📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 কে উত্তম?

📄 কে উত্তম?


এমন কোনো উপাধি সাহাবায়ে কেরামের জন্য ছিল না, বরং এ ধরনের উপাধি পরবর্তী যুগের লোকদের নামের সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে। 'ইমাম আবু হানীফা রহ.' 'ইমাম শাফেয়ী রহ.' ইমাম মালেক রহ.' 'ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহ.' বলা হয়ে থাকে, কিন্তু কেউ 'ইমাম ওমর রা.' 'ইমাম ওসমান রা.' বলে না।
মূল কথা হচ্ছে, যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো সাহাবীর নামের সাথে 'রাযিয়াল্লাহু আনহু' বলে দিয়েছেন, অর্থাৎ কাউকে সাহাবী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তখন অর্থ দাঁড়ায় এই যে, সকল উত্তম গুণাগুণ তার মাঝে একত্রিত হয়েছে। অর্থাৎ যখন কাউকে সাহাবী বলা হলো, তখন তিনি একই সাথে ফকীহ, মুতাকাল্লিম ও মুজাহিদ। মোটকথা আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় যত গুণাবলি রয়েছে, সকল গুণাবলি তার মাঝে সন্নিবেশিত হয়েছে। এজন্য তাদের কোনো উপাধি বা বিশেষণের প্রয়োজন নেই। তারা এসবের মুখাপেক্ষীও নন।
সহীহ বুখারী শরীফে এসেছে, জনৈক ব্যক্তি হযরত ইবনে আব্বাস রা.- এর নিকট গিয়ে অভিযোগ করল যে, হযরত আমীরে মু'আবিয়া রা. এক রাকাত বিতর পড়েন। অর্থাৎ তিন রাকাতের পরিবর্তে এক রাকাত পড়ে থাকেন। জবাবে হযরত ইবনে আব্বাস রা. বললেন, دَعْهُ فَإِنَّهُ صَحْبُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ 'তার ব্যাপারটা স্বতন্ত্র, কারণ তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া- সাল্লামের সাহচর্যপ্রাপ্ত শাগরিদ।' সুতরাং তোমরা তার ব্যাপারে কেন প্রশ্ন করছ?
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক রহ.-কে কেউ প্রশ্ন করল, বলুন তো হযরত আমীরে মু'আবিয়া এবং হযরত ওমর বিন আবদুল আযীযের মাঝে কে উত্তম?

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 সাহচর্যের বরকত

📄 সাহচর্যের বরকত


প্রশ্নকারী খুবই বিচক্ষণ ছিল, ফলে সে একদিকে হযরত মু'আবিয়া রা.-কে এনেছে, যিনি হযরত আলী রা.-এর বিরোধিতা করার কারণে লোকদের সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন। অপরদিকে হযরত ওমর বিন আবদুল আযীযকে এনেছে, যিনি তাবেয়ী হওয়া সত্ত্বেও তার উন্নত গুণাবলির দৌলতে আল্লাহ তাআলা তাকে ওমরে ছানী বা দ্বিতীয় ওমর বানিয়েছিলেন এবং তার মর্তবা এত উঁচু ছিল যে, তার খেলাফতকেও অনেকে খেলাফতে রাশেদার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
প্রশ্নকারী ভেবেছিলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক রহ. দ্বিধায় পড়ে যাবেন। কিন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক রহ. যে জবাব দিয়েছিলেন, তা লিখে রাখার মতো। বললেন, 'তুমি আমীরে মু'আবিয়া এবং ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের মাঝে তুলনা করতে চাও? আল্লাহর কসম, আল্লাহর রাসূলের সঙ্গে জিহাদ করতে গিয়ে হযরত আমীরে মু'আবিয়ার নাকে যে ধুলোবালি প্রবেশ করেছিল, তা হাজার ওমর ইবনে আব্দুল আযীয থেকে উত্তম। কারণ ঈমানের সাথে একবার যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দর্শন করেছে, তার সঙ্গে কোনো তুলনাই হতে পারে না।'
মূলত দ্বীন প্রসার লাভ করেছে সাহচর্যের মাধ্যমে। এই দ্বীন সাহাবা থেকে তাবেয়ীগণের দিকে প্রসার লাভ করেছে। তাবেয়ী থেকে তাবে-তাবেয়ী পর্যন্ত এসেছে। এখন পর্যন্ত এর ধারাবাহিকতা এভাবেই অব্যাহত রয়েছে। শুধু অক্ষর আর নুকূশ দ্বারা ইলম অর্জন হয় না এবং না আখলাক-চরিত্র গঠিত হয়। এ রহস্যটুকুই হযরত উলামায়ে দেওবন্দ অনুধাবন করতে পেয়েছিলেন,
نہ کتابوں سے نہ کالج سے نہ زر سے پر پیدا دین ہوتا ہے بزرگوں کی نظر سے پیدا

📘 ইলম ও ওলামাদের ফযীলত > 📄 আহলুল্লাহর দৃষ্টান্ত

📄 আহলুল্লাহর দৃষ্টান্ত


کورس تو لفظ ہی سکھاتا ہیں
"আদমি" آدمی বানাতে ہیں
এই রহস্য অনুধাবন করার ফলে একদিকে তাদের ইলম ও গবেষণার সমুদ্র প্রবাহিত হচ্ছে, অপরদিকে ইত্তেবায়ে সুন্নাত, সাদাসিধে জীবনযাপন এবং আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত দৃষ্টিগোচর হচ্ছে এবং তাদেরকে দেখে সাহাবায়ে কেরামের স্মরণ তাজা হচ্ছে।
হযরত নানুতবী রহ.-এর জ্ঞানসাধনা এমন কূলহীন সমুদ্রের ন্যায় ছিল, যিনি বড় বড় পাদ্রী এবং আর্যসমাজকে মুহূর্তের মধ্যে বোকা বানিয়ে ছেড়েছিলেন। বড় বড় পণ্ডিত এবং তর্কবাগিশদেরকে অল্প সময়ে পরাজিত করেছিলেন। তার গবেষণা ও রচনাশক্তি এতই তীক্ষ্ণ ছিল যে, তার অসংখ্য রচনার মাঝে শুধু 'আবে হায়াত'ই খুলে দেখুন, একজন আলেম তার সকল জ্ঞান-বিদ্যা মিলিয়েও তা বুঝতে সক্ষম হবে না।
কিন্তু লুঙ্গীপরিহিত এই হযরতের বাহ্যিক আকার-আকৃতি দেখে দর্শক মনে করতো, এ তো কোনো পড়ুয়া মানুষ বলেই মনে হয় না, বড় আলেম হওয়া তো দূরের কথা।'
আর তিনি নিজেও বলতেন, 'সামান্য ইলমের সাথে যদি কাসেমের সম্পৃক্ততা না থাকত, তাহলে দুনিয়াবাসী কেউ জানতে পারত না যে, কাসেম কোথায় জন্মগ্রহণ করেছে আর কোথায় মৃত্যুবরণ করেছে।'
কিন্তু এত বড় আলেম হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজের আত্মিক সংশোধনের জন্য হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহ.-এর নিকট গমন করেছেন। হযরত হাজী সাহেব রহ. রুসমী ইলম হিসেবে শুধু কাফিয়া কুদুরী পর্যন্ত পড়েছিলেন। তার নিকট গিয়ে হযরত নানুতবী রহ. বললেন, 'হযরত আমাকে বাইআত করে নিন। আমার আত্মিক সংশোধনের ব্যবস্থা করুন।'
লোকেরা বলল, 'আপনি এ কি করলেন, আপনি চাইলে তো হাজী সাহেব স্বয়ং আপনার দরবারে উপস্থিত হয়ে ছাত্রের ন্যায় হাটুগেড়ে বসতেন। উল্টো আপনি তার দরবারে উপস্থিত হলেন?'
হযরত নানুতবী রহ. লোকদের প্রশ্নের উত্তরে বললেন, 'মিয়া! তোমাদেরকে একটি উদাহরণ দিয়ে বুঝাচ্ছি, আশা করি এর দ্বারা বুঝতে সক্ষম হবে যে- আমার এবং হাজী সাহেবের মাঝে কী পার্থক্য।'
বললেন, 'আমার দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে গোলাবজামুন (একপ্রকার মিষ্টান্ন) সম্পর্কে খুব গবেষণা করেছে যে, এটা কীভাবে তৈরি হয়, কী কী উপকরণ দ্বারা এটা প্রস্তুত হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু যদি কেউ তাকে প্রশ্ন করে, আপনি তা খেয়ে দেখেছেন কি? তখন সে বলে, 'না ভাই, আমি খাইনি।'
অথচ সে তার পরিপূর্ণ প্রস্তুতপ্রণালি এবং উপকরণ সম্পর্কে ওয়াকিফ- হাল। তা সত্ত্বেও সে এর স্বাদ সম্পর্কে বে-খবর।
অপর ব্যক্তি গোলাবজামুনের প্রস্তুতপ্রণালি এবং এর উপকরণ সম্পর্কে কিছুই জানে না। কিন্তু সকাল-সন্ধ্যা সে তা ভক্ষণ করে এবং সে এর স্বাদ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিফহাল। এরপর নানুতবী রহ. বললেন, 'আমার দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির ন্যায়, যে গোলাবজামুনের প্রস্তুতপ্রণালি এবং এর ইতিহাস সম্পর্কে অবগত, কিন্তু এর স্বাদের সাথে অপরিচিত। দ্বীনের ইলম সম্পর্কে আমি অবগত রয়েছি। কিন্তু আমলের স্বাদ আমি এখনও অনুভব করিনি। সেই আমলের স্বাদ গ্রহণ করার জন্যই আমি হযরত হাজী সাহেব রহ.-এর খেদমতে উপস্থিত হয়েছি।'
দেখুন, জ্ঞানের সীমাহীন সমুদ্রও নিজেকে নিজের আত্মিক পরিশুদ্ধির মুখাপেক্ষী মনে করেছেন। মনে করেছেন, আমার আখলাক বা চারিত্রিক সংশোধনের জন্য কেউ আমার উস্তাদ হোক। আর এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য তিনি এমন একজনের নিকট গমন করেছেন, যিনি বাহ্যত তার তুলনায় উম্মী পর্যায়ের।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00