📄 নিজের জীবনের প্রতিটি নিঃশ্বাসের মূল্যায়ন করুন
عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُوْلُ: إِنَّ مِنْ سَعَادَةِ الْمَرْءِ أَنْ يَطُوْلَ عُمْرُهَ وَيَرْزُقَهُ اللَّهُ الْإِنَابَةُ
“হজরত جাবের রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- মানুষের সৌভাগ্যের মধ্যে একটি হল এই যে, তার হায়াত দীর্ঘ হওয়া এবং আল্লাহ তা'আলা তাকে রুজু ইলাল্লাহ তথা আল্লাহ তা'আলার দিকে ধাবিত হওয়া নসিব করেছেন। "[১৩৪]
জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। জান্নাতে যাওয়ার পরে দুঃখ-কষ্ট, পেরেশানি ও আফসোস নামক কোন বস্তু থাকবে না। কিন্তু জীবনের ঐ মুহূর্তটির জন্য বড় আফসোস হবে, যা গুনাহের কাজে কিংবা কোন প্রকার নেক কাজ ব্যতীত কেটেছে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে রুজু ইলাল্লাহ তথা আল্লাহ তা'আলার দিকে ধাবিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
টিকাঃ
[১৩৪] মুস্তাদরাকে হাকেম
📄 গুনাহ যদি বান্দার হকের সাথে সম্পৃক্ত হয়
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: مَنْ كَانَتْ لَهُ مَظْلَمَةٌ لِأَخِيهِ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ شَيْءٍ فَلْيَتَحَلَّلْهُ مِنْهُ الْيَوْمَ قَبْلَ أَنْ لَا يَكُونَ دِينَارُ وَلَا دِرْهَمْ، إِنْ كَانَ لَهُ عَمَلُ صَالِحٌ أُخِذَ مِنْهُ بِقَدْرِ مَظْلَمَتِهِ، وَإِنْ لَمْ تَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ صَاحِبِهِ فَحُمِلَ عَلَيْهِ
“হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-যে ব্যক্তি স্বীয় মুসলিম ভাইয়ের ইজ্জত ও সম্পদের (যেকোন প্রকারের) জুলুম করেছে, তার জন্য উচিত হল আজই তা ক্ষমা করিয়ে নেওয়া। ঐ দিন আসার পূর্বে যেদিন এই জুলুমের প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং সেদিন না কোন প্রকার দিনার হবে, না দিরহাম হবে। সেদিন যদি তার নিকট নেক আমল থাকে, তাহলে তার জুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী নিয়ে নেওয়া হবে। আর যদি তার কোন নেক আমল না থাকে, তাহলে মাজলুমের গুনাহসমূহ থেকে সে পরিমাণ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। "[১৩৫]
টিকাঃ
[১৩৫] সহিহ বুখারী: হাদিস নং ২৪৪৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১০৫৭৪
📄 গুনাহ প্রকাশ করার ভয়াবহতা
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ كُلُّ أُمَّتِي مُعَافَى إِلَّا الْمُজَاهِرُوْنَ قِيْلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمِنَ الْمُجَاهِرُوْنَ؟ قَالَ: الَّذِي يَعْمَلُ الْعَمَلَ بِاللَّيْلِ فَيَسْتُرُهُ رَبُّهَ عَزَّوَجَلَّ ثُمَّ يُصْبِحُ فَيَقُولُ يَا فُلَانُ؟ عَمِلْتُ الْبَارِحَةَ كَذَا وَ كَذَا فَيَكْشِفُ سِتْرَ اللَّهِ عَزَّ وَজَلَّ عَنْهَ
“হজরত আবু কাতাদা আনসারী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- আমার সমস্ত উম্মতের সাথে ক্ষমার আচরণ করা হবে, তবে ঐ লোকেরা ব্যতীত, যারা "মুজাহিরীন"। জিজ্ঞেস করা হল, হে আল্লাহর রাসুল! "মুজাহিরীন" কারা? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “মুজাহিরীন" হল ঐ ব্যক্তি, যে রাতে কোন গুনাহের কাজ করে। তখন তার রব তা ঢেকে রাখেন। কিন্তু সকাল বেলা সে মানুষকে বলে বেড়ায়, হে অমুক! আমি গত রাতে এইটা করেছি, ঐটা করেছি। আর তখন আল্লাহ তা'আলা উক্ত পর্দাকে উঠিয়ে নেন। "[১৩৬]
টিকাঃ
[১৩৬] তাবরানী; মাজমাউয যাওয়ায়েদ
📄 শুধুমাত্র ইচ্ছা গুনাহ নয়
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ ﷺ: الْهَوَى مَغْفُورُ لِصَاحِبِهِ مَالَمْ يَعْمَلْ بِهِ أَوْ يَتَكَلَّمْ
“হজরত আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-ইচ্ছা মানুষের জন্য ঐ সময় পর্যন্ত মাফ, যতক্ষণ পর্যন্ত তার উপর আমল না করা হয় অথবা তা জবানে উচ্চারণ না করা হয়। "[১৩৭]
অন্দরে যদি কোন প্রকার অবৈধ ইচ্ছা জাগ্রত হয়, তাহলে ততক্ষণ পর্যন্ত কোন গুনাহ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তার উপর আমল না করা হবে। আর যদি মিথ্যা, অপবাদ, গীবত, গালি ইত্যাদির ইচ্ছা অন্তরে সৃষ্টি হয়, তাহলে ততক্ষণ পর্যন্ত গুনাহ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তা জবানে উচ্চারণ না করা হবে।
টিকাঃ
[১৩৭] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ১২৭; মুয়াত্তা মালেক: হাদিস নং ২৫৮০