📄 ইন্দোনেশীয় ইসলাম
বছর কয়েক পূর্বে আমার ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণের সুযোগ হয়। রাজধানী জাকার্তা। এক বিরাট শহর। উন্নতি ও প্রগতির ক্ষেত্রে জাকার্তা একটি উল্লেখযোগ্য শহর হিসেবে গণ্য হয়। যার আতিথ্যে আমি সেখানে ভ্রমণে গিয়েছি, তাকে বললাম, জনাব! কোনো ধর্মীয় শিক্ষালয় থাকলে আমাকে সেখানে নিয়ে চলুন। বেচারা আমাকে সেদেশের সবচেয়ে বৃহৎ ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে গেল। আমিও অত্যন্ত আগ্রহভরে সেখানে গেলাম। অনেক উন্নত ও জাকজমকপূর্ণ ইমারত। সর্বপ্রথম আমাকে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপালের সাথে সাক্ষাত করানোর জন্য তার রুমে নিয়ে গেল। প্রিন্সিপালের রুমে ঢুকে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। একটি বিশাল দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল হিসেবে যে লোকটিকে আমি প্রত্যক্ষ করলাম, তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দ্বীনী কোনো আলামত পরিলক্ষিত হলো না।
আমি বললাম, 'আমি প্রতিষ্ঠানটি ঘুরেফিরে দেখতে চাই।'
আমাকে ক্লাসরুমে নিয়ে যাওয়া হলো। দারুল হাদীসে প্রবেশ করে আমার পেরেশানি, অনুশোচনা আর আফসোসের কোনো সীমা থাকল না। কারণ সেখানে দেখতে পেলাম, ছেলে মেয়েরা একসঙ্গে বসে হাদীসের দরস নিচ্ছে। আমি প্রিন্সিপালকে জিজ্ঞেস করলাম, 'জনাব! হাদীসের দরসে নারী-পুরুষের একসাথে তালীম দিচ্ছেন?'
তিনি সংক্ষেপে দুঃখ প্রকাশ করে বললেন, 'জি হ্যাঁ। এই হচ্ছে আমাদের ইন্দোনেশীয় ইসলাম। আর এই ইসলামের তালীমই এখানে প্রদান করা হচ্ছে।'
তখন এ সকল জাঁকজমকহীন দ্বীনী মাদরাসা এবং চাটাইয়ের উপর অবস্থানকারী উলামায়ে কেরামের মূল্য ও মর্যাদা আমার বুঝে আসল; যারা এ সকল মাদরাসাকে ইত্তেবায়ে সুন্নাতের সাথে পরিচালিত করে যাচ্ছেন। আমাদের গর্বিত উত্তরসূরী হযরত কাসেম নানুতবী রহ., হযরত রশীদ আহমদ গাঙ্গুহী রহ. এবং তাদের অনুসারী ও শাগরিদরা এলাকার পর এলাকা এবং বস্তির পর বস্তিতে ইসলামের প্রদীপ জ্বালিয়েছেন এবং দ্বীনকে সঠিক ও নির্ভেজালরূপে আমাদের পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। এ সকল প্রতিষ্ঠানকেই আল্লাহ তাআলা সঠিক দ্বীনের সংরক্ষণ ও হেফাজতের ওসীলা বানিয়েছেন।