📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 শুধুমাত্র মৌখিক ইস্তিগফারও উপকার থেকে শূন্য নয়

📄 শুধুমাত্র মৌখিক ইস্তিগফারও উপকার থেকে শূন্য নয়


ঐ ইস্তিগফার যা শুধুমাত্র মৌখিকভাবে পাঠ করেছে এবং অন্তরে উদাসীন ছিল। তা বিশেষ কোন উপকারী নয়। ঐ ইস্তিগফার হল সবচেয়ে উপকারী, যাতে মুখের সাথে সাথে অন্তর ও শরিক থাকে। অন্তর শরিক থাকার অর্থ হল-ইস্তিগফার করার সময় অন্তরে ভয় থাকা। ক্ষমা ও মাগফিরাতের কামনা থাকা এবং অন্তর লজ্জিত, পেরেশান ও অনুতপ্ত হওয়া। তবে মনে রাখবেন যে, শুধুমাত্র মৌখিক ইস্তিগফারও উপকার থেকে একেবারে শূন্য নয়। কেননা এর দ্বারা আর কিছু না হোক, অন্তত জবান অনর্থক ও বেহুদা কথাবার্তা থেকে তো নিরাপদ রইল। আর অনর্থক ও বেহুদা কথাবার্তা থেকে উত্তম হল চুপ থাকা। আর তা থেকেও উত্তম হল ঐ উত্তম ও বরকতময় অভ্যাস যে, যখন পাঠ করা হবে, তখন জবান অনর্থক ও বেহুদা কথাবার্তা বলার চেয়ে ইস্তিগফার পড়ার প্রতি অধিক ধাবিত হয়ে যায়। আর এটাও আশা করা যায় যে, মৌখিক ইস্তিগফার পড়তে পড়তে অবশেষে একদিন অন্তরও কোন এক সময় শরিক হয়ে যাবে এবং কাজ হয়ে যাবে।
আবু উসমান মাগরিবী রাহি. এর এক মুরিদ তাকে বলল, এমন সময়ও আমার আসে, যখন আমার জবানে আল্লাহ তা'আলার জিকির জারি হয় কিন্তু তখন আমি থাকি অমনোযোগী। অর্থাৎ জিকির হয় শুধুমাত্র মৌখিক। আমার অন্তর থাকে অন্যত্র। তিনি বললেন- শুকরিয়া আদায় কর যে, তোমার কোন অঙ্গকে (জবান) খিদমতের নির্দেশ তো দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অন্তত তোমার জবানকে তো আল্লাহ তা'আলার ভাল কাজে লাগিয়েছেন। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা মনে রাখতে হবে। আর তা হল- কোন ব্যক্তি যখন শুধুমাত্র মৌখিকভাবে জিকির ও ইস্তিগফার করে এবং তার অন্তর হাজির থাকে না, তখন شয়তান তার উপর অনেক কঠিন আক্রমণ করে এবং বলে যে, হে বান্দা! জবানটা বন্ধই করে ফেল। তোমার অন্তরই যেহেতু অনুপস্থিত, তাহলে মৌখিক জমা-খরচ শুধুমাত্র নির্লজ্জতা ও অনেক বড় বেআদবী। শয়তানের এই আক্রমণ ও ধোঁকার জবাবদানকারী ব্যক্তি তিন প্রকার হয়ে থাকে। যথা-
ক. সাবেক: এরা হল ঐ লোক, যারা শয়তানের এই কুমন্ত্রণার জবাবে বলে- হ্যাঁ! তোর কথা ঠিক আছে। শুধুমাত্র মৌখিক জমা-খরচের কি ফায়দা! তাই এই নে আমি এখন জোরপূর্বক আমার অন্তরকে হাজির করে নিচ্ছি। এ লোকেরা শয়তানকে আঘাত করে এবং তার কাটা গায়ে লবণ ছিটায়।
খ. জালেম: এরা হল ঐ লোক, যারা শয়তানের কথায় এসে যায় এবং বলে যে, তুমি একদমই ঠিক বলেছ। বাস্তবেই অন্তরের মনযোগ ব্যতীত জবান নাড়ানো পুরাই বেকার। তারপর বাস্তবেই জিকির ও ইস্তিগফার ছেড়ে দেয় এবং মনে করে যে, তারা অনেক বুদ্ধিমানের কাজ করেছে। বস্তুত এসব লোক শয়তানের অনুসরণ করছে।
গ. মুকতাসিদ: এরা হল ঐ লোক, যারা শয়তানের এই কুমন্ত্রণার জবাবে বলে-এটা ঠিক যে, আমার অন্তর হাজির না। কিন্তু আমি জবানকে আল্লার জিকির থেকে কেন বাধা দেব? অন্তত চুপ থাকার চেয়ে তো জিকির করা উত্তম। কেননা নিঃসন্দেহে চৌকিদারীর পেশা বাদশাহীর পেশার চেয়ে নিম্ন মানের। কিন্তু বেকার থাকার চেয়ে তো উত্তম। এখন যদি কোন চৌকিদার বাদশাহ হতে না পারে। তার জন্য এটা কি করে মুনাসিব হয় যে, চৌকিদারী ছেড়ে বেকার হয়ে যাবে? [১২৩]

টিকাঃ
[১২৩] প্রাগুক্ত

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ইস্তিগফারের দ্বারা কবিরা গুনাহ মাফ

📄 ইস্তিগফারের দ্বারা কবিরা গুনাহ মাফ


“নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আযাদকৃত গোলাম হজরত যায়েদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি এই দু'আটি পাঠ করবে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে, যদিও সে যুদ্ধ থেকে পলায়নকারী হোক। (যা কবিরা গুনাহ) দু'আটি হল-
أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
অর্থ: আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি ঐ আল্লাহ তা'আলার নিকট, যাকে ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব। গোটা জগতের ব্যবস্থাপক। আর তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি।[১২৪]

টিকাঃ
[১২৪] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ১৫১৭; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৩৩৯৭; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ১১০৭৪

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 ছোট গুনাহর ধ্বংসাত্মক পরিণাম

📄 ছোট গুনাহর ধ্বংসাত্মক পরিণাম


عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ: إِيَّاكُمْ وَمُحَقِّرَاتِ الذُّنُوبِ فَإِنَّمَا مَثَلُ مُحَقِّرَاتِ الذُّنُوْبِ كَمَثَلِ قَوْمٍ نَزَلُوا بَطْنَ وَادٍ فَجَاءَ ذَا بِعُوْدٍ وَجَاءَ ذَا بِعُوْدٍ حَتَّى حَمَلُوْا مَا أَنْضَجُوا بِهِ خُبْزَهُمْ وَإِنَّ مُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ مَتَى يُؤْخَذْ بِهَا صَاحِبُهَا يُهْلِكُهُ
“হজরত সাহাল বিন সা'আদ রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-ঐ গুনাহসমূহ থেকে বেঁচে থাক যেগুলোকে তোমরা ছোট মনে কর। কেননা এই ছোট গুনাহসমূহের উপমা হল এমন, যেমন কোন এক কাফেলা কোন মরুভূমিতে যাত্রাবিরতি করল। আর তাদের আগুনের প্রয়োজন দেখা দিল। তখন তারা একেকজন একেকটি করে লাকড়ি নিয়ে আসল। এভাবে তারা এ পরিমাণ লাকড়ি জমা করল, যার দ্বারা তারা তাদের খানা পাক করে নিল। বাস্তবতা হল, এমন গুনাহকারীর যখন শান্তি হবে, তখন তা তাকে ধ্বংস করে ছাড়বে।"[১২৫]
অর্থাৎ যেমনিভাবে একেকটি লাকড়ি জমা হয়ে আগুনের শিখায় পরিণত হয়েছে, ঠিক একই অবস্থা এই ছোট গুনাহসমূহের, যেগুলো থেকে তাওবা না করা হয়।

টিকাঃ
[১২৫] আহমাদ; তাবরানী

📘 ইলা মাগফিরাহ 📄 রহমত ও মাগফিরাতের ছড়াছড়ি

📄 রহমত ও মাগফিরাতের ছড়াছড়ি


عَنْ أَبِي مُوسَى ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَبْسُطُ يَدَهُ بِاللَّيْلِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ النَّهَارِ، وَيَبْسُطُ يَدَهُ بِالنَّهَارِ لِيَتُوبَ مُسِيءُ اللَّيْلِ، حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ مِنْ مَغْرِبِهَا
“হজরত আবু মুসা আশআরী রাদিআল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী বর্ণনা করেন-আল্লাহ তা'আলা রাতে স্বীয় রহমতের হাত (বিশেষ রহমত) ছড়িয়ে দেন। যেন দিনের গুনাহগাররা তাওবা করতে পারে এবং দিনেও স্বীয় রহমতের হাত ছড়িয়ে দেন। যেন রাতের গুনাহগাররা তাওবা করতে পারে। (এ ব্যাপারটি এভাবে চলতে থাকে) যতক্ষণ পর্যন্ত সূর্য পশ্চিমাকাশে অস্ত না যায়।"[১২৬]

টিকাঃ
[১২৬] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ২৭৫৯; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৩৬৭৩১

ফন্ট সাইজ
15px
17px