📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 গুনাহ প্রকাশ করার ভয়াবহতা

📄 গুনাহ প্রকাশ করার ভয়াবহতা


عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ كُلُّ أُمَّتِي مُعَافَى إِلَّا الْمُজَاهِرُوْنَ قِيْلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمِنَ الْمُجَاهِرُوْنَ؟ قَالَ: الَّذِي يَعْمَلُ الْعَمَلَ بِاللَّيْلِ فَيَسْتُرُهُ رَبُّهَ عَزَّوَجَلَّ ثُمَّ يُصْبِحُ فَيَقُولُ يَا فُلَانُ؟ عَمِلْتُ الْبَارِحَةَ كَذَا وَ كَذَا فَيَكْشِفُ سِتْرَ اللَّهِ عَزَّ وَজَلَّ عَنْهَ
“হজরত আবু কাতাদা আনসারী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- আমার সমস্ত উম্মতের সাথে ক্ষমার আচরণ করা হবে, তবে ঐ লোকেরা ব্যতীত, যারা "মুজাহিরীন"। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসুল! "মুজাহিরীন" কারা? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “মুজাহিরীন" হল ঐ ব্যক্তি, যে রাতে কোন গুনাহের কাজ করে। তখন তার রব তা ঢেকে রাখেন। কিন্তু সকাল বেলা সে মানুষকে বলে বেড়ায়, হে অমুক! আমি গত রাতে এইটা করেছি, ঐটা করেছি। আর তখন আল্লাহ তা'আলা উক্ত পর্দাকে উঠিয়ে নেন। "[১৩৬]

টিকাঃ
[১৩৬] তাবরানী; মাজমাউয যাওয়ায়েদ

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 শুধুমাত্র ইচ্ছা গুনাহ নয়

📄 শুধুমাত্র ইচ্ছা গুনাহ নয়


عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ: الْهَوَى مَغْفُورُ لِصَاحِبِهِ مَالَمْ يَعْمَلْ بِهِ أَوْ يَتَكَلَّمْ
“হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-ইচ্ছা মানুষের জন্য ঐ সময় পর্যন্ত মাফ, যতক্ষণ পর্যন্ত তার উপর আমল না করা হয় অথবা তা জবানে উচ্চারণ না করা হয়। "[১৩৭]
অন্দরে যদি কোন প্রকার অবৈধ ইচ্ছা জাগ্রত হয়, তাহলে ততক্ষণ পর্যন্ত কোন গুনাহ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তার উপর আমল না করা হবে। আর যদি মিথ্যা, অপবাদ, গীবত, গালি ইত্যাদির ইচ্ছা অন্তরে সৃষ্টি হয়, তাহলে ততক্ষণ পর্যন্ত গুনাহ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তা জবানে উচ্চারণ না করা হবে।

টিকাঃ
[১৩৭] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ১২৭; মুয়াত্তা মালেক: হাদিস নং ২৫৮০

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 বিদ‘আতের শাস্তি

📄 বিদ‘আতের শাস্তি


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ إِنَّ اللَّهَ حَجَبَ التَّوْبَةَ عَنْ كُلِّ صَاحِبِ بِدْعَةٍ
“হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-আল্লাহ তা'আলা সকল বিদ'আতি থেকে তাওবাকে লুকিয়ে রেখেছেন।"[১৩৮]

টিকাঃ
[১৩৮] মাজমউয যাওয়ায়েদ: ১০/২২২

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 আত্মার চিকিৎসা

📄 আত্মার চিকিৎসা


মুজাহিদদের মধ্যে ইস্তিগফারের আমল সম্পর্কে কয়েকটি কথা-
১. মুজাহিদরা কি জিহাদ ছেড়ে দিয়েছে নাকি যে, এখন ইস্তিগফারে লেগে গেছে? জ্বী না। পবিত্র কুরআনুল কারিমে আল্লাহ তা'আলার প্রিয় মুজাহিদীন যাদের ক্রেতা হল, স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা। তাদের প্রথম গুণ বর্ণনা করা হয়েছে الثَّابِبُوْانَ তথা তাওবা ও ইস্তিগফারকারী।
২. পূর্বে তো কালিমায়ে তাইয়্যেবার আমল চলেছে। এখন কি তাদের উৎসাহে ভাটা পড়ে গেছে যে, এখন ইস্তিগফারের আমলে মনোনিবেশ করতে হবে? জ্বী না। পবিত্র কুরআনুল কারিমের বিন্যাস হল, কালিমাকে পাক্কা কর, অতঃপর ইস্তিগফারে লেগে যাও। দেখুন সুরা মুহাম্মাদের ১৯ নং আয়াত। আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ
“অতএব জেনে রাখ, নিঃসন্দেহে আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই। তুমি ক্ষমা চাও তোমার ও মুমিন নারী-পুরুষদের ত্রুটি-বিচ্যুতির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং নিবাস সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।"[১৩৯]
এই আয়াত ও তার তরজমাটি অবশ্যই দু-চার বার পাঠ করবেন। দেখবেন! অন্তরে কেমন স্বাদ অনুভব হয়। আলহামদুলিল্লাহ! কালিমার বরকতে ইস্তিগফারের তাওফিক হয়েছে। আর ইস্তিগফার কালিমার ইয়াকিনকে বৃদ্ধি করে এবং সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে।
৩. নফস বলবে, আমি তো এত গুনাহ করিনি যে, হাজার বার ইস্তিগফার করতে হবে। তখন আপনি তাকে নির্জনে নিয়ে যান এবং তাকে তার ঐ সকল কর্মকাণ্ড স্মরণ করিয়ে দিন, যা সে আমাকে জাহান্নামে এবং লাঞ্ছনায় নিক্ষেপ করার জন্য করেছে। আজও সে ক্লান্ত হবে না। যখন ইবাদাতের সময় হবে, তখন সে ক্লান্ত হয়ে যাবে। তাকে তখন জিজ্ঞেস করুন! হে জালিম! কোন দিন এমন গিয়েছে যে, তুই আমাকে ধ্বংস করিসনি? কখনো কি একদিনে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এমনভাবে আদায় করতে দিয়েছিস, যাতে পরিপূর্ণ খুশু এবং ইখলাস ছিল। যা আমি আমার মহান মালিককে পেশ করতে পারি। মিথ্যা, গীবাত, অশালীন ভাষা, কুদৃষ্টি, লৌকিকতা ও লোভ-লালসা এবং আল্লাহ তা'আলাকে ছেড়ে গাইরুল্লাহর নিকট আশা-ভরসা করা ইত্যাদি। হে জালিম! তোকে কত জুলুমের কথা স্মরণ করাব। ব্যাস! এভাবে স্মরণ করাতে থাকুন, যতক্ষণ পর্যন্ত না নফস কান্না শুরু করে এবং আল্লাহ তা'আলার এই বিদ্রোহী তাওবা না করে।
৪. গুনাহ আমাদেরকে অকর্মণ্য বানিয়ে দিয়েছে। সর্বদা অন্তরে কুচিন্তা কেন? এটা হল ঐ দুর্গন্ধময় কীট, যা গুনাহই আমাদের অন্তরে সৃষ্টি করে দিয়েছে। এই অস্থিরতা ও পেরেশানি কেন? এটা হল ঐ আঘাত, যা গুনাহই আমাদের অন্তরে লাগিয়ে দিয়েছে। এই হতাশা কেন? এটা হল ঐ পক্ষাঘাত, যা গুনাহই আমাদের রূহের উপর ঢেলে দিয়েছে। এই অলসতা কেন? এটা হল ঐ জাল, যা গুনাহই আমাদের অন্তরের উপর বিছিয়ে দিয়েছে। ইস্তিগফার হল ঐ সাবান ও পানি, যা দিয়ে আমরা হৃদয় এবং আত্মাকে ধৌত করি। ইস্তিগফার হল ঐ মলম, যা দিয়ে আমরা অভ্যন্তরীণ ব্যথাকে উপশম করে থাকি।
৫. কুরআনুল কারিমের ভাষ্যমতে আত্মাও অসুস্থ হয়। আত্মার প্রাণ ও সুস্থতা কোন বস্তুতে নিহিত? ফরজ ও ওয়াজিবসমূহ আদায় করা, তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, কালিমায়ে তায়্যিবাহ, ইস্তিগফার, দুরূদ শরিফ ও নেককার-বুজুর্গদের সংশ্রব ইত্যাদি হল আত্মার খোরাক ও ভিটামিন।
৬. নফস ও শয়তান আমাদেরকে শরীরের ফিকিরে লাগিয়ে দিয়েছে। সম্পদের ফিকির, ইজ্জতের ফিকির, প্রবৃত্তির ফিকির, নাম ও যশ-খ্যাতির ফিকির ও দুনিয়াবী ভবিষ্যতের ফিকির। এখন আর মুসলমানদের ইসলামের ফিকির নেই। ইসলামের দাওয়াহ, ইসলামের সম্মান ও ইসলামের বিজয়ের ফিকির। নফসের প্রবৃত্তি আমাদেরকে জমিন ও আসমানে সস্তা ও মূল্যহীন বানিয়ে দিয়েছে। এজন্য কুরআনুল কারিমের পৃষ্ঠা জ্বলছে এবং তার ছাই আমাদের নফসপূজার উপর বিলাপ করছে। হাজারো বোন ইজ্জত হারাচ্ছে এবং জেলখানায় কাতরাচ্ছে। প্রতিটি আন্দোলনের শহিদদের খুন আমাদেরকে জিজ্ঞেস করছে যে, হীন প্রবৃত্তিই তোমাদেরকে মেরে ফেলেছে। সুতরাং প্রিয় পাঠক! ইস্তিগফার করে স্বীয় মালিককে সন্তুষ্ট করা প্রয়োজন। যেন আমাদের অবস্থার উপর অনুগ্রহ হয়。

টিকাঃ
[১৩৯] মুহাম্মাদ-৪৭: ১৯

ফন্ট সাইজ
15px
17px