📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ছোট গুনাহর ধ্বংসাত্মক পরিণাম

📄 ছোট গুনাহর ধ্বংসাত্মক পরিণাম


عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِيَّاكُمْ وَمُحَقِّرَاتِ الذُّنُوبِ فَإِنَّمَا مَثَلُ مُحَقِّرَاتِ الذُّنُوْبِ كَمَثَلِ قَوْمٍ نَزَلُوا بَطْنَ وَادٍ فَجَاءَ ذَا بِعُوْدٍ وَجَاءَ ذَا بِعُوْدٍ حَتَّى حَمَلُوْا مَا أَنْضَجُوا بِهِ خُبْزَهُمْ وَإِنَّ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ مَتَى يُؤْخَذْ بِهَا صَاحِبُهَا يُهْلِكُهُ
“হজরত সাহাল বিন সা'আদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-ঐ গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাক যেগুলোকে তোমরা ছোট মনে কর। কেননা এই ছোট গুনাহসমূহের উপমা হল এমন, যেমন কোন এক কাফেলা কোন মরুভূমিতে যাত্রাবিরতি করল। আর তাদের আগুনের প্রয়োজন দেখা দিল। তখন তারা একেকজন একেকটি করে লাকড়ি নিয়ে আসল। এভাবে তারা এ পরিমাণ লাকড়ি জমা করল, যার দ্বারা তারা তাদের খানা পাক করে নিল। বাস্তবতা হল, এমন গুনাহকারীর যখন শান্তি হবে, তখন তা তাকে ধ্বংস করে ছাড়বে।"[১২৫]
অর্থাৎ যেমনিভাবে একেকটি লাকড়ি জমা হয়ে আগুনের শিখায় পরিণত হয়েছে, ঠিক একই অবস্থা এই ছোট গুনাহসমূহের, যেগুলো থেকে তাওবা না করা হয়।

টিকাঃ
[১২৫] আহমাদ; তাবরানী

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 রহমত ও মাগফিরাতের ছড়াছড়ি

📄 রহমত ও মাগফিরাতের ছড়াছড়ি


عَنْ أَبِي مُوسَى ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ، وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ، حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا
“হজরত আবু মুসা আশআরী রাদিআল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বর্ণনা করেন-আল্লাহ তা'আলা রাতে স্বীয় রহমতের হাত (বিশেষ রহমত) ছড়িয়ে দেন। যেন দিনের গুনাহগাররা তাওবা করতে পারে এবং দিনেও স্বীয় রহমতের হাত ছড়িয়ে দেন। যেন রাতের গুনাহগাররা তাওবা করতে পারে। (এ ব্যাপারটি এভাবে চলতে থাকে) যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য পশ্চিমাকাশে অস্ত না যায়।"[১২৬]

টিকাঃ
[১২৬] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৭৫৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৩৬৭৩১

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 আল্লাহর কসম অমুকের মাগফিরাত হবে না, বলা কেমন?

📄 আল্লাহর কসম অমুকের মাগফিরাত হবে না, বলা কেমন?


عَنْ جُنْدَبٍ ، أَنْ رَسُولَ اللهِ ﷺ حَدَّثَ: أَنَّ رَجُلًا، قَالَ: وَاللَّهِ لَا يَغْفِرُ اللَّهُ لِفُلَانٍ، وَإِنَّ اللهَ تَعَالَى، قَالَ: مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَى أَنْ لَا أَغْفِرَ لِفُلَانٍ، فَإِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِفُلَانٍ، وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ
"হজরত জুনদুব রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন- এক ব্যক্তি কারো (গুনাহগার) সম্পর্কে বলে দিল যে, অমুককে আল্লাহ তা'আলা ক্ষমা করবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, এটা কে, যে কসম খেয়ে আমাকে বাধ্য করে যে, অমুককে ক্ষমা করব না। মনে রেখো! আমি অমুককে ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমার আমলকে ধ্বংস করে দিলাম।"[১২৭]
আল্লাহ তা'আলার মাগফিরাত অনেক প্রশস্ত। তিনি নিজেই নিজের নাম রেখেছেন-“রহমান-রাহিম, গাফুর-গাফ্ফার, রাউফ ও ওয়াদুদ।” জমিন ভরা গুনাহও আল্লাহ তা'আলার নিকট কিছুই না। আল্লাহ তা'আলা যাকে ক্ষমা করতে চান, তাঁকে কেউ বাধা দেওয়ার সাধ্য কারো নেই। এজন্য কারো জন্য কারো সম্পর্কে এটা বলার অনুমতি নেই যে, আল্লাহর কসম! তার মাগফিরাত হবে না। তাই এটা না বলে বরং নিজের মাগফিরাতের ব্যাপারে ফিকির করা উচিত।

টিকাঃ
[১২৭] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৬২১

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 সকল ছোট-বড় ও জানা-অজানা গুনাহ থেকে ইস্তিগফার

📄 সকল ছোট-বড় ও জানা-অজানা গুনাহ থেকে ইস্তিগফার


“হজরত আবু উমামা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন-আমি যখনই কোন সালাতে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকটবর্তী হয়েছি, চাই তা ফরজ সালাত হোক কিংবা নফল সালাত। তখনই তাঁকে এই বাক্যগুলো দ্বারা দু'আ করতে শুনেছি-
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي وَخَطَايَايَ كُلَّهَا اللَّهُمَّ انْعِشْنِي وَاجْبُرْنِي وَاهْدِنِي لِصَالِحِ الْأَعْمَالِ وَالْأَخْلَاقِ؛ فَإِنَّهَ لَا يَهْدِي لِصَالِحِهَا وَلَا يَصْرِفُ سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ
অর্থ: হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন। আমার সকল গুনাহ ও ভুল-ভ্রান্তিসমূহ ক্ষমা করে দিন। হে আল্লাহ! আমাকে উচ্চ মর্যাদা দান করুন। আমাকে সৌভাগ্য নসিব করুন। আমাকে নেক আমল এবং সচ্চরিত্রের পথ প্রদর্শন করুন। আপনি ব্যতীত আর কেউ সচ্চরিত্রের পথ প্রদর্শন করতে পারবে না এবং কেউ মন্দ আমল থেকে ফেরাতে পারবে না।"[১২৮]

টিকাঃ
[১২৮] তাবরানী; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: ১০/১৪৮ হাদিস নং ১২৯৮২

ফন্ট সাইজ
15px
17px