📄 দারুল উলূম কোন বস্তুর নাম
কিন্তু আমাদের বুঝতে হবে দারুল উলূম কোন বস্তুর নাম। দারুল উলূম বলতে আমরা সেই প্রতিষ্ঠানকেই বুঝি, যে প্রতিষ্ঠান ভারত উপমহাদেশে দ্বীনকে সংরক্ষণ করেছে এবং দ্বীনের প্রদীপকে আলোকিত করেছে। দারুল উলূম কি শুধু কোনো বিল্ডিং বা ইমারতের নাম? কিংবা জ্ঞান-বিজ্ঞান বা গবেষণাকেন্দ্রের নাম? দারুল উলূম যদি শুধু জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চাকেই বলা হতো, কিংবা কোনো গবেষণা কেন্দ্রকে বলা হতো, তাহলে এটা কোনো ব্যতিক্রমধর্মী বৈশিষ্ট্য নয়। কারণ এ জাতীয় বৈশিষ্ট্য পৃথিবীর বহু বিদ্যাপীঠের রয়েছে। আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমন এমন গবেষণালব্ধ রচনা প্রকাশিত হয়, যার দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করা অসম্ভব। মুসলমান তো পরের কথা- অনেক নাস্তিক, ইহুদি, খ্রিষ্টানও ইসলামের উপর এমন এমন গবেষণালব্ধ পুস্তক রচনা করে রেখেছে, যার রেফারেন্সসূচি দেখলে মনে হয় অনেক বিজ্ঞ আলেমগণও সে সকল পুস্তকের নাম সম্পর্কে অজ্ঞ প্রমাণিত হবে। সুতরাং দারুল উলূম যদি শুধু ইলম ও গবেষণার নাম হতো, তাহলে এর দৃষ্টান্ত আরো অনেক পাওয়া যেত।
📄 ইমাম রাজি রহ. ও শয়তান
আমার সম্মানিত পিতা হযরত মুফতী শফী রহ. অত্যন্ত জ্ঞানগর্ভ কথা বলতেন। তিনি বলতেন, যদি শুধু ইলমই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হতো এবং শুধু ইলম দ্বারা মুক্তি পাওয়া যেত, তাহলে এ জগতে শয়তানের চেয়ে বড় আলেম আর কেউ নেই। শয়তান এত বড় আলেম যে, ইমাম রাজি রহ.-এর মতো একজন আলেম এবং দার্শনিককেও সে পেরেশান করে দিয়েছিল। ঠিক মৃত্যুর মুহূর্তে এসে শয়তান ইমাম রাজি রহ.-কে ধমকের সুরে বলল, 'ইমাম সাহেব! পরপারে তো পাড়ি জমাচ্ছেন, জানা নেই জান্নাতে যাবেন কি জাহান্নামে, তবে বলুন তো দেখি কী নিয়ে যাচ্ছেন?'
ইমাম সাহেব রহ. জবাব দিলেন, 'কেন? কালেমা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর দৌলত নিয়ে যাচ্ছি। আর আল্লাহ তাআলা এই কালেমা পাঠকারীদের জন্য ক্ষমার ওয়াদা করেছেন।'
শয়তান বলল, 'জনাব! কালেমা বা একত্ববাদের দাবি তো আপনি করছেন ঠিক, তবে আপনার নিকট কি এর কোনো দলিল-প্রমাণ আছে?'
ইমাম রাজি রহ.-এর গোটা জীবন অতিবাহিত হয়েছে আকায়েদ ও কালামশাস্ত্রের উপর গবেষণা করে এবং একত্ববাদের দলিল দিয়ে। তার নিকট দলিল-প্রমাণের কমতি কোথায়! তাই তিনি একত্ববাদের উপর একটি দলিল পেশ করলেন। শয়তান বলল, 'আপনার এই দলিলে এই প্রশ্ন সৃষ্টি হয়, সুতরাং তা পরিপূর্ণ নয়।'
ইমাম রাজি রহ. দ্বিতীয় দলিল পেশ করেন। শয়তান সেটিও প্রত্যাখ্যান করে। ইমাম সাহেব তৃতীয় দলিল পেশ করেন। শয়তান সেটিও খণ্ডন করে দেয়। এভাবে ইমাম রাজি রহ. তাওহীদ বা একত্ববাদের উপর একে একে ১০১টি দলিল উপস্থাপন করলে শয়তান প্রত্যেকটা দলিলই খণ্ডন করে ফেলে। এবার ইমাম সাহেব ভাবনায় পড়ে গেলেন। কারণ বুদ্ধিবৃত্তিক যত দলিল ছিল, সবই-তো শয়তান খণ্ডন করে ফেলল।
কিন্তু মহান আল্লাহর অনুগ্রহ তার ভাগ্যে ছিল। কারণ মৃত্যুর এই কঠিন মুহূর্তে যদি ঈমানের মধ্যে সামান্য সংশয়ও সৃষ্টি হয়, তাহলে সমগ্র জীবনের অর্জন বিফলে যাবে। সুতরাং আল্লাহ তাআলা তার উপর অনুগ্রহ করলেন। সেকালে শায়খ নাজমুদ্দীন কুবরা রহ. নামে এক বড় আল্লাহওয়ালা বুযুর্গ ছিলেন। যার খেদমতে ইমাম রাজি রহ. কখনও গিয়েছিলেন এবং তার সাথে আধ্যাত্মিক সম্পর্কও স্থাপন করেছিলেন। ইমাম রাজি রহ.-এর এই কঠিন মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা তাকে এভাবে সাহায্য করলেন যে, শায়খ নাজমুদ্দীন রহ.-এর আকৃতি তার সম্মুখে এসে গেল এবং তিনি যেন বলছেন, 'আরে মিয়া! বলে দাও দলিল প্রমাণ ছাড়াই আল্লাহ এক। কারণ যত দলিলই তুমি পেশ করবে, শয়তান সব খণ্ডন করে দেবে।'
সুতরাং আল্লাহর অনুগ্রহে ইমাম সাহেব বলে দিলেন, 'আমি দলিল-প্রমাণ ব্যতিরেকেই আল্লাহকে এক মানি। একথা বলার সাথে সাথেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।'