📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 আহলুল্লাহর দৃষ্টান্ত

📄 আহলুল্লাহর দৃষ্টান্ত


کورس تو لفظ ہی سکھاتا ہیں
"আদমি" آدمی বানাতে ہیں
এই রহস্য অনুধাবন করার ফলে একদিকে তাদের ইলম ও গবেষণার সমুদ্র প্রবাহিত হচ্ছে, অপরদিকে ইত্তেবায়ে সুন্নাত, সাদাসিধে জীবনযাপন এবং আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত দৃষ্টিগোচর হচ্ছে এবং তাদেরকে দেখে সাহাবায়ে কেরামের স্মরণ তাজা হচ্ছে।
হযরত নানুতবী রহ.-এর জ্ঞানসাধনা এমন কূলহীন সমুদ্রের ন্যায় ছিল, যিনি বড় বড় পাদ্রী এবং আর্যসমাজকে মুহূর্তের মধ্যে বোকা বানিয়ে ছেড়েছিলেন। বড় বড় পণ্ডিত এবং তর্কবাগিশদেরকে অল্প সময়ে পরাজিত করেছিলেন। তার গবেষণা ও রচনাশক্তি এতই তীক্ষ্ণ ছিল যে, তার অসংখ্য রচনার মাঝে শুধু 'আবে হায়াত'ই খুলে দেখুন, একজন আলেম তার সকল জ্ঞান-বিদ্যা মিলিয়েও তা বুঝতে সক্ষম হবে না।
কিন্তু লুঙ্গীপরিহিত এই হযরতের বাহ্যিক আকার-আকৃতি দেখে দর্শক মনে করতো, এ তো কোনো পড়ুয়া মানুষ বলেই মনে হয় না, বড় আলেম হওয়া তো দূরের কথা।'
আর তিনি নিজেও বলতেন, 'সামান্য ইলমের সাথে যদি কাসেমের সম্পৃক্ততা না থাকত, তাহলে দুনিয়াবাসী কেউ জানতে পারত না যে, কাসেম কোথায় জন্মগ্রহণ করেছে আর কোথায় মৃত্যুবরণ করেছে।'
কিন্তু এত বড় আলেম হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজের আত্মিক সংশোধনের জন্য হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহ.-এর নিকট গমন করেছেন। হযরত হাজী সাহেব রহ. রুসমী ইলম হিসেবে শুধু কাফিয়া কুদুরী পর্যন্ত পড়েছিলেন। তার নিকট গিয়ে হযরত নানুতবী রহ. বললেন, 'হযরত আমাকে বাইআত করে নিন। আমার আত্মিক সংশোধনের ব্যবস্থা করুন।'
লোকেরা বলল, 'আপনি এ কি করলেন, আপনি চাইলে তো হাজী সাহেব স্বয়ং আপনার দরবারে উপস্থিত হয়ে ছাত্রের ন্যায় হাটুগেড়ে বসতেন। উল্টো আপনি তার দরবারে উপস্থিত হলেন?'
হযরত নানুতবী রহ. লোকদের প্রশ্নের উত্তরে বললেন, 'মিয়া! তোমাদেরকে একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝাচ্ছি, আশা করি এর দ্বারা বুঝতে সক্ষম হবে যে- আমার এবং হাজী সাহেবের মাঝে কী পার্থক্য।'
বললেন, 'আমার দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে গোলাবজামুন (একপ্রকার মিষ্টান্ন) সম্পর্কে খুব গবেষণা করেছে যে, এটা কীভাবে তৈরি হয়, কী কী উপকরণ দ্বারা এটা প্রস্তুত হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু যদি কেউ তাকে প্রশ্ন করে, আপনি তা খেয়ে দেখেছেন কি? তখন সে বলে, 'না ভাই, আমি খাইনি।'
অথচ সে তার পরিপূর্ণ প্রস্তুতপ্রণালি এবং উপকরণ সম্পর্কে ওয়াকিফ- হাল। তা সত্ত্বেও সে এর স্বাদ সম্পর্কে বে-খবর।
অপর ব্যক্তি গোলাবজামুনের প্রস্তুতপ্রণালি এবং এর উপকরণ সম্পর্কে কিছুই জানে না। কিন্তু সকাল-সন্ধ্যা সে তা ভক্ষণ করে এবং সে এর স্বাদ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিফহাল। এরপর নানুতবী রহ. বললেন, 'আমার দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে গোলাবজামুনের প্রস্তুতপ্রণালি এবং এর ইতিহাস সম্পর্কে অবগত, কিন্তু এর স্বাদের সাথে অপরিচিত। দ্বীনের ইলম সম্পর্কে আমি অবগত রয়েছি। কিন্তু আমলের স্বাদ আমি এখনও অনুভব করিনি। সেই আমলের স্বাদ গ্রহণ করার জন্যই আমি হযরত হাজী সাহেব রহ.-এর খেদমতে উপস্থিত হয়েছি।'
দেখুন, জ্ঞানের সীমাহীন সমুদ্রও নিজেকে নিজের আত্মিক পরিশুদ্ধির মুখাপেক্ষী মনে করেছেন। মনে করেছেন, আমার আখলাক বা চারিত্রিক সংশোধনের জন্য কেউ আমার উস্তাদ হোক। আর এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তিনি এমন একজনের নিকট গমন করেছেন, যিনি বাহ্যত তার তুলনায় উম্মী পর্যায়ের।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00