📄 ইস্তিগফার করার মত কেউ কি আছে?
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ: يَنْزِلُ اللَّهُ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا كُلَّ لَيْلَةٍ حِينَ يَمْضِي ثُلُثُ اللَّيْلِ الأَوَّلُ، فَيَقُولُ: أَنَا الْمَلكُ، أَنَا الْمَلِكُ، مَنْ ذَا الَّذِي يَدْعُونى فَاسْتَجِيبَ لَهُ؟ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْأَلُني فَأَعْطِيَهُ؟ مَنْ ذَا الَّذِي يَسْتَغْفِرُنى فَأغْفِرَ لَهُ؟ فَلَا يَزَالُ كَذَلِكَ حَتَّى يُضِيءَ الْفَجْرُ
“হজরত আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-রাতের এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর প্রতি রাতেই আল্লাহ তা'আলা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন- আমিই একমাত্র বাদশাহ। আমিই একমাত্র বাদশাহ। কেউ কি আছো, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কেউ কি আছো, যে আমার নিকট কোন কিছু চাইবে? আমি তাকে দান করব। কেউ কি আছো, যে আমার নিকট তাওবা- ইস্তিগফার করবে? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। এভাবে সকাল হওয়া পর্যন্ত ডাকতে থাকেন। "[১১৮]
টিকাঃ
[১১৮] সহিহ মুসলিম: হাদিস নং ৭৫৮; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৪৪৬; সুনানে দারেমী: হাদিস নং ১৫২০; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ৭৫৯২
📄 অজু, সালাত ও ইস্তিগফার
عَنْ أَسْمَاءَ بْنِ الْحَكَمِ الْفَزَارِي، قَالَ : سَمِعْتُ عَلِيًّا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، يَقُولُ: كُنْتُ رَجُلًا إِذَا سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حَدِيثًا نَفَعَنِي اللهُ مِنْهُ بِمَا شَاءَ أَنْ يَنْفَعَنِي، وَإِذَا حَدَّثَنِي أَحَدٌ مِنْ أَصْحَابِهِ اسْتَخَلَفْتُهُ فَإِذَا حَلَفَ لِي صَدَّقْتُهُ، قَالَ: وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرٍ، وَصَدَقَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، أَنَّهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ، يَقُولُ: مَا مِنْ عَبْدٍ يُذْنِبُ ذَنْبًا فَيُحْسِنُ الطُّهُورَ، ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ إِلَّا غَفَرَ اللَّهُ لَهُ، ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الْآيَةَ: وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوْبِهِمْ
"হজরত আসমা ইবনুল হাকাম ফাজারী রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-আমি হজরত আলী রাদিআল্লাহু আনহুকে এটা বলতে শুনেছি যে, আমার নিয়ম (হাদিস সম্পর্কে) কিছুটা এমন ছিল যে, আমি যদি নিজে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে হাদিস শুনতাম, তাহলে আল্লাহ তা'আলার যতটুকু ইচ্ছা হত আমি তা থেকে উপকৃত হতাম। অর্থাৎ আমি উক্ত হাদিসের উপর আমল করতাম। আর যদি কোন সাহাবী আমাকে হাদিস বর্ণনা করত, তাহলে আমি তার থেকে কসম নিতাম। কেননা এটা হাদিসের ব্যাপার। তাই বিষয়টি সত্য হওয়া চাই। সে যদি কসম করত, তাহলে আমি তা সত্য বলে মেনে নিতাম। তিনি বলেন, আমাকে হজরত আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন। (আর আমি আমার নিয়ম বহির্ভুত হয়ে তার কাছ থেকে কসম নিইনি। কারণ তার তাকওয়া, ইলম এবং সতর্কতার উপর ভরসা ছিল। এজন্য আমি তাকে কসম ব্যতীতই তার সত্যায়ন করছি এবং বলছি) হজরত আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহু সত্য বলেছেন। তিনি বলেছেন যে, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এটা বলতে শুনেছি যে, যে কোন বান্দা কোন গুনাহ করে, তারপর ভালভাবে অজু করে, তারপর দুই রাকাত সালাত পড়ে, তারপর আল্লাহ তা'আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দেন। তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র কুরআনের সুরাআলে-ইমরানের ১৩৫ নং আয়াত তিলাওয়াত করেন-
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ
অর্থ: আর যারা কোন অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি জুলুম করলে আল্লাহকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায়। "[১১৯]
টিকাঃ
[১১৯] সুনানে আবু দাউদ: হাদিস নং ১৫২১; সুনানে তিরমিজি: হাদিস নং ৪০৬; মুসনাদে আহমাদ: হাদিস নং ২
📄 গুনাহ যদি জমিন থেকে আসমান পর্যন্তও হয়, তাহলেও মাগফিরাত
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ أَوْ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَوْ أَخْطَأْتُمْ حَتَّى تَبْلُغَ خَطَايَاكُمْ مَّا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ ثُمَّ اسْتَغْفَرْتُمْ لَغَفَرَ لَكُمْ؛ وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ أَوْ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَوْ لَمْ تُخْطِئُوا لَحَجَاءَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ بِقَوْمٍ يُجْطِئُوْانَ ثُمَّ يَسْتَغْفِرُوْانَ فَيَغْفِرَ لَهُمْ
হজরত আনাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এটা বলতে শুনেছি যে, কসম ঐ সত্তার, যার হাতে আমার জীবন। অথবা এটা বলেছেন যে, যার হাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবন। তোমরা যদি এ পরিমাণ গুনাহ কর যে, উক্ত গুনাহ জমিন ও আসমানের খালি জায়গাকে ভরে দেয় এবং তারপরও তোমরা আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা- ইস্তিগফার করো, তাহলে আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। কসম ঐ সত্তার যার হাতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবন। অথবা বলেছেন, যার হাতে আমার জীবন। তোমরা যদি গুনাহই না করো, তাহলে আল্লাহ তা'আলা এমন জাতিকে নিয়ে আসবেন, যারা গুনাহ করবে, তারপর আল্লাহ তা'আলার নিকট তাওবা-ইস্তিগফার করবে এবং আল্লাহ তা'আলাও তাদেরকে ক্ষমা করবেন। [১২০]
টিকাঃ
[১২০] সুনানে ইবনে মাজাহ: হাদিস নং ৪২৪৮; মাজমাউয যাওয়ায়েদ: হাদিস নং ৭৬২৪
📄 কবিরা গুনাহ
যে গুনাহই হোক, তাকে ছোট মনে না করা। সগিরা গুনাহও যদি নিয়মিত বার বার করা হয়, তাহলে তা কবিরা গুনাহে পরিণত হয়ে যায়। আর যদি কবিরা গুনাহের জন্য খাঁটি তাওবা করা হয়, তাহলে সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। সাধারণ নেক কাজের দ্বারাও সগিরা গুনাহ মাফ হয়ে থাকে। এজন্য কবিরা গুনাহের ব্যাপারে অধিক ফিকির করা উচিত। যেন তা থেকে বেঁচে থাকা যায়। আর যদি হয়েই যায়, তাহলে তা থেকে খাঁটি তাওবা করা উচিত।
কবিরা গুনাহের সংখ্যা কত এবং তা কী কী? এ ব্যাপারে অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে। আবু তালেব মক্কী রাহি. তার কুওয়্যাতুল কুলুব গ্রন্থে এ সম্পর্কে সকল হাদিসসমূহ ও সাহাবায়ে কেরাম রাদিআল্লাহু আনহুমদের বিভিন্ন অভিমত একত্রিত করেছেন। আর তার ফলাফল হল কবিরা গুনাহের প্রকৃত সংখ্যা হল সতেরো। যথা-
১. কুফর।
২. সগিরা গুনাহ নিয়মিত ও বার বার করা। অর্থাৎ কখনোই না ছাড়ার ইচ্ছা পোষণ করা এবং সর্বদা তাতে লেগে থাকা।
৩. আল্লাহ তা'আলার রহমত থেকে নিরাশ হওয়া।
৪. আল্লাহ তা'আলার ভয় থেকে উদাসীন হয়ে যাওয়া এবং নিজেই নিজের উপর এটা মেনে নেওয়া যে, আমার কিছুই হবে না। আমি তো ক্ষমাপ্রাপ্ত। এ চারটি কবিরা গুনাহ হল অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত।
৫. মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। এমন সাক্ষ্য যার সাথে কারও হক নষ্ট হয়।
৬. কারও উপর ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়া। যার দ্বারা তার উপর শরয়ী দণ্ডবিধি কার্যকর হয়ে যায়।
৭. মিথ্যা কসম করা। যা কাউকে তার সম্পদ থেকে বঞ্চিত করে দেয়।
৮. জাদু-টোনা ইত্যাদি। এটাও কিছু বাক্যই হয়ে থাকে। যা জবান দিয়ে আদায় করা হয়। এ চারটি কবিরা গুনাহ হল জবানের সাথে সম্পৃক্ত।
৯. মাদক সেবন করা। অথবা এমন কোন বস্তু যা নেশা, মদ্যপ ও জ্ঞান শূন্যতার কারণ হয়।
১০. এতিমের সম্পদ গ্রাস করা।
১১. সুদ খাওয়া।
১২. যিনা-ব্যভিচার।
১৩. সমকামিতা। এই দুটি কবিরা গুনাহ লজ্জাস্থানের সাথে সম্পৃক্ত।
১৪. কাউকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা।
১৫. চুরি করা। যার দ্বারা শরয়ী দণ্ডবিধি অত্যাবশ্যক হয়। এই দুটি কবিরা গুনাহ হাতের সাথে সম্পৃক্ত।
১৬. কাফিরদের সাথে যুদ্ধের সময় রণাঙ্গন থেকে পলায়ন করা। এই কবিরা গুনাহটি পায়ের সাথে সম্পৃক্ত। আর এটা তখন, যখন কাফিরদের সংখ্যা দ্বিগুণ বা তার কম হবে।
১৭. মাতা-পিতাকে কষ্ট দেওয়া। আর এই কবিরা গুনাহটি শরীরের সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে সম্পৃক্ত। [১২১]
এই তালিকার একেকটি গুনাহকে পাঠ করুন এবং সাথে সাথে খাঁটি তাওবা করুন এবং এই গুনাহসমূহের ঘৃণা অন্তরে বদ্ধমূল করে নিন এবং এগুলো থেকে দূরে থাকার ইচ্ছাকে সুদৃঢ় করুন।
টিকাঃ
[১২১] কিমিয়ায়ে সা'আদাত