📄 ক্ষমা ও পথ প্রদর্শন
“হজরত উসমান ইবনে আবিল আস রাদিআল্লাহু আনহু এবং কাবাস গোত্রের এক মহিলা থেকে বর্ণিত, তারা উভয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই দু'আটি পাঠ করতে শুনেছেন-
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي وَخَطَأَي وَعَمَدِى اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَهْدِيَكَ لا رْشَدِ أَمْرِي وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। ভুলে হোক কিংবা ইচ্ছায়। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আমার উত্তম আচরণের পথ প্রদর্শন কামনা করছি এবং আমার নফসের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় কামনা করছি। "[১২৯]
টিকাঃ
[১২৯] আহমাদ; তাবরানী; মাজমাউয যাওয়ায়েদ
📄 দ্বিতীয়বার হয়ে যাওয়া গুনাহের জন্য ইস্তিগফার
“সুফিয়ান রাহি. থেকে বর্ণিত, মাতরাফ ইবনে আবদুল্লাহর দু'আসমূহ থেকে একটি দু'আ ছিল এটি-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَغْفِرُكَ مِمَّا سَأَلْتُكَ مِنْهُ ثُمَّ عُدْتُ فِيهِ، وَاسْتَغْفِرُكَ مِمَّا جَعَلْتَهُ لَكَ عَلَى نَفْسِي ثُمَّ لَمْ أُوْفِ لَكَ بِهِ؛ وَاسْتَغْفِرُكَ مِمَّا زَعَمْتُ أَنِّي أَرَدْتُ فِيْهِ وَجْهَكَ فَخَالَطَ قَلْبِيْ فِيْهِ مَا قَدْ عَلِمْتَ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি ইস্তিগফার করছি ঐ সকল গুনাহ থেকে যা ক্ষমা চেয়েছিলাম কিন্তু পুনরায় করে ফেলেছি। আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ আমলের ব্যাপারে, যা আমি আপনার জন্য আমার উপর অত্যাবশ্যক করেছি কিন্তু তারপরও আমি তা পূর্ণ করিনি। আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ আমলের জন্য, যা আমি আমার ধারণা মতে আপনার জন্যই করেছিলাম কিন্তু আমার অন্তরে ঐ বস্তুর আকাঙ্ক্ষা এসে গেছে, যা আপনি অবগত। "[১৩০]
টিকাঃ
[১৩০] শু'আবুল ইমান; বায়হাকী
📄 তাওয়াফ অবস্থায় ইস্তিগফার
“হজরত আবদুল আ'লা তামিমি রাহি. থেকে বর্ণিত, হজরত খাদিজা রাদিআল্লাহু আনহা আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! তাওয়াফ করা অবস্থায় আমি কী বলব? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন ইরশাদ করেন যে, এটা পড়ো-
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي وَخَطَايَايَ وَعَمَدِى وَإِسْرَانِي فِي أَمْرِي إِنَّكَ إِنْ لَا تَغْفِرْ لِي تُهْلِكُنِي
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ ও ভুলত্রুটিসমূহ ক্ষমা করুন। ইচ্ছায় করা ভুলগুলো ক্ষমা করুন। আমার কাজের সীমালঙ্ঘনকে ক্ষমা করুন। কেননা আপনি যদি আমাকে ক্ষমা না করেন, তাহলে আমি ধ্বংস হয়ে যাব।[১৩১]
টিকাঃ
[১৩১] শু'আবুল ইমান
📄 জুলুম ও অকৃতজ্ঞতার উপর ইস্তিগফার
হজরত উমর ফারুক রাদিআল্লাহু আনহু একবার দু'আ করলেন-হে আল্লাহ! আমার জুলুম এবং কুফরকে ক্ষমা করুন। কেউ একজন জিজ্ঞেস করলেন, হে আমিরুল মুমিনীন! জুলুমের কথা তো বুঝে আসে কিন্তু কুফরের ব্যাপারটি কী? উমর রাদিআল্লাহু আনহু তখন পবিত্র কুরআনুল কারিমের সুরা ইবরাহিমের ৩৪ নং আয়াতের এই অংশটি তিলাওয়াত করলেন-
إِنَّ الْإِنسَانَ لَظَلُومٌ كَفَّارُ
“নিশ্চয় মানুষ অধিক অত্যাচারী ও অকৃতজ্ঞ। [১৩২]
ফায়দা: আরবিতে কুফর শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়। এক অর্থ তো হল ঐটা যা প্রসিদ্ধ তথা ইমানের বিপরীত কুফর। আর দ্বিতীয় অর্থ হল- নাশুকরি তথা অকৃতজ্ঞতা। এখানে উমর রাদিআল্লাহু আনহু দ্বিতীয় অর্থটি উদ্দেশ্য নিয়েছেন।
টিকাঃ
[১৩২] ইবনে আবি হাতেম; কানযুল উম্মাল: ২/৬৭৬