📄 ইলম ও আলেমদের ফযীলত
الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ وَنَسْتَغْفِرُه وَنُؤْ... أَمَّا بَعْد.
أَعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ، بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
উপস্থিত ভাইসকল! আমার জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের ব্যাপার, আল্লাহ তাআলা এ সময় দেশের একটি মোবারক দ্বীনী মজলিসে অংশগ্রহণ করার তাওফীক দান করেছেন। গোটা দেশে অসংখ্য বিদ্যাপীঠ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু যে প্রতিষ্ঠানটিতে আমরা উপস্থিত আছি, আল্লাহ তাআলা এটিকে এক অসাধারণ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। যা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে হযরত মাওলানা খায়ের মুহাম্মদ সাহেব রহ.-এর জীবদ্দশায়। এখানে এলে হযরতের পবিত্র সত্তার খুশবু অনুভূত হয় এবং তার অস্তিত্ব এখানকার দেয়ালে দেয়ালে পরিলক্ষিত হয়। আল্লাহ তাআলা তার একনিষ্ঠতা, তার দ্বীনী জযবার এক প্রকৃষ্ট দৃষ্টান্ত এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আমাদেরকে দেখিয়েছেন। মহান প্রভুর অপার করুণায় দেশজুড়ে এই প্রতিষ্ঠানের অবদান ও খেদমত দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। তাই এই প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারাকে আমার নিজের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্য মনে করছি। আর এই মজলিসে অংশগ্রহণকারী সকল হযরতকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানাচ্ছি এজন্য যে, আপনারা এমন এক স্থানে উপস্থিত হয়েছেন, যা আল্লাহওয়ালাদের যিকির ও ফিকির দ্বারা আবাদ হয়েছে এবং যেখানে তাদের নেক নিয়ত ও ইখলাসের স্মৃতিচিহ্ন বিদ্যমান। যে সকল হযরত সম্পর্কে বলা হয়
لا يشقى جليسهم অর্থাৎ তাদের সান্নিধ্যে অবস্থানকারীরা কখনও অকৃতকার্য ও বিফল হয় না। তাই উপস্থিত ভাইয়েরাও মহান আল্লাহর ফজলে এই মজলিস থেকে শূন্যহাতে ফিরবেন না।
📄 দ্বীনী মাদরাসার গুরুত্ব
এ প্রসঙ্গে আমার মনে এ মুহূর্তে যে বিষয়টি উদয় হয়েছে- তা হলো, এ সকল দ্বীনী মাদরাসার গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু আরয করা একান্ত প্রয়োজন। এমন দ্বীনী মাদরাসা আলহামদুলিল্লাহ পাক ভারত উপমহাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। কখনও কখনও এ সকল প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে অনেক অবাঞ্চিত কথা মুখ থেকে বেরিয়ে আসে কিংবা অনেক অনভিজ্ঞ লোকদের মুখে প্রায়ই শোনা যায়, দ্বীনী মাদরাসায় পড়ুয়া বর্তমান দুনিয়ার অবস্থা ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ লোকগুলো সমাজের বুকে কী অবদান রাখবে?
একটি সংঘবদ্ধ দল দেশের ভেতরে বাইরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে একটি মিশনের তত্ত্বাবধানে দ্বীনী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডা চালিয়ে যাচ্ছে যে, এরা পশ্চাদপ্রিয়, এরা আদিম যুগের অনুসারী। এরা দেশ ও জাতির জন্য কল্যাণ ও গৌরবজনক কোনো অবদান রাখতে সক্ষম হচ্ছে না। কিন্তু আমি আপনাদের বলতে চাই, আমার ঈমান ও বিশ্বাসের মতো এ বিষয়টিও আমার সামনে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট, দ্বীনী মাদরাসা পাক-ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য এত বড় পুরস্কার ও অনুগ্রহ যে, যদি উম্মত জীবনভর আল্লাহর সম্মুখে সেজদাবনত হয়ে পড়ে থাকে, তাহলেও এর কৃতজ্ঞতার হক আদায় হবে না। যদি এই উপমহাদেশে দ্বীনের কোনো প্রজ্জলিত প্রদীপ চোখে পড়ে এবং সঠিক দ্বীনের নাম বহনকারী কোনো ব্যক্তি দৃষ্টিগোচর হয়, তাহলে কেবলই চাটাইয়ের উপর অবস্থানকারী এই উলামায়ে কেরামের দৌলতেই দৃষ্টিগোচর হয়।
📄 আমলহীন ইলমের কোনো মূল্য নেই
বস্তুত শুধু ইলমের কোনো মূল্য নেই। ইলম তখনই মূল্যবান হয়, যখন তার উপর আমল করা হয়। অতএব আমলহীন ইলমের কোনো মূল্য নেই।
আমাদের আকাবিরে দেওবন্দের বৈশিষ্ট্য হলো, তারা শুধু দরসগাহই তৈরি করেননি যে, সেখানে শুধু অক্ষরজ্ঞান শিক্ষা দেবেন কিংবা জ্ঞান- গবেষণার বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তাদের গড়া প্রতিষ্ঠান একদিকে যেমন ছিল শিক্ষাকেন্দ্র, অপরদিকে ছিল দীক্ষাকেন্দ্র। উস্তাদ ও ছাত্রের মধ্যকার সম্পর্ক এমন ছিল, যেমন সম্পর্ক থাকে শায়েখ এবং মুরিদের মাঝে। শুধু হাদীসের তরজমা এবং ব্যাখ্যা করেই তারা দায়িত্ব শেষ করে দেননি, বরং নিজেদের জীবনে তা আমল করে দেখিয়েছেন। যার ফলাফল এই দাঁড়িয়েছে যে, ছাত্রদের মাঝে ইত্তেবায়ে সুন্নাতের জযবা সৃষ্টি হয়েছে।
এই দীক্ষার দৌলতেই হযরত শাইখুল হিন্দ রহ., হযরত মাদানী রহ., হযরত থানভী রহ.-এর মতো ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এদের পেছনে শুধু অক্ষরজ্ঞানই কাজ করেনি। কেননা যদি শুধু কিতাব অধ্যয়ন করেই মহান ব্যক্তিত্ব হওয়া যেত, তাহলে ইউরোপ ও লন্ডনে যারা ইসলামের উপর গবেষণা করছে, তারাই বড় ব্যক্তিত্ব হতো।
মূলত তারা তাদের ছাত্রদেরকে দ্বীনের জযবা এবং আত্মোৎসর্গের স্পৃহা বুক খুলে ঢুকিয়ে দিতেন। ফলে ইত্তেবায়ে সুন্নাতের জযবা উস্তাদ থেকে ছাত্রের দিকে স্থানান্তরিত হতো। এই জযবার দৌলতেই এমন ব্যক্তিত্ব সৃষ্টি হতো।
📄 মাদরাসা দ্বীন হেফাযতের দুর্গ
الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِيْنُهُ وَنَسْتَغْفِرُه وَنُؤْ... أَمَّا بَعْدُ.
হযরত উলামায়ে কেরাম! আমার প্রিয় ছাত্র ভাইয়েরা এবং উপস্থিত শ্রোতাবৃন্দ! আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
ভূমিকা
আমার সম্মানিত উস্তাদ, শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা সুবহান মাহমূদ সাহেব দা. বা.-এর দরসের পর আমার কিছু বলা একেবারেই অসমীচীন। কারণ হযরতের দরসের পর আর কোনো আলোচনার অবকাশ নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও হযরত স্বয়ং যেহেতু কিছু বলার জন্য হুকুম করেছেন, তা ছাড়া নিয়মও রয়েছে যে, খতমে বুখারী উপলক্ষ্যে দারুল উলূমের মুহতামিম আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই হযরত মাওলানা রফী উসমানী সাহেব কিছু আলোচনা করে থাকেন। বর্তমানে তিনি সফরে রয়েছেন। তাই বড় ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে হযরত আপনাদের সম্মুখে কিছু আলোচনা করার জন্য আমাকে হুকুম করেছেন।
گندم اگر بہم نہ رسد جو غنیمت است
এজন্য হযরতের নির্দেশ পালনার্থে আপনাদের সম্মুখে উপস্থিত হয়েছি। মহান আল্লাহর সীমাহীন দয়া ও অনুগ্রহ, যার শোকর কোনোভাবেই আদায় করা মানবজাতির পক্ষে সম্ভব নয়। যিনি স্বীয় করুণা ও দয়ায় আজ দারুল উলূমের শিক্ষাবর্ষ সমাপণ করার তাওফীক দান করেছেন।
আজকের এই সর্বশেষ দরসে তিনি আমাদেরকে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য নসীব করেছেন।
পৃথিবীর বুকে আল্লাহ তাআলার কুরআনের পর সবচেয়ে সহীহ এবং নির্ভরযোগ্য হচ্ছে ইমাম বুখারী রহ.-এর এই বুখারী শরীফ। হযরত সুবহান সাহেব দা.বা. বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ছাত্রদেরকে এই বুখারী শরীফের দরস প্রদান করে ধন্য করেছেন। আজ আলহামদুলিল্লাহ সেই দরস এ বছরের জন্য সমাপ্ত হয়েছে। শিক্ষাবর্ষের শুরুতে যখন এই মোবারক দরসের সূচনা হয়েছিল, তখন কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি, কে এর সমাপনী দরসে অংশগ্রহণ করবে, আর কে পারবে না। আল্লাহ তাআলা স্বীয় অনুগ্রহে আমাদেরকে সেই সুযোগ দানে বাধিত করেছেন। এ সুবাদে আমরা তাঁর শোকর যতই আদায় করি, তা নেহাত কম হবে।