেরিয়ে এলো এবং তিনি কেঁদে ফেললেন। চোখ দিয়ে তার অশ্রুধারা প্রবাহিত হলো। বললেন, 'এখন পর্যন্ত তোমাদের ওখানে এসব কিতাব পড়ানো হয়?'
আমি বললাম, 'জি আলহামদুলিল্লাহ পড়ানো হয়।'
বললেন, 'এখন তো আমি এ সকল কিতাবের নাম শোনা থেকে পর্যন্ত বঞ্চিত হয়ে গেছি। তাই কিতাবের নাম শুনে আমার কান্না এসে গেছে। এই কিতাবগুলো আল্লাহওয়ালা তৈরি করত। সঠিক মুসলমান জন্ম দিত। আমাদের দেশ থেকে তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আমি আপনাকে নসীহত করছি। আমার এই পয়গাম আপনি আপনার দেশের সকল আহলে ইলম এবং জনসাধারণের নিকট পৌঁছে দেবেন যে, আল্লাহর জন্য তারা সকল কিছু বরদাশত করে নেবে, কিন্তু এ সকল মাদরাসার ধ্বংস যেন তারা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত না করে। কারণ, ইসলামের দুশমনরা এ কথা খুব ভালো করেই জানে, যতদিন পর্যন্ত এই সাদাসিধে মৌলভীর দল সমাজের বুকে জীবিত থাকবে, ততদিন পর্যন্ত মানুষের মন থেকে ঈমানকে বিদূরীত করা যাবে না। এজন্যই ইসলামের শত্রুরা এ সকল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডার পেছনে সর্বশক্তি ব্যয় করছে।'

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 ধর্মীয় মর্যাদাবোধ ধ্বংসের একটিই উপায়

📄 ধর্মীয় মর্যাদাবোধ ধ্বংসের একটিই উপায়


প্রাচ্যের কবি ইকবাল মরহুমের ব্যাপারে একথা প্রসিদ্ধ রয়েছে, তিনি মোল্লা-মৌলভীদের উপর একটু ক্ষুব্ধ ছিলেন। কিন্তু তিনি কখনও কখনও এমন উক্তিও করেছেন, যা মানুষের একেবারে মর্মমূল পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এক জায়গায় তিনি ইংরেজ এবং ইসলামের শত্রুদের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আফগানদের সম্পর্কে এক কবিতা বলেছেন,
افغانیوں کی غیرت دین کا ہے یہ علاج ملاکو ان کے کوہ و دمن سے نکال دو
'আফগানীদের ধর্মীয় মর্যাদাবোধ যদি নিঃশেষ করতে চাও এবং তাদেরকে ধ্বংস করতে চাও, তাহলে তার একমাত্র পথ হচ্ছে মোল্লাদেরকে এই সমাজ থেকে বের করে দাও। যতক্ষণ পর্যন্ত মোল্লারা এই সমাজে অবস্থান করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের মন থেকে ধর্মীয় মর্যাদাবোধ ধ্বংস করা যাবে না।'

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 মাদরাসার উপর অভিযোগ

📄 মাদরাসার উপর অভিযোগ


মোটকথা, মাদরাসার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে। এরা চৌদ্দশো বছরের পুরোনো লোক। এরা পশ্চাদপদ। দুনিয়ার পরিস্থিতির কোনো খবর এদের নিকট নেই। দুনিয়ার বুকে বেঁচে থাকার কোনো যোগ্যতাই এরা রাখে না। দুনিয়ার জ্ঞান-বিজ্ঞান প্রযুক্তির সাথে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। এরা মুসলিম জাতিকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ব্যাপৃত। এ ধরনের শ্লোগান প্রায় সময়ই বিভিন্ন মহল থেকে শোনা যায়। আর এখন বিশেষ করে পূর্ণোদ্যমে এই প্রোপাগান্ডা আমাদের দেশে দেখা যাচ্ছে।
এ ধরনের শ্লোগানও শোনা যাচ্ছে যে, দ্বীনী মাদরাসাসমূহ সন্ত্রাস পালনের কেন্দ্র। এরা উন্নতি প্রগতির প্রতিবন্ধক। সন্ত্রাসের দোষে এরা দোষী। মৌলবাদের অপরাধে এরা অপরাধী। পশ্চাদপ্রিয়তার অপরাধেও এরা অপরাধী। সংকীর্ণতার অপরাধে এরা অপরাধী। সমগ্র দুনিয়াব্যাপী তিরস্কারের বন্যা এসব মৌলভীদের উপর। কিন্তু এত কিছু সত্ত্বেও এই মৌলভীরা তাদের কার্যক্রমে অত্যন্ত মজবুত।

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 মৌলভীদের জান বড় শক্ত

📄 মৌলভীদের জান বড় শক্ত


আমার আব্বাজান রহ. বলতেন, এই মৌলভীদের জান বড় শক্ত। তাদের উপর তিরস্কারের যত ঝড়ই তোলা হোক, তারা সব চোখ বুঝে বরদাশত করে নেয়। কারণ যখন কেউ এই গলিপথে প্রবেশ করে, তখন সে আলহামদুলিল্লাহ কোমর বেঁধেই প্রবেশ করে। সে ভালো করেই জানে, হাজারো তিরস্কারের ঝড় আমাকে বরদাশত করতে হবে। দুনিয়াবাসী আমাকে ভালো চোখে দেখবে না। সুতরাং সে এজাতীয় সকল তিরস্কার ও ভর্ৎসনাকে বরণ করে স্বাগত জানিয়ে এতে প্রবেশ করে।
جس کو ہو جان و دل عزیز اس کی گلی میں جائے کیوں
এই গলি পথে সেই প্রবেশ করবে, যে এ সকল ভর্ৎসনা ও তিরস্কার বরদাশত করতে সক্ষম। আল্লাহ তাআলা যাকে বাস্তবতার গভীর জ্ঞান প্রদান করেছেন, তার জন্য এই ভর্ৎসনা গলার হার, মাথার তাজ। কারণ এ সকল ভর্ৎসনা নবী-রাসূলগণকেও শুনতে হয়েছে। নবী-রাসূলগণের উত্তরাধিকারদেরকেও শুনতে হয়েছে। আর এর ধারাবাহিকতা কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সঠিক পথে রাখুন। ইখলাস দান করুন। তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফীক দান করুন। আমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00