📄 আল্লাহর কসম অমুকের মাগফিরাত হবে না, বলা কেমন?
عَنْ جُنْدَبٍ ، أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ حَدَّثَ: أَنَّ رَجُلًا، قَالَ: وَاللَّهِ لَا يَغْفِرُ اللَّهُ لِفُلَانٍ، وَإِنَّ اللهَ تَعَالَى، قَالَ: مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَى أَنْ لَا أَغْفِرَ لِفُلَانٍ، فَإِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِفُلَانٍ، وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ
"হজরত জুনদুব রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- এক ব্যক্তি কারো (গুনাহগার) সম্পর্কে বলে দিল যে, অমুককে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, এটা কে, যে কসম খেয়ে আমাকে বাধ্য করে যে, অমুককে ক্ষমা করব না। মনে রেখো! আমি অমুককে ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমার আমলকে ধ্বংস করে দিলাম।"[১২৭]
আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত অনেক প্রশস্ত। তিনি নিজেই নিজের নাম রেখেছেন-“রহমান-রাহিম, গাফুর-গাফ্ফার, রাউফ ও ওয়াদুদ।” জমিন ভরা গুনাহও আল্লাহ তা'আলার নিকট কিছুই না। আল্লাহ তা'আলা যাকে ক্ষমা করতে চান, তাঁকে কেউ বাধা দেওয়ার সাধ্য কারো নেই। এজন্য কারো জন্য কারো সম্পর্কে এটা বলার অনুমতি নেই যে, আল্লাহর কসম! তার মাগফিরাত হবে না। তাই এটা না বলে বরং নিজের মাগফিরাতের ব্যাপারে ফিকির করা উচিত।
টিকাঃ
[১২৭] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৬২১
📄 সকল ছোট-বড় ও জানা-অজানা গুনাহ থেকে ইস্তিগফার
“হজরত আবু উমামা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন-আমি যখনই কোন সালাতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটবর্তী হয়েছি, চাই তা ফরজ সালাত হোক কিংবা নফল সালাত। তখনই তাঁকে এই বাক্যগুলো দ্বারা দু'আ করতে শুনেছি-
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي وَخَطَايَايَ كُلَّهَا اللَّهُمَّ انْعِشْنِي وَاجْبُرْنِي وَاهْدِنِي لِصَالِحِ الْأَعْمَالِ وَالْأَخْلَاقِ؛ فَإِنَّهَ لَا يَهْدِي لِصَالِحِهَا وَلَا يَصْرِفُ سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন। আমার সকল গুনাহ ও ভুল-ভ্রান্তিসমূহ ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমাকে উচ্চ মর্যাদা দান করুন। আমাকে সৌভাগ্য নসিব করুন। আমাকে নেক আমল এবং সচ্চরিত্রের পথ প্রদর্শন করুন। আপনি ব্যতীত আর কেউ সচ্চরিত্রের পথ প্রদর্শন করতে পারবে না এবং কেউ মন্দ আমল থেকে ফেরাতে পারবে না।"[১২৮]
টিকাঃ
[১২৮] তাবরানী; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/১৪৮ হাদিস নং ১২৯৮২
📄 ক্ষমা ও পথ প্রদর্শন
“হজরত উসমান ইবনে আবিল আস রাদিআল্লাহু আনহু এবং কাবাস গোত্রের এক মহিলা থেকে বর্ণিত, তারা উভয়ে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই দু'আটি পাঠ করতে শুনেছেন-
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذَنْبِي وَخَطَأَي وَعَمَدِى اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَهْدِيَكَ لا رْشَدِ أَمْرِي وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন। ভুলে হোক কিংবা ইচ্ছায়। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আমার উত্তম আচরণের পথ প্রদর্শন কামনা করছি এবং আমার নফসের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় কামনা করছি। "[১২৯]
টিকাঃ
[১২৯] আহমাদ; তাবরানী; মাজমাউয যাওয়ায়েদ
📄 দ্বিতীয়বার হয়ে যাওয়া গুনাহের জন্য ইস্তিগফার
“সুফিয়ান রাহি. থেকে বর্ণিত, মাতরাফ ইবনে আবদুল্লাহর দু'আসমূহ থেকে একটি দু'আ ছিল এটি-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَغْفِرُكَ مِمَّا سَأَلْتُكَ مِنْهُ ثُمَّ عُدْتُ فِيهِ، وَاسْتَغْفِرُكَ مِمَّا جَعَلْتَهُ لَكَ عَلَى نَفْسِي ثُمَّ لَمْ أُوْفِ لَكَ بِهِ؛ وَاسْتَغْفِرُكَ مِمَّا زَعَمْتُ أَنِّي أَرَدْتُ فِيْهِ وَجْهَكَ فَخَالَطَ قَلْبِيْ فِيْهِ مَا قَدْ عَلِمْتَ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি ইস্তিগফার করছি ঐ সকল গুনাহ থেকে যা ক্ষমা চেয়েছিলাম কিন্তু পুনরায় করে ফেলেছি। আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ আমলের ব্যাপারে, যা আমি আপনার জন্য আমার উপর অত্যাবশ্যক করেছি কিন্তু তারপরও আমি তা পূর্ণ করিনি। আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ আমলের জন্য, যা আমি আমার ধারণা মতে আপনার জন্যই করেছিলাম কিন্তু আমার অন্তরে ঐ বস্তুর আকাঙ্ক্ষা এসে গেছে, যা আপনি অবগত। "[১৩০]
টিকাঃ
[১৩০] শু'আবুল ইমান; বায়হাকী